আই.আর.আর.এস.টি.সি
আই.আর.আর.এস.টি.সি
মুসলমানরা কি আবারও মধ্যযুগীয় কায়দায় বিজ্ঞান-প্রযুক্তির নেতৃত্বে ফিরছেন?
হ্যা, মহান আল্লাহর অশেষ রহমতে আই.আর.আর.এস.টি.সির অর্ধ দশক ব্যাপী গবেষণায় এমন তথ্যই বেরিয়ে এসেছে।আই.আর.আর.এস.টি.সি ২০১৮ সালের ১৪ ই আগষ্ট প্রতিষ্ঠাকাল হতে নিবিড় গবেষণায় এ ব্যাপারে উজ্জ্বল সম্ভাবনা দেখতে পায়।অবশ্য, এই নেতৃত্বে নতুনত্ব কিছু নেই। মধ্যযুগে যখন ইউরোপে গ্রীক-রোমান জ্ঞান বিজ্ঞান স্তিমিত হয়ে পড়ে প্রাচীন গ্রীক-রোমান যুগের ডেমোক্রিটাস, অ্যারিস্টটল আর সক্রেটিস উত্তর ইউরোপীয়ান বিজ্ঞান-প্রযুক্তি অনিবার্য কারণে অনেকটা ঝিমিয়ে পড়ায় তদস্থলে তখনই হযরত জাফর ইবনে সাদিক রহ., জাবের ইবনে হাইয়ান, ইবনে সিনা, মুসা আল খাওয়ারিজমির মতো জগদ্বিখ্যাত আরব-অনারব মুসলিম বিজ্ঞানীদের আবির্ভাব ঘটেছিল যাঁরা বর্তমান আধুনিক বিজ্ঞান-প্রযুক্তির স্থপতি বা কর্ণধাররূপে আজও সন্মানিত হয়ে আছেন সত্য; তবে প্রাচীন গ্রীক রোমানীয় জ্ঞানী-বিজ্ঞানীরা মধ্যযুগে ঘুমিয়ে পড়ার মতো মুসলমানরাও মধ্যযুগের পর বর্তমান পর্যন্ত একটানা বিজ্ঞান-প্রযুক্তির জগতে মুসলিম বিজ্ঞানীরাও ঘুমিয়ে অআছে।এই ঘুমন্ত অবস্থা থেকে জাগ্রত করতে সময়ে সময়ে অবশ্য তুরস্কের.ইয়াহিয়া, কাজাখস্তানের ...এর মত বিজ্ঞান মনস্করা জেগে উঠেছিলেন। যার পরিপ্রেক্ষিতে ২০১৭ সালের দশ এগারো সেপ্টেম্বর মহান অআল্লাহর অশেষ রহমতে সম্ভব হয় কাসেম প্রস্তাবিত বিশ্ব মুসলিম বিজ্ঞান সম্মেলন আয়োজনের।
তেমন কোনো পদচারণা না থাকায় ধরে নেয়া যায় মধ্যযুগের ইউরোপীয়দের মতো মুসলিম বিজ্ঞানীরাও ঘুমিয়ে আছেন।ফলশ্রুতিতে নোবেল জগতে মুসলিমরা প্রায় অনুপস্থিতই বলা চলা।ফলে বিশ্ব সমাজে এক প্রকার মিথ জন্মে যে, মুসলিমরা জাতে অবিজ্ঞান মনস্ক, বিজ্ঞানে এ জাতির কোনো অবদান নেই। এমনকি মধ্যযুগে মুসলমানদের বৈজ্ঞানিক স্বর্ণযুগের কথা ভুলে গিয়ে মধ্যযুগের ইউরোপীয় অজ্ঞতাকে মুসলমানদের উপর বর্তানো হয়ে থাকে আজও।