মহাবিশ্বের সবচেয়ে শক্তিশালী আলো হচ্ছে গামা রশ্মি
“এই লেখাটা যাঁরা বিছানায় শুয়ে, বসে কিংবা মাটিতে দাঁড়িয়ে পড়ছেন, তাঁরা নিশ্চয়ই জানেন মহাকর্ষ কী। অন্তত এটুকু নিশ্চয়ই জানেন, মহাকর্ষের টান না থাকলে এই লেখাটা পড়তে হতো মহাকাশে ভাসতে ভাসতে”।
“এত এত মৌলিক কণা প্রকৃতিতে। এখন পর্যন্ত এরা অন্য কিছু দিয়ে তৈরি বলে জানা নেই(বিচি, মার্চ, ২০২০, পৃঃ ৪৪) ”
এখন পর্যন্ত বিজ্ঞানীরা জানেন না-এরাই প্রকৃতির সবচেয়ে ছোট সম্ভাব্য বস্তু কণা কিনা ( বিচি)
প্রকৃতির চারটি মৌলিক বলের প্রতিটির জন্য রয়েছে পৃথক পৃথক প্রতি কণা। সবল নিউক্লিয় বলের জন্য রয়েছে গ্লুয়ন, দূর্বল নিউক্লিয় বলের জন্য ডব্লিউ ও জেড বোসন অআর বিদ্যুৎ চৌম্বকীয় বলের জন্য ফোটন বা আলোর কণা, মহাকর্ষের জন্য সম্ভাব্য গ্র্যাভিটন কণা।
স্থান-কালের বক্রতা অনেক গভীর থেকে গভীরতর হলে এবং ক্রমেই অসীম হয়ে গেলে, সেখানে স্থান-কালের প্রচলিত নিয়ম-কানুন আর প্রয়োগ করা যায় না (বিচি, মার্চ, ২০২০, পৃঃ ৪০)
https://www.blogger.com/blog/posts/7892812967245174455
মহাবিশ্বের সংঙ্গে আমাদের পরিচয় দৃশ্যমান বস্তুর আঙ্গিকে। পরমাণু ও পরমাণু দ্বারা গঠিত যৌগ বস্তু/পদার্থ দিয়ে এই দৃশ্যমান বিশ্ব গঠিত। গ্রীক দার্শনিক ডেমোক্রিটাস ঈসাব্দপূর্ব ৪০০ অব্দে সর্বপ্রথম পদার্থের ক্ষুদ্রতম বস্তু ‘কণা’ (atom) নিয়ে মতবাদ পোষণ করেন। গ্রীক ‘অ্যাটোমাস’ (atomas) শব্দ থেকে এটম (atom) শব্দটির বুৎপত্তি- যার অর্থ আর ভাঙা যাবে না অর্থাৎ এটম অবিভাজ্য। পরবর্তীতে মধ্যযুগে জাবির ইবনে হাইয়ান আল আরাবি ডেমোক্রিটাসের এটম-কে যথাক্রমে ১. আব, ২. আতস, ৩. খাক, এবং বাত-বস্তু/পদার্থের এই চতুর্মাত্রিক রূপ দান করেন।
পক্ষান্তরে অ্যারিষ্টটলের মতে, পদার্থসমূহ নিরবচ্ছিন্ন (continuous) একে যতই ভাঙ্গা হোক না কেন, পদার্থের কণাগুলো ক্ষুদ্র হতে ক্ষুদ্রতর হতে থাকবে। বিজ্ঞানী রাদার ফোর্ড তার পরীক্ষালব্ধ ফলাফল থেকে বলেন যে, পরমাণু হলো ধনাত্মক আধান ও ভর একটি ক্ষুদ্র জায়গায় আবদ্ধ’। তিনি এর নাম দেন ‘নিউক্লিয়াস’। প্রোটন ও ইলেকট্রন নিয়ে গঠিত হয় পরমাণু কেন্দ্র-এই কেন্দ্রকে বলা হয় নিউক্লিয়ার্স। নিউক্লিয়ার্স এর চার পাশে ঘুরতে থাকে পরমাণুর ইলেকট্রন।
পদার্থ বিজ্ঞানীরা ফিজিক্সের আওতায় পদার্থ সংক্রান্ত বিজ্ঞানের আলোকে আধুনিক কসমোলজিক্যাল স্ট্যান্ডার্ড মডেল তত্ত্বের মাধ্যমে মহাবিশ্বের নিবিড় গবেষণা করে বস্তুতাত্ত্বিক সূত্রাদি আবিস্কার করে থাকেন যার সংক্ষিপ্ত বর্ণনা নিম্নরূপঃ
হিগস ফিল্ড মৌলিক কণিকাদের কেবল ভরের জোগান দেয়।লক্ষ্যনীয় যে, হিগস ফিল্ড মৌলিক কণিকাদের কেবল ভরের জোগান দেয়। পদার্থের সকল ভর হিগস ফিল্ড থেকে আসে না।
সাধারণ পদার্থ গঠিত হয় ইলেকট্রন, প্রোটন আর নিউট্রনে
ইলেকট্রনের ভর আসে হিগস ফিল্ড থেকে
ইলেকট্রন একটি মৌলিক কণিকা, তাই একটি ইলেকট্রনের সকল ভরই হিগস ফিল্ড থেকে আসে।
কখনো কি ভীষণ বিস্ময়ে ভেবেছেন, আপনি পৃথিবীতে আটকে আছেন কেন? মহাকাশে ছিটকে পড়ছেন না কেন? এর একটিই উত্তর, মহাকর্ষ। এই বলটাই আপনাকে ভূপৃষ্ঠে আটকে রেখেছে। মহাকর্ষ ছাড়া আমরা কেউই পৃথিবীতে আটকে থাকতে পারতাম না, থাকতে হতো মহাশূন্যে ভেসে। অবশ্য তখন মহাবিশ্বও পরিণত হতো ঘন অন্ধকারাচ্ছন্ন ও বিশালাকৃতির গ্যাস আর ধূলিকণায়। মহাকর্ষ না থাকলে গ্রহ, নক্ষত্র, ছায়াপথ বলে কিছু থাকত না। কাজেই বলতেই হচ্ছে, মহাকর্ষের প্রভাব বলেন আর প্রতিপত্তি বলেন, তা বিশাল, বিপুল। অনেক বড় পরিসরের। অথচ মহাবিশ্বের চারটি মৌলিক বলের মধ্যে মহাকর্ষই সবচেয়ে দুর্বল। কিন্তু কতটা দুর্বল?
সেটি শুনলেও অনেকের চোখ কপালে উঠে যেতে পারে। মোটা দাগে বললে,
অন্য তিনটি মৌলিক বলের তুলনায় প্রায় ১০৩৬ ভাগ দুর্বল এই মহাকর্ষ। অর্থাৎ ১/১,০০০,০০০,০০০,০০০,০০০,০০০,০০০,০০০,০০০,০০০,০০০,০০০ ভাগ। এত বড় সংখ্যা উপলব্ধি করা সহজ নয়। একটু সহজ উদাহরণ দেওয়া যাক। ধরুন, আপনার কাছে একটি পেঁপে আছে। পেঁপেটা কেটে চার ভাগ করলে এর প্রতিটি টুকরা হবে পেঁপেটির এক–চতুর্থাংশ। পেঁপেটাকে ১০৩৬ ভাগ করা হলে প্রতিটি টুকরোর আকার হবে পেঁপের একটি অণুর চেয়েও ছোট। আর পেঁপের একটি অণুর সমান টুকরার আকার করতে চাইলে আপনাকে প্রায় ২০ লাখ পেঁপে কেটে সমান ভাগে টুকরা করতে হবে। বোঝা গেল, ব্যাপারটা?
