বিবিধ
বিবিধ
সম্পাদকীয়
بِسۡمِ ٱللهِ ٱلرَّحۡمَـٰنِ ٱلرَّحِيمِِ ◯
বিজ্ঞান (Science) বিশ্বের সবচেয়ে জনপ্রিয় শব্দগুলির অন্যতম। বিজ্ঞানের পাশাপাশি প্রযুক্তি (Technology)-ও আজ অতি দ্রুত জনপ্রিয়তা লাভ করছে । বস্তুতঃ বিজ্ঞানের জনপ্রিয়তা বিজ্ঞান মনস্কদের মধ্যে সীমাবদ্ধ হলেও প্রযুক্তির জনপ্রিয়তা তৃণমূল অর্থাৎ সাধারণ মানুষ থেকে শুরু করে জ্ঞানী-বিজ্ঞানীদের জন্য সমান হারে । কারণ, হালে মানুষ ঘুম থেকে উঠার পর থেকে পু্নরায় ঘুমিয়ে পড়ার অআগ পর্যন্ত কোনো না কোন প্রযুক্তির সাথে জড়িত।
বিজ্ঞানীদের মূল মিশন-ভিশন শুরুতে প্রযুক্তি ছিল না বরং ছিল, মহাবিশ্বের মহাসত্যকে জেনে সর্বসাধারণকে সেই সত্য জানানো।
বলা হয়ে থাকেঃ “বিজ্ঞানের অগ্রযাত্রা সেদিন থেকে শুরু হয়েছিল- যেদিন মানব মনে সত্যকে জানার আগ্রহ জন্মেছিল”। সুদূর অতীত থেকে মানুষ চাঁদ-সূর্য আর অগণিত জ্যোতিষ্মান তারা ভরা বিশাল মহাকাশ দেখে, কুল কিনারা বিহীন সাগর-মহাসাগর, সুউচ্চ পাহাড়-পবর্ত আর সবুজ শ্যামল সুবিস্তৃত সমতল ভূমি দেখে বিস্মিত অনন্ত প্রশ্ন জেগেছিল এই বলেঃ“এই মহাবিশ্ব কোথা থেকে এলো? কেমন করে? তার আগে কী ছিল ?” (বিজ্ঞানচিন্তা, জুন, ২০১৯, পৃষ্ঠা ৩৬-৩৭)।
এসব আদি প্রশ্নের উত্তর খুঁজতে গিয়ে মানুষ বিশ্ব প্রকৃতির (Nature) গবেষণা করতে শিখে। এসব গবেষকদেরকে (Researcher) বলা হয় বিজ্ঞানী (Scientist), গবেষণা (Research)-কে বলা হয় বিজ্ঞান (Science)। শুরুতে মহাবিশ্বের মহাসৃষ্টি সম্পর্কিত বিজ্ঞান গবেষণা ছিল ফিজিক্স (Physics বা প্রকৃতি বিজ্ঞান)-কে কেন্দ্র করে- যা কালক্রমে পদার্থ বিজ্ঞান বা ম্যাটেরিয়েল সায়েন্সে (Material Science) বা বস্তু বিজ্ঞানে সীমাবদ্ধ হয়ে পড়ে এক অসতর্ক মুহুর্তে। ফলে মহাবিশ্বের সৃষ্টি তাত্ত্বিক গবেষণার মূল প্রতিপাদ্য বিষয় হয়ে দাঁড়ায় কেবল বস্তুগত। তা-ও আবার কেবল মহাবিশ্ব কীভাবে তৈরি? এ প্রশ্নকে ঘিরে। এ প্রশ্নে নয় যে, মহাবিশ্ব কী দিয়ে তৈরি? “প্রকৃতিতে এত এত কণা-এসব কী দিয়ে তৈরি কেউ জানে না” (বিজ্ঞানচিন্তা)।
এতদসত্ত্বে বিজ্ঞান খন্ডিতভাবে হলেও মানব মনের এক গুরুত্বপূর্ণ প্রশ্নের প্রায় চূড়ান্ত উত্তরের দ্বারপ্রান্তে ইতিমধ্যে পৌঁছে গেছে যা সত্যিই অভিনন্দনযোগ্য। আর তা হলো মহাবিশ্ব কীভাবে এলো এবং এর আগে কী ছিল? এই দুটি প্রশ্নের সফল জবাব রয়েছে মডার্ণ কসমোলজিক্যাল স্ট্যান্ডার্ড মডেল থিওরিতে। প্রথম প্রশ্নের জবাবে মডেল জানায়, মহাবিশ্ব মহাবিস্ফোরণের মাধ্যমে এসেছে। দ্বিতীয় প্রশ্নঃ মহাবিশ্বের আগে কী ছিল? এর জবাবে স্ট্যান্ডার্ড মডেল জানায় যে, মহাবিশ্বের আগে হাইয়েস্ট এনার্জেটিক রেডিয়েশন ছিল যার মহাবিস্ফোরণকে বিগ ব্যাং বলা হয়। বলা বাহুল্য, বিশ্ব সৃষ্টিতাত্তিক এটা ছিল মানবোতিহাসে এক যুগান্তকরী আবিস্কার! বাকী প্রশ্নটা ছিল, হাইয়েস্ট এনার্জেটিক রেডিয়েশনের পূর্ব কে বা কী ছিল? অবশ্য, আমাদের জানা মতে, পদার্থ বিজ্ঞানের গবেষণা ঝুলিতে এ ধরণের প্রশ্নও নেই, উত্তরও নেই। ফলে বিজ্ঞান পরম সত্যে উপনীত হওয়ার পথে আটকে আছে বিজ্ঞান।