যার পার্শ্ব প্রতিক্রিয়া স্বরূপ বলা হচ্ছে কুরআন অবৈজ্ঞানিক। “কুরঅআন ছেড়ে বিজ্ঞান পড়ার” পরামর্শ দেয়া হচ্ছে। এমন শিক্ষকের নজির রয়েছে যিনি ২০১০ সালে পাঠ্যবহির্ভূতভাবে ছাত্রদের সম্মুখে এই মর্মে স্বীয় মত ব্যক্ত করেন যে, “এবার আল্লাহকে পীঠমোড়া করে বেধে রাখার সময় হয়েছে”। নিজেই স্বেচ্ছায় এর কারণ দর্শিয়ে বলেছিলেন “আল্লাহ অবৈজ্ঞানিক কুরআন নাজিল করেছেন”। এর পর অন্য পক্ষ হতে পরামর্শ দেওয়া হয়ঃ “কুরআন ছেড়ে বিজ্ঞান পড়ো”। এ ধরণের বদ্ধমূল নেতিবাচক ধারণা সৃষ্টির জন্য অআমাদের জবাবদিহিতা কম নয়। কেন অআমরা শতাব্দীর পর শতাব্দী ঘুমিয়ে অআছি। কেন অআমরা বেঁচে থাকতে অআমাদের অতীব সন্মানিত মহান সত্বার হাত মোড়া বেধে রাখার কোশেশ। গড বা ঈশ্বর-কে তো বলা হচ্ছে না,বরং আল্লাহ-এই মহান সন্মানিত নামই নির্দেশ করা হচ্ছে। একবিংশ শতাব্দীর প্রথম দশকের প্রথম দিকে বহুজাতিক বাহিনীর এক সদস্যের নিঃসংকোচ উক্তিঃ মুসলমানকে গুলি করলে পাখি শিকারের সুখ অনুভব করি। আরও পরে জীব হত্যা মহাপাপ জেনেও কেন নারকীয় কায়দায় মুসলিম হত্যা? এ প্রশ্নেরও নিঃসংকোচ উত্তরঃ বলা হয়, মুসলমানের জীবন নেই, অর্থাৎ তারা জীব নয়।
উপরোক্ত বর্ণনার অআলোকে এটা সুস্পষ্ট প্রতীয়মান যে, বিজ্ঞান-প্রযুক্তিতে অআমাদের ঘুমন্ত অবস্থার কারণে মুসলিম জাতির প্রতি বিরূপ ধারণার বশবর্তী হয়ে মুসলমানদেকে বর্তমানে চরমভাবে অবমূল্যায়ন করা হচ্ছে যার জন্য অআমাদের জবাব দিহিতাও কম নয়।অআমাদের নিকট অতীতের পূর্ব পুরুষরাও মধ্যযুগের বৈজ্ঞানিক সোনালী যুগের ইতিহাস, গল্প-কিসসা-কাহিনী না পড়ে, শেরে খোদা আলী কাররামাল্লাহু ওয়াজহু, জাফর সাদেক, জাবের ইবনে হাইয়ান, ইবনে সীনা,মূসা আল খাওয়ারিজমীদের বৈজ্ঞানিক জীবন কাহিনী না শুনিয়ে, না জেনে সন্তান-সন্তনাদি, পৌত্র-পৌত্রীদেরকে শুনিয়েছি, শোনাচ্ছি রূপকথার কিসসা-কাহিনী হয়। ফলে যা হবার তা-ই হয়েছে, হচ্ছে হয়তো হবে। তারপরও কী আমরা ঘুমিয়ে থাকবো? আমরা এখন বিজ্ঞানী নই সত্য; তাই বলে কী আমাদের অতীত সোনালী ইতিহাস-অধ্যায় নেই? আমরা কী উত্তরাধিকার সূত্রে বিজ্ঞানী জাতি নই? আধুনিক বিজ্ঞানের অন্ততঃ হাজার এক প্রযুক্তিতে কি মুসলিম বিজ্ঞানীদের ভূমিকা নেই? ইউরোপীয় বিজ্ঞানীরা যদি প্রাচীন গ্রীক-রোমান সভ্যতায় শত শত বছর ঘুমিয়ে আবার পুনর্জাগরিত হতে পারলে আমরা কেন জ্ঞানে-বিজ্ঞানে পুনর্জাগরিত হয়ে মধ্যযুগের মুসলিম বিজ্ঞানের স্বর্ণযুগের মতো আবারও নেতৃত্বের আসনে সমাসীন হতে পারবো না? সম্ভবতঃ এমনতর প্রশ্ন জেগেছিল কাজাখস্তানের মাননীয় প্রেসিডেন্ট.....