►“এ পর্যন্ত মহাবিশ্বের মূল কণিকার সংখ্যা হলো ১৬। এগুলোর মধ্যে সব ধরণের কোয়ার্ক-ইলেকট্রনসহ ১২টিকে বলে ফার্মিয়ান শ্রেণীর কণা। অআলোর ভরশুন্য ফোটন কণাসহ বাকী ৪টিকে বলে বোসন শ্রেণীর কণা। কিন্তু স্ট্রিং তত্ত্ব অনুযায়ী এই ১৬টি কণাই শেষ কথা নয়, বস্তুর অআরও ক্ষুদ্রতম অস্তিত্ব রয়েছে, সেটা হলো স্ট্রিং তন্তু। স্ট্রিংয়ের ঘূর্ণনেই বস্তুর কণার সৃষ্টি” (বিজ্ঞান চিন্তা)।
►“ধরা যাক, ইলেকট্রন বা কোয়ার্কের কথা। এগুলোকে যদি খুব সূক্ষ্ণভাবে দেখা যেতো, তাহলে দেখতাম, আসলে এগুলো কণা বা বিন্দু নয়, সুতার মতো অতি সূক্ষ্ণ তন্তুর কম্পন। সুতার বিভিন্ন মাত্রার কম্পনের ফলে বিভিন্ন কণার সৃষ্টি। ইলেকট্রনের জন্য তন্তুর (সুতার) কম্পনের মাত্রা এক রকম। কোয়ার্কের জন্য তন্তুর কম্পনমাত্রা আরেক রকম। অন্য ১৪টি কণার জন্য তন্তুর আলাদা কম্পন নির্দিষ্ট আছে। তন্তুর কম্পনের মাত্রাই ঠিক করে দেয় কম্পন থেকে সৃষ্ট কণার ভর, চার্জ, স্পিন কেমন হবে। এই বৈশিষ্ট্যগুলোই এক ধরণের কণা আরেক ধরণের কণার মধ্যে পার্থক্য তৈরি করে। এ সব বিচিত্র কণা দিয়েই গড়ে উঠেছে আমাদের মহাবিশ্ব। এই বিশ্ব তাই সুতায় বোনা মহাবিশ্ব” (বিজ্ঞান চিন্তা)।
(৩) অর্থাৎ প্রত্যেক প্রাণী সৃজনে পানির অবশ্যই প্রভাব আছে। এসব বস্তু সৃজন, আবিষ্কার ও ক্রমবিকাশে পানির প্রভাব অপরিসীম। আবু হুরাইরা রাদিয়াল্লাহু আনহু বলেন, আমি রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু 'আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর কাছে আরয করলাম, ইয়া রাসূলুল্লাহ, আমি যখন আপনার সাথে সাক্ষাৎ করি, তখন আমার অন্তর প্রফুল্ল এবং চক্ষু শীতল হয়। আপনি আমাকে প্রত্যেক বস্তু সৃজন সম্পর্কে তথ্য বলে দিন।” জওয়াবে তিনি বললেনঃ “প্রত্যেক বস্তু পানি থেকে সৃজিত হয়েছে”। [মুসনাদে আহমাদঃ ২/২৯৫] https://www.hadithbd.com/quran/error/?id=2513
সহীহ সনদে ইবনে আব্বাস রাদিয়াল্লাহু ‘আনহুমা থেকে বর্ণিত হয়েছে যে, তিনি বলেছেন এর অর্থ হচ্ছেঃ আসমান ও যমীন পরস্পর মিলিত ছিল তারপর আমরা সে দুটিকে পৃথকীকরণ করেছি। হাসান ও কাতাদা রাহেমাহুমাল্লাহ বলেনঃ এতদুভয়ের মধ্যে বাতাস দ্বারা পৃথকীকরণ করেছেন। [ইবন কাসীর; কুরতুবী]
সবশেষে মহাকাশ : পবিত্র কোরআনে আল্লাহ পাক তাঁর চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত ঘোষণা করেছেন যে একমাত্র তাঁর পবিত্র সত্তা ছাড়া মহাবিশ্বের সব কিছুই ধ্বংসশীল। বিন্দু থেকে শুরু হওয়া এই বৃহৎ বিস্তৃত মহাবিশ্ব আবার শুরুতে ফিরে আসবে। আর সাত আসমান বইপত্র গোটানোর মতো গুটিয়ে নেওয়া হবে। আল্লাহ তাআলা বলেন, ‘সেদিন আমি আকাশমণ্ডলী গুটিয়ে নেব যেমন লিখিত কাগজপত্র গুটিয়ে রাখা হয়। ’ (সুরা আম্বিয়া, আয়াত : ১০৪)
মহাবিশ্বের জন্মের শুরুর দিকে (মহাবিশ্বের বয়স তখন প্রায় চার লাখ বছর) প্রায় সব পদার্থই কার্যত চার্জনিরপেক্ষ পরমাণুতে এসে স্থির হয়েছিল। এভাবে ভারসাম্যে এসেছিল বিদ্যুৎ–চৌম্বকীয় বল। তারপর থেকে পৃথিবী ও সূর্যের মধ্যে কোনো বিদ্যুৎ–চৌম্বকীয় বল আর অবশিষ্ট নেই। আবার দুর্বল ও শক্তিশালী পারমাণবিক বল বৃহৎ পরিসরে কাজ করতে পারে না। তাই চারটি বলের মধ্যে একটি বলই বাকি থাকে, আর সেটি মহাকর্ষ। এ কারণে গ্রহ, নক্ষত্র ও ছায়াপথগুলোকে বৃহৎ পরিসরেও নিয়ন্ত্রণ করে মহাকর্ষ। কারণ, অন্যান্য বল ভারসাম্যপূর্ণ অবস্থায় থাকে। আর মহাকর্ষ আকর্ষণধর্মী হওয়ার কারণে একে কখনো বাতিল করা যায় না।
ক্রমবিস্তৃত মহাকাশ : সামপ্রতিক সর্ববৃহৎ মহাকাশ গবেষণাকারী প্রতিষ্ঠান নাসা এ তথ্য আবিষ্কার করতে সক্ষম হয়েছে যে ভূপৃষ্ঠের পরিধি ক্রমে সংকুচিত হচ্ছে এবং মহাকাশের পরিধি ক্রমে বিস্তৃতি লাভ করছে। চাঞ্চল্যকর এ তথ্যে অনেকেই চোখ কপালে তুলেছিল। কিন্তু আজ থেকে ১৫০০ বছর আগে মরুভূমির বালুতে দাঁড়িয়ে পবিত্র কোরআন থেকে এ তথ্য সরবরাহ করেছিলেন মুহাম্মদে আরাবি (সা.)। মহান আল্লাহ বলছেন, আমি নিজ হাতে আসমান সৃষ্টি করেছি এবং আমিই এর বিস্তৃতি ঘটাই। (সুরা জারিয়াত, আয়াত : ৪৭)। অন্য আয়াতে ইরশাদ হয়েছে, ‘তারা কি দেখে না আমি ভূপৃষ্ঠের পরিধি ক্রমে সংকুচিত করে আনছি, এর পরও কি তারাই বিজয়ী!’ (সুরা আম্বিয়া, আয়াত : ৪৪)
