বৈজ্ঞানিক তথ্য-উপাত্ত
প্রশ্ন হতে পারে মহাবিশ্ব কীভাবে এবং কী দিয়ে তৈরি?
স্থান ও সময় এবং এদের অন্তর্ভুক্ত সকল বিষয় নিয়েই মহাবিশ্ব ।। পৃথিবী এবং অন্যান্য সমস্ত গ্রহ , সূর্য ও অন্যান্য তারা ও নক্ষত্র , জ্যোতির্বলয়স স্থান ও এদের অন্তর্বর্তীস্থ গুপ্ত পদার্থ , ল্যামডা-সিডিএম নকশা ও শূণ্যস্থান (মহাকাশ) - যেগুলো এখনও তাত্ত্বিকভাবে অভিজ্ঞাত কিন্তু সরাসরি পর্যবেক্ষিত নয় - এমন সবপদার্থ ও শক্তি মিলে যে জগৎ তাকেই বলা হচ্ছে মহাবিশ্ব ।
প্রশ্ন হতে পারে মহাবিশ্ব কীভাবে তৈরি?
১৯৬৪ সালে প্রাপ্ত বিগ ব্যাং Big Bang) উত্তর মহাজাগতিক back ground radiation domputer simulation এর মাধ্যমে প্রণীত স্ট্যান্ডাড ষডেলে প্রণীত ল্যামডা-সিডিএম নকশা অনুসারে জানা যায় যে,পুরো বিশ্বের উপাদান ও সৃষ্টিধারা নিয়ে বেশ কয়েকটি hypotheses বিদ্যমান। দৃশ্যমান মহাবিশ্বের সুদূরতম প্রান্তের পর্যবেক্ষণ ও বিভিন্ন তাত্ত্বিক গবেষণায় মনে হয় মহাবিশ্বের প্রতিটি প্রক্রিয়াই তার সৃষ্টির শুরু থেকেই একই ধরণের প্রাকৃতিক নিয়ম দ্বারা নির্ধারিত। IRRSTC মনে করে বিগ ব্যাংয়ের শুরু থেকেই পরিবেশ ছিল ক্রমশঃ শীতলমুখী অর্থাৎ পরিবেশবান্ধব। এতে সুস্পষ্ট প্রতীয়মান যে, হাইয়েস্ট এনার্জেটিক রেডিয়েশনটিতে সংঘটিত মহাবিস্ফোরণ বিগ ব্যাং ছিল সম্পূর্ণ উদ্দেশ্যমূলক, সুপরিকল্পিত যা গভীর জ্ঞান-প্রজ্ঞার বহিঃপ্রকাশক।
সৃষ্টির শুরু থেকে সৃষ্টি প্রক্রিয়ার অনুকূল ধারাবাহিকতার স্বরূপ নিম্নরূপঃ
.....................................
বিগ ব্যাং এর পরক্ষণ থেকেই বিশ্ব প্রকৃতির সুপরিকল্পিত, সুশৃঙ্খল, সুবিন্যস্ত পরিচালনা, ব্যবস্থাপনার ছাপ দেখা যায়।
হাইয়েস্ট এনার্জেটিক রেডিয়েশন যুগ
১. মহা একীভবন যুগ
২. পরের যুগের নাম মহা একীভবন যুগ । ব্যাপ্তি বিগ ব্যাংয়ের পরের ১০-৪৩ থেকে ১০-৩৬ সেকেন্ড। এ সময় মহাকর্ষ অন্য তিনটি মৌলিক বল থেকে আলাদা হয়ে যায়।
৩. স্ফীতি যুগ
মহা একীভবন যুগ এর পরপরই শুরু স্ফীতি যুগের। এ যুগেই সামান্য পরিমাণ সময়ের মধ্যে মহাবিশ্ব ১০২৬ গুণ বড় হয়ে যায়। ১ ন্যানোমিটার দৈর্ঘ্যের কোনো বস্তুকে এত বড় করলে সেটা ১০ দশমিক ৬ আলোকবর্ষ পরিমাণ লম্বা হবে।
৪. তড়িৎ দুর্বল যুগ
স্ফীতি যুগের সঙ্গে সঙ্গেই শুরু হয়েছিল তড়িৎ দুর্বল যুগের যার ব্যাপ্তিকাল ১০-১২ সেকেন্ড পর্যন্ত।
কোয়ার্ক যুগ
৫. ১০-১২ সেকেন্ডের পর শুরু কোয়ার্ক যুগ। এ সময়কালে বিপুল পরিমাণ কোয়ার্ক, ইলেকট্রন ও নিউট্রিনো তৈরি হয়। কোয়ার্ক হলো প্রোটন ও নিউট্রনের গাঠনিক কণা। মহাবিশ্ব আরেকটু ঠান্ডা হলো। নামল ১০ কোয়াড্রিলিয়ন ডিগ্রির (১-এর পর ১৬টি শূন্য বসিয়ে যে সংখ্যা পাবেন) নিচে। তবে সবচেয়ে উল্লেযোগ্য ঘটনা হলো, চারটি মৌলিক বল সম্পূর্ণ আলাদা হয়ে গেল। ঠিক বর্তমানে যেভাবে আছে।
জোড়ায় জোড়ায় সৃষ্ট
কোয়ার্কের সঙ্গে সঙ্গে এদের প্রতিকণা অ্যান্টিকোয়ার্ক বা প্রতিকোয়ার্কও তৈরি হচ্ছিল। তবে কণা ও প্রতিকণার দুটোরই সাক্ষাৎ ডেকে আনে মৃত্যু। কিন্তু আবার কোয়ার্ক বেঁচে না থাকলে তো পদার্থ তৈরি সম্ভব নয়। সম্ভব নয় গ্রহ, নক্ষত্রের সৃষ্টি। ফলে মানুষসহ কোনো প্রাণীও জন্ম নিত না মহাবিশ্বে। তাহলে হয়েছিল কীভাবে? কোয়ার্ককে বাঁচিয়ে রাখতে তাই বিশ্ব প্রকৃতিতে জরুরী হয়ে দেখা দিয়েছিল কোয়ার্ক ত্রাণকর্তার ভূমিকা পালনকারী একটি প্রাকৃতিক সত্বার। কোয়ার্ককে বাঁচাতে তাই হঠাৎ আবির্ভূত হয় একটি প্রক্রিয়া যার বৈজ্ঞানিক নাম “ব্যারিওজেনেসিস”। ব্যারিওজেনেসিস নামের একটি প্রক্রিয়া এ সময় খুব গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে। এ প্রক্রিয়ায় প্রতি বিলিয়ন জোড়া কোয়ার্ক-প্রতিকোয়ার্ক থেকে একটি করে কোয়ার্ক বেঁচে যায়। যেমন বিলিয়ন বিলিয়ন স্পার্ম থেকে মাত্র একটি স্পার্ম বেঁচে থেকে ওভামের সাথে মিলিত হয়ে মানব ভ্রণের বিকাশ ঘটায়। আর এ বেঁচে যাওয়া কোয়ার্করাই পরবর্তী মহাবিশ্বের পদার্থ তৈরির ক্রীড়নক।
হ্যাড্রোন যুগঃ সুবিন্যস্ত, সুশৃঙ্খল, অভিন্ন প্রাকৃতিক সুষম যুগ
হ্যাড্রোন যুগের এ সময়টিতে মহাবিশ্বে একটা স্থির নিয়ম বলবৎ ছিল। তখন মহাবিশ্বের সামগ্রিক শক্তি ও চার্জ ছিল সংরক্ষিত যার স্থায়িত্ব ছিল ১ সেকেন্ড থেকে মিনিট কয়েক পর্যন্ত। কোয়ার্ক দিয়ে গঠিত যৌগিক কণিকার নাম হ্যাড্রোন। হ্যাড্রোন কণিকাদের মধ্যে আমাদের সবচেয়ে পরিচিত হলো প্রোটন ও নিউউল্লেখ্য, প্রোটন, নিউট্রন ৩টি কোয়ার্ক দিয়ে গঠিত যার একক নাম ব্যারিয়ন আর পায়ন ২টি কোয়ার্ক দিয়ে গঠিত যার একক নাম মেসন। আর ব্যারিয়ন+মেসন মিলে গঠিত হয় হ্যাড্রন কণা পরি হ্যাড্রোন যুগে মহাবিশ্বের তাপমাত্রা আরেকটু কমে এক লাখ কোটি ডিগ্রি হলো। ফলে কোয়ার্করা যুক্ত হয়ে হ্যাড্রোন গঠিত হওয়ার উপযুক্ত পরিবেশ পেল। পাশাপাশি ইলেকট্রন ও প্রোটনের সংঘর্ষে তৈরি হয় নিউট্রন ও নিউট্রিনো। এই নিউট্রিনো কণারা আজ পর্যন্ত মহাবিশ্বজুড়ে ছুটে চলেছে আলোর কাছাকাছি বেগে।
লেপটন যুগ
হ্যাড্রোন পরবর্তী যুগের নাম লেপটন যুগ। এ যুগে পূর্ববর্তী অল্প কিছু ছাড়া প্রায় সব হ্যাড্রোন ও প্রতি–হ্যাড্রোন নিঃশেষ হয়ে যায়। ফলে মহাবিশ্বে চলছিল লেপটন ও প্রতি–লেপটনদের (যেমন ইলেকট্রনের প্রতিকণা প্রতি–ইলেকট্রন) রাজ-রাজত্ব। এ দুই বিপরীত চার্জধারী কণার মিলনে অবমুক্ত হয় শক্তি। এ শক্তির বহিঃপ্রকাশ ঘটে ফোটনের (আলোর কণিকা) মাধ্যমে। উল্টোভাবে ফোটনরাও আবার মিলিত হয়ে ইলেকট্রন-পজিট্রন জোড় তৈরি করতে থাকে। মহাবিশ্বের প্রথম ৩ মিনিট সময়কালের এখানেই সমাপ্তি ঘটে। এরপর থেকে সময়ের ব্যবধান দাঁড়ায় বিশাল মাপকাঠিতে। এরপর বিশ্ব সংগঠনে প্রকৃতি সময় নেয় অন্ততঃ ১৭ মিনিট যা ছিল অতীব জরুরী এবং গুরুত্বপূর্ণ সময়-পর্ব। এতে সংঘটিত হয় গুরুত্বপূর্ণ নিউক্লীয় সংশ্লেষণ। এটি হলো নতুন পরমাণুর নিউক্লিয়াস (কেন্দ্র) তৈরির প্রক্রিয়ার নাম। প্রোটন ও নিউট্রন ফিউশন বিক্রিয়ার মাধ্যমে মিলিত হয়ে তৈরি করে এ নতুন পরমাণু। এভাবেই গড়ে ওঠে হাইড্রোজেন, হিলিয়াম ও লিথিয়ামের মতো পর্যায় সারণির প্রথম দিকের মৌলগুলো। এ অবস্থায় মহাবিশ্বের তাপমাত্রা ছিল প্রায় ১০০ কোটি ডিগ্রি। কিন্তু এ সময়ের পরই তাপমাত্রা ও ঘনত্ব এত বেশি কমে গেল যে, নিউক্লীয় ফিউশনে সাময়িক বিরতি ঘটেছিল। এই ফিউশন পরবর্তী সময়ে আবার শুরু হয়। তবে সেটা সমগ্র মহাবিশ্বে নয়।
ফোটন এপক যুগ
এবারের যুগের নাম ফোটন এপক। তখন মহাবিশ্বে চলছিল বিকিরণের আধিপত্য। পরমাণুর নিউক্লিয়াস ও ইলেকট্রনের উত্তপ্ত স্যুপে গড়া প্লাজমা দিয়ে মহাবিশ্ব তখন ভর্তি। বিকিরণের আধিপত্য থাকার কারণে অধিকাংশ লেপটন ও প্রতি–লেপটন নিঃশেষ হয়ে গিয়েছিল। ফলে মহাবিশ্বজুড়ে তখন ছিল ফোটনের ছড়াছড়ি। আর ফোটন মানেই বিকিরণ। আমাদের পারিপার্শ্বিক দৃশ্যমান আলোও একধরনের বিকিরণ। ফোটন যুগের ফোটনরা লেপটন যুগে বেঁচে যাওয়া প্রোটন, ইলেকট্রন ও পরমাণুকেন্দ্রের সঙ্গে মিথস্ক্রিয়া করতে থাকে। এ যুগের স্থায়িত্ব ৩ মিনিট থেকে ২ লাখ ৪০ হাজার বছর।
কসমোলজিক্যাল রিকম্বিনেশন বা মহাজাগতিক পুনর্গঠন যুগ
এরপর উদ্ভব ঘটে কসমোলজিক্যাল রিকম্বিনেশন বা মহাকাশীয় পুনর্গঠন যুগ। এটি ছিল বিশ্ব জগতে এক ঐতিহাসিক যুগ সন্ধিক্ষণ। এ যুগে হঠাৎ করে তাপমাত্রা সূর্যের পৃষ্ঠ তাপমাত্রার কাছাকাছি ৩০০০ ডিগ্রি নেমে গিয়ে সৃষ্টি হয় রিকম্বিনেশন বা পুনর্গঠন যুগ। এ সময় আয়নিত হাইড্রোজেন ও হিলিয়াম নিউক্লিয়াস ইলেকট্রনের সঙ্গে সন্ধি করে ফেলে। ফলে কেন্দ্রে প্রোটন ও কক্ষপথে ইলেকট্রন নিয়ে পরিপূর্ণ পরমাণু তৈরি হয়ে যায়। এ প্রক্রিয়ারই নাম রিকম্বিনেশন। মহাবিশ্বের প্রায় ৭৫ শতাংশ হাইড্রোজেন ও ২৫ শতাংশ হিলিয়াম—এই অনুপাতটি এ কালের শেষের দিকেই তৈরি হয়।
ডার্ক এরা বা অন্ধকার যুগ
রিকম্বিনেশন যুগের পর থেকে ১৫ কোটি বছর পর্যন্ত সময়কালকে বলে অন্ধকার যুগ (Dark Era) বলা হয়। যুগটি হলো পরমাণু তৈরির পরের ও নক্ষত্রের জন্মের আগের সময়কাল। ফোটনের অস্তিত্ব থাকলেও নক্ষত্রের জন্ম না হওয়ায় এক অর্থে মহাবিশ্ব অন্ধকারই বটে। রহস্যময় ডার্ক ম্যাটারই এ সময় মহাবিশ্বে রাজত্ব করত বলে ধারণা কর