কালক্রমে বিজ্ঞানে সত্যান্বেষণের পরিবর্তে ঝুকে পড়ে প্রযুক্তির পথে। যার বদৌলতে বিজ্ঞানের জনপ্রিয়তা একসময় আকাশচুম্বি হলেও তাতে ক্রমেই ভাটা নেমে আসে অজ্ঞতার আলোকে প্রযুক্তির ক্ষতিকর ব্যবহারের কারণে। এ প্রসঙ্গে মার্কিন জ্যোতি-পদার্থবিজ্ঞানী কার্ল সাগানের বৈজ্ঞানিক সহকারী ও স্ত্রী মিসেস অ্যান ড্রুয়ান বলেনঃ আমি অনেক মেধাবী ছেলেকে চিনি যারা বিজ্ঞানকে ঘৃণা করে। তারও অনেক আগে বিশ্বকবি রবীন্দ্র নাথ ঠাকুর এনালগে ফিরে যাওয়ার আকুল অআর্তি প্রকাশ করে এই বলেঃ দাও ফিরে অরণ্য, লও হে নগর।
বস্ত্ততঃ বিজ্ঞানের জন্য স্লো পয়েজন হিসাবে কাজ করছে পরিবেশ দূষণকারী প্রযুক্তি যা অজ্ঞতা থেকে উদ্ভূত। উল্লেখ্য, মানুষ যতই পরিবেশ দূষণে ভূগবে ততই প্রকৃতিপ্রিয় এবং প্রযুক্তির সাথে বিজ্ঞানকেও ঘৃণা করবে এই কারণে যে, প্রযুক্তি হচ্ছে বিজ্ঞানের উর্বর ফসল ।
সুতরাং, ইষ্টার্ণ সায়েন্স রিভিউ মনে করে, বিজ্ঞানের জনপ্রিয়তা সুরক্ষায় জ্ঞানের আলোকে বৈজ্ঞানিক সূত্র আবিস্কার জরুরী যাতে মানুষ জ্ঞাননির্ভর প্রযুক্তির ব্যবহারের কারণে পরিবেশ দূষণ না ঘটায়।
আল্লাহ হাফেজ।
“একজন স্বর্গীয় মাস্টার সমস্ত বিশ্বকে মহাবিশ্বের সার্বভৌম হিসাবে পরিচালনা করেন। তাঁর পূর্ণতার কারণে আমরা তাঁকে বিস্মিত করি, আমরা তাঁকে সম্মান করি এবং তাঁর সীমাহীন ক্ষমতার কারণে তাঁর সামনে পড়ে থাকি। অন্ধ শারীরিক প্রয়োজনীয়তা থেকে, যা সর্বদা এবং সর্বত্র একই, সময় এবং স্থানের কোনও বৈচিত্র্য আবর্তিত হতে পারে না, এবং সমস্ত সৃষ্ট বস্তু যা মহাবিশ্বে শৃঙ্খলা এবং জীবনের প্রতিনিধিত্ব করে কেবল তার মূল স্রষ্টার ইচ্ছাকৃত যুক্তির দ্বারা ঘটতে পারে, যাকে আমি প্রভু ঈশ্বর বলি”।
শক্তি হতে পারে বিশ্ব প্রকৃতির মূলাধার। শুন্য যেহেতু শুন্য নয়, শক্তির অআধার বা পাত্র, সেহেতু শক্তি হতে পারে প্রকৃতির মূল যাকে মহাশক্তি বলা যেতে পারে। এই শক্তি বস্ত্ততাত্ত্বিক বিশ্ব সংঘটনে জরুরী।
জ্ঞানঃ বিশ্ব প্রকৃতির যে সুশৃঙ্খল, সুবিন্যস্ত পরিচালনা, ব্যবস্থাপনা তাতে সুস্পষ্ট প্রতীয়মান যে, বিশ্ব জগতে অবশ্যই জীবন্ত এবং প্রখর বুদ্ধিদীপ্ত, অনন্ত, অসীম একক সত্বা বিদ্যমান চাই তা প্রকৃতি নামে হোক কিংবা অন্য নামে হোক।
মহাকর্ষঃ মধ্যাকর্ষণ শক্তি আবিস্কার করার পর আইজ্যাক নিউটন প্রথম বৈজ্ঞানিকভাবে মহাকর্ষের অস্তিত্ব অনুভব করেন। কিন্তু মহাকর্ষের সাথে মধ্যাকর্ষণের বৈশিষ্ট্যগত বৈপরিত্যে নিউটন হতভম্ব হয়ে পড়েন। তিনি দেখলেন একটি গোলাকৃতির অ্যাপেলকে পৃথিবীর মধ্যাকর্ষণ শক্তি অতি সহজে নিজের দিকে টেনে নিলেও তার নিজস্ব উপগ্রহ চাঁদ-কে টেনে আনতে পারছে না, সূর্য নামক নক্ষত্র তার নিজস্ব গ্রহ পৃথিবীকে টেনে নিতে পারছে না নিউটনের সেই পড়ন্ত অ্যাপেলের মতো। মহাকাশে মহাকর্ষের এই ব্যতিক্রমে হতভম্বিত নিউটন এক মন্তব্যে বলেছিলেনঃ....এক অদৃশ্য দড়ির টানে সূর্যের মাঝখানে চিরকালের জন্য বাধা পড়ে পৃথিবী।
