অসীম”কে বাস্তবেই অসীম হতে হব
অসীম (ইংরেজি: Infinity) হলো যা সীমাহীন বা অন্তহীন, অনন্ত। গণিতে অসীম হলো সীমাহীন কোনো সংখ্যা।।
প্রাচীন গ্রিসের প্রাক-সক্রেটিসীয় দার্শনিক আনাক্সিমান্দ্রোস (খ্রিস্টপূর্ব ৬১০ - খ্রিস্টপূর্ব ৫৪৬) সর্বপ্রথম অসীমের ধারণা ব্যাখ্যা করেন, এমন লিপিবদ্ধ ইতিহাস পাওয়া গেছে। তিনি অ্যাপিরন শব্দটি ব্যবহার করেন, যার অর্থ "সীমাহীন", "অনন্ত"।[ Allen, Donald (2003). "The History of Infinity" (PDF). Texas A&M Mathematics. Retrieved Nov 15, 2019. ]
“অসীম”কে বাস্তবেই অসীম হতে হবে, নিছক শাব্দিকতায় “অসীম” সীমাবদ্ধ হতে পারে না। মহাবিশ্বের পূর্বের,বর্তমান এবং ভবিষ্যতের সম্ভাব্য অবস্থার নিরিখে “অসীম”-কে যেমন হতে হবে “অসীম ক্ষমতা” সম্পন্ন তেমনি হতে হবে “অসীম জ্ঞান, প্রজ্ঞা, বিবেক, প্রখর বুদ্ধির অধিকারী।
অসীম চর্চার ক্ষেত্রে য সকলে মতবাদ ভিত্তিশীল তা হচ্ছে ১) প্রকৃতিবাদ এবং ২) আধ্যাত্মিকতাবাদ।
প্রকৃতিবাদের আলোকে অসীমত্ব
প্রত্যেক বিজ্ঞানী বিশেষ করে পদার্থ বিজ্ঞানীরা স্বাভাবিকভাবে প্রকৃতিবাদী। কারণ,ইংরেজী ফিজিক্স শব্দটির বাংলা অর্থ প্রকৃতিবিজ্ঞান। নেচার শব্দ থেকে ফিজিক্স শব্দের বুৎপত্তি।
বিজ্ঞান জগতে প্রকৃতি
প্রকৃতির গভীরে তাকাও তাহলে তুমি সবকিছু আরও ভাল করে বুঝতে পারবে ।
— আলবার্ট আইনস্টাইন
প্রকৃতির সব কিছুতেই দুর্দান্ত কিছু রয়েছে ।
— অ্যারিস্টটল
প্রকৃতি একটা সুশৃঙ্খল নিয়মে চলে, যে নিয়মে আমরা সবাই বাধা ।
দর্শন জগতে প্রকৃতি
আমার সারা জীবনের প্রকৃতির নতুন দর্শনগুলি, আমাকে বাচ্চাদের মতো আনন্দিত করে তুলেছিল ।
— মেরী কুরি
"প্রকৃতি হল এমন এক অসীম ক্ষেত্র যার কেন্দ্র সর্বত্র প্রসারিত এবং পরিধিটি কোথাও সীমাবদ্ধ নয়" ।
"মনে হয় বিচিত্ৰবেশী এই প্রকৃতি যেন তার সৌন্দর্যে মিশে যেতে হাতছানি দিয়ে ডাকছে আমাদের। প্রকৃতির সেই অমোঘ টান আমরা সত্যি কি উপেক্ষা করতে পারি? প্রকৃতিপ্রেমে উদ্বেলিত মন তাই ছুটে চলে দিকশূন্যপুরে….. অসীমের টানে।"
প্রকৃতি শব্দটিকে বলা যেতে পারে পদার্থ বিজ্ঞানের শেষ ঠিকানা। কারণ, বিজ্ঞানীদের দাবীঃ এমন প্রশ্ন রয়েছে যার উত্তর এই জগতে পাওয়া যাবে না। মহাকাশের শেষ কোথায়? এর উত্ররঃ জানা মহাকাশের চেয়ে অজানা মহাকাশ অ-নে-ক বড়। কত বড়? এ প্রশ্ন অর্থহীন।তেমনি উত্তর মেরুতে কি অআছে ? প্রশ্ন বটে। তবে উত্তর মেরুর উত্তরে কি অআছে? এই প্রশ্ন অর্থহীন। অনুরুপ বিগ ব্যাংয়ের পূর্বে কী ছিল? প্রশ্রটি অর্থহীন না হলেও হাইয়েস্ট এর পূর্বে কি ছিল? প্রশ্নটি অর্থহীন হলেও অগ্রযাত্রার পরিসমাপ্তির স্বার্থে সাহসী প্রশ্ন হিসাবে প্রয়োজন উত্তরের গভীরতা।