নক্ষত্র ও গ্যালাক্সির জন্মপ্রক্রিয়া
পুনঃ আয়নীকরণ যুগের পরের ৩০ থেকে ৫০ কোটি বছর ধরে চলল নক্ষত্র ও গ্যালাক্সির জন্মপ্রক্রিয়া, যা পরে চলতেই থাকল। মহাবিশ্ব প্রসারণের পাশাপাশি মহাকর্ষের প্রভাবে বিভিন্ন অঞ্চলের গ্যাস ঘনীভূত হতে হতে জন্ম হয় এসব নক্ষত্র। প্রথম দিকে জন্ম নেওয়া নক্ষত্ররা ছিল বিশাল বড় বড়। সূর্যের প্রায় এক শ গুণ ভারী। এদের আয়ু অবশ্য কম হতো। সুপারনোভা বিস্ফোরণের মাধ্যমে ঘটত এদের মৃত্যু। একটি ক্ষুদ্র কেন্দ্রীয় অংশ অবশিষ্ট থাকত। বাকি পদার্থ বিস্ফোরণের ধাক্কায় ছিটকে যেত বাইরে- যা ছিল নতুন নক্ষত্র তৈরির উপাদান। নক্ষত্র তৈরির এ চক্রটি কিন্তু আজও চলমান।
বিজ্ঞানীদের ধারণা, আজ থেকে প্রায় ১৫০০ কোটি থেকে ২০০০ কোটি বৎসর পূর্বে উক্ত ““মহাসূক্ষ্ণ” বিন্দুটি 10º³ e.s.a পর্যায়ে স্থিতি লাভ করেছিল। ফলে বিজ্ঞান এ সত্য মানব জাতিকে অবগত করাতে সক্ষম হয় যে, শুণ্য থেকে সৃষ্ট উক্ত Highest Energetic Radiation নামক মহাআলোক গোলকটি মহাবিস্ফোরণ (Big Bang) এর পূর্বে (১) আলো (২) শক্তি ও (৩) তাপ-এই ত্রিমাত্রিক অবস্থায় বিরাজমান ছিল । এই সময় তাপমাত্রার পরিমাণ ছিল 10³² ডিগ্রি কেলভিন অর্থাৎ ১০,০০০ কোটি, কোটি, কোটি, কোটি ডিগ্রি কেলভিন। মহাবিস্ফোরণ (big bang) ঘটার পরবর্তী মুহুর্তে মহাবিশ্বের অবস্থা বৈজ্ঞানিক ভাষ্যমতে, Highest Energetic Radiation-এ মহাবিস্ফোরণ (big bang) ঘটার পর মুহুর্তে তাপমাত্রা 10³ºk থেকে দ্রুত 10²8-এ নেমে আসে। অতঃপর সৃষ্টি হয় প্রথমবারের মতো highest energetic photon নামক এক প্রকার ভরশুন্য কণিকা। কণিকারা নিজেদের মধ্যে সংঘর্ষ ঘটিয়ে পদার্থ কণিকা হিসেবে প্রথম বারের মত ‘কোয়ার্ক’ এবং এন্টি কোয়ার্ক এর জন্ম দেয়। অতঃপর তাপমাত্রা যখন আরো নিচে নেমে 10¹³k কেলভিনে দাঁড়ায় তখন কোয়ার্ক এবং এন্টি কোয়ার্কের মধ্যে সংঘর্ষ ঘটে। এতে উভয় এর ব্যাপক ধ্বংস সাধন ঘটে এবং অবশিষ্ট থেকে যায় কিছু কোয়ার্ক। এরপর যখন তাপমাত্রা আরো কমে গিয়ে 10¹ºk কেলভিন-এ দাঁড়ায় তখন ৩টি কোয়ার্ক (১টি আপ কোয়ার্ক এবং ২টি ডাউন কোয়ার্ক মিলিত হয়ে প্রোটন কণিকা (Proton Particle) এবং ৩টি কোয়ার্ক (২টি আপ কোয়ার্ক এবং ১টি ডাউন কোয়ার্ক) মিলিত হয়ে নিউট্রন কণিকা (Neutron Particle) সৃষ্টি হতে থাকে। তারপর তাপমাত্রা যখন 10000000000 কেলভিন-এ নেমে আসে তখন পরিবেশ আরো অনুকুলে আসায় সৃষ্ট প্রোটন কণিকা ও নিউট্রন কণিকা পরষ্পর মিলিত হয়ে প্রথমবারের মত মহাবিশ্বে এটমিক নিউক্লি গঠিত হতে থাকে। এরপর তাপমাত্রা আরও কমে গিয়ে 1000000000 কেলভিন তখন এটমিক নিউক্লি মহাবিশ্বে বিক্ষিপ্ত ভাবে ছুটে চলা ইলেকট্রনিক কণিকাকে (Electronic Particle) চর্তুদিকের কক্ষপথে ধারণ করে। ফলে প্রথমবারের মত অণু'র (atoms) সৃষ্টি হয়। আরও পরে যখন তাপমাত্রা ৩,০০০ কেলভিনে উপনীত হয় তখন মহাবিশ্বের মূল সংগঠন গ্যালাক্সি (Galaxy) সৃষ্টি হতে থাকে। পরবর্তীতে এর ভেতর নক্ষত্র, গ্রহ, উপগ্রহ ইত্যাদি সৃষ্টি হতে থাকে। অতঃপর তাপমাত্রা যখন আরো নিম্নগামী হয়ে মাত্র ৩ কেলভিনে নেমে আসে তখন সার্বিক পরিবেশ অনুকূলে থাকায় পৃথিবীতে গাছ-পালা, জীব-জন্তু ও প্রাণের ব্যাপক সমাবেশ সমাগম ঘটতে থাকে। আইনস্টাইনের তত্ত্বমতে, পদার্থ যেমন চুপসে যেতে যেতে এক পর্যায়ে পরমবিন্দুতে (সিঙ্গুলারিটিতে) পৌঁছে থেমে যায়, সম্পূর্ণ নিঃশেষ হয়ে যায় না তেমনি মহাবিশ্বের তাপমাত্রা 10³ºk থেকে দ্রুত যথাক্রমে 10²8,10¹³k কেলভিন,10¹ºk কেলভিন,1000000000 কেলভিন,আরও পরে যখন তাপমাত্রা ৩,০০০ কেলভিন এবং সর্বশেষে -মাত্র ৩ কেলভিনে নেমে আসে।
মহাবিশ্বের অতিপারমাণবিক জগতের কথা
মহাবিশ্বের শুরুতে কি ছিল?
উত্তরঃ ভরশুন্য আলোর কোয়ান্টা ফোটন আর ফোটন।
মহাবিশ্বে ভরসম্পন্ন বস্ত্তকণা এলো কিভাব?
IRRSTC মনে করে যে, বিগ ব্যাং উত্তর মহাজাগতিক সর্বপ্রথম সৃষ্টি ভরশুন্য আলোর কোয়ান্টা ফোটন কোয়ান্টাম তত্ত্বের মূল কথা অনুসারে “শুন্যাবস্থায় বিরাজমান শক্তির সংস্পর্শে এসে ভরত্ব লাভ করে প্রথমবারের মত মহাজাগতিক বস্ত্তকণায় পরিণত হয়েছিল।”
প্রকৃতিতে এত এত কণা-এসব কি দিয়ে তৈরি?
প্রকৃতিতে এত এত কণা-এসব কি দিয়ে তৈরি? এর উত্তরে বিজ্ঞানের জবাবঃ কৈউ জানে না। যেমন, কেউ জানে না যে, মহাকাশ কত বড়? এর উত্তরে বিজ্ঞানের জবাবঃ জানা মহাকাশের চেয়ে অজানা মহাকাশ অ-নে-ক বড়।
মহাবিশ্বের বস্ত্ত-পদার্থগত অবকাঠামোর স্বরূপ কী?
প্রত্যেক বিষয়ের ক্বলব আছে।
প্রত্যেক বিষয় মূলে পৌঁছে (ফারাবী আল আরাবী)
মহাবিশ্বের বস্ত্গত মূলে পৌঁছতে সর্বপ্রথম এগিয়ে এসেছিলেন প্রাচীন গ্রীক দার্শনিক ও বিজ্ঞানী ডেমোক্রিটাস। ডমোক্রিটাস বস্ত্তকে ভাঙতে ভাঙতে চূর্ণবিচূর্ণ করে গুড়ো গুড়ো করতে করতে ক্লান্ত হয়ে বলে উঠছিলেন এই বলেঃ "আর ভাঙা যাবে না"-যা গ্রীক পরিভাষায় এক কথায় বলা হয়ঃ অ্যাটম (Atom)। পরবর্তিতে আরেক গ্রীক বিজ্ঞানী অ্যারিস্টটল ডেমোক্রিটাসের এককেন্দ্রিক বিশ্ব ধারণা থেকে সরে এসে প্রবর্তন করেন চতুর্মাত্রিক বৈশ্বিক অবকাঠামো। এতে ১.মাটি ২.পানি ৩.বাতাস এবং ৪.আগুন। অ্যারিস্টটল পরবর্তী মধ্যযুগে চতুর্মাত্রিকতার স্থলে ১.সালফার এবং ২. পারদ এই দ্বিমাত্রিক বৈশ্বিক অবকাঠামোর মৌলিক ধারণা পেশ করেন হযরত জাফর সাদেক রহিমাহুল্লাহর অন্যতম ছাত্র আধুনিক পর্যায় সারণির স্থপতি জাবের ইবনে হাইয়ান।
বস্তুকণার আরও গভীরে প্রবেশ করতে গিয়ে জে.জে.থমসন সন্ধান পান ১০-..... সেন্টিমিটার বিশিষ্ট..... ইলেকট্টন,.......সর্বশেষ কোয়ার্ক নামক ১০-১৬ সেন্টিমিটার সূক্ষ্ণবিশিষ্ট অণু পরমাণু। ..স্ট্রিং তবে এটাই একমাত্র অআইনস্টাইন উল্লেখিত পরম বিন্দু সিঙগুলারিটি নয়। বিজ্ঞানীদের মানসপটে জীবন্ত হয়ে দেখা দিয়েছে নতুন সিঙ্গুলারিটি নাম যারঃ স্ট্রিং থিওরি। বিজ্ঞানীরা যার সূক্ষ্ণতা অনুধাবন করেছেন অকল্পনীয় মাত্রায়। মাত্রার পরিমাণঃ ১০-৩৩ সেন্টিমিটার। সূক্ষ্ণতা যাই হোক না কেন, এটি প্রমাণিত হয় সার্ণ কর্তৃক ২০১২ সালে হিগস বোসন কণা কৃত্রিমভাবে উৎপন্ন করার সময়। হতে পারে পদার্থ বিজ্ঞানের এটিই শেষ অভিষেক মহাবিশ্ব কিভাবে? এই প্রশ্নের। অবশ্য, তাতেই পরিসমাপ্তি ঘটবে না, সত্যকে জানার বিজ্ঞানের অগ্রযাত্রার। বরং যাত্রা শুরু হবে পদার্থ বিজ্ঞানের দ্বিতীয় গুরুত্বপূর্ণ প্রশ্নের সদুত্তরের সন্ধানে। প্রশ্নটি হচ্ছেঃ মহাবিশ্ব কী দিয়ে তৈরি?
বলা হয়ে থাকে, প্রকৃতিতে এত এত কণা-এসব কি দিয়ে তৈরি কেউ জানে না।
গ্র্যাভিটন কণা দেখার সম্ভাব্য বৈজ্ঞানিক উপায়
প্রস্তাবিত গ্র্যাভিটন কণা দেখার জন্য আমাদের অনেক ভারী বস্তু দরকার। সেই বস্তুগুলোর হতে হবে মহাজাগতিক ভরের, যাতে অন্য বলগুলো ভারসাম্যপূর্ণ অবস্থায় থাকবে। এই অতিভারী বস্তুকে পরস্পরের সঙ্গে সংঘর্ষের মুখে ফেললেই গ্র্যাভিটন বা মহাকর্ষ কণা পর্যবেক্ষণ করার মতো পরিস্থিতি সৃষ্টি হতে পারে। সে জন্য হাতের কাছে যেকোনো বস্তু টনকে টন জড়ো করে, তা দিয়ে অতিভারী বস্তু তৈরি করে সংঘর্ষ ঘটালে হবে না। আমাদের দরকার দানবীয় অতিভরের কোনো কৃষ্ণগহ্বরের মতো বস্তু বা দুটি কৃষ্ণগহ্বরের সংঘর্ষ।
আমাদের সক্ষমতার দৌড় কত?
এ রকম মহাজাগতিক অতিভারী দুটি বস্তুর মধ্যে সংঘর্ষ ঘটিয়েই কেবল মহাকর্ষকে হয়তো কোয়ান্টাম পরিঘটনা হিসেবে প্রমাণ করা সম্ভব। কিন্তু আমরা ভালো করেই জানি, এ রকম কিছু করা আমাদের পক্ষে অসম্ভব। আমাদের বাজেট বলেন আর সামর্থ্য, কোনোটাতেই কুলাবে না। তার চেয়ে হয়তো মৃত নক্ষত্রের কথা ভাবা অনেক বেশি বাজেটবান্ধব। মজার ব্যাপার হলো, এসব ক্ষেত্রে আমরা ভাগ্যবান। মহাবিশ্বে হরহামেশাই উদ্ভট সব ঘটনা ঘটতে দেখা যায়। তার মধ্যে আছে কৃষ্ণগহ্বরের
অসীমের পথে কোয়ান্টাম গ্র্যাভিটি বা কোয়ান্টাম মহাকর্ষ তত্ত্ব রচনায় আমরা কী করছি?