আইনস্টাইন তার সাধারণ অআপেক্ষিকতা তত্ত্বে আলোর বেঁকে যাওয়ার কারণ দূর নক্ষত্রের মাঝে ভারী বস্তুর অবস্থানকে দায়ী করেছেন। এই ভারী বস্ত্তটি অআসলে কী হতে পারে-তা অনুভব করেছিলেন কার্ল সোয়ার্জশিল্ড। কার্লের মতে তা আস্ত একটা ব্ল্যাক হোল। কিন্ত্ত এতে মহাকর্ষ সম্পর্কে সুস্পষ্ট ধারণা মেলে না যে, আসলে মহাকর্ষ কী? কীভাবে? বিজ্ঞানীরা মহাকর্ষের কূল কিনারা পেতে প্রতিবল স্বরূপ গ্র্যাভিটনের প্রয়োজনীয়তা অনুভব করেন যার দেখা এই ডিজিটাল যুগেও মিলছে না। বরং প্রমাণ পাওয়া গেছে মহাবিশ্বের ৪ মহাবলের মধ্যে সবচেয়ে দূর্বল বল হচ্ছে মহাকর্ষ বল। ১০৩৩ গুণ দূর্বল। এই দূর্বল বল কিভাবে অআমাদের দেহকে পৃথিবীর ভূত্বকে অআঠার মতো আটকিয়ে রাখে বায়ুর প্রবল উর্ধ্বচাপকে উপেক্ষা করে?। মহাকর্ষকে মধ্যাকর্ষণের সাথে একাকার করার ফলে মহাকর্ষের স্বতন্ত্র ব্যাখ্যা পাওয়া যাচ্ছে না। বলা হচ্ছে মহাকাশের মহাকর্ষই পৃথিবীর মধ্যাকর্ষণ বা অভিকর্ষণ। অআইঅআরঅআরএসটিসির মতে মহাকর্ষ থেকে মধ্যাকর্ষণকে পৃথক করলে হয়ত রহস্যের জট খুলতে পারে।
মধ্যাকর্ষণ কী? কীভাবে? এটি বস্তুকে অআকর্ষণ করে কোন্ সূত্রে? ভারী বস্তুকে অআকষণ করে কিন্তু অতি হালকা তুলা,বস্তু কণাকে কেন নয়? এতে প্রমাণিত হয় যে, অআকর্ষনের জন্য দরকার ভরত্বের (ম্যাস)। অ্যারিস্টটলের মতে ভারী, হালকা সবই সমান নিম্নগামী ।তুলা বা বস্তু কণাকে বায়ুর উর্ধবচাপের প্রাবাল্যতা শুন্যে ভাসিয়ে রাখে। তাহলে অআকর্ষণের মূলে কী অআছে। অআইঅআরঅআরএসটির মতে পৃথিবীকে অআস্ত একটা লোহার টুকরা ধরা যায় কারণ, পৃথিবী খনিজ অআয়রন সমৃদ্ধ। উর্ধ্বকাশে রয়েছে বিদ্যুৎ চৌম্বকীয় বল যা গ্র্যাভিটন নামক এক প্রকার চুম্বক জাতীয় আকর্ষন বল সৃষ্টি করে। সাধারণতঃ লোহার টুকরাকে চুম্বক টেনে নেয় যদি চুম্বকের চাইতে লৌহ খন্ড ছোট হয়। কিন্ত্ত চুম্বকের চাইতে লৌহ খন্ড বড় হয় তাহলে দৃশ্যতঃ চুম্বক টুকরা অআকর্ষিত হবে লৌহ খন্ডের প্রতি। পৃথিবী যেহেতু বৃহৎ একটি বস্ত্তখন্ড সেহেতু বিদ্যুৎ চুম্বকীয় বল পৃথিবীর দিকে অআকর্ষিত হওয়ায় তা বস্তু পদার্থের উপর ভর করে পৃথিবীর ভূত্বকে অআকর্ষিত হয়। উর্ধ্বাকাশের বিদ্যুৎ চুম্বকীয় বল বস্তু পদার্থ ভূত্বক মুখী করার অআমরা বায়ুর প্রবল উর্ধ্বচাপ থেকে নিজেকে সুরক্ষা করে ভূত্বকে অআমাদের পায়ের ত্বক বা দেহ ত্বক অআঠালো ভাবে লেগে থাকে। হতে পারে এটা মহাকর্ষের রহস্যের কিছুটা কুল কিনারা। তবে তা ১০৩৩ গুণ দূর্বল হলে এ যুক্তি ধোপে টেকে না। তাছাড়া মানুষের বেলায় এ তত্ত্ব অনেকটা অবাস্তব। কেননা মানব দেহে যেহেতু খনিজ লৌহ+ম্যাগনেশিয়াম রয়েছে সেহেতু না বিদ্যুৎ চুম্বকীয় বল+ভূত্বকের ম্যাগনেশিয়া না ভূত্বকের অআয়রন কোনটাই অআকর্ষণীয় বল সৃষ্টি করতে পারে না উভয় বস্ত্ত মানব দেহে নিহিত হওয়ার কারণে। তাছাড়া, পৃথিবী ঘূর্ণয়শীল ধরা হলে কোন তত্ত্বই প্রয়োগ করা যাচ্ছে না প্রবল বায়ুর উর্ধ্বচাপ উপেক্ষা করে পৃথিবীর ভূত্বকের পায়ের ত্বক বা দেহ ত্বক অআঠার মতো লেগে থাকার সপক্ষে কোন যুক্তি।
বিজ্ঞানীদের মহাবিশ্বের বস্তুগত অবকাঠামোয় জানা পদার্থের পরিমাণঃ
মডার্ণ কসমোলজিক্যাল স্ট্যান্ডার্ড মডেল থিউরি নিউটনের এই সত্য ভাষণের সত্যতা উপলদ্ধি করে জানিয়েছেঃ মহাবিশ্বের বস্তুগত অবকাঠামোর মাত্র ৪ থেকে ৫ শতাংশ উপাদান-উপকরণ জানা পদার্থ দিয়ে তৈরি। এই জানা ৪ থেকে ৫ শতাংশ উপাদান-উপকরণ কী পদার্থ দিয়ে তৈরি কেউ জানে না” (বিজ্ঞান চিন্তা)। কেবল জানে কীভাবে তৈরি।