সাহিত্য জগতে প্রকৃতি
প্রকৃতিকে জানুন, প্রকৃতিকে ভালোবাসুন, প্রকৃতির কাছাকাছি থাকুন, আপনি কখনই ব্যর্থ হবেন না।
— ফ্রাঙ্ক লয়েড রাইট
প্রকৃতির মাঝে মন ভালো করার এক অদ্ভুত ঔষধ রয়েছে ।
মানুষ তর্ক করে আর প্রকৃতি কাজ করে ।
— ভোল্টায়ার
৯। রঙ প্রকৃতির হাসি ।
— লে হান্ট
১০। প্রকৃতি সত্যিই সেরা শিল্প ।
— অ্যান্ডি ওয়ারহল
১১। প্রকৃতির একটা সূর আছে, অনেকেই তা শুনতে পায় ।
— উইলিয়াম শেক্সপিয়ার
২. মানুষ এবং প্রকৃতি বরাবরই এক নিবিড় সম্পর্কে জড়িয়ে আছে সেই আদি যুগ থেকে। তাই তো মানুষ প্রাকৃতিক সৌন্দর্যের বিমোহিত হতে খুব বেশি সময় নেয় না।
৩. প্রাকৃতিক সৌন্দর্য আমাদের হৃদয়ের খোরাক যোগায়। তাইতো একটু সময় পেলেই এই ব্যস্ত জীবন থেকে প্রকৃতির সান্নিধ্যে আমরা সময় দিয়ে আসি।
৪. প্রাকৃতিক সৌন্দর্য পাথরে মনকেও যেন বিগলিত করে দেয়। তাইতো প্রকৃতির সংস্পর্শে আসা মাত্রই মানুষ বরাবরই হারিয়ে যেতে থাকে।
৫. আকাশ বন নদী পাখি পুরো প্রকৃতির সৌন্দর্যই আমাদের জন্য শিক্ষক। যা আমাদেরকে উদার হবার শিক্ষা দেয়।
৬. সবুজ প্রকৃতির সৌন্দর্য আমাদেরকে চিরসবুজ হবার আমন্ত্রণ জানায়। মানুষের দৈহিক ক্ষয় হলেও হৃদয় যেন সেই প্রাকৃতিক সৌন্দর্যের মতোই চিরসবুজ থাকে।
৭. প্রতি বসন্তেই প্রকৃতি যেন তার হারানো যৌবন ফিরে পায়। আসুন আমরা প্রাকৃতিক সৌন্দর্যকে হৃদয় থেকে উপভোগ করি।
৮. আপনি যদি আপনার বাড়ির উঠোনে নরম দূর্বা ঘাস ও মনোযোগ দিয়ে দেখেন। তাহলে সেখানেও আপনি এক অপার প্রাকৃতিক সৌন্দর্য দেখতে পাবেন।
৯. মাঝে মাঝে প্রকৃতি দেখতে বেরিয়ে পড়ুন। এই প্রাকৃতিক সৌন্দর্যে আপনাকে এক শান্তিময় পৃথিবীর সন্ধান দেবে।
মাঝে মাঝে প্রকৃতির মাঝে হারিয়ে যেতে হবে, তাহলে জীবনের আসল স্বাদ নেয়া যাবে ।
১৯। প্রকৃতির সৌন্দর্য হলো এমন এক উপহার যা প্রশংসা ও কৃতজ্ঞতা বাড়ায় ।
— লুই শোয়ার্টজবার্গ
২২। প্রকৃতি এমন এক অসীম ক্ষেত্র যার কেন্দ্রটি সর্বত্র এবং পরিধিটি কোথাও সীমাবদ্ধ নেই ।
— ব্লেইজ প্যাস্কেল
১৭। আসুন প্রকৃতিকে তার পথে চলার সুযোগ দেই । সে তার কাজ আমাদের চেয়ে ভাল বোঝে ।
— মিশেল ডি মন্টাইগেন
জীবনের সেরা শিক্ষা গুলো আমরা প্রকৃতির কাছ থেকেই শিখে থাকি ।
প্রকৃতি কিছুই বিনা প্রয়োজনে কিছু করে না।
১. আয়েশী জীবন ছেড়ে ছুড়ে মাঝে মাঝে প্রাকৃতিক সৌন্দর্যে গা ভাসিয়ে দেয়া উচিত। তা না হলে মানুষ এবং প্রকৃতির বন্ধন দৃঢ় হবে কিভাবে?