কোয়ান্টাম মেকানিকস এবং আপেক্ষিকতার মিলনে নতুন যে তত্ত্ব পাওয়া যাবে, তার পোশাকি নাম কোয়ান্টাম গ্র্যাভিটি বা কোয়ান্টাম মহাকর্ষ। কিন্তু সমস্যা হলো সেটি কেমন হবে? কেউ জানে না। পদার্থবিজ্ঞানীরা মাঝেমধ্যে তাত্ত্বিকভাবে এ ধরনের কণার ভবিষ্যদ্বাণী করেন, পরে সেগুলো পরীক্ষামূলকভাবে পাওয়া যায়। সম্প্রতি লার্জ হ্যাড্রন কলাইডারে পাওয়া হিগস বোসন এমন একটি কণা। কিন্তু কোয়ান্টাম মেকানিকস আর আপেক্ষিকতাকে একীভূত করতে পদার্থবিদেরা এখন পর্যন্ত যতবার চেষ্টা করেছেন, ততবারই ব্যর্থ হয়েছেন। এসব চেষ্টায় অসীমের মতো কিছু ফল পাওয়া গেছে।
ইসলামের আলোকে মহাবিশ্বতত্ত্ব
ইসলামের আলোকে মহাবিশ্বতত্ত্ব ইসলামী সৃষ্টি তত্ত্ব বনাম আধুনিক বৈজ্ঞানিক সৃষ্টিতত্ত্ব দৃশ্যমান ও অদৃশ্যমান জীব ও জড় নির্বিশেষে সকল সৃষ্টিজগতের সৃষ্টিকর্তা প্রকৃত অর্থে কে? এবং এটি কখন, কিভাবে এবং কি দিয়ে সৃষ্টি হয়েছিল?-এ সম্পর্কিত বিস্তারিত তাত্ত্বিক ইতিহাস-কে সৃষ্টিতত্ত্ব (Creationism) বলা হয়। এ বিষয়ে রয়েছে একাধিক তত্ত্ব যথাঃ (ক) আস্তিক্যবাদী আধ্যাত্মিক সৃষ্টিতত্ত্ব এবং (খ) আধুনিক বৈজ্ঞানিক সৃষ্টিতত্ত্ব । আধ্যাত্মিক বা আস্তিক্যবাদী সৃষ্টিতত্ত্ব মতেঃ Nothing থেকে Everything সৃষ্টি হয়নি বরং অত্যন্ত সূক্ষ্ণদর্শী এবং মহা প্রবল প্রতাপশালী মহাজ্ঞানী একক সৃষ্টিকর্তা-ই সুপরিকল্পিত ও সুশৃঙ্খলিত এবং কঠোর নিয়মানুবর্তিতার মধ্য দিয়ে এই মহাবিশ্ব সৃষ্টি করেছেন (সুবহা-নাল্লাহি ওয়াবিহামদিহী, সুবহা-নাল্লাহিল আজীম)। আস্তিক্যবাদী সৃষ্টি তত্ত্বের অপর নাম “ ধর্মীয় অর্থাৎ ইসলামী সৃষ্টিতত্ত্ব”।
ইসলামী সৃষ্টিতত্ত্বে মহাবিশ্বের মহান সৃষ্টিকর্তা, সৃষ্টির পূর্ব অবস্থা এবং পরের অবস্থা, পরিবর্তন এবং মহা ধ্বংসতত্ত্ব (কেয়ামত) ইত্যাদি সম্পর্কিত পবিত্র কুরআন ও সহীহ্ সুন্নাহ ভিত্তিক বিশদ বিবরণ রয়েছে। পক্ষান্তরে বস্তুবাদী সৃষ্টিতত্ত্বে কেবল মহাবিশ্বের কিভাবে উৎপত্তি ঘটেছে সে সম্পর্কে ধারণামূলক বিশ্ব সৃষ্টিতত্ত্ব রয়েছে। বস্তুবাদী সৃষ্টিতত্ত্বের অপর নাম “যান্ত্রিক বস্তুবাদ”। এ তত্ত্ব মতে, বস্তুর যান্ত্রিক ধারায় সৃষ্টির অস্তিত্ব লাভ, পরিচালনা এবং ব্যবস্থাপনা ঘটছে। অর্থাৎ যা ঘটেছে, ঘটছে এবং ঘটবে-সবই বস্তুর যান্ত্রিক ধারার অনিবার্য ফসল (নাউযুবিল্লাহি মিন জালিক)। এ ধরণের ধারণা-বিশ্বাস এক ধরণের নিশ্চয়তাবাদের উপর প্রতিষ্ঠিত। এতে যা ঘটবে তা ঘটবেই এবং যা ঘটবে না, তা কখনই ঘটবে না। এ ধরণের বিশ্বাস ইসলামীমতের “অপরিবর্তনশীল তকদির” এর সাথে প্রায় সাদৃশ্যপূর্ণ। তবে, ইসলামী মতে এর অনুঘটক যন্ত্র নয়; সর্বশক্তিমান আল্লাহ। তাছাড়া এমন কিছু ঘটনা/বিষয় রয়েছে যা পরর্বিতনশীল এবং আল্লাহপাকের কুদরতি ইচ্ছায় এর পরিবর্তন সাধন হয়ে থাকে অথবা এমন দোয়া-মুনাজাত রয়েছে তা পরর্বিতনশীল তাকদীরের পরিবর্তন ঘটায়। যেমনঃ “বিসমিল্লাহিল্লাজি লা-ইয়াদিররু মাআশফি শাইয়্যুন ফিল আরদ্বি ওয়ালা-- ফিস্ সামা-য়ে ওয়াহুয়াস সামিউল আ’লিম” (সকাল-বিকাল তিন বার করে পাঠ্য)-এই দোয়ার বরকতে মহান আল্লাহ রব্বুল আলামীন পরিবেশ-প্রতিবেশ বা অবস্থার পরিবর্তন ঘটায়- যার (ঘটনা-দূর্ঘটনা) সংঘটন ছিল সময়ের ব্যাপার মাত্র।
আধুনিক বৈজ্ঞানিক সৃষ্টিতত্ত্ব আধুনিক সৃষ্টিতত্ত্বমতে, স্থান ও সময় এবং এদের অন্তর্ভুক্ত সকল বিষয় নিয়েই মহাবিশ্ব অর্থাৎ পৃথিবী এবং অন্যান্য সমস্ত গ্রহ, সূর্য ও অন্যান্য তারা ও নক্ষত্র, জ্যোতির্বলয়স স্থান ও এদের অন্তর্বর্তীস্থ গুপ্ত পদার্থ , ল্যামডা-সিডিএম নকশা ও শূণ্যস্থান (মহাকাশ) -তাছাড়া যেগুলো এখনও তাত্ত্বিকভাবে অভিজ্ঞাত কিন্তু সরাসরি পর্যবেক্ষিত নয় - এমন সবপদার্থ ও শক্তি মিলে যে জগৎ তাকেই বলা হচ্ছে মহাবিশ্ব (Universe)।
১৯৬৫ সালে পশ্চাৎপদ বিকিরণ (Back Ground Radiation) আবিস্কারের পর সেই রেডিয়েশনের Computer simulation এর মাধ্যমে বিজ্ঞানীরা এ সিদ্ধান্তে উপনীত হন যে, সম্পূর্ণ নাই/শুন্য/নিল (Nil)/জিরো(Zero) থেকে মহাবিশ্বের মহাসৃষ্টির সূচনার অর্থাৎ মহাবিস্ফোরণ (Big Bang) ঘটার পূর্বে মহাশক্তিশালী এক প্রকার আলোক শক্তিই বিদ্যমান ছিল-যার বৈজ্ঞানিক নামঃ “মহাসূক্ষ্ণ আলোক বিন্দু” (Highest Energetic Radiation) । এতে সম্মিলিতভাবে(Combined) নিহিত ছিল ৪ মহাবল, ডার্ক ম্যাটার, ডার্ক এনার্জিসহ আজকের সূর্যসহ অগরিত নক্ষত্র, মিল্কিওয়েসহ বিলিয়ন বিলিয়ন গ্যালাক্সি সমৃদ্ধ আসমান এবং পৃথিবীসহ যমিন।
বিজ্ঞানীদের ধারণা, আজ থেকে প্রায় ১৫০০ কোটি থেকে ২০০০ কোটি বৎসর পূর্বে উক্ত ““মহাসূক্ষ্ণ” বিন্দুটি 10º³ e.s.a পর্যায়ে স্থিতি লাভ করেছিল। ফলে বিজ্ঞান এ সত্য মানব জাতিকে অবগত করাতে সক্ষম হয় যে, শুণ্য থেকে সৃষ্ট উক্ত Highest Energetic Radiation নামক মহাআলোক গোলকটি মহাবিস্ফোরণ (Big Bang) এর পূর্বে (১) আলো (২) শক্তি ও (৩) তাপ-এই ত্রিমাত্রিক অবস্থায় বিরাজমান ছিল । এই সময় তাপমাত্রার পরিমাণ ছিল 10³² ডিগ্রি কেলভিন অর্থাৎ ১০,০০০ কোটি, কোটি, কোটি, কোটি ডিগ্রি কেলভিন। মহাবিস্ফোরণ (big bang) ঘটার পরবর্তী মুহুর্তে মহাবিশ্বের অবস্থা বৈজ্ঞানিক ভাষ্যমতে, Highest Energetic Radiation-এ মহাবিস্ফোরণ (big bang) ঘটার পর মুহুর্তে তাপমাত্রা 10³ºk থেকে দ্রুত 10²8-এ নেমে আসে। অতঃপর সৃষ্টি হয় প্রথমবারের মতো highest energetic photon নামক এক প্রকার ভরশুন্য কণিকা। কণিকারা নিজেদের মধ্যে সংঘর্ষ ঘটিয়ে পদার্থ কণিকা হিসেবে প্রথম বারের মত ‘কোয়ার্ক’ এবং এন্টি কোয়ার্ক এর জন্ম দেয়। অতঃপর তাপমাত্রা যখন আরো নিচে নেমে 10¹³k কেলভিনে দাঁড়ায় তখন কোয়ার্ক এবং এন্টি কোয়ার্কের মধ্যে সংঘর্ষ ঘটে। এতে উভয় এর ব্যাপক ধ্বংস সাধন ঘটে এবং অবশিষ্ট থেকে যায় কিছু কোয়ার্ক। এরপর যখন তাপমাত্রা আরো কমে গিয়ে 10¹ºk কেলভিন-এ দাঁড়ায় তখন ৩টি কোয়ার্ক (১টি আপ কোয়ার্ক এবং ২টি ডাউন কোয়ার্ক মিলিত হয়ে প্রোটন কণিকা (Proton Particle) এবং ৩টি কোয়ার্ক (২টি আপ কোয়ার্ক এবং ১টি ডাউন কোয়ার্ক) মিলিত হয়ে নিউট্রন কণিকা (Neutron Particle) সৃষ্টি হতে থাকে। তারপর তাপমাত্রা যখন 10000000000 কেলভিন-এ নেমে আসে তখন পরিবেশ আরো অনুকুলে আসায় সৃষ্ট প্রোটন কণিকা ও নিউট্রন কণিকা পরষ্পর মিলিত হয়ে প্রথমবারের মত মহাবিশ্বে এটমিক নিউক্লি গঠিত হতে থাকে। এরপর তাপমাত্রা আরও কমে গিয়ে 1000000000 কেলভিন তখন এটমিক নিউক্লি মহাবিশ্বে বিক্ষিপ্ত ভাবে ছুটে চলা ইলেকট্রনিক কণিকাকে (Electronic Particle) চর্তুদিকের কক্ষপথে ধারণ করে। ফলে প্রথমবারের মত অণু'র (atoms) সৃষ্টি হয়। আরও পরে যখন তাপমাত্রা ৩,০০০ কেলভিনে উপনীত হয় তখন মহাবিশ্বের মূল সংগঠন গ্যালাক্সি (Galaxy) সৃষ্টি হতে থাকে। পরবর্তীতে এর ভেতর নক্ষত্র, গ্রহ, উপগ্রহ ইত্যাদি সৃষ্টি হতে থাকে। অতঃপর তাপমাত্রা যখন আরো নিম্নগামী হয়ে মাত্র ৩ কেলভিনে নেমে আসে তখন সার্বিক পরিবেশ অনুকূলে থাকায় পৃথিবীতে গাছ-পালা, জীব-জন্তু ও প্রাণের ব্যাপক সমাবেশ সমাগম ঘটতে থাকে। আইনস্টাইনের তত্ত্বমতে, পদার্থ যেমন চুপসে যেতে যেতে এক পর্যায়ে পরমবিন্দুতে (সিঙ্গুলারিটিতে) পৌঁছে থেমে যায়, সম্পূর্ণ নিঃশেষ হয়ে যায় না তেমনি মহাবিশ্বের তাপমাত্রা 10³ºk থেকে দ্রুত যথাক্রমে 10²8,10¹³k কেলভিন,10¹ºk কেলভিন,1000000000 কেলভিন,আরও পরে যখন তাপমাত্রা ৩,০০০ কেলভিন এবং সর্বশেষে -মাত্র ৩ কেলভিনে নেমে আসে।
Comments
উপরোক্ত বর্ণনার আলাকে এটা সুস্পষ্ট যে, মহাবিস্ফোরণ বিগ ব্যাং ছিল সম্পূর্ণ উদ্দেশ্যমূলক, সুপরিকল্পিত যা গভীর জ্ঞান-প্রজ্ঞার বহিঃপ্রকাশক।
দৃশ্যমান মহাবিশ্বের সুদূরতম প্রান্তের পর্যবেক্ষণ ও বিগ ব্যাং (Big Bang) তত্ত্ব অনুসারে মহাবিশ্বের আয়তন ক্রমবর্ধমান। বর্তমান পর্যবেক্ষণযোগ্য মহাকাশের আনুমানিক দূরত্ব প্রায়..............................মাইল।
সম্প্রতি আধুনিক পদার্থবিজ্ঞানীদের বিভিন্ন তত্ত্বে আমাদের এই দৃশ্যমান মহাবিশ্বের পাশাপাশি আরো অনেক মহাবিশ্ব থাকার অর্থাৎঅনন্ত মহাবিশ্ থাকার সম্ভাবনা অবশ্যম্ভাবী বলে ধারণা করা হচ্ছে। পবিত্র ইসলাম মতে, আল্লাহপাকের সৃষ্টি সত্বায় অন্ততঃ সাত সাতটি মহাকাশ বিদ্যমান যা একটির চেয়ে অপরটি তুলনামূলকভাবে অকল্পনীয়ভাবে বিরাট-বিশাল। এ প্রসংগে সূরাহ মুলক-কে মহান আল্লাহ ফরমানঃ......................................................................................................................।
وَيُمْسِكُ السَّمَاءَ أَنْ تَقَعَ عَلَى الْأَرْضِ إِلَّا بِإِذْنِهِ অর্থাৎ, তিনিই আকাশ স্থির রাখেন, যাতে তাঁর আদেশ ব্যতীত ভূপৃষ্ঠে পতিত না হয়। (সূরা হজ্জ ২২:৬৫)
وَمِنْ آيَاتِهِ أَنْ تَقُومَ السَّمَاءُ وَالْأَرْضُ بِأَمْرِه অর্থাৎ, তাঁর অন্যতম নিদর্শন এই যে, তাঁরই আদেশে আকাশ ও পৃথিবী প্রতিষ্ঠিত আছে।" (সূরা রূম ৩০:২৫)[৩]
আল্লাহ আকাশমন্ডলী ও পৃথিবীকে (ধরে) স্থির রাখেন, যাতে ওরা কক্ষচ্যুত না হয়। [১] ওরা কক্ষচ্যুত হলে তিনি ব্যতীত কেউ ওগুলিকে স্থির রাখতে পারে না। [২] তিনি সহনশীল, ক্ষমাপরায়ণ।[৩]