অদৃশ্য অতি বুদ্ধিদীপ্ত এক মহা সৃষ্টিশীল সত্বা হচ্ছে এই মহাবিশ্বের উৎপত্তির নেপথ্য মহাকর্তা
এখন সবাই জানেন, মহাবিশ্ব তৈরি হয়েছে বিগ ব্যাংয়ের মাধ্যমে। এটাও জানেন যে, কোন্ বস্তুর বিগ ব্যাং বা মহাবিস্ফোরণ ঘটে আকাশ এবং পৃথিবীসহ.....এর সৃষ্টি হয়েছিল। পদার্থ বিজ্ঞানের জানার পরিধি এই পর্যন্ত শেষ। স্টিফেন হকিং প্রথমে বলেছিলেন শুন্য থেকে পরে মহাকর্ষ থেকে মহাবিশ্বের উদ্ভবের কথা জানিয়েছিলেন। শুন্যও শুন্য নয়-কোয়ান্টাম মেকানিক্সে একথা নতুন নয়। সুতরাং মহাকর্ষ নামে হোক কিংবা প্রকৃতি কিংবা অন্য নামে হোক; অদৃশ্য অতি বুদ্ধিদীপ্ত এক মহা সৃষ্টিশীল সত্বা হচ্ছে এই মহাবিশ্বের উৎপত্তির নেপথ্য মহাকর্তা তা অনস্বীকার্য বলে আই.আর.আর.এস.টি.সি. মনে করে।
বিশ্ব প্রকৃতিতে এত এত কণা-এসব কী দিয়ে তৈরি?
পদার্থ বিজ্ঞানে অনুত্থিত প্রশ্নঃ প্রকৃতিতে এত এত কণা-এসব কী দিয়ে তৈরি? এ প্রশ্নের উত্তর পাওয়া যেতে পারে এই নেপথ্য মহাকর্তা সূত্রে। উত্তর পাওয়ার নির্ভরযোগ্য ক্ষেত্র হতে পারে স্ট্রিং থিওরি। আইনস্টাইনের বহুল প্রত্যাশিত ইউনিফাইড থিওরির কুল কিনারার উজ্জ্বল সম্ভাবনা রয়েছে এই স্ট্রিং থিওরিতে। এই থিওরি ডেমিক্রিটাস, অ্যারিস্টটল, জাবের ইবনে হাইয়ান...সবার যে অভিন্ন মিথ তার উর্ধ্বে উঠে সকল পরমত্বকে বিন্দু থেকে স্ট্রিংয়ের কম্পনে উন্নীত করে। স্ট্রিং থিওরিমতে, কম্পনের মাত্রার পরিমাণ অনুযায়ী বিভিন্ন জাতের, বিভিন্ন নামের কণা উৎপন্ন হয়ে থাকে
অর্থাৎ এই মহাবিশ্বের বস্তুগত সংগঠনের ভিত্তি মূল হচ্ছে কম্পন। ২০১২ সালের ৪ঠা জুলাই, বুধবার সার্ণের এক বৈজ্ঞানিক ঘোষণাপত্রে জানা যায় যে, বিলিয়ন বিলিয়ন প্রোটনের প্রায় আলোর গতিতে মুখোমুখি সংঘর্ষ ঘটিয়ে সেকেন্ডে ট্রিলিয়ন, ট্রিলিয়ন কম্পন সৃষ্টি করে কৃত্রিমভাবে মহাবিশ্বের আদি ভরযুক্ত হিগস বোসন কণার উৎপন্নের মাধ্যমে আই.আর.আর.এস.টি.সি. মনে করে স্ট্রিংয়ের কম্পনের বাস্তব সত্যতা মেলে। স্ট্রিং বিশেষজ্ঞ ...বলেন, স্ট্রিং বাস্তব সত্য। তবে তা অনুভব, উপলদ্ধির ব্যাপার। চাক্ষুষ দর্শনের জন্য প্রয়োজন ১০-৩৩ সেন্টিমিটার মাত্রার সুপার ডিজিটাল মাইক্রোস্কোপ। বর্তমানে সর্বোচ্চ ১০-১৭ মাত্রার মাইক্রোস্কোপ বিজ্ঞানীদের হাতে রয়েছে। তাই এ মুহুর্তে স্ট্রিং এবং স্ট্রিংয়ের কম্পন চাক্ষুষ দর্শন অনেকটা অআকাশ কুসুম কল্পনা মাত্র। সুতরাং, স্ট্রেন্জ কোয়ার্কের মতো কিংবা প্রাণীর প্রাণ সত্বার মতো না দেখেই বিশ্বাস ছাড়া এই মুহুর্তে গত্যন্তর নেই।
তবে এখানেও প্রশ্নমুক্তির অবকাশ নেই। তাই বিজ্ঞানীদের সর্বসম্মত সিদ্ধান্ত, এই পৃথিবীতে এমন প্রশ্ন রয়েছে যার উত্তর এই মহাবিশ্বে নেই।
পক্ষান্তরে মার্কিন জ্যোতি পদার্থ বিজ্ঞানী কার্ল সাগান জানার ক্ষেত্রে প্রশ্ন করার সাহস এবং উত্তরের গভীরতার উপর প্রাধান্য দিতেন। বলা হয়ে থাকেঃ বিজ্ঞানের অগ্রযাত্রা সেদিন হতে শুরু যেদিন মানব মনে সত্যকে জানার আগ্রহ জন্মেছিল। তাই আই.আর.আর.এস.টি.সি মনে করে সত্যকে জানার স্বার্থে মৌলিক প্রশ্ন জরুরী। এ নিরিখে আই.আর.আর.এস.টি.সির প্রশ্ন ছিলঃ স্ট্রিংয়ের কম্পনের উৎস কী অথবা কে? এই প্রশ্নের সদুত্তর মেলেঃ অদৃশ্য অতি বুদ্ধিদীপ্ত সেই এক মহা সৃষ্টিশীল সত্বা হচ্ছে এই মহাবিশ্বের উৎপত্তির নেপথ্য মহাকর্তা।