মনে যার পরিপ্রেক্ষিতে তিনি বিশ্ব মুসলিম নেতৃবৃন্দের প্রতি প্রস্তাব রেখেছিলেনঃ ঘুমন্ত মুসলিম বিজ্ঞানীদের আবারও পুনর্জাগরিত করতে ডাকা হোক বিশ্ব মুসলিম বিজ্ঞান শীর্ষ সম্মেলন।জ্ঞান-বিজ্ঞানে পিপাসার্ত মুসলিম নেতৃবৃন্দ এই প্রস্তাবে দ্বিধাহীনচিত্তে তাৎক্ষণিক সাড়া দেন। যার ফলশ্রুতিতে ২০১৭ সালের ১০-১১ তারিখে দুদিন ব্যাপী কাজাখস্তানের রাজধানী আস্তানায় ওআইসির বিজ্ঞান-প্রযুক্তি বিষয়ক অঙ্গ সংস্থা....উদ্যোগ মুসলিম বিশ্বের ইতিহাসে প্রথম মুসলিম শীর্ষ বিজ্ঞান সম্মেলন অনুষ্ঠিত হয়। এতে সৌদী আরব, তুরস্ক, বাংলাদেশসহ ওআইসিভুক্ত প্রায় সকল মুসলিম রাষ্ট্র প্রধান ও সরকার প্রধান উপস্থিত ছিলেন।উদ্বোধনী ভাষণে সৌদী অআরবের বাদশাহ, খাদেমুল হারামাইন সালমান ইবনে আবদুল আজিজ ইবনে সৌদ মুসলিম উম্মাহ-কে অআবারও জ্ঞান-বিজ্ঞানে ফিরে যাওয়ার অআহবান জানিয়েছিলেন।পরদিন প্রকাশিত হয় অআস্তানা ডিক্লারেশন।এতে মুসলমানদের অআবারও জ্ঞান-বিজ্ঞান চর্চায় ফিরে আসার উপর সবিশেষ গুরুত্বারোপ করা হয়। তৎ পরিপ্রেক্ষিতে আমরা সৌদী বাদশাহর আহবান এবং আস্তানা ডিক্লারেশন-২০১৭ এর প্রস্তাবনায় সাড়া দিয়ে মহান আল্লাহর অশেষ রহমতে ২০১৮ সালের ১৪ই আগষ্ট, টুইসডে প্রতিষ্ঠা করি “ইসলামিক রিসার্চ ফর রিভাইভিং অব সায়েন্স-টেক সেন্টার” (আই.আর.আর.এস.টি.সি) ।
প্রথমতঃ আই.আর.আর.এস.টি.সি. মধ্যযুগীয় আরব মুসলিম বিজ্ঞানীদের অতীত সোনালী ভূমিকাকে দৃশ্যপটে অআনার লক্ষ্যে দূর্লভ বিজ্ঞান বিষয়ক বই পুস্তকাদি সংগ্রহে অআনে। মধ্যযুগীয় মুসলিম বিজ্ঞানীদের অপূর্ব ভূমিকা সম্বলিত কতিপয় দূর্লভ বৈজ্ঞানিক গ্রন্থ খুঁজে পাওয়া যায় বায়তুল অআমান মাদরাসা লাইব্রেরি এবং চট্টগ্রাম, বাংলাদেশের দক্ষিণ জেলা চট্টগ্রামের রেলওয়ে পলোগ্রাউন্ড রেলওয়ে কলোনী জামে মসজিদ লাইব্রেরী থেকে। অতঃপর চট্টগ্রামের পাহাড়তলী শাখাস্থিত ইসলামী ব্যাংক বাংলাদেশের জনৈক অফিসার জনাব নুরুল ইসলাম সাহেব কর্তৃক মরিস বুকাইলীর আদলে পবিত্র কুরআনের আলোকে লিখিত বিজ্ঞান গ্রন্থ......। এসব গ্রন্থে মধ্যযুগের জ্ঞানী বিজ্ঞানীদের অনবদ্য ও দূর্লভ জ্ঞান-বিজ্ঞান সম্বলিত বিপুল তথ্য রয়েছে যা মহান আল্লাহর অশেষ রহমতে মুসলিম উম্মাহর জ্ঞান-বিজ্ঞানে পুনর্জাগরণমূলক আই.আর.আর.এস.টি.সি.এর নিবিড় গবেষণায় সহায়ক হয়।এ ব্যাপারে মহান আল্লাহর প্রতি অশেষ শুকরিয়া এবং সংশ্লিষ্টদের প্রতি গভীর কৃতজ্ঞ।