‘তার নিদর্শনাবলি থেকে এটাও একটি যে আসমান-জমিন শুধু তাঁর আদেশের ওপরই দাঁড়িয়ে আছে। (সুরা রোম, আয়াত : ২৫)। পবিত্র কোরআনে ইরশাদ হয়েছে, ‘সাত আসমান আমি খুঁটিবিহিন ভাসমান অবস্থায় সৃষ্টি করেছি, যা তোমরা দেখছো। ’ (সুরা লুকমান, আয়াত : ১০)
► যেই কোয়ান্টামের কারণে মডার্ণ কসমোলজিক্যাল স্ট্যান্ডার্ড মডেলে ঠাঁই হচ্ছে না মহাবিশ্বের মহাবিস্ময় মহাকর্ষের সেই কোয়ান্টাম বাস্তব বিজ্ঞান জগতে কতটুকু কার্যকর-যেখানে ডার্ক এনার্জি আর ডার্ক ম্যাটারের সরব অস্তিত্ব উপলদ্ধি সত্ত্বেও মহাবিশ্বের বস্তুগত অবকাঠামোর ভিত্তিমূল স্ট্রেন্জ কোয়ার্কের মতো টিকিটা পর্যন্ত দেখা মিলছে না-প্রশ্ন বটে! অবশ্য আধুনিক বিজ্ঞান এখনও পুরোপুরি কোয়ান্টাম তত্ত্ব মেনে চলছে এবং এতে ঝুঁকি বাড়ছে কেবল আইনস্টাইনের স্পেশাল রিলিটিভিটি থিওরির নয়, ঝুঁকিতে আছে খোদ স্ট্যান্ডার্ড মডেলও।স্মরণ করা যেতে পারে ২০১১ সালের সেপ্টেম্বর সার্ণ কর্তৃক বিজ্ঞান সম্মেলনে আনুষ্ঠানিকভাবে ঘোষণা করা হয়, ১৬০০০ তম অপেরা প্রোজেক্টের পরীক্ষান্তে প্রমাণিত হয়েছে যে, নিউট্রিনো আলোর গতির চাইতে ৬০ ন্যানো সেকেন্ড এগিয়ে আছে।
যে ধাতব পদার্থের ওপর যথোপযুক্ত কম্পাঙ্কের দৃশ্যমান আলোক কিংবা অন্য কোনো বিদ্যুৎ চুম্বকীয় তরঙ্গ আপতিত হলে ওই পদার্থ হতে ইলেকট্রন নির্গত হয়। এই ঘটনাকে আলোক তড়িৎ কিয়া বা ফটো ইলেকট্রিক ইফেক্ট (Photo electric effect) বলে
আলোক রশ্মি যখন কোনো ধাতবপৃষ্ঠে আপতিত হয় তখন ধাতবপৃষ্ঠের ইলেকট্রন আলোক রশ্মি থেকে শক্তি গ্রহণ করে। যখনই ইলেকট্রন দ্বারা গৃহীত শক্তি ধাতবপৃষ্ঠে তার বন্ধন শক্তির চেয়ে বেশি হয়, তখনই ইলেকট্রন ধাতবপৃষ্ঠ থেকে মুক্ত হয় বা বেরিয়ে আসে। এ ঘটনাকে ফটোইলেকট্রিক ক্রিয়া বা আলোক তড়িৎ ক্রিয়া বলা হয়।
ইলেকট্রন নিঃসরনের জন্য ধাতবপৃষ্ঠে যথোপযুক্ত কম্পাঙ্কের আলো ফেলতে হয় তা না হলে ইলেকট্রন নিঃসরণ হয় না। নিঃসৃত ইলেকট্রনকে বলা হয় ফটো ইলেকট্রন। নির্গত ইলেকট্রন প্রবাহিত হওয়ার ফলে যে তড়িৎ প্রবাহ চলে তাকে বলা হয় ফটো তড়িৎ প্রবাহ। সোডিয়াম, পটাশিয়াম, সিজিয়াম ইত্যাদি ক্ষারধর্মী পদার্থের উপর দৃশ্যমান আলো আপতিত হলে ফটো ইলেকট্রন নির্গত হয়। এক্স-রে বা গামা-রশ্মির প্রভাবে সব ধাতব পদার্থে আলোক তড়িৎক্রিয়া সংঘটিত হয়।
যথোপযুক্ত উচ্চ কম্পাঙ্কবিশিষ্ট আলোক রশ্মি কোনো ধাতবপৃষ্ঠে আপতিত হলে তা থেকে ইলেকট্রন নিঃসৃত হয়, এ ঘটনাকে ফটোইলেকট্রিক ক্রিয়া বা আলোক তড়িৎ ক্রিয়া বলে।https://nagorikvoice.com/6264/
ফটো ইলেকট্রিক ইফেক্ট এর এক্সপেরিমন্টে বায়ুশূন্য একটি কোয়ার্টজ নলের মধ্যে দস্তার তৈরি দুটি পাত যুক্ত করা হয়। একটি পাত সোডিয়াম, পটাশিয়াম, সিজিয়াম ইত্যাদি ক্ষারধর্মী পদার্থযুক্ত প্রলেপ অন্য পাতটি প্রলেপবিহীন অবস্থায় থাকে। ক্ষারকীয় প্রলেপযুক্ত পাতটিকে তড়িৎ কোষ তথা ব্যাটারির ঋণাত্মক প্রান্তের সাথে যুক্ত করা হয় আর প্রলেপবিহীন পাতটিকে একটি গ্যালভানোমিটারের মাধ্যমে ধনাত্মক প্রান্তের সাথে যুক্ত করা হয়। এবার প্রলেপযুক্ত পাতের উপর উচ্চ কম্পাঙ্কবিশিষ্ট আলোক রশ্মি আপতিত হতে দিলে সেখানকার ধাতু থেকে বিভিন্ন মাত্রার উচ্চগতি সম্পন্ন ইলেকট্রন নির্গত হবে। পতিত আলোর ইনটেন্সিটি (তীব্রতার) এর উপর নির্ভর করে ইলেকট্রনের সর্বোচচ গতিশক্তি।
নির্দিষ্ট কম্পাংকের আলো যখন মেটালিক সারফেসে (পরিবাহী তলে) পতিত হয় তখন সে সারফেস থেকে ইলেক্ট্রন নির্গত হয়। সব কম্পাংকের আলো থেকে ইলেক্ট্রন নির্গত হয় না।
স্ট্যান্ডার্ড মডেল থেকে মহাকর্ষকে বাদ দেওয়া সম্পর্কে আপনার মতামত কী?