২. যদি সত্যিই আপনি প্রকৃতিকে ভালবাসেন। তাহলে খুবই ক্ষুদ্র ক্ষুদ্র বিষয়গুলোতে আপনি প্রাকৃতিক সৌন্দর্যকে খুঁজে পাবেন।
৩. প্রকৃতি বরাবরই তার সৌন্দর্যকে দুহাতে বিলিয়ে দিয়েছে। আর মানুষের প্রাকৃতিক সৌন্দর্যকে গলা টিপে হত্যা করেছে।
৪. প্রাকৃতিক সৌন্দর্যের সন্তুষ্ট হওয়া মানুষটা আসলেই সুখী হয়। কারণ এই ধরনের মানুষেরা পার্থিব কোনো কিছুর প্রতি অতটা আগ্রহ রাখে না।
৫. প্রকৃতি তার সৌন্দর্য দিয়ে মানুষকে যেভাবে রঙিন করে তুলেছিল। মানুষ সেই সৌন্দর্যকে নগরায়নের মাধ্যমে ধ্বংস করে দিয়েছে।
৬. আমি বরাবরই প্রাকৃতিক সৌন্দর্যে বিভোর হয়ে থাকি। ভোরের স্নিগ্ধ বাতাসে আর সবুজের সমারোহে আমার হৃদয় ভর্তি করে নিয়েছি।
৭. আপনি যদি কোন বড় উদ্যানে ঘুরতে যান, সেখানকার প্রাকৃতিক সৌন্দর্য। আর আপনার ছোট্ট বাগানের প্রাকৃতিক সৌন্দর্য দুটোই তুলনাহীন।
৮. আপনি যদি আজ ছোট্ট একটি গাছ লাগিয়ে থাকেন। তাহলে ধরে নিন বিশ্বব্রহ্মাণ্ডের প্রাকৃতিক সৌন্দর্যে আপনারও অবদান থাকলো।
৯. আমরা হয়তো অনেকেই জানিনা পৃথিবীর বেশিরভাগ মানুষই একটা সুন্দর স্বচ্ছ বাগানবাড়ির স্বপ্ন দেখে। যেখানে শুধুমাত্র সে একাই প্রাকৃতিক সৌন্দর্য উপভোগ করতে পারবে।
১০. যে প্রকৃতি আপনারও সে প্রকৃতি ঘাসফড়িংয়ের, চঞ্চলা হরিণের। তাহলে কি আমরা প্রাণী জগতের বাসিন্দা হিসেবে প্রাকৃতিক সৌন্দর্যকে বাড়িয়ে তুলতে পারি না?
মানসিক জগতে প্রকৃতি
আপনার অস্থির মন শান্ত করতে হলে প্রকৃতির মাঝে চলতে শুরু করুন
আমি প্রকৃতির মাঝে গেলে ভালো হয়ে উঠি, সুস্থ হয়ে উঠি এবং আমার জ্ঞানকে সুশৃঙ্খল করে তুলি ।
— জন বুড়োস
যারা প্রকৃতিকে ভালোবাসে, তাদের মন প্রকৃতির মতই সুন্দর হয়
► সর্ব প্রথমে “অসীম”কে হতে হবে একক যাত, সত্বার অধিকারী,একক প্রবল পরাক্রমশালী প্রজ্ঞাময়" এবং একক নিরংকুশ ক্ষমতার অধিকারী।
► অসীম-কে হতে হবে এমনতর মহান সৃজনশীল সৃষ্টিকর্তা-যিনি সম্পূর্ণ অস্তিত্বহীন, নাই, শুন্য, Nil থেকে সৃষ্টিসত্বাকে অস্তিত্ববান করে থাকেন বিনা উপাদান, উপকরণে। যিনি মহাবিশ্ব সৃষ্টির ক্ষেত্রে সর্বপ্রকার উপাদান-উপকরণের মুখাপেক্ষিতার ব্যাপারে সুবহান অর্থাৎ পুতঃপবিত্র, মুক্ত, স্বাধীন এবং সমাদ অর্থাৎ অনির্ভরশীল, অমুখাপেক্ষি।
► তিনিই গড, তিনিই আল্লাহ যিনি জাগতিক তাবৎ শক্তির উপর যিনি সর্বশক্তিমান
► তিনিই গড, তিনিই আল্লাহ যিনি জাগতিক তাবৎ জ্ঞানীর উপর যিনি জ্ঞানবান তিনিই অআল্লাহ।