যাঁরা বিছানায় শুয়ে, বসে কিংবা মাটিতে দাঁড়িয়ে পড়ছেন, তাঁরা নিশ্চয়ই জানেন মহাকর্ষ কী। অন্তত এটুকু নিশ্চয়ই জানেন, মহাকর্ষের টান না থাকলে এই হয়তো মহাকাশে ভাসতে ভাসতে। আসলে মহাকর্ষই পৃথিবীসহ অন্যান্য গ্রহ, নক্ষত্র ও ছায়াপথের গতি-প্রকৃতি নিয়ন্ত্রণ করছে। সূর্যে শক্তি নিঃসরণ বা মহাকাশের দানব কৃষ্ণগহ্বরও তৈরি হচ্ছে ওই বলের কারণেই।
https://www.bigganchinta.com/space/7cevg8153r
আমরা জানি, আমাদের চারপাশের জগতে এই বলটা কাজ করছে। কিন্তু অনেকেই হয়তো জানেন না এই বলটা অদ্ভুত। জাত-ধর্মেও অন্যদের চেয়ে আলাদা। অসামাজিক। কারণ, মহাবিশ্বের অন্যান্য মৌলিক বলের প্যাটার্নের সঙ্গে তুলনা করলে দেখা যায়, সেগুলোর সঙ্গে মহাকর্ষের কোনো মিল নেই। প্রথমত, অন্যান্য বলের তুলনায় মহাকর্ষ খুবই দুর্বল। আবার এই বল কখনো বিকর্ষণ করে না, সব সময় আকর্ষণ করে। শুধু কি তাই, কোয়ান্টাম জগতের সঙ্গেও এই বলকে খাপ খাওয়ানো যায় না। মোদ্দা কথা, মহাকর্ষ টানে সবাইকে, কিন্তু অন্যদের সঙ্গে বাঁধনে জড়ায় না।
► অন্য মৌলিক বলগুলোর সঙ্গে খাপ না খাওয়ার ব্যাপারটাও বেশ রহস্যময়। বিজ্ঞানীদের জন্য হতাশাজনকও বটে। কারণ, বিজ্ঞানীরা সবকিছুতে প্যাটার্ন খোঁজেন। অপরূপ মহাবিশ্বের বিচিত্রতা ও জটিলতা দেখলে অভিভূত না হয়ে আমাদের উপায় থাকে না। তার মধ্যে কোনো প্যাটার্ন খুঁজে পাওয়া গেলে বিষয়টা বোঝা যায়। যেমন আপনার পরিচিত কোনো মানুষের কথা চিন্তা করুন। তার ফেসবুক প্রোফাইল দেখলে যতটা না চেনা সম্ভব, তার চেয়ে বেশি চেনা বা বোঝা যাবে তার ইন্টারনেট ব্রাউজিং হিস্ট্রির প্যাটার্ন পরীক্ষা করলে। এভাবে মহাবিশ্বকে বোঝার বা ব্যাখ্যার চেষ্টা করা হয়। কিন্তু এই চেষ্টা করতে গিয়ে দেখা গেছে, মহাকর্ষ অন্য সব বলের এই প্যাটার্নের সঙ্গে খাপ খায় না।
সবকিছুকে কোনো প্যাটার্নে খাপ খাওয়ানোর ইচ্ছা পদার্থবিদদের অনেক দিনের। এর একটি কারণ, তাঁরা পদার্থবিজ্ঞানের সবকিছুকে একত্র করে একটিমাত্র তত্ত্বের ভেতরে আনতে চান। অর্থাৎ একটিমাত্র তত্ত্ব দিয়ে মহাবিশ্বের সবকিছু ব্যাখ্যা করতে চান তাঁরা। একে বলা হয় থিওরি অব এভরিথিং বা সবকিছুর তত্ত্ব। এই চাওয়ার পেছনে সবচেয়ে বড় বাধা মহাকর্ষ।
কখনো কি ভীষণ বিস্ময়ে ভেবেছেন, আপনি পৃথিবীতে আটকে আছেন কেন? মহাকাশে ছিটকে পড়ছেন না কেন? এর একটিই উত্তর, মহাকর্ষ। এই বলটাই আপনাকে ভূপৃষ্ঠে আটকে রেখেছে। মহাকর্ষ ছাড়া আমরা কেউই পৃথিবীতে আটকে থাকতে পারতাম না, থাকতে হতো মহাশূন্যে ভেসে। অবশ্য তখন মহাবিশ্বও পরিণত হতো ঘন অন্ধকারাচ্ছন্ন ও বিশালাকৃতির গ্যাস আর ধূলিকণায়। মহাকর্ষ না থাকলে গ্রহ, নক্ষত্র, ছায়াপথ বলে কিছু থাকত না। কাজেই বলতেই হচ্ছে, মহাকর্ষের প্রভাব বলেন আর প্রতিপত্তি বলেন, তা বিশাল, বিপুল। অনেক বড় পরিসরের। অথচ মহাবিশ্বের চারটি মৌলিক বলের মধ্যে মহাকর্ষই সবচেয়ে দুর্বল। কিন্তু কতটা দুর্বল?
সেটি শুনলেও অনেকের চোখ কপালে উঠে যেতে পারে। মোটা দাগে বললে, অন্য তিনটি মৌলিক বলের তুলনায় প্রায় ১০৩৬ ভাগ দুর্বল এই মহাকর্ষ। অর্থাৎ ১/১,০০০,০০০,০০০,০০০,০০০,০০০,০০০,০০০,০০০,০০০,০০০,০০০ ভাগ। এত বড় সংখ্যা উপলব্ধি করা সহজ নয়তাই কতিপয় সহজ উদাহরণ নিম্নে দেয়া গেলঃ
উদাহরণ ০১
ধরা যাক, একটা পেঁপেটা কেটে চার ভাগ করলে এর প্রতিটি টুকরা হবে পেঁপেটির এক–চতুর্থাংশ। পেঁপেটাকে ১০৩৬ ভাগ করা হলে প্রতিটি টুকরোর আকার হবে পেঁপের একটি অণুর চেয়েও ছোট। আর পেঁপের একটি অণুর সমান টুকরার আকার করতে চাইলে আপনাকে প্রায় ২০ লাখ পেঁপে কেটে সমান ভাগে টুকরা করতে হবে।
উদাহরণ ০২
অন্যান্য বলের তুলনায় মহাকর্ষের দুর্বলতা পরিমাপের আরেকটি পরীক্ষা হলো নিম্নরূপঃ
একটি শুকনা চিরুনি ও ছোট ছোট টুকরা করে কাটা কিছু কাগজ নিই। শুকনা চিরুনিটা দিয়ে মাথার শুকনো চুল কিছুক্ষণ আঁচড়ে কাগজের টুকরার কাছে ধরলে দেখা যাবে, কাগজের টুকরাগুলোকে চিরুনিটা আকর্ষণ করছে। কিছু কাগজ চিরুনির সঙ্গে লেগেও যাবে। এর কারণ স্থির বিদ্যুৎ। চিরুনির সামান্য বিদ্যুৎ–চৌম্বকীয় বলও কাগজের টুকরাগুলোকে চিরুনির সঙ্গে আটকে রাখে। অথচ কাগজের টুকরাগুলোর ওপর পৃথিবীর মহাকর্ষ কাজ করছে। কিন্তু গোটা পৃথিবীর মহাকর্ষও চিরুনির সেই আকর্ষণ ঠেকাতে পারছে না। এতে বোঝা যায়, বিদ্যুৎ–চৌম্বকীয় বলের তুলনায় মহাকর্ষ কত দুর্বল! এটা চিন্তনীয় বিষয় যে, একটি ছোট চুম্বক লোহাজাতীয় কিছুর কাছে ধরলে তা বিশাল পৃথিবীর মহাকর্ষ কত দূর্বল!
মহাকর্ষ বলের দূর্বলতা নিয়ে কতিপয় স্বাভাবিক প্রশ্নাবলী
প্রশ্ন জাগা স্বাভাবিক যে, ক) মহাকর্ষ যদি এত দুর্বলই হয়, তাহলে মহাবিশ্বে তার গুরুত্ব আসলে কী?
খ) শক্তিশালী অন্য বলের কাছে মহাকর্ষ কি ধরাশায়ী হতো না?
গ) আর গ্রহ আর নক্ষত্রগুলোকে মহাকর্ষ কীভাবে নির্দিষ্ট কক্ষপথে ধরে রেখেছে?
ঘ) অন্যান্য বলের প্রভাবে সেগুলো ছিটকে যাচ্ছে না কেন? কিংবা অন্য বলগুলো যদি এতই শক্তিশালী হয়, তাহলে তারা মহাকর্ষের ওপরে প্রভাব বিস্তার করে মহাকর্ষ বলকে মহাবিশ্ব থেকে নিশ্চিহ্ন করে ফেলতে পারছে না কেন?
কেবল বৃহৎ পরিসরেই মহাকর্ষ গুরুত্বপূর্ণ!
দুর্বল ও সবল পারমাণবিক বল কাজ করে কেবল অতিক্ষুদ্র পরিসরে। কাজেই এ দুটি বলের সিংহভাগই শুধু অতিপারমাণবিক পরিসরে উপলব্ধি করা যায়। ফলে, গ্রহ, নক্ষত্র ও ছায়াপথের চলাফেরায় বিদ্যুৎ–চৌম্বকীয় বলের বড় কোনো ভূমিকা নেই। কারণ, বিদ্যুৎ–চৌম্বকীয় বল দ্বিমুখী। অর্থাৎ বিদ্যুৎ–চৌম্বকীয় বলের সঙ্গে দুই ধরনের বৈদ্যুতিক চার্জ জড়িত। ধনাত্মক ও ঋণাত্মক। একইভাবে দুর্বল ও সবল পারমাণবিক বলেরও বৈদ্যুতিক চার্জের মতো ধর্ম রয়েছে, যাদের বলা হয় হাইপারচার্জ ও কালার। এগুলোর মানও ভিন্ন ভিন্ন।এর কারণ, বিদ্যুৎ–চৌম্বকীয় বলের সঙ্গে দুই ধরনের বৈদ্যুতিক চার্জ জড়িত। ধনাত্মক ও ঋণাত্মক। একইভাবে দুর্বল ও সবল পারমাণবিক বলেরও বৈদ্যুতিক চার্জের মতো ধর্ম রয়েছে, যাদের বলা হয় হাইপারচার্জ ও কালার। এগুলোর মানও ভিন্ন ভিন্ন।
পক্ষান্তরে বড় পরিসরে মহাকর্ষ খুবই গুরুত্বপূর্ণ। আবার বিপুল ভরের ক্ষেত্রেও গুরুত্বপূর্ণ এই বল। মহাকর্ষ একমুখী। তাই মহাকর্ষ শুধু বস্তুকে আকর্ষণ করে বা টানে, বিকর্ষণ করে না। অন্যদিকে মহাকর্ষের মান সংশ্লিষ্ট বস্তুর ভরের সঙ্গে সম্পর্কিত। অবশ্য মহাকর্ষকেও অন্য বলগুলোর মতো ভাগ করা যায়। অর্থাৎ বস্তুর ভরকে মহাকর্ষের চার্জ হিসেবে কল্পনা করা যায়, যার মাধ্যমে বস্তুটি কতটুকু মহাকর্ষ অনুভব করবে, তা নির্ধারিত হবে। কিন্তু সমস্যা হলো, মহাবিশ্বে শুধু এক ধরনের ভরই দেখা যায়। ঋণাত্মক বা নেগেটিভ ভর বলে কোনো কিছুর অস্তিত্ব নেই। কাজেই কোনো কণা বা বস্তুকে মহাকর্ষ বিকর্ষণ করে না।
বিষয়টি গুরুত্বপূর্ণ। কারণ, এর মানে দাঁড়ায়, মহাকর্ষকে বাতিল করা যায় না। কিন্তু বৃহৎ পরিসরে বিদ্যুৎ–চৌম্বকীয় বলের ক্ষেত্রে তা ঘটতে দেখা যায়। সূর্যের বেশির ভাগ যদি ধনাত্মক বৈদ্যুতিক চার্জ দিয়ে গঠিত হতো এবং পৃথিবী যদি বেশির ভাগ ঋণাত্মক চার্জ দিয়ে গঠিত হতো, তাহলে এই দুইয়ের মধ্যে যে আকর্ষণ দেখা যেত, তার পরিমাণ হতো বিপুল। তাহলে আমাদের গ্রহটাকে অনেক আগেই সূর্য গিলে ফেলত। কিন্তু পৃথিবী গঠিত হয়েছে প্রায় সমপরিমাণ ধনাত্মক ও ঋণাত্মক চার্জ দিয়ে। আবার সূর্যও গঠিত হয়েছে সমপরিমাণ ধনাত্মক ও ঋণাত্মক চার্জে। তাই তারা বিদ্যুৎ–চৌম্বকীয়ভাবে পরস্পরকে সেভাবে প্রভাবিত করে না। পৃথিবীর প্রতিটি ধনাত্মক ও ঋণাত্মক কণার উভয়েই সূর্যের ধনাত্মক ও ঋণাত্মক কণা দিয়ে আকর্ষিত ও বিকর্ষিত হয়। তাই সব বিদ্যুৎ–চৌম্বকীয় বল বাতিল হয়ে যায়। প
পক্ষান্তরে, দুর্বল ও শক্তিশালী পারমাণবিক বল বৃহৎ পরিসরে কাজ না করায় এক্ষণে চারটি বলের মধ্যে একটি বলই বাকি থাকে, আর সেটি হলো মহাকর্ষ। এ কারণে গ্রহ, নক্ষত্র ও ছায়াপথগুলোকে বৃহৎ পরিসরেও নিয়ন্ত্রণ করে মহাকর্ষ। কারণ, অন্যান্য বল ভারসাম্যপূর্ণ অবস্থায় থাকে। আর মহাকর্ষ আকর্ষণধর্মী হওয়ার কারণে একে কখনো বাতিল করা যায় না।রে
বিঃদ্রঃ পৃথিবী গঠিত হয়েছে প্রায় সমপরিমাণ ধনাত্মক ও ঋণাত্মক চার্জ দিয়ে। আবার সূর্যও গঠিত হয়েছে সমপরিমাণ ধনাত্মক ও ঋণাত্মক চার্জে। তাই তারা বিদ্যুৎ–চৌম্বকীয়ভাবে পরস্পরকে সেভাবে প্রভাবিত করে না। পৃথিবীর প্রতিটি ধনাত্মক ও ঋণাত্মক কণার উভয়েই সূর্যের ধনাত্মক ও ঋণাত্মক কণা দিয়ে আকর্ষিত ও বিকর্ষিত হয়। তাই সব বিদ্যুৎ–চৌম্বকীয় বল বাতিল হয়ে যায়। অনুরুপ মাটিতে রয়েছে যেমন আয়রণ, ম্যাগনেশিয়াম তেমন মানব দেহেও রয়েছে অনুরুপ খনিজ উপাদান মাটির আয়রণ, ম্যাগনেশিয়াম নামক ধনাত্মক ও ঋণাত্মক কণার আকর্ষণ-বিকর্ষণ অআর দেহের আয়রণ, ম্যাগনেশিয়াম নামক ধনাত্মক ও ঋণাত্মক কণার আকর্ষণ-বিকর্ষণে বাতিল হয়ে যায় পৃথিবীর ভূত্বকে আমাদের ধরে রাখার ক্ষেত্রে মধ্যাকর্ষণ (অভিকর্ষ বল) শক্তির সক্ষমতা ।
সুতরাং মহাকর্ষের দুটি কৌতূহলী ও অমীমাংসিত ধর্ম দেখা যাচ্ছে। প্রথমটা হলো অন্য বলগুলোর সঙ্গে তুলনা করলে এই বলটা খুবই দুর্বল। দ্বিতীয়ত, বলটা শুধু আকর্ষণ করে। কিন্তু সংশ্লিষ্ট কণার চার্জের ওপর নির্ভর করে অন্য বলগুলো আকর্ষণ, বিকর্ষণ দুটিই করে। দেখা যাচ্ছে, নানা দিক দিয়ে মহাকর্ষ বেশ অস্বাভাবিক। তাহলে প্রশ্ন আসে, মহাকর্ষ এ রকম আলাদা কেন? এর একমাত্র উত্তর, আমরা জানি না।