বিজ্ঞানীদের মতে, মহাকর্ষকে স্ট্যান্ডার্ড মডেল থেকে বাদ দেওয়ার দুটি কারণ আছেঃ
১) আমরা এখনও পর্যন্ত মহাকর্ষের কোনও কোয়ান্টাম ক্ষেত্রতত্ত্ব তৈরি করতে পারিনি। মহাকর্ষের তত্ত্ব আমাদের হাতে যেটা আছে তা হল আইনস্টাইনের ‘সাধারণ আপেক্ষিকতা তত্ত্ব’ যেটা বিজ্ঞানের অন্যতম সুন্দর (গাণিতিক ও যৌক্তিক দিক দিয়ে) ও অসাধারণ সফল একটি তত্ত্ব (অর্থাৎ এক শতাব্দীর অজস্র সঠিকভাবে সম্পাদন করা বৈজ্ঞানিক পরীক্ষানিরীক্ষার সাথে এই তত্ত্বের দেওয়া ফলের কখনও কোনও গরমিল হয়নি)। কিন্তু সাধারণ আপেক্ষিকতা তত্ত্ব একটি সনাতন ক্ষেত্রতত্ত্ব; এর মধ্যে ক্ষুদ্র জগতের নিয়মাবলী অর্থাৎ কোয়ান্টাম বলবিদ্যার নিয়মগুলিকে অন্তর্ভুক্ত করা হয়নি (এবং করা যায়নি)। ফলে প্রকৃতির সেইসমস্ত পরিসর যেখানে একটি ক্ষুদ্র অঞ্চল ও তীব্র মহাকর্ষ- উভয়ই উপস্থিত (যেমন একটি কৃষ্ণগহ্বরের কেন্দ্রস্থল বা ব্রহ্মাণ্ডসৃষ্টির আদি মুহূর্ত যখন সমগ্র ব্রহ্মাণ্ড একটি বিন্দুর আকারের ছিল ইত্যাদি) সেখানে সাধারণ আপেক্ষিকতা তত্ত্ব গাণিতিকভাবে অর্থহীন ও ব্যবহারের অযোগ্য হয়ে পড়ে।
“কণা পদার্থবিদ্যার স্ট্যান্ডার্ড মডেল পুরোপুরি কোয়ান্টাম ক্ষেত্রতত্ত্ব-নির্ভর একটি মডেল ফলে মহাকর্ষ সেখানে অনুপস্থিত”।(সূত্রঃhttps://bn.quora.com/topic/মহাকর্ষ-ও-অভিকর্ষ)
“এখন সারা বিশ্বে বিপুল গবেষণা চলছে মহাকর্ষের কোয়ান্টাম তত্ত্ব আবিষ্কারের জন্য। এই বিষয়ে সবচেয়ে অগ্রণী তত্ত্বটি হল M-তত্ত্ব যা আসলে ৫ টি ভিন্ন সুপারস্ট্রিং তত্ত্বের একীকরণ (তবে এখনও অসম্পূর্ণ)। সুপারস্ট্রিং তত্ত্বগুলি আবার নিজেরা স্ট্রিংতত্ত্ব ও সুপারগ্র্যাভিটি তত্ত্বের সমন্বয়। সুপারগ্র্যাভিটি তত্ত্ব হল সাধারণ আপেক্ষিকতা আর সুপারসিমেট্রির সমন্বয়। এর মধ্যে সাধারণ আপেক্ষিকতা একটি প্রতিষ্ঠিত তত্ত্ব কিন্তু সুপারসিমেট্রি-র উপস্থিতির কোনও প্রমাণ এখনও প্রকৃতিতে খুঁজে পাওয়া যায়নি। এছাড়া স্ট্রিং-এর উপস্থিতিরও কোনও পরীক্ষামূলক প্রমাণ এখনও পর্যন্ত নেই (বা সেইরকম পরীক্ষা করার মত প্রযুক্তিও এখনও নেই)। এগুলি সবই এখনও পর্যন্ত সম্পূর্ণভাবে গাণিতিক”।
২) কণাজগতে উপস্থিত তিনটি কোয়ান্টাম বল (অর্থাৎ যাদের কোয়ান্টাম তত্ত্ব ইতিমধ্যে তৈরি করা গেছে)- তড়িৎচুম্বকীয়, দুর্বল বল ও সবল বল- এদের তুলনায় মহাকর্ষ অকল্পনীয় রকমের দুর্বল। একটি সহজ উদাহরণ থেকেই এটা বোঝা যায়ঃ গোটা পৃথিবীর টান উপেক্ষা করে একটি ছোট চুম্বক একটি লোহার পেরেককে তুলতে পারে। সেইজন্য কণাজগতের বেশীরভাগ ঘটনাবলীতে মহাকর্ষের প্রভাব নগণ্য। ফলে মহাকর্ষবিহীন স্ট্যান্ডার্ড মডেল (ও সংশ্লিষ্ট কোয়ান্টাম ক্ষেত্রতত্ত্ব) বেশীরভাগ কণাজাগতিক ঘটনাবলী অত্যন্ত সূক্ষ্মভাবে বিশ্লেষণ করতে পারে। কেবল সেইসব পরিসর যেখানে মহাকর্ষ ক্ষুদ্র অঞ্চলে অত্যন্ত শক্তিশালী হয়ে ওঠে সেখানে স্ট্যান্ডার্ড মডেল অচল হয়ে পড়ে।
Nanjing University of Information Science and Technology, Nanjing,China-এ ইলেকট্রনিক্স এন্ড ইনফরমেশন ইঞ্জিনিয়ারিং বিষয়ে BS (2024-এ আশা করা হচ্ছে)3 বছর
দাঁড়িপাল্লা দিয়ে আমরা ভর নাকি ওজন মাপি? এক কেজি লোহা চাঁদে ও মঙ্গলগ্রহে নিয়ে ওজন করলে কত হবে?
দাড়িপাল্লা দিয়ে আমরা ওজন নয় ভর মাপি। কোনো নির্দিষ্ট স্থানে কোনো বস্তুর ওজন এবং ভর পরস্পর সমানুপাতিক। তাই, লোকমুখে ভরকেই এখন ওজন বলা হয়। এটা বুঝতে পারবেন আপনি একক দেখে। যদি বলা হয় কোনো বস্তুর ওজন 1 kg তখন বুঝবেন তিনি ভরকে বুঝাচ্ছেন। কারণ, ভরের একক kg. কিন্তু যদি বলা হয় কোনো বস্তুর ওজন 9.8 N তখন বুঝবেন যে উনি ওজনকে বুঝাচ্ছেন। কারণ, ওজন একটি বল এবং বলের একক নিউটন N.
ভর বনাম ওজন
ভর হচ্ছে কোনো বস্তুর ভেতরে উপস্থিত মোট পদার্থের পরিমাণ। আর ওজন হচ্ছে ঐ পরিমাণ পদার্থকে পৃথিবী বা কাঠামো কত gravitational force এ নিজের দিকে টানছে। ওজন মূলত ভরেরই গুণক রাশি।ভরকে(m) অভিকর্ষজ ত্বরণ (g) দ্বারা গুণ করলেই ওজন (W) পাওয়া যাবে।
চিরায়ত পদার্থবিজ্ঞানের মতানুসারে ভর অপরিবর্তনশীল। কিন্তু আপেক্ষিকতার সূত্রানুযায়ী কোনো বম্তু আলোক বেগের কাছাকাছি কোনো বেগে অনবরত চলতে থাকলে তার গতিশীল ভর স্থিতিশীল ভর অপেক্ষা সম্প্রসারিত হয় অর্থাৎ বাড়তে থাকে। আর আলোর বেগে পৌঁছলে ভর হয় অসীম যা আর পরিমাপ করা যায় না।
যাই হোক, কিন্তু আপাতদৃষ্টিতে স্থিতিশীল কাঠামোতে বস্তুর ভর অপরিবর্তনশীল।অর্থাৎ পৃথিবীতে 1 kg ভরের কোনো বস্তুর ভর চাঁদেও 1 kg, মঙ্গলেও।
কিন্তু ওজন?
হ্যাঁ, ওজন পরিবর্তিত হবে, কারণ ওজন gravity বা অভিকর্ষজ ত্বরণের উপর নির্ভর করে এবং আমরা সবাই জানি যে স্থানভেদে gravity পরিবর্তনশীল।পৃথিবীতে gravity 9.807 ms^-2(প্রায়), চাঁদে 1.62 ms^-2 এবং মঙ্গলে 3.711 ms^-2.
তাহলে, 1 kg ভরের বস্তুর উপর W=mg সূত্র প্রয়োগ করে পাই,
পৃথিবীতে ওজন, We=1 kg x 9.807 ms^-2=9.807 N.
অনুরূপভাবে, চাঁদে ওজন Wm= 1.62 N এবং মঙ্গলে WM= 3.711 N.
সুতরাং, পৃথিবীর তুলনায় মঙ্গলে বস্তুটিকে হালকা মনে হবে এবং চাঁদে মঙ্গলের তুলনায়ও হালকা লাগবে।
নিউটনীয় মহাকর্ষ তত্ত্ব আইনস্টাইনীয় মহাকর্ষ তত্ত্বের একটি approximation। নিউটনের তত্ত্বে অপেক্ষাকৃত দুর্বল মহাকর্ষ ক্ষেত্রের পরিমাপ করা যায় কিন্তু মহাকর্ষ আসলে কীভাবে কাজ করে তা জানা যায় না বা সবধরণের মহাকর্ষীয় ঘটনাবলী ব্যাখ্যা করা যায় না। https://bn.quora.com/ মহাকর্ষ-বল-সংরক্ষণশীল-বল
আরও বিস্তারিত ব্যাখ্যা এই উত্তরে রয়েছেঃ
মহাবিশ্বের যেকোনো দুইটি বস্তুর মধ্যাকার আকর্ষন বলকে বলে মহাকর্ষ। এটি একটি অস্পর্শ বল। অর্থাৎ এই বলে কোনো স্পর্শ হয় না। যেমন চৌম্বক বল। নির্দিষ্ট দুরত্বে আসার পর দুইটি চুম্বক একে অপরকে আকর্ষণ বা বিকর্ষণ করে থাকে। https://bn.quora.com/অভিকর্ষ-এক-ধরনের-মহাকর্ষ-বল
ক্তন Student2 বছর
সম্পর্কিত
মহাকর্ষ বল না থাকলে কী হত?