► কম্পিউটার মানব মস্তিস্কের উর্ধ্বে নয়, কারণ, মানব মস্তিস্কে কম্পিউটারের উদ্ভব, অনুরূপ মানব মস্তিস্কের উর্ধ্বে মহান আল্লাহ যিনি স্বয়ং মানব মস্তিস্কের সৃষ্টিকর্তা, উদ্ভাবক।
► “অসীম”কে হতে হবে লাতিফুল খবীর (সূক্ষ্ণদর্শী), বিজাতিস সুদূর (অন্তরের অন্তর্স্থলের জ্ঞাতা),
► আ'লিমুল গয়ব, ওয়াশশাহাদাহ (প্রকাশা এবং গুপ্ত বিষয়ে মহাজ্ঞানী)
► রহমান-রহীম, পরমদাতা, দয়ালু,
► যিনি ডাকে সাড়া দেন কখনও তাৎক্ষণিক, কখনও বিলম্বে,
► যার স্মরণেই একমাত্র মনে শান্তি।
►ন্যায় বিচার,দয়া, কৃপায় যিনি নিরপেক্ষ, উদার,সহনশীল
►যিনি প্রাণীকূলকে পৃথিবীর ভূত্বকে আটকে রাখেন অচিন্তনীয় কায়দায়
►যার একটি লিখিত সংবিধান রয়েছে যাতে কোনোই ভুল নাই, সত্যমিথ্যার মানদন্ড বিশেষ।
►কখনও নরম, কখনও চরম, কখনও মধ্যপন্থী।
►উদ্দেশ্যবিহীন, অনর্থক কিছু থেকে সুবহান, পবিত্র।
অসীম হতে হবে শান্তিময়, শান্তির আধার <যাঁর নাম স্মরণে, উচ্চারণেই শান্তি অআর শান্তি। জাগতিক দৃষ্টিতে এমন নাম রয়েছে প্রকৃতি নামক শব্দে।
৪। প্রকৃতির পুনরাবৃত্তিগুলিতে অসীম নিরাময়ের কিছু রয়েছে – রাতের পরে ভোর আসে এবং শীতের পরে বসন্ত ।
— রাহেল কারসন
রঙগুলো হলো প্রকৃতির হাসি যা তাকে রাঙিয়ে তোলে ।
ঘর থেকে বেরিয়ে পড়ুন প্রকৃতির মাঝে ঘুরে বেড়ান নিজেকে আর বন্দী করে রাখবেন না ।
প্রকৃতির আসল সৌন্দর্য দেখতে হলে আপনাকে প্রকৃতির মাঝে মিশে যেতে হবে ।
প্রকৃতির এক অভ্যন্তরীণ সৌন্দর্য আছে যা সবার চোখে ধরা দেয় না ।
সমুদ্র হলো প্রকৃতির আত্মা । সমুদ্র ছাড়া প্রকৃতি অসম্পূর্ণ থেকে যায় ।
প্রতিদিন অন্তত ৩০ মিনিট প্রকৃতি দর্শন করুন । মন ভালো থাকবে ।
প্রকৃতিতে হাটার প্রত্যেকটা পদেই আপনি পাবেন নতুন কিছু।
►তিনি মহাবিশ্বের মহাসৃষ্টিতে সর্বপ্রকার মুখাপেক্ষিতা থেকে সুবহান-সামাদ এমনতর অসীমকেই বলা হয় গড বা অআল্লাহ জাল্লা জালালাহু ওয়া শানুহু
►এই অসীম নিয়ম-নীতির অধীন নয়, নিয়ম-নীতি এই অসীমের অধীন-হাইজেনবার্গের অনিশ্চয়তানীতির মূল কথা এটি। পরিণতি মূলতঃ দুই প্রকার। কিছু পরিণতি নির্ধারিত। কিছু পরিণতি পরিবর্তনশীল।
হালাল-কে হারামের এখতিয়ার যেমন রয়েছে তেমনি হারাম-কে হালাল করার এখতিয়ারও রয়েছে। রোজাতে দিনের বেলায় পানাহার হারাম, ইহরাম অবস্থায় কিছু বৈধ ব্যাপার অবৈধ হয়ে যায়। চিকিৎসার জন্য, জীবন রক্ষার জন্য কিছু হারাম বিষয়কে বৈধ করা হয়েছে।
►তিনি মানব জীবনের সংবিধান স্বরূপ কিতাবুল্লাহ নাজিল করে থাকেন।
Comments
Post a Comment