সুতরাং মহাকর্ষের দুটি কৌতূহলী ও অমীমাংসিত ধর্ম দেখা যাচ্ছে। প্রথমটা হলো অন্য বলগুলোর সঙ্গে তুলনা করলে এই বলটা খুবই দুর্বল। দ্বিতীয়ত, বলটা শুধু আকর্ষণ করে। কিন্তু সংশ্লিষ্ট কণার চার্জের ওপর নির্ভর করে অন্য বলগুলো আকর্ষণ, বিকর্ষণ দুটিই করে। দেখা যাচ্ছে, নানা দিক দিয়ে মহাকর্ষ বেশ অস্বাভাবিক। তাহলে প্রশ্ন আসে, মহাকর্ষ এ রকম আলাদা কেন? এর একমাত্র উত্তর, আমরা জানি না।
মহাকর্ষ শুধু বস্তুকে আকর্ষণ করে বা টানে, বিকর্ষণ করে না। এর কারণ, বিদ্যুৎ–চৌম্বকীয় বলের সঙ্গে দুই ধরনের বৈদ্যুতিক চার্জ জড়িত। ধনাত্মক ও ঋণাত্মক। একইভাবে দুর্বল ও সবল পারমাণবিক বলেরও বৈদ্যুতিক চার্জের মতো ধর্ম রয়েছে, যাদের বলা হয় হাইপারচার্জ ও কালার। এগুলোর মানও ভিন্ন ভিন্ন। অন্যদিকে মহাকর্ষের মান সংশ্লিষ্ট বস্তুর ভরের সঙ্গে সম্পর্কিত। অবশ্য মহাকর্ষকেও অন্য বলগুলোর মতো ভাগ করা যায়। অর্থাৎ বস্তুর ভরকে মহাকর্ষের চার্জ হিসেবে কল্পনা করা যায়, যার মাধ্যমে বস্তুটি কতটুকু মহাকর্ষ অনুভব করবে, তা নির্ধারিত হবে। কিন্তু সমস্যা হলো, মহাবিশ্বে শুধু এক ধরনের ভরই দেখা যায়। ঋণাত্মক বা নেগেটিভ ভর বলে কোনো কিছুর অস্তিত্ব নেই। কাজেই কোনো কণা বা বস্তুকে মহাকর্ষ বিকর্ষণ করে না।
মহাকর্ষের আপেক্ষিকতার স্বরূপ
আইনস্টাইন একদিকে মনে করেন, সব ধরণের শক্তিই হলো মহাকর্ষের উৎস। কারণ সব শক্তিরই একটা কার্যকর ভর রয়েছে। (বিজ্ঞানচিন্তা, জানুয়ারি, ২০২১,পৃষ্ঠা ৬৩)। অন্যদিকে মনে করেন, মহাকর্ষ বলতে আসলে কোনো স্বতন্ত্র বল নেই, এটা আসলে মহাবিশ্ব নামক নরম চাদরের বুকে বিদ্যমান অসীম ভরসম্পন্ন কোনো বস্ত্তর উপস্থিতি। এই মত আইনস্টাইন উপস্থাপন করেছিলেন ১৯১৫ সালে রচিত সাধারণ আপেক্ষিকতা তত্ত্বে যার ভিত্তিতে কার্লস শোয়ার্জশিল্ড ব্ল্যাকহোল ধারণা লাভ করেন।
CIRNN মনে করে, মহাবিশ্ব মূলতঃ ২টি ভিত্তির উপর ভিত্তিশীলঃ ১) শক্তি এবং ২) জ্ঞান। একদিকে শক্তিও মূলতঃ ২টি ভিত্তির উপর ভিত্তিশীল যথাঃ ১) স্হূল এবং ২) সূক্ষ্ণ। এই ভিত্তিও মূলতঃ ২ প্রকার ১) জড় এবং ২) প্রাণী। অন্যদিকে জ্ঞানও মূলতঃ ২টি ভিত্তির উপর ভিত্তিশীল যথা ১) উপকারী জ্ঞান ২) অপকারী জ্ঞান। উভয়টির ভিত্তি বিবেক। বিবেক উপকারী এবং অপকারী উভয় জ্ঞানের মধ্যে উপকারী জ্ঞান-কে বেছে নেয়।
মহাকর্ষঃ মহাবিশ্বের মহাবিস্ময়
IRRSTC আমরা জানি যে, মাটির আকর্ষণে ফল নীচে পড়ে কিন্ত্ত আমরা জানি না যে, মাটি এই আকর্ষণ শক্তি পায় কোত্থেকে? এই শক্তির সাথে আর কোনো বল বা শক্তির যোগসূ্র আছে কি-না? পৃথিবীর ভূত্বকে লেগে বা অআটকে থাকা সহজ কথা নয়। কারণ অআমাদের এমনকি বিসরণশীল প্রাণীর দেহের খুব কম অংশই পৃথিবীর মাটির সাথে সম্পৃক্ত দাঁড়ালে দুই পায়ের পাতা, হাঁটলে এক পায়ের পাাতাই সম্পর্কিত থাকে বাতাসের প্রবল উর্ধ্বচাপ উপেক্ষা করে। পৃথিবী যদি ঘূর্ণায়মান হয় তাহলে ছিটকে পড়ারই কথা।
► মহাকর্ষ বল আসলে বিদ্যুৎ চুম্বকীয় বলের আকর্ষণ বলের একটি ব্যাপার ব্যতিত আর কিছুই নয়। এখানে মহাকর্ষ আইনস্টাইনের সাধারণ আপেক্ষিকতা তত্ত্ব মেনে চলে। চুম্বক আকর্ষণ জাতীয় বস্ত্ত হলেও অনেকে সময় আপেক্ষিকতার তত্ত্ব মেনে লোহা আকর্ষণীয় বলে পরিণত হয় যদি চুম্বকের তুলনায় লোহা বড় হয়। তখন চুম্বক নিজেই লোহার কাছে এসে পড়ে। আর যদি লোহার তুলনায় চুম্বক বড় হয় তাহলে কেবল চুম্বক লোহাকে টেনে নেবে। কাগজের ছোট ছোট টুকরার তুলনায় চিরুনী অনেক বড়, তাই চিরুনীর স্থির চুম্বকীয় বল কাগজের ছোট টুকরাকে তুলে আনে।
মহাকর্ষ বল যখন অআমাদের ওপর কাজ করে তখন তাকে মধ্যাকর্ষণ বা অভিকর্ষ বল বলা হয়।
► ভর আছে -সে রকম যে কোনো বস্ত্ত অন্য বস্ত্তকে মহাকর্ষ বল দিয়ে আকর্ষণ করে।এই আকর্ষণটা টান নাকি চাপ?
► আইনস্টাইনের মতে, মহাকর্ষ বল বলতে মহাবিশ্বে অআসলে কিছু নেই।এটা নিছক মহাকাশের কোলে থাকা ভারি (সূর্য বা (ব্ল্যাকহোল জাতীয়) বস্ত্তর পাশ ঘেঁষে দূর নক্ষত্রের অআলো কিছুটা বেঁকে গিয়ে পৃথিবীতে পৌঁছার কারণে এমনটি হচ্ছে।
► পক্ষান্তরে নিউটনের মতে, মহাকর্ষ বা মধ্যাকর্ষণ নয় বরং অদৃশ্য দড়িতে বাধা অআছে পৃথিবী, তাই সূর্যের উপর অআছড়ে পড়ে না। যেমনি চাঁদ অআছড়ে পড়ে না পৃথিবীর বুকের উপর।
► তড়িৎ চুম্বকীয় বল মহাকর্ষের তুলনায় ১০৩৬ গুণ শক্তিশালী।অর্থাৎ মহাকর্ষ তড়িৎ চুম্বকীয় বল মহাকর্ষের তুলনায় ১০৩৬ গুণ দূর্বল। তাছাড়া মহাকর্ষ স্ট্য্যান্ডার্ড মডেলে স্বীকৃত নয় যদিও পদার্থ বিজ্ঞানে নিম্নরূপ মূল্যায়ন রাখেঃ+
ক-মহাবিশ্বের উৎসমূল মহাকর্ষ -স্টিফেন হকি?
খ-দেখুন বিজ্ঞানচিন্তা
► যেখানে মহাকর্ষ বল বেশি সেখানে মাটি থেকে পা তোলাই কঠিন হয়ে পড়ে। আই.আর.আর.এস.টি.সি মনে করে, এতে প্রমাণিত হয় মহাকর্ষ নামক ১০৩৬ গুণ শক্তিশালী বিশিষ্টতড়িৎ চুম্বকীয় বলের প্রবল চাপে ব্ল্যাকহোলের ঘটনাদিগন্তের অআলোকে প্রবলভাবে চেপে রাখার দরুন অআলো বেরুতে পারে না।
► পৃথিবীকে আস্ত একটি আয়রণ সমৃদ্ধ ভূত্বক কল্পনা করা হলে আকাশকে কল্পনা করা যেতে পারে নিম্নমুখী তড়িৎ চুম্বকীয় বলরূপে। তৎসহ শারিরীক ওজন বা ভরের কারণে বাতাসের উর্ধ্বমুখী চাপ উপেক্ষা করে প্রাণীরা স্বাচ্ছন্দে ভূত্বকের আষ্টেপৃষ্ঠে লেগে অআছে অআঠার মতো। চাঁদে প্রাণী নেই, তাই সেখানকার ...পৃথিবী থেকে অন্ততঃ ছয় গুণ কম থাকায় নভোচারিরা লাফিয়ে লাফিয় চলে চন্দ্রপৃষ্ঠে পৃথিবীতে স্বাভাবিক মাত্রার....থাকার দরুন অআমরা অতি স্বাচ্ছন্দ্যে পদক্ষেপ নিয়ে হাটা চলা করে যাচ্ছি-মানব দেহে অআয়রণ এবং ম্যাগনেটের উপস্থিতির কারণে ই সমীকরণও প্রশ্নের সম্মুখীন যে,ষ্টতড়িৎ চুম্বকীয় বল এবং ভূত্বকের অআয়রণ মানব দেহে শুন্য প্রভাবের দাবী রাখে।
মহাকর্ষকে জানতে হলেঃ
●প্রথমতঃ আমাদের বৈশ্বিক অবস্থান সম্পর্কে চিরায়ত (ক্ল্যা্সিকাল)বিশ্বাসে সংস্কার আনতে হবে।
●দ্বিতীয়তঃ মহাকর্ষের দূর্বলতা সম্পর্কিত বিষয়ে বাস্তবসম্মত ব্যাখ্যা বিশ্লেষণের মাধ্যমে ইতিবাচক নীতিগত সিদ্ধান্তে উপনীত হতে হবে।
●তৃতীয়তঃ মহাকর্ষের টান সম্পর্কিত চিরায়ত ধারণায় সংস্কার আনতে হবে।
●চতুর্থতঃ প্রয়োজনবোধে মহাকর্ষকে অপর ৩ বলের বাইরে বিশেষ বল হিসাবে স্বীকৃতি দিতে হবে।
●পন্চমতঃ বর্তমান কসমোলজিক্যাল স্ট্যান্ডার্ড মডেলকে মধ্যপন্থায় কোয়ান্টাম বল বিজ্ঞানের পাশাপাশি নিউটনীয় ক্ল্যাসিকাল বল বিজ্ঞানকে সার্বিক একীভূতকরণ তত্ত্বের পরিবর্তে সার্বিক সহাবস্থান তত্ত্বে রূপ দিতে হবে, যেহেতু মহাকর্ষকে কোয়ান্টাম বল বিজ্ঞানেও অআয়ত্ব করা সম্ভব হচ্ছে না সেহেতু তৃতীয় ধারায় Transcendental Principle (ধারণা বহির্ভূত বিষয়ের বোধগম্যকরণ তত্ত্ব) ভিত্তিক “ফ্রন্টিয়ার সায়েন্স” নামে নতুন বিজ্ঞানের প্রবর্তন করতে হবে যাতে একাধারে স্ট্রিং থিওরি, স্ট্রেন্জ কোয়ার্কসহ মহাকর্ষকে সহজবোধ্য করা যায়।
সত্য সহজ পথে নিহিত।(নিউটন)। সেমতে মহাকর্ষ যতই দূর্বোধ্য মনে হউক না কেন; অবশ্যই মহাকর্ষ অনুধাবনে সহজ-সরল উপায় হয়তো আমাদের দৈনন্দিন প্রাত্যাহিক জীবনাচরণে, কিংবা আমাদের অআশে পাশে এমনকি অআমাদের নিত্যব্যবহার্য দ্রব্য সামগ্রিতেও থাকা অসম্ভব নয় বলে CIRNN মনে করে।তবে মহাকর্ষকে সহজে-সরলে জানতে হলে এ ক্ষেত্রে প্রথমে ভাঙতে হবে চিরায়ত বদ্ধমূল বৈজ্ঞানিক ধারণা বিশ্বাস (সায়েন্টিফিকাল ক্ল্যাসিকাল মিথ)আর তা হচ্ছে, আমরা প্রকৃতপক্ষে শুন্য তথা আকাশবাসী, মর্ত্যবাসী অর্থাৎ পৃথিবীবাসী নই।এর পর মহাকর্ষ বিষয়ের যে প্রারম্ভিকতা তা হচ্ছে, মহাকর্ষ অন্য তিন বলের চাই ......গুণ দূর্বল-এতে চোখ কপালে উঠার প্রয়োজন নেই বলে মনে করে CIRNN.এর সমাধানে আমাদের নিত্য ব্যবহার্য যে দ্রব্যের দ্রব্যগুণে নিহিত আছে তা হচ্ছে নুন (সল্ট)।জাবের ইবনে হায়ানের পর্যায় সারণি
মহাকর্ষের দূর্বলতার ব্যাখ্যাঃ
অ্যারিস্টটলের মতে প্রতিটা পদার্থের একটা ন্যাচারাল মিনিমাম থাকবে, যার চেয়ে ছোট করতে গেলে একটা পদার্থ আর ওই পদার্থের গুণাবলি নিয়ে থাকবে না। এমন একটা মৌলিক অবস্থায় চলে যাবে, যা সব পদার্থের জন্য একই। অ্যারিস্টটলের ধারণা হলো, সব পদার্থই আসলে একই জিনিস। এর সঙ্গে ‘ফর্ম’ বা অবস্থা জড়িত। ওই অবস্থার জন্য পদার্থ নানা রূপ নেয়। কখনো পানি, কখনো রুপা, আবার কখনো পাথর বা মাটি। মূল অবস্থাও খুব বেশি নয়, মাত্র চারটা। আগুন, পানি, বাতাস ও মাটি।
দার্শনিক ডেমোক্রিটাস পদার্থের ক্ষুদ্রতম রূপ যে অ্যাটম বা পরমাণু, এমন একটা ধারণা দিয়েছিলেন। তাঁর মতে, সব পদার্থই আলাদা, প্রতিটি পদার্থের জন্য একটা ক্ষুদ্রতম একক আছে, যা আর ভাঙা যায় না, ছোট করা যায় না। এবং সেটাই পরমাণু।
আধুনিক ইউরোপে আসার আগে অ্যারিস্টটলের ধারণায় অনেক বেশি পরিবর্তন না এলেও নতুন একটা অংশ যুক্ত হয়। ধারণাটি প্রবর্তন করেন অষ্টম শতাব্দীর আরব বিজ্ঞানী জাবির ইবনে হাইয়ান। তাঁর দেওয়া মূলনীতি ছিল দুটি। একটাকে ডাকা হতো মার্কারি বা পারদ নামে, আরেকটা সালফার। এই মার্কারি বা সালফার ঠিক আমাদের চেনা পারদ-সালফার নয়। মার্কারি প্রিন্সিপলটা হলো ‘ঠান্ডা’ ও ‘ভেজা’। অন্যদিকে সালফার হলো ‘গরম’ ও ‘শুকনো’। ইংরেজিতে cool-moist ও hot-dry। এই চারটা ধর্ম চার মৌলিক পদার্থের মাঝামাঝি নতুন একটা অবস্থানের নির্দেশ করে। এই সালফার-মার্কারি থিওরি অনুযায়ী এই চারটা ধর্মই তৈরি করে মূল সাতটা ধাতু—স্বর্ণ, রৌপ্য, তামা, টিন, লোহা, সিসা ও পারদ।