মহাকর্ষ বল না থাকলে গ্রহ নক্ষত্র গঠন হতে পারতো কীন্তু তারা পরে ধর্বং হয়ে যেতো। একে আপরের সংঘর্ষে।
আর যেগুলো হতে পারে ঐ গুলো আপনি একটু ভাবে ন পেয়ে যাবেন।
শুধু এটুকু বলি বস্ত গঠনে মহাকর্ষের তেমন ভুমিকা নেই https://bn.quora.com/অভিকর্ষ-এক-ধরনের-মহাকর্ষ-বল।
সম্পর্কিত
মহাকর্ষ এবং স্থানকালের বক্রতার মধ্যেক পার্থক্য কী?
কোনও পার্থক্য নেই। স্থানকালের বক্রতাই মহাকর্ষ।
বিরাট আকারের বা অত্যন্ত ঘন কোনও বস্তুর আশেপাশের অঞ্চল ওই বস্তুর উপস্থিতির জন্যই বক্রতা প্রাপ্ত হয়। এই বক্রতা স্থানকালের অন্তর্বর্তী/স্বকীয় বক্রতা (Intrinsic Curvature) যাকে কোনওভাবেই দূর করা যায়না।
[যেমন একটি রোল করে রাখা কাগজ আপাতভাবে বক্র হলেও তাকে সমতল করা যায় কিন্তু একটি গোলককে কখনও সমতল করা যায়না। স্থানকালের মহাকর্ষীয় বক্রতা এই দ্বিতীয় ধরণের বক্রতা]
মহাবিশ্বের সবচেয়ে শক্তিশালী অআলো হচ্ছে গামা রশ্মি। এই অআলোর তরঙ্গ দৈর্ঘ্য খুব কম, তাই শক্তিও অনেক বেশি...বিজ্ঞানী হই, কিংবা না হই, বিজ্ঞান মনস্ক হই কিংবা না হই অথবা বিজ্ঞান সমর্থকও যদি না হই। কারণ, কার্ল সাগানের স্ত্রী মার্কিন বিজ্ঞান সংস্থার সেক্রেটারি অ্যান্ড্রুয়ান বলেছিলেন, অআমি অনেক মেধাবী ছেলেকে চিনি যারা বিজ্ঞান বিরোধী, এই ছেলেরাও যদি উপরোক্ত বৈজ্ঞানিক বক্তব্য বলা হয় তবুও তা বিশ্বাস করুক কিংবা নাই করুক, গামা রশ্মি কি? এই প্রশ্নের জবাবে উপরোক্ত বক্তব্য লিখতে হবে।এমনকি যদি বলা হয়ঃ মানুষ অবশ্য এই অআলো দেখতে পায় না।কারণ এর তরঙ্গ মানুষের দৃষ্টিসীমার বাইরে (বিজ্ঞান চিন্তা, জুন, ২০১৯, পৃষ্ঠাঃ ৮৬)।উল্লেখ্য, গামা বিকিররণ হয় সাধারণতঃ দূর গ্যালাক্সির জগৎ থেকে, যখন মহাজাগতিক ঘটনা ঘটে (প্রাগুক্ত পৃঃ ৮৬)।
আইনস্টাইন মনে করেন, সব ধরণের শক্তিই হলো মহাকর্ষের উৎস। কারণ সব শক্তিরই একটা কার্যকর ভর রয়েছে। (বিজ্ঞানচিন্তা, জানুয়ারি, ২০২১,পৃষ্ঠা ৬৩)।
মহাবিশ্বে বক্রতা সৃষ্টি হয় স্থানকালে শক্তির উপস্থিতিতে
স্থানকালের এই ধরণের স্বকীয় বক্রতাই হল সত্যিকারের মহাকর্ষ। এই বক্রতা সৃষ্টি হয় স্থানকালে শক্তির উপস্থিতিতে। ভর নিজেও একপ্রকার শক্তি তাই ভরশক্তির কারণে স্থানকালে বক্রতা সৃষ্টি হতে পারে। এছাড়া অন্যান্য শক্তির উপস্থিতিতেও স্থানকালের ওপর একই প্রভাব থাকবে।
গাণিতিকভাবে একে প্রকাশ করে সাধারণ আপেক্ষিকতা তত্ত্বের ‘আইনস্টাইন ক্ষেত্র সমীকরণ’ (Einstein Field Equations in General Theory of Relativity)।
['equations' বলা হচ্ছে কারণ এই একটি সমীকরণে Tensor notation এর মাধ্যমে আসলে ১০ টি সমীকরণ লুকিয়ে রয়েছে]
এই সমীকরণগুলি সমাধান করে কোনও বিশেষ বস্তুর জন্য স্থানকালের বক্রতার বর্ণনা পাওয়া যায় গাণিতিকভাবে (জ্যামিতিকভাবে)। তবে সমতল স্থানকাল নয় বলে ইউক্লিডীয় জ্যামিতি ব্যবহার করা যায় না। প্রয়োজন হয় বক্রস্থানে প্রযোজ্য ‘রীমানীয় জ্যামিতি’-র।
আইনস্টাইনের ভরশক্তির সমীকরণ
বস্তু এবং শক্তিঃ জমে থাকা শক্তি জমাটবদ্ধ বস্তুর মতই (আইনস্টাইন)।
“ভর এবং শক্তিঃ সব শক্তিরই একটা কার্যকর ভর রয়েছে” (আইনস্টাইন)। (বিজ্ঞানচিন্তা, জানুয়ারি, ২০২১,পৃষ্ঠা ৬৩)।
“ভর ভেক বদল করে শক্তিতে রূপান্তিরত হয়” (বিজ্ঞানচিন্তা, মার্চ, ২০২০,পৃষ্ঠা ২০)।
“মহাকর্ষীয় ভর বলে আমরা যেটাকে জানি, যার কারণে আমাদের ভারী ও হালকা অনুভূতি হয়, সেটা আসলে ওজন (বিজ্ঞানচিন্তা, মার্চ, ২০২০, বর্ষ ৪, সংখ্যা ০৬, পৃষ্ঠা ২০)।
মহাকর্ষ বল শুন্য কোনো স্থানের কল্পনা করাও অসম্ভব (বিজ্ঞানচিন্তা, মার্চ, ২০২০,পৃষ্ঠা ২১)।
“মহাকর্ষ বলের প্রাবল্য যেখানে কম, সেখানে আপনার ওজন কম হবে, নিজেকে তত হালকা মনে করবেন আপনি। আর মহাকর্ষ প্রাবল্য খুব বেশি যেখানে, সেখান থেকে পা তুলতেই আপনি হিমশিম খাবেন” (বিজ্ঞানচিন্তা, মার্চ, ২০২০,পৃষ্ঠা ২১)।
উল্লেখ্য, মডার্ণ কসমোলজিক্যাল স্ট্যান্ডার্ড মডেল থিওরি মতে, শক্তির শুরু নেই, শেষ নেই, লয়ও নেই ক্ষয়ও নেই যাকে পদার্থ বিজ্ঞানে বলা হয় শক্তির নিত্যতা সূত্র বা সংরক্ষণশীলতা নীতি (Conservation Law of Energy) আপেক্ষিকতার বিশেষ তত্ত্ব থেকে প্রমাণিত হয় যে ভর এবং শক্তি পরস্পর সম্পর্কিত (E=mc2) । E=mc2 সমীকরণটি ভর-শক্তি সমতা নির্দেশ করে এবং বিজ্ঞান বর্তমানে এটি মেনে নিয়েছে যে কোনো বস্তুর ভর-শক্তি সংরক্ষিত (সূত্রঃ https://bn.wikipedia.org/wiki/শক্তির_নিত্যতা)।বস্তুতঃপক্ষে শক্তির এই নিত্যতা বা সংরক্ষণশীল নীতিকে কারও কারও মতে অসীম সত্বার ইংগিত করে। কেহ কেহ এই অসীম সত্বাকে প্রকৃতি (নেচার) রূপে অভিহিত করে থাকে।