মহাকর্ষঃ ৪ মহাবলের মধ্যে ৩ বলের তাত্ত্বিক কূল কিনারা পাওয়া গেলেও অআজও চতুর্থ মহাকর্ষ বলের কূল কিনারা পাওয়া যাচ্ছে না। মধ্যাকর্ষণ বলের স্থপতি আইজাক নিউটন মহাকর্ষের কারণে থামকে ছিলেন যেমন আইনস্টাইন দ্বিতীয় অআবিস্কার ইনভেরিয়েন্টে অআটকে ছিলেন।
মডার্ণ কসমোলজিক্যাল স্ট্যান্ডার্ড থিওরিতে মহাকর্ষ বিষয়ে কোনো সিদ্ধান্ত নেই।
বলা হয়ে থাকে ধর্মহীন বিজ্ঞান....বিজ্ঞানবিহীন ধর্ম......। সুতরাং বিজ্ঞানকে .....থেকে মুক্ত করতে অদৃশ্য অতি বুদ্ধিদীপ্ত এক মহা সৃষ্টিশীল সত্বা হচ্ছে এই মহাবিশ্বের উৎপত্তির নেপথ্য মহাকর্তার স্বীকৃতি জরুরী, যেমন জরুরী ছিল মহাবিশ্বের মূল অবকাঠামো সনাক্ত করতে স্ট্রেন্জ কোয়ার্কের স্বীকৃতি জরুরী ছিল এবং অসনাক্ত এই কোয়ার্কের বৈজ্ঞানিক স্বীকৃতি থাকায় বিজ্ঞান মহাবিশ্বের বস্তুগত কাঠামো সনাক্তে সমর্থ হয়। কোয়ার্ককে বলা হয় মহাবিশ্বের বস্তুগত অবকাঠামোর ইট বা দেওয়ালস্বরূপ, হিগস বোসন কণা সিমেন্ট স্বরূপ।
কিন্ত্ “প্রকৃতিতে এত এত কণা-তা কী দিয়ে তৈরি
বাকী ৯৫/৯৬ শতাংশ অজানা পদার্থ দিয়ে তৈরি। তাছাড়া মহাবিশ্বের এই বস্তুগত কাঠামোতে মহাকর্ষের পরিমাণ মাত্র ১০ শতাংশ। বাকী ৯০ শতাংশ মহাকর্ষ কিসে ব্যবহৃত তা কেউ জানে না। কেউ জানে না মূল মৌলিক কণারা কি দিয়ে তৈরি । এ পর্যন্ত পদার্থ বিজ্ঞানে যা লিখিত আছে, পদার্থ বিজ্ঞানীরা মহাবিশ্ব সম্পর্কে যা জেনেছে তা হচ্ছেঃ কিভাবে? এ প্রশ্নের জবাব জেনেছেন, জানিয়েছেন।
IRRSTC আমরা জানি যে, মাটির আকর্ষণে ফল নীচে পড়ে কিন্ত্ত আমরা জানি না যে, মাটি এই আকর্ষণ শক্তি পায় কোত্থেকে? এই শক্তির সাথে আর কোনো বল বা শক্তির যোগসূ্র আছে কি-না? পৃথিবীর ভূত্বকে লেগে বা অআটকে থাকা সহজ কথা নয়। কারণ অআমাদের এমনকি বিসরণশীল প্রাণীর দেহের খুব কম অংশই পৃথিবীর মাটির সাথে সম্পৃক্ত দাঁড়ালে দুই পায়ের পাতা, হাঁটলে এক পায়ের পাাতাই সম্পর্কিত থাকে বাতাসের প্রবল উর্ধ্বচাপ উপেক্ষা করে। পৃথিবী যদি ঘূর্ণায়মান হয় তাহলে ছিটকে পড়ারই কথা।
► মহাকর্ষ বল আসলে বিদ্যুৎ চুম্বকীয় বলের আকর্ষণ বলের একটি ব্যাপার ব্যতিত আর কিছুই নয়। এখানে মহাকর্ষ আইনস্টাইনের সাধারণ আপেক্ষিকতা তত্ত্ব মেনে চলে। চুম্বক আকর্ষণ জাতীয় বস্ত্ত হলেও অনেকে সময় আপেক্ষিকতার তত্ত্ব মেনে লোহা আকর্ষণীয় বলে পরিণত হয় যদি চুম্বকের তুলনায় লোহা বড় হয়। তখন চুম্বক নিজেই লোহার কাছে এসে পড়ে। আর যদি লোহার তুলনায় চুম্বক বড় হয় তাহলে কেবল চুম্বক লোহাকে টেনে নেবে। কাগজের ছোট ছোট টুকরার তুলনায় চিরুনী অনেক বড়, তাই চিরুনীর স্থির চুম্বকীয় বল কাগজের ছোট টুকরাকে তুলে আনে।
মহাকর্ষ বল যখন অআমাদের ওপর কাজ করে তখন তাকে মধ্যাকর্ষণ বা অভিকর্ষ বল বলা হয়।
► ভর আছে -সে রকম যে কোনো বস্ত্ত অন্য বস্ত্তকে মহাকর্ষ বল দিয়ে আকর্ষণ করে।এই আকর্ষণটা টান নাকি চাপ?