সালফার-মার্কারি থিওরির চার কোয়ালিটি নির্ধারণ করে দেয় কোন ধাতু কেমন হবে। যেমন লোহার গলনাঙ্ক অনেক বেশি, ঘষা খেলে স্ফুলিঙ্গের সৃষ্টি হয়, তাই এতে নিশ্চয় সালফার অংশ অর্থাৎ গরম-শুকনা অংশ বেশি।
অ্যারিস্টটলের চার মৌল এবং জাবির ইবনে হাইয়ানের সালফার-মার্কারি—এ মিলেই তৈরি হয় বহুল প্রচলিত তালিকা। একটা বর্গাকৃতির চার কোণে চারটি মৌলিক পদার্থের এই তালিকাকেই বলা যায় প্রথম পর্যায় সারণি।
এই ধারণায় নতুনত্ব যোগ করেন ষষ্ঠদশ শতকে সুইস চিকিৎসা বিজ্ঞানী প্যারাসেলসাস। তিনি মার্কারি-সালফার থিওরিতে ‘সল্ট’ বা লবণ যোগ করে আরেকটু বিস্তৃত তত্ত্ব বানান। সালফার-মার্কারি-সল্টের এই তত্ত্ব অনুসারে জাবিরের মতো শুধু ধাতুই নয়, অন্য সব পদার্থও তৈরি হয় এসব ধর্ম দিয়েই। সুতরাং, পদার্থ বিজ্ঞানে নুনের একটা গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রয়েছে, এ নুন দূর্বল অথচ দুর্বোধ্য মহাকর্ষের দূর্বলতার পাশাপাশি সবলতা যে নিহিত তা বোধগম্য হতে সহায়ক বলে CIRNN মনে করে।নূনের মাত্রা যদিও অতি কম, তবুও পুরো খাদ্য বিস্বাদে পরিণত হয় যৎকিন্চিত নুনের অভাবে।এমনকি নুন চিনির মিষ্টতাকে বাড়িয়ে দেয়। অনুরুপ মহাকর্ষ হতে পারে তিন বলের তুলনায়.....................গুণ দূর্বল। তাতে কী এটা যদি নুনের মতো ফলোদয় হয়ে থাকে?তাই CIRNN মনে করে মহাকর্ষের নাম হতে পারে “সলটেজ স্ট্রেন্জ ফোর্স!”
CIRNN মনে করে অতি হালকা হিলিয়াম দিয়েও দূর্বল মহাকর্ষের সবল গুরুত্ব অনুধাবনীয় হতে পারে। যার বিস্তারিত বর্ণনা নিম্নরূপঃ
মহাবিশ্ব থেকে হিলিয়াম নামের মৌলটি মাত্র ৫ সেকেন্ডের জন্য গায়েব হয়ে গেলে ঘর সজ্জার বেলুনগুলো চুপসে গিয়ে মেঝেতে গড়াগড়ি খেত, ধ্বংস, অকেজো হয়ে পড়ে থাকতো কৃত্রিম উপগ্রহ, মেডিকেল স্ক্যানার এবং কম্পিউটার, স্মার্ট ফোন (মোবাইল) টেলিভিশনসহ আরও নানা যন্ত্র। নক্ষত্র ব্যবস্থা ভেঙে পড়তো। একে একে ঝলক মেরে নিভে যেত রাতের আকশে মিটমিট করে জ্বলা সব নক্ষত্রের আলো।
হিলিয়াম খুবই হালকা গ্যাস। পারমাণবিক সংখ্যা ২। পর্যায় সারণিতে এর অবস্থান দ্বিতীয় ঘরে। মহাবিশ্বে সবচেয়ে বেশি পাওয়া যায়, এমন মৌলের কথা বললেও হিলিয়াম দ্বিতীয় হবে। প্রথম অবস্থানটি ধরে রেখেছে হাইড্রোজেন। আমাদের দৃশ্যমান মহাবিশ্বের প্রায় ২৩ শতাংশ ভরই এই হিলিয়াম দিয়ে তৈরি।সুতরাং হালকা, দূর্বল যাই হোক না কেন মহাবিশ্বে হিলিয়ামের ভূমিকা অনন্য, অসাধারণ। অনুরূপ মহাকর্ষ যত দূর্বল হোক মহাবিশ্বে অনন্য অসাধারণই বটে। অনেক জগদ্বিখ্যাত ব্যক্তিত্ব রয়েছেন যার অতি ক্ষীণ দূর্বল কিন্তু জ্ঞান জগতে অনন্য। যেমন স্টিফেন হকিং জন্মগত প্রতিবন্ধি, যিনি কিনা মহাকর্ষের তাত্ত্বিক দ্রষ্টাদের অন্যতম।
ইউনিফাইড ফিল্ থিওরি(Unified Field Theory) বা “সমন্বিত ক্ষেত্র তত্ত্ব” ঃ নতুন বিশ্বের নতুন থিওরি!
বিজ্ঞানী আলবার্ট আইনস্টাইনের মৃত্যুর পর,বিশ্বের সব পত্রিকার শিরোনাম করা হয়, “The unfinished manuscript of the greatest work, of the greatest scientist of our time”। কি সেই অসমাপ্ত কাজ? আর কেনই বা তার মত একজন কিংবদন্তী বিজ্ঞানী তা শেষ করে যেতে পারলেন না ? আইনস্টাইন তার জীবনের শেষ ৩৫ বছর এই অসমাপ্ত কাজ শেষ করার চেষ্টা করে গেছেন, কিন্তু কোনভাবেই কুল-কিনারা করতে পারেন নি। সাধারণ মানুষের কাছে তাই সবচেয়ে বড় ধাঁধা ছিল, কি এমন কাজ যা আইনস্টাইনের মত একজন বিজ্ঞানী তার জীবনের শেষ সময় পর্যন্ত চেষ্টা করেও সফল হতে পারলেন না !তিনি যে তত্ত্বের জন্য তার জীবনের শেষ দিন পর্যন্ত কাজ করে গেছেন তার নাম, ইউনিফাইড ফিল্ড থিওরি(Unified Field Theory) বা “সমন্বিত ক্ষেত্র তত্ত্ব” ।
উল্লেখ্য, আইনস্টাইন মারা যাবার দশক দুয়েক পরেই বেশ কিছু বড়সড় পরিবর্তন আসে। ষাটের দশকের শেষের দিকে বিজ্ঞানীরা এমন একটি তত্ত্বের প্রয়োজন অনুভব করেন। তখন নতুন নতুন প্রযুক্তির সাহায্যে পরমাণুর জগত ও মহাকাশের অনেক অজানা রহস্য উন্মোচিত হতে থাকে। এসময় তাদের প্রধান লক্ষ হয়ে দ্বারায় এমন একট তত্ত্ব নির্মাণ করা, যা প্রকৃতির সবগুলো বলকে একীভূত করতে পারে। মূলধারার গবেষকরা বুঝতে পারেন, প্রকৃতিতে যে চারটি মৌলিক বল আছে তাদের একীভূত না করতে পারলে নতুন নতুন সমস্যার সমাধান করা সম্ভব না। আর প্রকৃতিকেও বোঝা সম্ভব না। আইনস্টাইনের স্বপ্নের “ ইউনিফাইড ফিল্ড থিওরি ” তখন বিজ্ঞানীদের বাস্তব প্রয়োজন হয়ে দ্বারায় এমন একটি তত্ত্ব গঠন যা প্রকৃতির জানা সকল বল ও ঘটনাকে ব্যাখ্যা করতে পারে; এমন একটি সমীকরণ, যা দিয়ে প্রকৃতির সবকিছু বর্ণনা করা যায়। আইনস্টাইনের বিশ্বাস ছিল, এমন একটি তত্ত্ব অবশ্যই আছে, যা দিয়েই প্রকৃতির সবকিছু বর্ণনা করা যাবে।
IRRSTC মনে করে, আলবার্ট আইনস্টাইন ছিলেন ফটোইলেক্ট্রিক ইফেক্টে সফলভাবে কোয়ান্টাম মেকানিক্স ব্যবহার করে পরিণত হন প্রাক্টিক্যাল স্থপতি, আর থিওরিটিক্যাল স্থপতি ছিলেন ম্যাক্স প্ল্যাঙ্ক যেমন জেনারেল থিওরি অব রিলিটিভিটির থিওরিটিক্যাল স্থপতি আইনস্টাইন এবং মহাকাশে প্রথমবারের মতো ব্ল্যাকহোলের ধারণা দিয়ে প্রাক্টিক্যাল স্থপতি হয়েছিলেন কার্ল সোয়ার্জশিল্ড যা আইনস্টাইনসহ জগদ্বিখ্যাত বিজ্ঞানীদের লালিল স্বপ্নঃ ইউনিফাইড ফিল্ড থিওরি(Unified Field Theory) বা “সমন্বিত ক্ষেত্র তত্ত্ব”-কে সংহত করে।
IRRSTC মনে করে, শত মাইল বেশি গতি হলেও স্ট্যান্ডার্ড মডেলে অসুবিধা নেই। প্রয়োজন কেবল আলোর স্বাভাবিক গতি এক লক্ষ ছিয়াশি হাজার মাইলকে গ্রীণীচ মান একক সময়ের মতো ESLF (Einstinian Standard Light Force)-কে একক আলো ঘোষণা।
যে ক্ল্যাসিকাল বল বিজ্ঞান আইজাক নিউটনের নখদর্পনে ছিল, যে বিজ্ঞানের সব ভাষা নিউটন গণিত কষে বুঝে ফেলতেন, তাতে জানার কিংবা বুঝার আর বাকী কিছু ছিল না । তখনই মহাকাশে মহাকর্ষের ভিন্ন অআচরণ দেখে নিউটন যেমন নির্বাক হয়ে বলেছিলেনঃ "মাধ্যাকর্ষণ গ্রহগুলির গতি ব্যাখ্যা করে, তবে কে গ্রহগুলিকে গতিশীল করে তা ব্যাখ্যা করতে পারে না।"
"পৃথিবীর এই বিপুল জ্ঞানভাণ্ডারকে জানার ক্ষেত্রে আমি সাগরের তীরে দাঁড়িয়ে থাকা এক শিশুর মতো, যে শুধু সারাজীবন নুড়িই কুড়িয়ে গেল। সমুদ্রের জলরাশির মতো বিশাল এই জ্ঞান আমার অজানাই থেকে গেল।"
"আমরা সাদা চোখে একটি পানির কণা সম্পর্কেই জানতে পারি কিন্তু বিশাল সমুদ্র সম্পর্কে আমাদের জ্ঞান সামান্যই।"
"অন্য কোন প্রমাণের অভাবে, বুড়ো আঙুলই আমাকে ঈশ্বরের অস্তিত্ব সম্পর্কে নিশ্চিত করবে।"
"আমার সমস্ত আবিষ্কার প্রার্থনার উত্তরে করা হয়েছে।"
"সত্যকে কখনও সরলতার মধ্যে খুঁজে পাওয়া যায়, এবং জিনিসগুলির বহুগুণতা এবং বিভ্রান্তিতে নয়।"
"সত্য হল নীরবতা ও ধ্যানের সন্তান।"
"একজন স্বর্গীয় মাস্টার সমস্ত বিশ্বকে মহাবিশ্বের সার্বভৌম হিসাবে পরিচালনা করেন। তাঁর পূর্ণতার কারণে আমরা তাঁকে বিস্মিত করি, আমরা তাঁকে সম্মান করি এবং তাঁর সীমাহীন ক্ষমতার কারণে তাঁর সামনে পড়ে থাকি। অন্ধ শারীরিক প্রয়োজনীয়তা থেকে, যা সর্বদা এবং সর্বত্র একই, সময় এবং স্থানের কোনও বৈচিত্র্য আবর্তিত হতে পারে না, এবং সমস্ত সৃষ্ট বস্তু যা মহাবিশ্বে শৃঙ্খলা এবং জীবনের প্রতিনিধিত্ব করে কেবল তার মূল স্রষ্টার ইচ্ছাকৃত যুক্তির দ্বারা ঘটতে পারে, যাকে আমি প্রভু ঈশ্বর বলি।"(সূত্রঃ https://bn.wikiquote.org/wiki/আইজাক_নিউটন)
তেমনি আইনস্টাইন জেনারেল রিলিটিভিটি থিওরিকে Inverient নামে আরও সংহত করতে গিয়ে সুহৃদ মহলের অনুরোধ রক্ষা করতে আপেক্ষিক নামটি বহাল রাখেন। ফলে সব কিছু আইনস্টাইনের দৃষ্টিতে আপেক্ষিক হয়ে দাঁড়ায়। IRRSTC মনে করে, তাতেই রাতারাতি ইউনিফাইড ফিল্ড থিওরি(Unified Field Theory) বা “সমন্বিত ক্ষেত্র তত্ত্ব” প্রতিষ্ঠা লাভ করে। এমনিতে অআমাদের এ যাবৎকালের প্রায় সব অর্জন ডার্ক এনার্জি অআর ডার্ক ম্যাটারে চুষে নিয়েছে, মাত্র চার থেকে পাঁচ শতাংশ অর্জন টিকে আছে জানা পদার্থের মধ্যে। অদূর ভবিষ্যতে হয়তো তা-ও কেড়ে নিতে পারে ব্ল্যাকহোলের ইভেন্ট হরিজন বা ঘটনাদিগন্ত।তাহলে অআমরা হেরে যেতে পারি ভিন্ গ্রহের অতি বুদ্ধিমান প্রাণী এলিয়েনের কাছে যেমন হেরেছিলাম কভিড-১৯ করোনা ভাইরাসের কাছে।
র্ম এবং বিজ্ঞানের গ্র্যান্ড ইউনিফিকেশনঃ
প্রাণের অস্তিত্বে বিশ্বাস নিয়ে আমরা আমাদের দৈহিক জীবনাচারে বিশ্বাসী যার কারণে কেহ মৃত্যু বরণ করলে আমরা বলিঃ “প্রাণ ত্যাগ করলো”। তেমনি প্রকৃতির অস্তিত্বে বিশ্বাস নিয়ে মহাবিশ্বকে বলে থাকি “বিশ্বপ্রকৃতি”। প্রাণ যেমন অদেখা একটি বিষয় তেমনি প্রকৃতিও একটি অ্যাবস্ট্রাক্ট (অতীন্দ্রীয়) বিষয় ।
পদার্থ বিজ্ঞানে বলা হয় এমন প্রশ্ন রয়েছে যার উত্তর নেই যেমন স্ট্রেন্জ কোয়ার্ক কেমন? ঘূর্ণিঝড় শেষ মুহুর্তে দিক পরিবর্তন করে কেন?ভূমিকম্পের অআগাম পূর্বাভাষ পাওয়া যায় না কেন? স্ট্যান্ডার্ড মডেল (Standard Model) স্বীকৃত বিগ ব্যাংয়ের (Big Bang) আগে কি ছিল? এর উত্তর হাইয়েস্ট এনার্জেটিক রেডিয়েশন (Highest Energetic Radiation) হলেও হাইয়েস্ট এনার্জেটিক রেডিয়েশনের পূর্বে কি ছিল কিংবা কে ছিলেন? এসবের উত্তর এখনও পাওয়া যায়নি। অনুরূপ উত্তর পাওয়া না যাওয়া আরেক প্রশ্ন হচ্ছেঃ প্রকৃতি কি? কেমন?
