নিউটন-কার্ল সাগানের তত্ত্ব কথা
নিউটন-কার্ল সাগানের তত্ত্ব কথা
প্রতি ১০০ প্রযুক্তিসম্পন্ন সভ্যতার মধ্যে একটিও অআত্মধ্বংসের (অজ্ঞতা, লোভ, পরিবেশ দূষণ, নিউক্লিয়ার যুদ্ধ) কবল থেকে বাঁচতে পারলে ৪০ হাজার কোটি নক্ষত্র-অধ্যুষিত অআমাদের মিল্কিওয়ে গ্যালাক্সিতে কমপক্ষে এক কোটি গ্রহে প্রাযুক্তিকভাবে উন্নত সভ্যতার বিকাশ ঘটা অসম্ভব নয়।
পৃথিবীতে প্রাণের প্রকৃতি এবং গ্রহান্তরের কোনো জায়গায় প্রাণ আছে কিনা, তার অনুসন্ধান হলো একই প্রশ্নের দুটি দিক, তা হলো আমরা কে? তার অনুসন্ধান, যা প্রাচীনকাল থেকেই মানুষ করে আসছে ।
অআমররা একটিই বিজ্ঞানভিত্তিক সভ্যতা গড়ে তুলেছি, যেখানে জ্ঞান ও জ্ঞানের বিশুদ্ধতা খুবই গুরুত্বপূর্ণ বিষয়।
সাগান তাঁর মৃত্যুর অআগে লেখা বই দ্য ডেমন হান্টেড ওয়ার্ল্ড-এ এই বলে সতর্ক করে দিয়েছেন, প্রাযুক্তিক উন্নতির সঙ্গে বিজ্ঞান ও সংস্কৃতির সমন্বয় ঘটানো না গেলে অন্ধকার যুগ আসন্ন।
বিজ্ঞান কখনো শেষ হবে না এবং আমরা পৃথিবীকে অর্থবহ করে তুলতে পারি আমাদেরর প্রশ্ন করার সাহস ও উত্তরের গভীরতা দিয়ে।
জ্ঞান ছাড়াতো কোনো মানুষের মানবিক আচরণ বিকাশ লাভ করতে পারে নাআ, সে যথার্থ সভ্যও হতে পারে না। তার কাছে ন্যায়নীতি ও পরিমিতিবোধের অআচরণ অআশা করা বৃথা। তাদের দিয়ে যেকোনো ধ্বংসাত্মক ও স্বেচ্ছাচারী কাজ সহজে করিয়ে নেওয়া সম্ভব।
সাগানই প্রথম সাধারণ মানুষের কাছে বিজ্ঞানের জটিল ও দুরূহ বিষয়গুলো সুন্দর এবং সহজবোধ্য উপস্থাপনের মাধ্যমে বিজ্ঞানবিষয়ক পাঠ-কে সফলভাবে জনপ্রিয় করে তোলেন। তিনি একক ও যৌথভাবে প্রায় ২৯টি বই রচনা করেন। ১৯৭৮ সালে কসমিক ক্যালেন্ডারসহ মানব মস্তিস্ক, বুদ্ধিমত্তার ক্রমবিকাশ এবং এর ভবিষ্যত নিয়ে রচিত দ্য ড্রাগন অব দ্য ইডেন গ্রন্থের জন্য সর্বোচ্চ মার্কিন সাহিত্য পুরস্কার পুলিৎজার পদক লাভ করেন কার্ল সাগান।
কার্ল সাগান বলেনঃ এমন অনেক বৈজ্ঞানিক সমস্যা অআছে, যেগুলোর ফলাফল জানার আকুল আকাঙ্খা আমার মধ্যে কাজ করেন। যেমন অআমাদের সৌরজগতের বাকি গ্রহ-উপগ্রহ পর্যবেক্ষণ বা অআর কোনো জায়গায় প্রাণের অস্তিত্ব অআছে কিনা।
আমি বুঝতে চাই ইতিহাসের গুরুত্বপূর্ণ বাঁকগুলো-আশা ও ঝন্ঝাটপূর্ণ উভয়ই। এগুলোকে নিয়ে কাজ করে বের করতে চাই অআমাদের প্রযুক্তির শুভ ও বিপজ্জনক দিকগুলো। যেমন প্রযুক্তিবিদ্যায় অআরোহণ এবং অআন্তনাক্ষত্রিক অভিযান।
মৃত্যুভাবনা আমাকে মরিয়া হয়ে কোনো কাজ করার উদ্দীপনা জোগায়। সম্ভবত এ প্রেক্ষাপট অআমাকেঅআরও খানিকটা সময় বেঁচে থাকার প্রেরণা দিয়েছে।
এই বিশ্ব হলো অসম্ভব ভালোবাসা ও নৈতিক গভীরতায় পরিপূর্ণ নিদারুণ সুন্দর এক জায়গা। এ দৃষ্টিভঙ্গির মধ্য দিয়ে মৃত্যুর দিকে তাকানো এবং প্রতিদিনই কৃতজ্ঞ হওয়া এই ভেবে যে, সংক্ষিপ্ত কিন্ত্ত অসাধারণ স্বপ্নময় এক সুযোগ “জীবন” আমাদের দিয়েছে। -(সেই জীবনটা কে দিয়েছেন? প্রশ্ন বটে) এর জবাব পৃথিবীর শতকরা ৯৯.৯৯ এর অধিক মানুষ দিতে সক্ষম সরাসরি গড শব্দযোগে বাকী .১ (দশমিক এক) শতাংশ পরোক্ষভাবে অ্যাবট্রাক্ট এক সত্বার প্রতি ইংগিত করে সত্বাটির নাম হচ্ছে নেচার।
আমি অআমার লেখালেখির মধ্যে সব সময় দেখানোর চেষ্টা করেছি.........................।