► আইনস্টাইনের মতে, মহাকর্ষ বল বলতে মহাবিশ্বে অআসলে কিছু নেই।এটা নিছক মহাকাশের কোলে থাকা ভারি (সূর্য বা (ব্ল্যাকহোল জাতীয়) বস্ত্তর পাশ ঘেঁষে দূর নক্ষত্রের অআলো কিছুটা বেঁকে গিয়ে পৃথিবীতে পৌঁছার কারণে এমনটি হচ্ছে।
► পক্ষান্তরে নিউটনের মতে, মহাকর্ষ বা মধ্যাকর্ষণ নয় বরং অদৃশ্য দড়িতে বাধা অআছে পৃথিবী, তাই সূর্যের উপর অআছড়ে পড়ে না। যেমনি চাঁদ অআছড়ে পড়ে না পৃথিবীর বুকের উপর।
► তড়িৎ চুম্বকীয় বল মহাকর্ষের তুলনায় ১০৩৬ গুণ শক্তিশালী।অর্থাৎ মহাকর্ষ তড়িৎ চুম্বকীয় বল মহাকর্ষের তুলনায় ১০৩৬ গুণ দূর্বল। তাছাড়া মহাকর্ষ স্ট্য্যান্ডার্ড মডেলে স্বীকৃত নয় যদিও পদার্থ বিজ্ঞানে নিম্নরূপ মূল্যায়ন রাখেঃ+
ক-মহাবিশ্বের উৎসমূল মহাকর্ষ -স্টিফেন হকি?
খ-দেখুন বিজ্ঞানচিন্তা
► যেখানে মহাকর্ষ বল বেশি সেখানে মাটি থেকে পা তোলাই কঠিন হয়ে পড়ে। আই.আর.আর.এস.টি.সি মনে করে, এতে প্রমাণিত হয় মহাকর্ষ নামক ১০৩৬ গুণ শক্তিশালী বিশিষ্টতড়িৎ চুম্বকীয় বলের প্রবল চাপে ব্ল্যাকহোলের ঘটনাদিগন্তের অআলোকে প্রবলভাবে চেপে রাখার দরুন অআলো বেরুতে পারে না।
► পৃথিবীকে আস্ত একটি আয়রণ সমৃদ্ধ ভূত্বক কল্পনা করা হলে আকাশকে কল্পনা করা যেতে পারে নিম্নমুখী তড়িৎ চুম্বকীয় বলরূপে। তৎসহ শারিরীক ওজন বা ভরের কারণে বাতাসের উর্ধ্বমুখী চাপ উপেক্ষা করে প্রাণীরা স্বাচ্ছন্দে ভূত্বকের আষ্টেপৃষ্ঠে লেগে অআছে অআঠার মতো। চাঁদে প্রাণী নেই, তাই সেখানকার ...পৃথিবী থেকে অন্ততঃ ছয় গুণ কম থাকায় নভোচারিরা লাফিয়ে লাফিয় চলে চন্দ্রপৃষ্ঠে পৃথিবীতে স্বাভাবিক মাত্রার....থাকার দরুন অআমরা অতি স্বাচ্ছন্দ্যে পদক্ষেপ নিয়ে হাটা চলা করে যাচ্ছি-মানব দেহে অআয়রণ এবং ম্যাগনেটের উপস্থিতির কারণে ই সমীকরণও প্রশ্নের সম্মুখীন যে,ষ্টতড়িৎ চুম্বকীয় বল এবং ভূত্বকের অআয়রণ মানব দেহে শুন্য প্রভাবের দাবী রাখে।
মহাবিশ্বকে মডাণঁ কসমোলজিক্যাল স্ট্যান্ডাডঁ মডেল থিওরি-এর অআলোকে বস্ত্তগতভাবে বুঝার মৌলিক উপায় বা মাধ্যম পদার্থ বিজ্ঞানে(যা ফিজিক্স নামে অভিহিত)মূলতঃ দ্বিবিধ যথাঃ ১. মহাবিশ্ব কিভাবে উদ্ভব বা জন্ম হয়েছিল? ২. মহাবিশ্ব কি দিয়ে তৈরি? উল্লেখ্য, মহাবিশ্ব সম্পর্কে এ যাবৎকালের যতসব পরীক্ষা-নিরীক্ষা-সমীক্ষা,গবেষণা হয়েছে এবং হচ্ছে সবইঃ মহাবিশ্ব কিভাবে উদ্ভব বা জন্ম হয়েছিল?-এই প্রশ্নকে ঘিরেই হয়েছিল এবং তাতে চমৎকার সাফল্যও পদার্থ বিজ্ঞান অর্জন করেছে। ফলশ্রুতিতে আই.আর.আর.এস.টি.সি.মনে করে বিজ্ঞান সত্যকে জানার আগ্রহ নিয়ে সূচীত যে বৈজ্ঞানিক অগ্রযাত্রা শুরু করেছিল তা প্রায় পরিসমাপ্তির দ্বারপ্রান্তে উপনীত। সর্বশেষ মাত্র আরেকটি প্রশ্নের সদুত্তরের মাধ্যমে বেজে উঠতে পারে বিজ্ঞানের বিজয় ঘন্টা। শেষ প্রশ্নটি হতে পারেঃ হাইয়েস্ট এনার্জেটিক রেডিয়েশনের পূর্ব কী ছিল কিংবা কে ছিলেন?