আই.আর. আর.এস.টি.সির মতে প্রকৃতি (Nature) কি? কেমন? এই প্রশ্নের সহজ উত্তর হচ্ছেঃ গড কর্তৃক সৃষ্ট সবই প্রকৃতি আর ম্যান মেইড সবই আর্টিফিশিয়াল (Artificial) বা কৃত্রিম। অর্থাৎ গড(God) সৃষ্ট সৃষ্টির (Creation) নাম প্রকৃতি (Nature। সেমতে, ২০১২ সালে সার্ণ কর্তৃক যান্ত্রিক উপায়ে কৃত্রিম সৃষ্ট হিগস বোসন এর উপনাম "গড পার্টিকেল" (God Particle)
আই.আর. আর.এস.টি.সির মতে প্রকৃত অর্থে হবেঃ গড’স পার্টিকেল (গড পার্টিকেল নয়)।
অনুরূপ হাইয়েস্ট এনার্জেটিক রেডিয়েশনের পূর্বে কি ছিল এ প্রশ্নের সম্ভাব্য উত্তর হচ্ছে প্রকৃতি কিংবা কে ছিলেন?এ প্রশ্নের সম্ভাব্য উত্তর হচ্ছে গড।
উল্লেখ্য, মহাবিশ্বের মূল বস্ত্তগত ভিত্তি কোয়ার্কের অবিচ্ছেদ্য অংশ হচ্ছে “অদৃশ্য স্ট্রেন্জ্ঞ কোয়ার্ক”। সত্যাসত্যতার ভিত্তি সরেজমিনে দর্শন হলেও তা স্থান, কাল, পাত্রভেদে আপেক্ষিক। মামলার সাক্ষ্যের জন্য প্রত্যক্ষ দর্শন জরুরী তেমনি না দেখে বিশ্বাসযোগ্য ব্যক্তির কথায় বিশ্বাস স্থাপন জরুরী একজন বিজ্ঞানের ছাত্রের জন্য নিউটন বা আইনস্টাইনের সূত্রে বিশ্বাস জরুরী, কলা বা আর্টের ছাত্রের জন্য তত জরুরী নয়
নিউটনীয় ক্ল্যাসিকাল বল বিজ্ঞানে সত্যাসত্যতার ভিত্তি যেমন সরেজমিনে দর্শন অন্যদিকে কোয়ান্টাম বল বিজ্ঞানে তা নয়। যেমন প্রাণ, প্রকৃতি কিংবা স্ট্রেন্জ্ঞ কোয়ার্ক এসবের ক্ষেত্রে দর্শন শর্তমুক্ত।
পরমাণুকে আরও গভীরভাবে জানতে, বুঝতে বিজ্ঞানীরা জ্ঞান সাগরের গভীরের অতল তলে তলায়িত ক্রমেই তীরে উঠতে প্রাণান্তকর প্রচেষ্টায় রত সেই অআইনস্টাইনের জীবৎকাল হতে। কিন্ত বারে বারে এমন অসীম এক শক্তির হাতছানি পাচ্ছেন যাতে সাড়া দিতে না আইনস্টাইন ছিলেন, না স্টিফেন হকিং, না কার্ল সাগান কেউ রাজি ছিলেন না। অআইনস্টাইন শতভাগ অআস্থাশীল ছিলেন যে, কোনো অবস্থাতেই কণা অআলোর গতি ছাড়াতে পারে না। কারণ, গতি বাড়লে ভরত্ব বেড়ে যায়, সময় সংকুচিত হয়ে পড়ে। তাই আইনস্টাইন শতভাগ গ্যারান্টি দিয়ে বলতেন, নিউট্রিনো জাতীয় কোনো অণু-কণাও আলোর গতি ছাড়াতে পারবে না। এক পর্যায়ে আইনস্টাইন নিজেরই অগোচরণে বা আনমনে প্রবেশ করেন অনন্ত অসীম এক জগতে যেখানে পদার্থ বিজ্ঞানের সকল সূত্র অকার্যকর হয়ে কণা আলোর গতি ছাড়িয়ে যাওয়ার আশংকা ব্যক্ত করেন এই বলেঃ অসীম শক্তি ছাড়া..........। অতঃপর বলেনঃ অসীম শক্তি "অসম্ভব" (Impossible)। স্টিফেন হকিং সৃষ্টিতত্বে অসীমত্ব খুঁজে পেয়েছিলেন গড এর মধ্যে যা তিনি নিজেই এই বলে অসীমত্বকে এড়িয়ে যানঃ সৃষ্টিতত্ত্বে ঈশ্বরের অআলো জ্বালানোর প্রয়োজন নেই, মহাকর্ষ বলে সৃষ্টিজগতের সৃষ্টি হয়েছে। অন্যদিকে অসীমত্ব খুঁজে পান "জীবন" (Life) নামক শব্দে এই বলেঃ এই বিশ্ব হলো অসম্ভব ভালোবাসা ও নৈতিক গভীরতায় পরিপূর্ণ নিদারুণ সুন্দর এক জায়গা। এ দৃষ্টিভঙ্গির মধ্য দিয়ে মৃত্যুর দিকে তাকানো এবং প্রতিদিনই কৃতজ্ঞ হওয়া এই ভেবে যে, সংক্ষিপ্ত কিন্ত্ত অসাধারণ স্বপ্নময় এক সুযোগ “জীবন” আমাদের দিয়েছে। -(সেই জীবনটা কে দিয়েছেন? প্রশ্ন বটে) এর জবাব পৃথিবীর শতকরা ৯৯.৯৯ এর অধিক মানুষ দিতে সক্ষম সরাসরি গড শব্দযোগে বাকী .১ (দশমিক এক) শতাংশ পরোক্ষভাবে অ্যাবট্রাক্ট অসীম এক সত্বার প্রতি ইংগিত করে সত্বাটির নাম হচ্ছে নেচার (Nature)।
নিউটনের ভাষায়ঃ “মহাকর্ষ সবসময় আমাদের এটি ব্যাখ্যা করতে পারে যে গ্রহগুলো কিভাবে ঘুরছে। কিন্তু এটি ব্যাখ্যা করতে পারে না যে কে গ্রহগুলোকে এই অবস্থায় রেখেছেন?
“যখন আমি সৌরজগতের দিকে তাকাই, আমি পৃথিবীকে সূর্য থেকে সঠিক দূরত্বে দেখি তাপ এবং আলোর সঠিক পরিমাণ পেতে”।
Nature প্রকৃতি
“প্রকৃতিতে এত এত কণা-এসব কি দিয়ে তৈরি কেউ জানে না” (বিজ্ঞানচিন্তা, বর্ষ....সংখ্যা...পৃষ্ঠা......)
প্রকৃতির অপার দান। প্রকৃতির রুদ্র রূপ। প্রকৃতির প্রতিশোধ, প্রকৃতির ৪ বল। প্রাকৃতিক দৃশ্য, প্রাকৃতিক দূর্যোগ, প্রাকৃতিক নির্বাচন, প্রাকৃতিক অআইন। মানব হস্তমুক্ত সবই প্রাকৃতিক (ন্যাচারাল),বাকী সব কৃত্রিম (আর্টিফিসিয়াল)।
একসময় বিজ্ঞান বলতে ফিজিক্সকে বুঝাতো। পুরো মহাবিশ্বের বিজ্ঞানকে ফিজিক্স বলা হতো। হালে কেবল পদার্থ বিজ্ঞানকে (মাআটেরিয়াল সায়েনস) ফিজিক্স বলা হয়। ফিজিক্স শব্দটি ...শব্দ থেকে উৎপন্ন যার অর্থ প্রকৃতি।
বিজ্ঞানীরা অতিপারমাণবিক অন্দর মহলে বার বার যে অসীমের বার্তা পাচ্ছেন তা বস্তুগত বিবেচনায় হতে পারে এই প্রকৃতি বা নেচার। তবে তা হতে হবে অবশ্যই প্রখর জ্ঞান, প্রজ্ঞা, বিবেক, বুদ্ধি সম্পন্ন। কারণ, বিশ্বপ্রকৃতির যে সুপরিকল্পিত, সুশৃঙ্খল, সুবিন্যস্ত পরিচালনা, ব্যবস্থাপনা তাতে প্রকৃতিকে হতে হবে জীবন্ত এবং প্রখর বুদ্ধিদীপ্ত।
হুমকির কবলে বিজ্ঞান
আমরা গভীর উদ্বেগের সাথে লক্ষ্য করছি, প্রযুক্তির অপব্যবহার জনিত পরিবেশের যতই দূষণ ঘটছে ততই তার দায় বর্তানো হচ্ছে বিজ্ঞানের উপর। কারণ, বিজ্ঞানের সফল ফসল হচ্ছে প্রযুক্তি (টেকনোলজি)।
ইষ্টার্ণ সায়েন্স টেক রিভিউ (বাংলাদেশ) মনে করে জলবায়ু পরিবর্তনের জন্য বিজ্ঞানতো দূরের কথা, প্রযুক্তিও দায়ী নয়। বরং দায়ী হলো মানুষের অজ্ঞতাজনিত প্রযুক্তির অপব্যবহার। এ সত্যতা বেরিয়ে আসে জাতি সংঘের ইন্টার গভর্ণমেন্ট ক্লাইমেট......এর ছয় শতাধিক বিজ্ঞানীর গবেষণায় বলা হয়েছে যে, বৈশ্বিক উষ্ঞতার জন্য মানব সম্পৃক্ততা রয়েছে।
ইষ্টার্ণ সায়েন্স টেক রিভিউ (বাংলাদেশ) আরও মনে করে, জ্ঞানের সঠিক ব্যবহার না হওয়ায় মৃত্যুমুখী সংস্কৃতির উদ্ভব ঘটেছে। এ প্রসঙ্গে কার্ল সাগান বলেনঃ সামান্য লিপস্টিক তৈরির জন্য আমরা কত নিরীহ প্রাণী তিমি হত্যা করছি। নিছক বিলাসিতার জন্য কত বন জঙ্গল উজার করছি যা পৃথিবীতে অক্সিজেন উৎপাদন আর কার্বন শোষণের উৎস। সুতরাং, জ্ঞানের বৈজ্ঞানিক সূত্র আবিস্কার এখন সময়ের দাবী মনে করে ইষ্টার্ণ সায়েন্স টেক রিভিউ (বাংলাদেশ)।
অত্যাশ্চর্য্যের বিষয় হচ্ছে শিল্প বিপ্লবের পর থেকে কার্বন জনিত উষ্ঞতা বৃদ্ধির মাধ্যমে প্রথমবারের মতো পৃথিবীতে পরিবেশ দূষণ ঘটলেও মানুষ ১৯৭০ সালে ওয়াশিংটনে প্রথমবাররের মতো অআর্থ ডে পালনের অআগ পর্যন্ত পরিবেশ দূষণ শব্দটি শোনা যায় নি সত্য, তারও অনেক অআগেই কবির মানসপটে ফুটে উঠেছিল পরিবেশ দূষণের অআগাম বার্তা তাই কবির কবিতায় উঠে আসে পরিবেশবান্ধব কবিতার শ্লোকঃ দাও ফিরে অরণ্য লও হে নগর। অর্থাৎ । ডিজিটাল নিয়ে এনালগ ফিরে পাওয়ার আকুতি।
আসুন! বিজ্ঞানের সুরক্ষায় এগিয়ে আসি
বিশেষ সম্পাদকীয়
বিজ্ঞানের সৃষ্ট জটিলতায় আমাদের ভাবার আছে অনেক কিছু
বিশ্ব এনালগ থেকে ডিজিটালে উত্তরণের জন্য বিজ্ঞানের কাছে যেমন ঋণী, কৃতজ্ঞ কারণ, বিজ্ঞান তার প্রযুক্তির বদৌলতে মানব জাতির জীবনে যে স্বাচ্ছন্দ্যবোধের উদ্ভব ঘটয়েছে তা অনন্য, অসাধারণ। কিন্ত্ত বিজ্ঞানের যে মূল মিশন এবং ভিশন তা হচ্ছে, সত্য থেকে সত্যান্তরের মাধ্যমে পরম সত্যে পৌঁছে সেই সত্যকে মানব সমাজে জানান দেয়া।
আধুনিক বিজ্ঞানে নিউটন সর্বপ্রথম ঈশ্বরতত্বের অআভাষ দেন এই বলেঃ...............................................।
আইনস্টাইন যেমন ক্ল্যাসিক্যাল বল বিজ্ঞানের সাথে কোয়ান্টাম বল বিজ্ঞানের মধ্যে ঐক্য কামনা করতে গিয়ে সার্বিক একীভূতকরণ তত্ত্বের স্বপ্ন দেখেছিলেন; তেমনি স্বপ্ন দেখেছিলেন ধর্ম এবং বিজ্ঞানের মধ্যেও সার্বিক একীভূতকরণ তত্ত্বেরও। যার পরিপ্রেক্ষিতে তিনি একবার প্রসঙ্গক্রমে এক প্রাতঃস্মরণীয় উক্তিতে বলেছিলেনঃ “ধর্ম ছাড়া বিজ্ঞান পঙ্গু এবং বিজ্ঞান ছাড়া ধর্ম .....”