মধ্যাকর্ষণের প্রভাবে যদি গাছের ফল মাটিতে পড়তে পারে তবে আকাশের চাঁদ কেন পৃথিবীর বুকে, পৃথিবী কেন সূর্যের বুকের উপর পড়ে না?মধ্যাকর্ষণের প্রভাবে যদি গাছের ফল মাটিতে পড়তে পারে তবে আকাশের চাঁদ কেন পৃথিবীর বুকে, পৃথিবী কেন সূর্যের বুকের উপর পড়ে না? পৃথিবীর মধ্যাকর্ষণ মানে মহাকাশের মহাকর্ষ-এই সূত্র সমীকরণ মহাকাশে মিল না খাওয়াতে হতভম্ব হয়ে বলেছিলেনঃ
“কোনো অদৃশ্য দড়ির টানে সূর্যের মাঝে চিরকালের মতো বাধা পড়ে আছে পৃথিবী”।
এরপর নিউটন বিজ্ঞান গবেষণায় অআর বেশি দূর আগান নি বরং জীবন সায়াহ্নে এসে নিউটন বলেন “আমি জানিনা বিশ্বের কাছে আমি কিভাবে উপস্থাপিত হয়েছি, কিন্তু আমার কাছে আমার নিজেকে মনে হয় এক ছোট বালক যে কেবল সমুদ্র উপত্যকায় খেলা করছে এবং একটি ক্ষুদ্র নুড়ি বা ক্ষুদ্রতর এবং খুব সাধারণ পাথর সন্ধান করছে, অথচ সত্যের মহাসমুদ্র তার সম্মুখে পড়ে রয়েছে যা অনাবিষ্কৃতই রয়ে গেল”।
বলা হয়ে থাকে, “যেদিন থেকে মানব মনে সত্যকে জানার আগ্রহ জেগেছিল সেদিন থেকেই বিজ্ঞানের অগ্রযাত্রার শুরু”। তৎপরিপ্রেক্ষিতে ১৬৬৪ খৃষ্টাব্দ আইজাক নিউটন ল্যাটিন ভাষায় Quaestiones Quaedam Philosophicae [কিছু দার্শনিক প্রশ্ন] এই শিরোনামে লিখেনঃ “প্লেটো আমার বন্ধু - এরিস্টটল আমার বন্ধু - কিন্তু আমার সবচেয়ে বড় বন্ধু সত্য”।
মাধ্যাকর্ষণ গ্রহগুলির গতি ব্যাখ্যা করে, তবে কে গ্রহগুলিকে গতিশীল করে তা ব্যাখ্যা করতে পারে না।
সত্যকে কখনও সরলতার মধ্যে খুঁজে পাওয়া যায়, এবং জিনিসগুলির বহুগুণতা এবং বিভ্রান্তিতে নয়।
সাহসী অনুমান ছাড়া কোনও দুর্দান্ত আবিষ্কার কখনও করতে পারে না।
মহাকর্ষ সবসময় আমাদের এটি ব্যাখ্যা করতে পারে যে গ্রহগুলো কিভাবে ঘুরছে। কিন্তু এটি ব্যাখ্যা করতে পারে না যে কে গ্রহগুলোকে এই অবস্থায় রেখেছেন।
নাস্তিকতা এত নির্বোধ। যখন আমি সৌরজগতের দিকে তাকাই, আমি পৃথিবীকে সূর্য থেকে সঠিক দূরত্বে দেখি তাপ এবং আলোর সঠিক পরিমাণ পেতে। ঘটনাক্রমে তা হয়নি।
একজন স্বর্গীয় মাস্টার সমস্ত বিশ্বকে মহাবিশ্বের সার্বভৌম হিসাবে পরিচালনা করেন। তাঁর পূর্ণতার কারণে আমরা তাঁকে বিস্মিত করি, আমরা তাঁকে সম্মান করি এবং তাঁর সীমাহীন ক্ষমতার কারণে তাঁর সামনে পড়ে থাকি। অন্ধ শারীরিক প্রয়োজনীয়তা থেকে, যা সর্বদা এবং সর্বত্র একই, সময় এবং স্থানের কোনও বৈচিত্র্য আবর্তিত হতে পারে না, এবং সমস্ত সৃষ্ট বস্তু যা মহাবিশ্বে শৃঙ্খলা এবং জীবনের প্রতিনিধিত্ব করে কেবল তার মূল স্রষ্টার ইচ্ছাকৃত যুক্তির দ্বারা ঘটতে পারে, যাকে আমি প্রভু ঈশ্বর বলি।
যে অর্ধহৃদয় চিন্তা করে, সে ঈশ্বরে বিশ্বাস করবে না; কিন্তু যে সত্যিই মনে করে তাকে ঈশ্বরে বিশ্বাস করতে হবে।
সত্য হল নীরবতা ও ধ্যানের সন্তান।
আমার ক্ষমতা সাধারণ। শুধুমাত্র আমার গবেষণা আমাকে সাফল্য এনে দেয়
আমার আবিষ্কার প্রতিভা-প্রসূত নয়; বহু বছরের অধ্যবসায় ও নিরবচ্ছিন্ন সাধনার ফল।
আমি দর্শনতত্ত্বের ভিত্তি স্থাপন করেছি, এটির ব্যাখ্যা দার্শনিক নয় বরং গাণিতিক।
(https://bn.wikiquote.org/wiki/আইজাক_নিউটন)
Comments
Post a Comment