মহাবিশ্বের কেন্দ্রমূলে একটা সত্বাকে স্বতঃস্ফুর্তভাবে বিজ্ঞান যে নামে অভিহিত করে তার নাম প্রকৃতি যার উপর ভিত্তিশীল ফিজিক্স।
“পরমাণু তৈরি হয় ইলেকট্রন আর প্রোটন দিয়ে। অন্য দিকে প্রোটন-নিউট্রন তৈরি হয় কোয়ার্ক দিয়ে” (বিজ্ঞানচিন্তা, মার্চ, ২০২০, বর্ষ ৪, সংখ্যা ০৬, পৃষ্ঠা ২১)।
“সব মৌলিক পদার্থের পরমাণুর ভেতর ইলেকট্রন ও প্রোটনের সংখ্যা এক নয়, প্রতিটির আলাদা” (বিজ্ঞানচিন্তা, মার্চ, ২০২০, বর্ষ ৪, সংখ্যা ০৬, পৃষ্ঠা ২১)।
“তাই এক মৌলের পরমাণুর সঙ্গে আরেক মৌলের পরমাণুর ভরের পার্থক্য দেখা দেবে এটা নিশ্চিত” (বিজ্ঞানচিন্তা, মার্চ, ২০২০, বর্ষ ৪, সংখ্যা ০৬, পৃষ্ঠা ২১)।
“পরমাণুকে ভাঙলে শেষ পর্যন্ত যা পাওয়া যাবে তা হচ্ছে কোয়ার্ক আর ইলেকট্রন” (বিজ্ঞানচিন্তা, মার্চ, ২০২০, বর্ষ ৪, সংখ্যা ০৬, পৃষ্ঠা ২১)।
“এই লেখাটা যাঁরা বিছানায় শুয়ে, বসে কিংবা মাটিতে দাঁড়িয়ে পড়ছেন, তাঁরা নিশ্চয়ই জানেন মহাকর্ষ কী। অন্তত এটুকু নিশ্চয়ই জানেন, মহাকর্ষের টান না থাকলে এই লেখাটা পড়তে হতো মহাকাশে ভাসতে ভাসতে”।
“এত এত মৌলিক কণা প্রকৃতিতে। এখন পর্যন্ত এরা অন্য কিছু দিয়ে তৈরি বলে জানা নেই(বিচি, মার্চ, ২০২০, পৃঃ ৪৪) ”
নিউটনের মহাকর্ষ সূত্রের মূল সুর ছিল, মহাবিশ্বের প্রতিটি বস্তুই পরস্পরকে আকর্ষণ করছে। এই আকর্ষণ বলের মান বস্তু দুটোর ভরের গুণফলের সমানুপাতিক। এবং দূরত্বের বর্গের ব্যস্তানুপতিক। এই আকর্ষণ বলকে মহাকর্ষ বল বলে।
দুটি বস্তুর ভর যত বাড়ে, তত তাদের ভরের গুণফলের মানও বাড়ে। সুতরাং বস্তু দুটোর ভর যত বেশি হবে, তাদের মধ্যে ক্রিয়াশীল আকর্ষণ বলের মানও তত বাড়বে। আবার বস্তু দুটোর দূরত্ব যদি বাড়ে তবে তাদের মধ্যে আকর্ষণ বলের মান কমবে। এই কমার হার বর্গাকারে। অর্থাৎ দূরত্ব যদি বেড়ে দ্বিগুণ হয় তবে মহাকর্ষ বলের মান কমে আগের মানের এক চতুর্থাংশে নেমে আসবে।
কথিত অআছে লন্ডনে প্লেগ রোগ মহামারী আকার ধারণ করেছে। নিউটন প্লেগের হাত থেকে বাঁচতে লন্ডন ছেড়ে এক বাস করছেন গ্রামের বাড়িতে। সেখানেই তাঁর মাথায় মহাকর্ষ বলের কারণটা মাথায় আসে। সেটা ১৬৬৫ সালে। কাজ শুরু করেন সেটা নিয়ে। সঙ্গে ছিল গতিসূত্রের ব্যাখ্যা। দু বছর খেটেখুটে সেগুলো গণিতের ভাষায় লিখে ফেলন। জন্ম হয় কালজয়ী বই প্রিন্সিপিয়া অব ম্যাথমেটিকা।
এখন পর্যন্ত বিজ্ঞানীরা জানেন না-এরাই প্রকৃতির সবচেয়ে ছোট সম্ভাব্য বস্তু কণা কিনা ( বিচি)
প্রকৃতির চারটি মৌলিক বলের প্রতিটির জন্য রয়েছে পৃথক পৃথক প্রতি কণা। সবল নিউক্লিয় বলের জন্য রয়েছে গ্লুয়ন, দূর্বল নিউক্লিয় বলের জন্য ডব্লিউ ও জেড বোসন অআর বিদ্যুৎ চৌম্বকীয় বলের জন্য ফোটন বা আলোর কণা, মহাকর্ষের জন্য সম্ভাব্য গ্র্যাভিটন কণা।
স্থান-কালের বক্রতা অনেক গভীর থেকে গভীরতর হলে এবং ক্রমেই অসীম হয়ে গেলে, সেখানে স্থান-কালের প্রচলিত নিয়ম-কানুন আর প্রয়োগ করা যায় না (বিচি, মার্চ, ২০২০, পৃঃ ৪০)
https://www.blogger.com/blog/posts/7892812967245174455
মহাবিশ্বের সংঙ্গে আমাদের পরিচয় দৃশ্যমান বস্তুর আঙ্গিকে। পরমাণু ও পরমাণু দ্বারা গঠিত যৌগ বস্তু/পদার্থ দিয়ে এই দৃশ্যমান বিশ্ব গঠিত। গ্রীক দার্শনিক ডেমোক্রিটাস ঈসাব্দপূর্ব ৪০০ অব্দে সর্বপ্রথম পদার্থের ক্ষুদ্রতম বস্তু ‘কণা’ (atom) নিয়ে মতবাদ পোষণ করেন। গ্রীক ‘অ্যাটোমাস’ (atomas) শব্দ থেকে এটম (atom) শব্দটির বুৎপত্তি- যার অর্থ আর ভাঙা যাবে না অর্থাৎ এটম অবিভাজ্য। পরবর্তীতে মধ্যযুগে জাবির ইবনে হাইয়ান আল আরাবি ডেমোক্রিটাসের এটম-কে যথাক্রমে ১. আব, ২. আতস, ৩. খাক, এবং বাত-বস্তু/পদার্থের এই চতুর্মাত্রিক রূপ দান করেন।
পক্ষান্তরে অ্যারিষ্টটলের মতে, পদার্থসমূহ নিরবচ্ছিন্ন (continuous) একে যতই ভাঙ্গা হোক না কেন, পদার্থের কণাগুলো ক্ষুদ্র হতে ক্ষুদ্রতর হতে থাকবে। বিজ্ঞানী রাদার ফোর্ড তার পরীক্ষালব্ধ ফলাফল থেকে বলেন যে, পরমাণু হলো ধনাত্মক আধান ও ভর একটি ক্ষুদ্র জায়গায় আবদ্ধ’। তিনি এর নাম দেন ‘নিউক্লিয়াস’। প্রোটন ও ইলেকট্রন নিয়ে গঠিত হয় পরমাণু কেন্দ্র-এই কেন্দ্রকে বলা হয় নিউক্লিয়ার্স। নিউক্লিয়ার্স এর চার পাশে ঘুরতে থাকে পরমাণুর ইলেকট্রন।
পদার্থ বিজ্ঞানীরা ফিজিক্সের আওতায় পদার্থ সংক্রান্ত বিজ্ঞানের আলোকে আধুনিক কসমোলজিক্যাল স্ট্যান্ডার্ড মডেল তত্ত্বের মাধ্যমে মহাবিশ্বের নিবিড় গবেষণা করে বস্তুতাত্ত্বিক সূত্রাদি আবিস্কার করে থাকেন যার সংক্ষিপ্ত বর্ণনা নিম্নরূপঃ
হিগস ফিল্ড মৌলিক কণিকাদের কেবল ভরের জোগান দেয়।লক্ষ্যনীয় যে, হিগস ফিল্ড মৌলিক কণিকাদের কেবল ভরের জোগান দেয়। পদার্থের সকল ভর হিগস ফিল্ড থেকে আসে না।