যেহেতু একটি বিরূপ প্রতিক্রিয়া থেকে আমাদের বিজ্ঞানে ফিরে যাওয়ার একটা স্পৃহা জেগেছিল আস্তানা সম্মেলন ২০১৭ পূর্বে কতিপয় বিরূপ প্রতিক্রিয়া-কে কেন্দ্র করে যা নিউটনের সূত্রমতে মোটেও শান্তিপূর্ণ নয় বরং প্রতিক্রিয়ামূলক যার রয়েছে সাইড এফেক্ট বা বিরূপ প্রতিক্রিয়া এবং যেহেতু আমরা শান্তিবাদী মুসলিম, আমরা শান্তিবাদ মহান ইসলামের অনুসারী যা আস সালাম-শান্তিময় মহান আল্লাহর একমাত্র গ্রহণযোগ্য, মনোনীত দীন-ধর্ম,যার ভিত্তি শান্তির টেক্সট বুক আল কুরআন সেহেতু ইসলাম তথা আল কুরআন-সুন্নাহভিত্তিক জ্ঞানের আলোকেঃ
১)শান্তির বৈজ্ঞানিক সূত্র উদ্ভাবনের মধ্যদিয়ে আবারও জ্ঞান বিজ্ঞানে নেতৃত্বাসীন হওয়া হচ্ছে আই.আর.আর.এস.টি.সি.এর মিশন-ভিশন যা বর্তমান অশান্ত পৃথিবীতে শান্তির পুনঃপ্রত্যাবর্তনে সহায়ক হতে পারে ইনশাআল্লাহ। এছাড়া মুসলিম উম্মাহকে ২) বিজ্ঞান-প্রযুক্তির নেতৃত্বে আবারও পুরোপুরি যোগ্য করে গড়ে তোলার উদ্দেশ্যে বিশেষ করে ৩) পদার্থ বিজ্ঞান কেন্দ্রিক বিজ্ঞানের যে অভ্যন্তরীণ জটিলতা তা ইসলামের মহান মধ্যপন্থায় নিরসনকরণ, ৪) মহাবিশ্ব এবং তদস্থিত অণু-পরমাণুদি কিভাবে সৃষ্ট? কোয়ান্টাম বল বিজ্ঞানের আলোকে কসমোলজিক্যাল স্ট্যান্ডার্ড মডেল সূত্রের আওতায় এ প্রশ্নের বৈজ্ঞানিক উত্তর এখন পরম সত্যের প্রায় দ্বারপ্রান্তে, ৫) পবিত্র কুরআন-সুন্নাহর আলোকে এই সত্যের ষোল কলা পূর্ণকরণে ভূমিকা রাখা ৬) অবিশ্বাস্য হলেও সত্য, ভূতুড়ে কান্ড, অলৌকিক, অতিপ্রাকৃতিক..............টেলিপ্যাথি ইত্যাদি মানব জ্ঞান বহিঃভূত বিষয়ের রহস্য উদঘাটনে ফ্রন্টিয়ার সায়েন্স নামক নতুন বিজ্ঞান-প্রযুক্তির প্রবর্তনে ভূমিকা রাখা ৬)হুমকির মুখে পড়া অআইনস্টাইনের স্পেশাল রিলিটিভিটি থিওরির সুরক্ষার উপায় উদ্ভাবন করে ওয়ার্ম হোল, র্যা প ড্রাইভ প্রভৃতি সায়েন্স ফিক্সেশনকে বাস্তবে রূপ দেওয়ার উপায় উদ্ভাবন ইত্যাদি।
পবিত্র কুরআনের আলোকে ইসলামী সৃষ্টি তত্ত্বঃ
Comments
Post a Comment