১. আই.আর.আর.এস.টি.সি.মনে করে, এই প্রশ্নের দুটি জবাব হতে পারে ১. জাগতিক ২. আধ্যাত্মিক।
১. জাগতিক বিবেচনায় বলা যেতে পারেঃ হাইয়েস্ট এনার্জেটিক রেডিয়েশনের পূর্বে ছিল প্রকৃতি আর প্রকৃতি। প্রকৃতির গর্ভ চিরে উদ্ভব হতে পারে আজকের মহাবিশ্ব।প্রকৃতি নিয়ে রয়েছে কিংবদন্তি যার সংক্ষিপ্ন নিম্নরূপঃ প্রকৃতিতে এত এত কণা-এস কি দিয়ে তৈরি-কেউ জানে না।
২.আধ্যাত্মিকঃ আধ্যাাত্মিক বিবেচনায় বলা যেতে পারেঃ হাইয়েস্ট এনার্জেটিক রেডিয়েশনের পূর্বে ছিলেন কেবল ছিলেন আল্লাহ আর আল্লাহই যেমন ছিলেন মহাবিশ্ব সৃষ্টির পূর্বেও ছিলেন কেবল আল্লাহ আর আল্লাহইি।
বাকী থাকবে দ্বিতীয় প্রশ্নের উত্তর। পদার্থ বিজ্ঞানের সম্ভাব্য সর্বশেষ প্রশ্নটি হতে পারেঃ মহাবিশ্ব কী দিয়ে তৈরি? এ প্রশ্নের জবাবে বলা হচ্ছেঃ প্রকৃতিতে এতো এতো কণা-এসব কি দিয়ে তৈরি কেউ জানে না(বিজ্ঞানচিন্তা)।
বাহ্যিক দৃষ্টিতে মহাবিশ্ব কোয়ার্ক এবং হিগস বোসন পার্টিকেল দ্বারা তৈরি। অক্সিজেন এবং হাইড্রোজেনের একক রূপ যেমন পানি তেমনি নিউট্টন অআর প্রোটনের একক রূপ হলো কোয়ার্ক। অআইনস্টাইনের তত্ত্ব মতে, পদার্থ চুপসে যেতে যেতে একেবারে বিলীন হয়ে যায় না, বরং পরম এক বিন্দুতে এসে চুপসে যাওয়া বন্ধ হয়েে যায় যাকে বলা হয়ঃ ঘটনা দিগন্ত বা সিঙ্গ_লারিটি বা পরম বিন্দু।স্ট্রিং থিওরিতে এই বিন্দুকে বলা হয় স্ট্রিংয়ের কম্পন।
বাংলাদেশে উদ্ভূত পরিস্থিতি যত না রাজনৈতিক তার চেয়ে ঢের বেশি আদর্শিক। আবার যত না আদর্শিক তার চেয়ে ঢের বেশি অবাস্তবতা। যেমন দ্বন্দ্বের প্রধান ইস্যু বাংগালী না বাংলাদেশী? অথচ আমরা বাঙ্গালী এবং বাংলাদেশী উভয়টাই হচ্ছে বাংলাদেশের পরম বাস্তবতা ।
বিজ্ঞানীগণ এখনও রেডিও টেলিস্কোপের সাহায্যে কোনো কোনো গ্যালাক্সির কেন্দ্রে Cosmic strings-এর সন্ধান পাচ্ছেন। গ্যালাক্সিগুলো দিকে তাকালে ওদের গঠন অবয়বে Cosmic strings বা মহাজাগতিক তারের স্পষ্ট প্রভাব লক্ষ্য করা যায় ।
গ্যাব্রিয়েল ভেনেজিয়ান সবল নিউক্লীয় বলগুলো নিয়ে কাজ করতে গিয়েই অয়লারের বেটা ফাংশনের সঙ্গে কণার গতিপথের সন্ধান পেয়েছিলেন। বেটা ফাংশন যেহেতু সুতাজাতীয় বস্তুর কম্পন ও গতীয় বৈশিষ্ট্যের ব্যাখ্যা দিতে পারে, তাই নিউক্লিয়াসের ভেতরে নিউট্রন আর প্রোটন যে নিউক্লীয় বল দ্বারা যুক্ত থাকে, সেই সবল নিউক্লীয় বলের সঙ্গে নিশ্চয়ই সুতা বা তন্তুর কোন সম্পর্ক আছে বলে বিজ্ঞানীরা মনে করেন। এই সম্পর্কটাই খুঁজছিলেন কণা পদার্থবিদরা এবং সবল নিউক্লীয় বলের ব্যাখ্যা দেয়ার চেষ্টা করা হয় এই তন্তু তত্ত্বের সাথে। প্রমাণও পান যে, নিউট্রন ও প্রোটনগুলো পরস্পরের মধ্যে মেসন নামের বলবাহী কণা বিনিময় করে যেরূপ শক্তভাবে জোড়া লেগে থাকে তার পেছনে কাজ করে সবল নিউক্লীয় বল। মেসন এখানে বলবাহী কণা হিসেবে কাজ করে। কিন্তু নিউট্রন ও প্রোটনের মধ্যে থাকা কোয়ার্কগুলো পরস্পরের সঙ্গে কিভাবে যুক্ত থাকে? এর সমাধানে মারে গেল-মান বলেনঃ কোয়ার্কগুলো পরস্পরের সাথে গ্লুয়ন কণা বিনিময় করে যারফলে গ্লুয়নই হয়ে উঠে সবল নিউক্লীয় বলের মূল বাহক কণা। কিন্তু গেল-মারের কোয়ার্ক-গ্লুয়ন তত্ত্বের সাথে খাপ খায়নি