সাধারণ পদার্থ গঠিত হয় ইলেকট্রন, প্রোটন আর নিউট্রনে
ইলেকট্রনের ভর আসে হিগস ফিল্ড থেকে
ইলেকট্রন একটি মৌলিক কণিকা, তাই একটি ইলেকট্রনের সকল ভরই হিগস ফিল্ড থেকে আসে।
কখনো কি ভীষণ বিস্ময়ে ভেবেছেন, আপনি পৃথিবীতে আটকে আছেন কেন? মহাকাশে ছিটকে পড়ছেন না কেন? এর একটিই উত্তর, মহাকর্ষ। এই বলটাই আপনাকে ভূপৃষ্ঠে আটকে রেখেছে। মহাকর্ষ ছাড়া আমরা কেউই পৃথিবীতে আটকে থাকতে পারতাম না, থাকতে হতো মহাশূন্যে ভেসে। অবশ্য তখন মহাবিশ্বও পরিণত হতো ঘন অন্ধকারাচ্ছন্ন ও বিশালাকৃতির গ্যাস আর ধূলিকণায়। মহাকর্ষ না থাকলে গ্রহ, নক্ষত্র, ছায়াপথ বলে কিছু থাকত না। কাজেই বলতেই হচ্ছে, মহাকর্ষের প্রভাব বলেন আর প্রতিপত্তি বলেন, তা বিশাল, বিপুল। অনেক বড় পরিসরের। অথচ মহাবিশ্বের চারটি মৌলিক বলের মধ্যে মহাকর্ষই সবচেয়ে দুর্বল। কিন্তু কতটা দুর্বল?
সেটি শুনলেও অনেকের চোখ কপালে উঠে যেতে পারে। মোটা দাগে বললে,
অন্য তিনটি মৌলিক বলের তুলনায় প্রায় ১০৩৬ ভাগ দুর্বল এই মহাকর্ষ। অর্থাৎ ১/১,০০০,০০০,০০০,০০০,০০০,০০০,০০০,০০০,০০০,০০০,০০০,০০০ ভাগ। এত বড় সংখ্যা উপলব্ধি করা সহজ নয়। একটু সহজ উদাহরণ দেওয়া যাক। ধরুন, আপনার কাছে একটি পেঁপে আছে। পেঁপেটা কেটে চার ভাগ করলে এর প্রতিটি টুকরা হবে পেঁপেটির এক–চতুর্থাংশ। পেঁপেটাকে ১০৩৬ ভাগ করা হলে প্রতিটি টুকরোর আকার হবে পেঁপের একটি অণুর চেয়েও ছোট। আর পেঁপের একটি অণুর সমান টুকরার আকার করতে চাইলে আপনাকে প্রায় ২০ লাখ পেঁপে কেটে সমান ভাগে টুকরা করতে হবে। বোঝা গেল, ব্যাপারটা?
আল্লাহ বলেন, “আর অদৃশ্যের চাবি তারই কাছে রয়েছে, তিনি ছাড়া অন্য কেউ তা জানে না। স্থল ও সমুদ্রের অন্ধকারসমূহে যা কিছু আছে তা তিনিই অবগত, তার অজানায় একটি পাতাও পড়ে না। মাটির অন্ধকারে এমন কোন শস্যকণাও অংকুরিত হয় না বা রসযুক্ত কিংবা শুস্ক এমন কোন বস্তু নেই যা সুস্পষ্ট কিতাবে নেই।” [সূরা আল-আন’আম: ৫৯]
তাফসীরে জাকারিয়া
(৫) নিশ্চয়ই আল্লাহর কাছে দ্যুলোক-ভূলোকের কোন কিছুই গোপন নেই।
-هُوَ الَّذِیۡ خَلَقَ لَکُمۡ مَّا فِی الۡاَرۡضِ جَمِیۡعًا ٭ ثُمَّ اسۡتَوٰۤی اِلَی السَّمَآءِ فَسَوّٰىهُنَّ سَبۡعَ سَمٰوٰتٍ ؕ وَ هُوَ بِکُلِّ شَیۡءٍ عَلِیۡمٌ
‘তিনি পৃথিবীর সব কিছু তোমাদের (মানুষের) জন্য সৃষ্টি করেছেন; তারপর তিনি আকাশের দিকে মনোসংযোগ করেন এবং তাকে (আকাশকে) সাত আকাশে বিন্যস্ত করেছেন; তিনি সব বিষয়ে সবিশেষ অবহিত। (সুরা বাক্বারা : আয়াত ২৯)ww
তাফসীরে আহসানুল বায়ান
هُوَ الَّذِیۡ یُصَوِّرُکُمۡ فِی الۡاَرۡحَامِ کَیۡفَ یَشَآءُ ؕ لَاۤ اِلٰهَ اِلَّا هُوَ الۡعَزِیۡزُ الۡحَکِیۡمُ ﴿۶﴾
তিনিই মাতৃগর্ভে তোমাদেরকে আকৃতি দান করেন যেভাবে তিনি চান। তিনি ছাড়া কোন (সত্য) ইলাহ নেই; তিনি পরাক্রমশালী, প্রজ্ঞাময়। আল-বায়ান
তিনিই তোমাদেরকে মায়ের পেটে যেভাবে ইচ্ছে আকৃতি দেন, তিনি ছাড়া সত্যিকারের কোন ইলাহ নেই, তিনি মহাশক্তিমান ও প্রজ্ঞাশীল। তাইসিরুল
তিনিই স্বীয় ইচ্ছানুযায়ী জরায়ুর মধ্যে তোমাদের আকৃতি গঠন করেছেন। তিনি ব্যতীত অন্য কোনই উপাস্য নেই, তিনি পরাক্রান্তশালী, বিজ্ঞানময় । মুজিবুর রহমান
It is He who forms you in the wombs however He wills. There is no deity except Him, the Exalted in Might, the Wise. Sahih International
৬. তিনিই মাতৃগর্ভে যেভাবে ইচ্ছে তোমাদের আকৃতি গঠন করেন।(১) তিনি ছাড়া অন্য কোন সত্য ইলাহ নেই; (তিনি) প্রবল পরাক্রমশালী, প্রজ্ঞাময়।
(১) কাতাদা বলেন, আল্লাহর শপথ, আমাদের রব তার বান্দাদেরকে মায়ের গর্ভে যেভাবে ইচ্ছা গঠন করতে পারেন। ছেলে বা মেয়ে, কালো বা গৌরবর্ণ, পূর্ণসৃষ্টি অথবা অপূর্ণসৃষ্টি। [আত-তাফসীরুস সহীহ]
তাফসীরে জাকারিয়া
(৬) তিনিই মাতৃগর্ভে যেভাবে ইচ্ছা তোমাদের আকৃতি গঠন করেন। তিনি ব্যতীত অন্য কোন (সত্যিকার) উপাস্য নেই। [1] তিনি প্রবল পরাক্রমশালী, প্রজ্ঞাময়।
[1] সুশ্রী অথবা কুশ্রী, ছেলে অথবা মেয়ে, সৌভাগ্যবান অথবা দুর্ভাগ্যবান এবং পূর্ণাঙ্গ অথবা বিকলাঙ্গ ইত্যাদি বিচিত্রময়তা মায়ের গর্ভে যখন এককভাবে আল্লাহই সৃষ্টি করেন, তখন ঈসা (আঃ) ইলাহ কিভাবে হতে পারেন? তিনি নিজেও তো সৃষ্টির নানা পর্যায় অতিক্রম করে দুনিয়াতে এসেছেন। মহান আল্লাহ তাঁরও সৃষ্টি সম্পাদন করেছেন তাঁর মায়ের গর্ভে।
1. In the name of Allah, Most Gracious, Most Merciful.
0. ٱلۡحَمۡدُ لِلَّهِ رَبِّ ٱلۡعَـٰلَمِينَِ ◯
2. Praise be to Allah,
The Cherisher and Sustainer of the Worlds ;
3. .