আল কুরআনের আলোকে
পরকালীন জীবন সম্পর্কে সন্দেহবাদী অবিশ্বাসীদের প্রশ্নঃ
“সে বলে, কে জীবিত করবে অস্থিসমূহকে- যখন সেগুলো পঁচে গলে যাবে? (সূরাহ্ ইয়া-সী-ন, আয়াত ৭৮সন্দেহবাদী অবিশ্বাসীদের এ প্রশ্নের জবাবে স্বয়ং আল্লাহপাক ফরমানঃ “বলুন (আয় আমার পেয়ারা হাবীব); যিনি প্রথমবার সেগুলোকে সৃষ্টি করেছেন, তিনিই জীবিত করবেন। তিনি সর্ব প্রকার সৃষ্টি সম্পর্কে সম্যক অবগত”। (সূরাহ্ ইয়া-সী-ন, আয়াত ৭৮-৭৯)
“এ মাটি থেকেই আমি তোমাদের সৃজন করেছি, এতেই তোমাদেরকে ফিরিয়ে দিব এবং পুনরায় এ থেকেই আমি তোমাদেরকে উত্থিত করব।”। (সূরা ত্বহা, আয়াত-৫“মানুষ কি মনে করে যে, আমি তার অস্থিসমূহ একত্রিত করবো না? পরন্ত্ত আমি তার আংগুলগুলো পর্যন্ত সঠিকভাবে সন্নিবেশিত করতে সক্ষম” (সূরাহ্ আল ক্বেয়ামাহ্-আয়াত-৩-৪)“এবং এ কারণে যে, কেয়ামত অবশ্যম্ভাবী, এতে সন্দেহ নেই এবং এ কারণে যে, কবরে যারা আছে, আল্লাহ তাদেরকে পুনরুত্থিত করবেন” (সূরা হাজ্জ, আয়াত-০৭: পবিত্র কোরআনুল করীম, মূলঃ তাফসীর মাআরেফুল ক্বোআল হাদীসের আলোকে।
“মানুষের দেহের সবকিছু জরাজীর্ণ হয়ে যাবে। কিন্তু নিতম্বের শেষ হাঁড় (ত্রিকোণাস্থিত) নষ্ট হয় না। মানুষকে তার সাথে বিন্যাস করা হবে। এরপর আল্লাহ বৃষ্টি বর্ষণ করবেন। ফলে মানুষ উদ্ভিদের মতো গজিয়ে উঠবে”। (বুখারী, মুসলিম-রিয়াদুস্ সালেহীন, হাদিস নং-১৮৩৬, ৪র্থ খন্ড)।
লক্ষ্যণীয় যে, পুরাতন কবরে খালি চোখে কখনও শত-সহস্র বছর পূর্বেকার মৃতদেহের কোন প্রকার চিহ্ন থাকার কথা নয়-এমনকি শক্তিশালী অণুবীক্ষণ যন্ত্রের সাহায্যেও যা দেখা বা উপলদ্ধি করা সম্ভব নয় বরং মানব দেহের অঙ্গ-প্রত্যঙ্গের সব কিছুই মাটিতে একেবারে একাকার হয়ে যাওয়ারই কথা। এমনতর অবস্থাতেও হাঁড়জাত মানব দেহের অতি পারমানবিক কণার ক্ষুদ্রাতি ক্ষুদ্র, সূক্ষ্ণাতি সূক্ষ্ণ অস্তিত্ত্বের ঘোষণা রয়েছে পবিত্র হাদিসে বর্ণিত “উস্ উস” শব্দে। পবিত্র হাদীসটি- নিম্নরূপঃ
“হযরত আবু হুরায়রা রাদ্বিয়াল্লাহু আ‘নহু থেকে বর্ণিত মহানবী হযরত মুহাম্মাদ সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেছেন, আদম সন্তানের শরীরে এমন একটি অস্থি আছে- যেটি মাটিতে কখনো মিশে যাবে না। (প্রশ্ন করা হলো) হে আল্লাহর রসূল! এটি কী ? তিনি বললেনঃ এটি হলো "উস্উস্"(অস্থি-Coccyx)” (বুখারী, আল নাসায়ী, আবু দাউদ, ইবনে মাজাহ, মুসনাদ এবং মুয়াত্তা হাদীস)।
উল্লেখ্য, মানব দেহের নার্ভাস সিস্টেমের প্রান্ত ধারক হিসাবে অস্থি বা ত্রিকোণাস্থিতির গুরুত্ব রয়েছে, এখানে যে প্লেয়াক্স রয়েছে তাকে বলা হয় “মূলাধার"।(সূত্রঃ বিজ্ঞান, সনাতন ধর্ম, বিশ্বসভ্যতা-৪র্থ অধ্যায়ঃ গোবর্দ্ধন গোপালদাস, ভারত, সূত্রঃ সাপ্তাহিক সোনার বাংলা।
পরীক্ষান্তে দেখা যাো যে, নারীর ডিম্বকোষের (Ovary) সাথে পুরুষের শুক্রকীটের নিষিক্ত হওয়ার মাত্র ২(দুই) সপ্তাহ পরে "উস্উস্" নামক শক্ত হাঁড়ের জন্ম হয়। ৩য় সপ্তাহেরের পর এই হাঁড় থেকে একটি লম্বা দন্ড তৈরী হয় তা পরবর্তীতে মেরুদন্ডের হাঁড় তৈরী করে এবং ধীরে ধরে পূর্ণাঙ্গ মানব দেহ তৈরী হতে থাকে। ১৫ দিবসে ভ্রুণের পৃষ্ঠদেশে এর প্রাথমিক গুণাগুণ বা ধর্ম পরিলক্ষিত হয় একটি নির্দিষ্ট প্র“প্রাথমিক সংযোগস্থল”। যেদিকে প্রাথমিক গুণাগুণ/ধর্ম প্রকাশিত হয় তাকে বলা হয় “ভ্রণের পৃষ্ঠদেশ”। প্রাথমিক গুণাগুণ এবং সংযোগস্থল থেকে যে সকল ভ্রুণ কোষ এবং ) Ectoderm (ভ্রুণের বহিরাবরণ): কেন্দ্রীয় পেশী ও চর্ম দ্বারা গঠিত।
(২ Mesoderm (ভ্রুণের মধ্যকরণ): পাচনতন্ত্র গঠনে মন্থন পেশী, কংকালতন্ত্রের পেশী, সংবহনতন্ত্র, হৃদযন্ত্র, অস্থি, প্রজনন এবং মূত্রতন্ত্র গঠন(মূত্রাশয় ব্যতিত), ত্বকনিম্নস্হিত কোষ, নাসিকাতন্ত্র, প্লীহা এবং মূত্রগ্রন্থি এ পর্যায়ে গঠিত হয
(১) Ectoderm (ভ্রুণের বহিরাবরণ): কেন্দ্রীয় পেশী ও চর্ম দ্বারা গঠিত।
(২ Mesoderm (ভ্রুণের মধ্যকরণ): পাচনতন্ত্র গঠনে মন্থন পেশী, কংকালতন্ত্রের পেশী, সংবহনতন্ত্র, হৃদযন্ত্র, অস্থি, প্রজনন এবং মূত্রতন্ত্র গঠন(মূত্রাশয় ব্যতিত), ত্বকনিম্নস্থিত কোষ, নাসিকাতন্ত্র, প্লীহা এবং মূত্রগ্রন্থি এ পর্যায়ে গঠিত হয়(৩) Endoderm: পাচনতন্ত্রের সীমারেখা, শ্বসনতন্ত্র, পাচনতন্ত্র সম্পর্কিত অঙ্গপ্রত্যঙ্গ (যকৃত ও অগ্ন্যাশয় ব্যতীত), মূত্রাশয়, স্বরতন্ত্র ইত্যাদি এ পর্যায়ে গঠিত হয়। তারপর প্রাথমিক গুণাগুণ/ধর্ম এবং সংযোগস্থল নিতম্বের ত্রিকোণাকার অস্থি এলাকায় অবস্থান করে মেরুদন্ডের শেষে যাতে উস্উস্ Coccyx গঠিত উল্লেখ্য, কবরস্থ হওয়ার পর শত-সহস্র-লক্ষ-কোটি বছর অতিক্রান্ত হলেও অস্থি বা উস্উস্ (Coccyx) এর ক্ষুদ্রাতি ক্ষুদ্র, সূক্ষ্ণাতি সূক্ষ্ণ হাঁড়জাত মানব দেহের এই অতি পারমানবিক কণার অস্তিত্ত্ব থেকেই যাবে। এ কারণে বিজ্ঞানীদের নিঃসংকোচ স্বীকারোক্তিঃ বিজ্ঞানীরা মৌলিক, আদি, আসল বা অকৃত্রিমভাবে ক্ষুদ্র-বৃহৎ বস্তু না পারেন সৃষ্টি করতে, না পারেন সমূলে বিনাশ করতে। প্রসংগত উল্লেখ্য, প্রাথমিক গুণাগুণ এবং সংযোগস্হল থেকে ভ্রুণ গঠিত হওয়ার পর সেগুলি মেরুদন্ডের সর্বশেষ অস্থিতে অবস্থান করে এবং তাদের বৈশিষ্ট্যসমূহ ধারণ করে। সুতরাং, এতে সুস্পষ্ট প্রতীয়মান যে, ত্রিকোণস্থিত ধারণ করে মূল কোষসমূহ-যা মহানবী সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর পবিত্র হাদীসে বর্ণিত উস্উস্ থেকে কিয়ামতে মানবজাতির পুনরুত্থান সম্পর্কে প্রমাণ বহন করে। "উস্উস্"(অস্থি-Coccyx) থেকে মানব জাতিকে পুনরায় সৃষ্টি করা সম্ভব যা প্রাথমিক গুণাগুণ/বৈশিষ্ট্য ধারণ করে। তাই "উস্উস্"(অস্থি-Coccyx)ক্ষয়প্রাপ্ত হতে পারেগবেষকরা লক্ষ্য করেছেন যে, ভ্রুণকোষ গঠন এবং উৎপত্তি প্রাথমিক গুণাগুণ এবং সংযোগস্থল দ্বারা প্রভাবিত হয় এবং এগুলি গঠনের পূর্বে কোন কোষ (সেল) বিভাজিত হতে পারে না। যে সব গবেষকরা এটা প্রমাণ করেছেন তাঁদের অন্যতম একজন হলেন জার্মান বিজ্ঞানী হ্যান্স স্পিম্যান। প্রাথমিক গুণাগুণ এবং সংযোগস্থল এর ওপর পরীক্ষা-নিরীক্ষার পর তিনি দেখলেন যে, এগুলিই হচ্ছে ভ্রুণ গঠনকারী মৌলিক উপাদান। তাই তিনি এদের নাম দিলেন প্রাইমারী সংগঠক। ১৯৩১ সালে হ্যান্স স্পিম্যান প্রাথমিক সংগঠনটি চূর্ণ-বিচূর্ণ করে ফেলেন । ১৯৩৩ সালে এটিকে সিদ্ধ (বয়েলড) করে দেখলেন যে, এতে কোষের কোনরূপ ক্ষতি হলো না বরং এ থেকে ২য় ভ্রুণ জন্মালো। ১৯৩৫ সালে হ্যান্স স্পিম্যান প্রাথমিক সংগঠক আবিস্কারের জন্য নোবেল পুরস্কার লাভ করেন উল্লেখ্য, ডঃ ওসমান আল জিলানী এবং শেখ আবদ-আল মাজিদ আজানদানি ১৪২৩ হিজরী সালের মাহে রমাদানে "উস্উস্"(অস্থি-Coccyx) এর ওপর ব্যাপক গবেষণা চালান। ৫টি "উস্উস্"(অস্থি-Coccyx)এর ২টির মধ্যে ১টি মেরুদন্ডের "উস্উস্"(অস্থি-Coccyx)-কে অন্ততঃ ১০ মিনিট ধরে একটি পাথরের ওপর গ্যাসের সাহায্যে পোড়ানো হলে সেগুলি উপ্তপ্ত লোহা যেরূপ লাল বর্ণ লাভ করে তেমনি "উস্উস্"(অস্থি-Coccyx)গুলি প্রথমে লাল বর্ণ ধারণ করে পরে শীতল হয়ে কালো বর্ণ-এ অর্থাৎ কয়লায় পরিণত হলে ঐ "উস্উস্"(অস্থি-Coccyx)এর কয়লাগুলিকে জীবাণুমুক্ত বক্সের মধ্যে পুরে সানার সবচেয়ে বিখ্যাত Laboratory-Al Olaki Laboratory -তে নিয়ে গেলে সানা বিশ্ববিদ্যালয়ের Histology Pathology তত্ত্বের অধ্যাপক "উস্উস্"(অস্থি-Coccyx)গুলি বিশ্লেষণ করে দেখলেন যে, আগুনে "উস্উস্"(অস্থি-Coccyx)গুলি বড় ধরনের প্রভাবে পড়েনি অর্থাৎ কেবল স্থুল কোষগুলি পুড়ে গেলেও মূল "উস্উস্"(অস্থি-Coccyx) জীবন্ত রয়ে যায়।(সুবহা--নাল্লাহি ওয়াবিহামদিহী, সুবহা--নাল্লাহিল আ’জীম)।
Comments
Post a Comment