স্ট্রিং এর নিউট্রন-মেসন তত্ত্ব অর্থাৎ নিউট্রন-প্রোটনের মধ্যে থাকা কোয়ার্কগুলো পরস্পরের সঙ্গে যুক্ত থাকার বৈজ্ঞানিক কারণ স্ট্রিং তত্ত্বে ছিল অনির্ণেয়। ফলে কোয়ান্টাম ক্রোমোডায়নামিকসের কারণে হুমকির মধ্যে পড়ে স্ট্রিং তত্ত্ব। তবে বেশ কয়েক বছর পর জন শোয়ার্জ নামক এক মার্কিন বিজ্ঞানী এগিয়ে আসেন স্ট্রিং তত্ত্বকে বাঁচিয়ে রাখতে যা ছিল স্ট্রিং তত্ত্বের জন্য এক ঐতিহাসিক ঘটনা যেমন ছিল কোয়ান্টাম মেকানিকসের ব্যাপারটি। আইনস্টাইনের তীব্র বাধায় তলিয়ে যাওয়া কোয়ান্টাম তত্ত্ব-কে বাঁচিয়ে রাখতে এক ঝাঁক প্রতিষ্ঠিত বিজ্ঞানীদের নিয়ে এগিয়ে এসেছিলেন নীলস বোর। এর আগে অয়লারের বেটা ফাংশন তত্ত্ব তথা স্ট্রিং থিওরি মতে কেবল মেসনকেই সবল নিউক্লীয় বলের মূল বাহক কণা মনে করা হতো। (বিঃচিঃ বর্ষঃ ৬ সংখ্যাঃ ০১, অক্টোবর)।
সত্তর দশকে যে স্ট্রিং তত্ত্ব কোয়ার্ক ইন্টার অ্যাকশন জনিত কারণে ধাক্কা খেয়ে পিছিয়ে গিয়েছিল সেই স্ট্রিংয়ে এক বিংশ শতাব্দীতে এসে বিজ্ঞানীরা আশার অআলো দেখছেন একটি সার্বিক একীভূত তত্ত্বের প্রত্যাশায় যাতে কোয়ান্টাম বল বিদ্যা ও আপেক্ষিকতার সাধারণ তত্ত্বকে এক সুতায় বাঁধবে (প্রাগুক্ত পৃঃ ৫৪)।
স্ট্রিং তত্ত্বের মাধ্যমে। ধারণা করা হতো নিউট্রন-প্রোটনের মধ্যে থাকা কোয়ার্কগুলোও মেসনের সাহায্যে একত্রে থাকে। কিন্ত্ত মারে গেলমানের মতে, মহাবিশ্বের সার্বিক কার্যক্রমে বলের দিক থেকে ৪ প্রধান বল যথাক্রমে ১.মহাকর্ষ বল ২. সবল নিউক্লীয় বল ৩. দূর্বল নিউক্লীয় বল এবং ৪.চৌম্বুক তড়িৎ.বল। অন্যদিকে কণা বিবেচনায় এ পর্যন্ত অআবিস্কার বিবেচনায় মহাবিশ্বের মূল কণিকার সংখ্যা হলো ১৬। যার মধ্যে ১৪টি ফার্মিয়ান গোত্রের কণা আর আলোর ফোটন কণাসহ বাকী চারটিকে বলা হয় বোসন শ্রেণীর কণা। উক্ত ১৬টি কণার এককরূপ আইনস্টাইনের মতে ঘটনাদিগন্ত যা বিন্দু সদৃশ।অর্থাৎ মহাসূক্ষ্ণবিন্দুতে মহাবিশ্বের শুরু সেই সূক্ষ্ণ বিন্দুতেই ঘটনাদিগন্তে শেষ। তবে স্ট্রিং থিওরি মতে এটিই শেষ কথা নয়। বরং স্ট্রিং থিওরিমতে প্রকৃতপক্ষে মহাবিশ্বের উৎসমূল স্ট্রিংয়ের কম্পনে নিহিত। অর্থাৎ কম্পনই মহাবিশ্ব সৃষ্টির মূল কথা
হয়তো এর উত্তরে এটাও নিহিত রয়েছে যে, কসমোলজিক্যাল স্ট্যান্ডার্ড থিওরি তথা পদার্থ বিজ্ঞানের পরতে, পরতে, স্তরে স্তরে, অধ্যায়ে অধ্যায়ে কিংবা কথায় কথায় ব্যাখ্যা বিশ্লেষণবিহীন আপনা আপনি উচ্চারিত, বহুল ব্যবহৃত প্রকৃতি(নেচার), প্রাকৃতিক (নেচারাল) নামক ব্যাপক অর্থবোধক শব্দ-যে শব্দের উপর ভিত্তি করে যে ফিজিক্স নামটি সেই প্রকৃতি শব্দের গভীর তাৎপর্য অর্থবোধকতা। হয়তো প্রকৃতি নামক এ শব্দের মধ্যেই লুকিয়ে আছেঃ ১) আইনস্টাইনের স্বপ্নিল সার্বিক একীভূতকরণ তত্ত্ব ২) মহাকর্ষ বল এবং তার প্রতিবল গ্রাভিটনের কুল-কিনারা, ৩) ডার্ক এনার্জি-ডার্ক ম্যাটারের ব্যাখ্যা ৪) বিজ্ঞানীদের আশার আলো স্ট্রিং থিওরির বাস্তবতা এবং ৫) বিজ্ঞানীদের আগামীদিনের স্বপ্নিল নতুন বিজ্ঞান ফ্রন্টিয়ার সায়েন্সের আশা-প্রত্যাশা!
এবং বিজ্ঞান, প্রযুক্তি, ডিজিটাল বা মোবাইল কিংবা কম্পিউটার প্রভৃতি শব্দের ব্যাপক উচ্চারণের মতই সেই
Comments
Post a Comment