4. ٤١- إِنَّ اللَّـهَ يُمْسِكُ السَّمَاوَاتِ وَالْأَرْضَ أَن تَزُولَا ۚ وَلَئِن زَالَتَا إِنْ أَمْسَكَهُمَا مِنْ أَحَدٍ مِّن بَعْدِهِ ۚ إِنَّهُ كَانَ حَلِيمًا غَفُورًا ◯
5. 41. It is God Who sustains The heavens and the earth, Lest they cease (to function) : And if they should fail, There is none—not one— Can sustain them thereafter : Verily He is Most Forbearing, Oft-Forgiving.
6. Sūra 35: Fātir, or The Originator of Creation
7.
8. Verses 45 — Makki; Revealed at Mecca — Sections 5
9. بَدِیۡعُ السَّمٰوٰتِ وَ الۡاَرۡضِ ؕ وَ اِذَا قَضٰۤی اَمۡرًا فَاِنَّمَا یَقُوۡلُ لَهٗ کُنۡ فَیَکُوۡنُ ﴿۱۱۷﴾
10. তিনি আসমানসমূহ ও যমীনের স্রষ্টা। আর যখন তিনি কোন বিষয়ের সিদ্ধান্ত নেন, তখন কেবল বলেন ‘হও’ ফলে তা হয়ে যায়। আল-বায়ান
11. আল্লাহ আকাশমন্ডলী ও পৃথিবীর সৃজনকারী, যখন কোন কাজ করতে মনস্থ করেন, তখন তার জন্য শুধু বলেন, হয়ে যাও, তক্ষুনি তা হয়ে যায়। তাইসিরুল
12. তিনি আকাশ ও পৃথিবীর সৃষ্টিকর্তা এবং যখন তিনি কোন কাজ সম্পাদন করতে ইচ্ছা করেন তখন তার জন্য শুধুমাত্র ‘হও’ বলেন, আর তাতেই তা হয়ে যায়। মুজিবুর রহমান
13. Originator of the heavens and the earth. When He decrees a matter, He only says to it, "Be," and it is. Sahih International
14. ২:১৬৪ اِنَّ فِیۡ خَلۡقِ السَّمٰوٰتِ وَ الۡاَرۡضِ وَ اخۡتِلَافِ الَّیۡلِ وَ النَّهَارِ وَ الۡفُلۡکِ الَّتِیۡ تَجۡرِیۡ فِی الۡبَحۡرِ بِمَا یَنۡفَعُ النَّاسَ وَ مَاۤ اَنۡزَلَ اللّٰهُ مِنَ السَّمَآءِ مِنۡ مَّآءٍ فَاَحۡیَا بِهِ الۡاَرۡضَ بَعۡدَ مَوۡتِهَا وَ بَثَّ فِیۡهَا مِنۡ کُلِّ دَآبَّۃٍ ۪ وَّ تَصۡرِیۡفِ الرِّیٰحِ وَ السَّحَابِ الۡمُسَخَّرِ بَیۡنَ السَّمَآءِ وَ الۡاَرۡضِ لَاٰیٰتٍ لِّقَوۡمٍ یَّعۡقِلُوۡنَ ﴿۱۶۴﴾
15. নিশ্চয় আসমানসমূহ ও যমীনের সৃষ্টিতে, রাত ও দিনের বিবর্তনে, সে নৌকায় যা সমুদ্রে মানুষের জন্য কল্যাণকর বস্ত্ত নিয়ে চলে এবং আসমান থেকে আল্লাহ যে বৃষ্টি বর্ষণ করেছেন অতঃপর তার মাধ্যমে মরে যাওয়ার পর যমীনকে জীবিত করেছেন এবং তাতে ছড়িয়ে দিয়েছেন সকল প্রকার বিচরণশীল প্রাণী ও বাতাসের পরিবর্তনে এবং আসমান ও যমীনের মধ্যবর্তী স্থানে নিয়োজিত মেঘমালায় রয়েছে নিদর্শনসমূহ এমন কওমের জন্য, যারা বিবেকবান। আল-বায়ান নিশ্চয়ই আকাশসমূহ ও পৃথিবীর সৃষ্টির মধ্যে, রাত ও দিনের বিবর্তনের মধ্যে, লোকের উপকারী দ্রব্যাদিসহ সমুদ্রে চলাচলকারী জলযানের মধ্যে এবং আকাশ হতে আল্লাহর বর্ষিত সেই পানির মধ্যে যদ্বারা তিনি পৃথিবীকে- মরে যাওয়ার পর আবার জীবিত করেন এবং তাতে সকল প্রকার জীব-জন্তুর বিস্তারণে এবং বাতাসের গতি পরিবর্তনের মধ্যে এবং আকাশ ও ভূমন্ডলের মধ্যস্থলে নিয়ন্ত্রিত মেঘপুঞ্জের মধ্যে বিবেকসম্পন্ন লোকেদের জন্য নিদর্শনাবলী রয়েছে। তাইসিরুল
16. নিশ্চয়ই নভোমন্ডল ও ভূমন্ডল সৃষ্টিতে, দিন ও রাতের পরিবর্তনে, নৌ-পথে জাহাজসমূহের চলাচলে - যাতে রয়েছে মানুষের জন্য কল্যাণ। মৃত পৃথিবীকে সঞ্জীবিত করণে, তাতে নানাবিধ জীবজন্তু সঞ্চারিত করার জন্য আল্লাহ আকাশ হতে বৃষ্টি বর্ষণ করেন। বায়ুরাশির গতি পরিবর্তনে এবং আকাশ ও পৃথিবীর মধ্যস্থ সঞ্চিত মেঘের সঞ্চারণে সত্যি সত্যিই জ্ঞানবান সম্প্রদায়ের জন্য নিদর্শন রয়েছে। মুজিবুর রহমান
17. Indeed, in the creation of the heavens and earth, and the alternation of the night and the day, and the [great] ships which sail through the sea with that which benefits people, and what Allah has sent down from the heavens of rain, giving life thereby to the earth after its lifelessness and dispersing therein every [kind of] moving creature, and [His] directing of the winds and the clouds controlled between the heaven and the earth are signs for a people who use reason. Sahih International
18. ১৬৪. নিশ্চয় আসমানসমূহ ও যমীনের সৃষ্টিতে(১), রাত ও দিনের পরিবর্তনে(২), মানুষের উপকারী(৩) দ্রব্যবাহী চলমান সামুদ্রিক জাহাজে এবং আল্লাহ আকাশ থেকে বৃষ্টি বর্ষণের মূধ্যমে ভূ-পৃষ্ঠকে তার মধ্যে ছড়িয়ে দিয়েছেন সকল প্রকার বিচরণশীল প্রাণী এবং বায়ুর দিক পরিবর্তনে, আকাশ ও পৃথিবীর মধ্যে নিয়ন্ত্রিত মেঘমালাতে বিবেকবান কওমের জন্য নিদর্শনসমূহ রয়েছে।(৪)
Comments
Post a Comment