জানার আছে অনেক কিছু
“মহাবিশ্বের জন্ম হয়েছিল একটি বিন্দু থেকে। সেই বিন্দুকে বলে সিঙ্গুলারিটি” (বিজ্ঞান চিন্তা, বর্ষ ৬, সংখ্যা ১, অক্টোবর ২০২১, পৃষ্ঠা ৫৫)।
►“একটি সুষম গোলাকার সুশৃঙ্খল প্রতিসম নক্ষত্র সংকুচিত হয়ে একক অসীম ঘনত্বের একটি বিন্দুতে পরিণত হবে। এ রকম বিন্দুকে বলা হয় সিঙ্গুলারিটি বা পরম বিন্দু।” (বিজ্ঞানচিন্তা,মার্চ, ২০২০, পৃষ্ঠা ৩৯)
থিওরি অব এভরিথিং বা সার্বিক একীভূত তত্
► সিঙ্গুলারিটির চরিত্র বুঝতে, মহাবিশ্বের স্বরূপ পুঙ্খানুপুঙ্খভাবে জানতে চাই একটি মহাকর্ষ নির্ভর কোয়ান্টাম তত্ত্ব, যেটিকে বিজ্ঞানীরা বলছেন কোয়ান্টাম গ্র্যাভিটি। এই তত্ত্ব আসলে আইনস্টাইনের সেই সার্বিক একীভূত তত্ত্বের আধুনিক রূপ। এর জন্য অনেক তত্ত্বের জন্ম হয়েছে। থিওরি অব এভরিথিং বা সার্বিক একীভূত তত্ত্ব হওয়ার দৌড়ে এখন পর্যন্ত এগিয়ে আছে এই স্ট্রিং তত্ত্ব। (প্রাগুক্ত ১) বিজ্ঞানচিন্তা, পৃষ্ঠাঃ ৫৫, ২)The Trable as the Physics by Lee Oline the title book as string Theory:Steven S.Gubsar Paralal Worlds by Michi Kaku )।
IRRSTC মনে করে পদার্থ বিজ্ঞানের দশ অমীমাংসিত তত্ত্বের অন্যতম তত্ত্বঃ মহাবিশ্ব কী দিয়ে তৈরি কিংবা কণারা কী দিয়ে তৈরি? এই প্রশ্নের উত্তর রয়েছে স্ট্রিং থিওরিতে।
►তত্ত্বটি (স্ট্রিং) বলছে, কণাগুলো বিন্দুর মতো নয় বরং স্ট্রিং বা সুতার মতো (প্রাগুক্ত পৃষ্ঠা ৪৪)।
► এখন বিজ্ঞানীদের বুঝতে বাকী রইল না যে, খুদে কণিকারা অনিশ্চয়তার নীতি মেনে চলে (বিজ্ঞানচিন্তা)
► অণু পরমাণুর জগতে নিউটনীয় গতিবিদ্যা অচল। সুতরাং ওই জগতের পরিসংখ্যানও ভিন্ন হতে বাধ্য (বিজ্ঞানচিন্তা, জানুয়ারি ২০২০, পৃষ্ঠা ৫৬)
বিজ্ঞানেও রয়েছে যে সব আজব কথামালা
বিজ্ঞানেও রয়েছে যে সব আজব কথামালা যেগুলির সমাধান রয়েছে কেবল কিছু গৎবাধা শব্দ বা বাক্যে। বাক্যগুলি হচ্ছে, অবিশ্বাস্য হলেও সত্য, অলৌকিক, অদ্ভূত, ভূতুড়ে, অদ্ভূতুড়ে কিংবা টেলিপ্যাথি। এ ধরণের কিছু বিষয়কে X or Dark এই সাংকেতিক অক্ষর বা শব্দে বুঝানো হয়ে থাকে। এছাড়া রয়েছে অনেক তাত্ত্বিক অদ্ভূত সূত্র। তন্মধ্যে নিম্নরূপ উল্লেখ্যযোগ্য তত্ত্ব হচ্ছেঃ
► কোয়ান্টাম কণারা কেবল কণা নয়, একই সঙ্গে তরঙ্গও (লুই দ্য ব্রগলি, ফরাসী বিজ্ঞানী)
► আলোও একসঙ্গে কণা এবং তরঙ্গও।
► আলোর কণা ফোটন ব্যতিত বাকী প্রকৃতির সকল কণাই ভরসম্পন্ন। এমনকি নিউট্রিনোও। ফোটন হচ্ছে আলোর কোয়ান্টা যা মহাবিশ্বের সর্ব আদি কণা। উল্লেখ্য,হাইয়েস্ট এনার্জেটিক রেডিয়েশনে বিগ ব্যাং বা মহাবিস্ফোরণ সংঘটিত হওয়ার সর্ব প্রথম যে বস্ত্তকণার উদ্ভব ঘটে তা হচ্ছে ফোটন।IRRSTC মনে করে যে, মহাবিশ্বের ভরসম্পন্ন সর্ব প্রাচীন বা আদি বস্ত্তকণা হিগস বোসন কণা (গডস পার্টিকেল) শুন্যে বিরাজমান হিগস ফিল্ডের শক্তির সংস্পর্শে এসে ফোটন ভরত্ব লাভ করে ভরসম্পন্ন কণায় পরিণত হয়েছিল আইনস্টাইনের ভরশক্তি সমীকরণ এই মতকেই সমর্থন করে। এ তত্ত্বমতে, জমাটবদ্ধ শক্তি জমে থাকা বস্ত্তর মতই।অর্থাৎ এই সমীকরণ মতে, শক্তি ও বস্ত্ত এবং বস্ত্ত এবং শক্তি যেমন সমার্থক তেমনি ভর এবং শক্তি, শক্তি এবং ভর সমার্থক।এতে সুস্পষ্ট প্রতীয়মান হয় যে, মহাবিশ্বের উৎসমূল শক্তি অআর শক্তি যা মহাশক্তি দ্বারা সৃষ্ট এবং পরিচালিত। এই মহাশক্তির উৎসমূল কী অথবা কে?একটি অতীন্দ্রীয় অব্যাখ্যাত যে জনপ্রিয় এবং বহুল প্রচলিত শব্দ কি বিজ্ঞানী কিংবা কবি,সাহিতািকসহ সর্ব সাধারণ নির্বিশেষে ব্যবহৃত তা হচ্ছে প্রকৃত বা নেচার।
যদি প্রশ্ন করা হয় চাঁদ কীভাবে সৃষ্টি হয়েছে নির্ধিদ্বায় বলা হয় প্রাকৃতিকভাবে।
সহজ-সরল সাধারণ নিয়ম
কোনো বস্ত্ত যদি গতিশীল হয় তার দৈর্ঘ্য কমে যায়, বেড়ে যায় তার ভর এবং ধীর হয়ে যায় তার ঘড়ি (অআইনস্টাইন)
► সেই বিন্দু বা সিঙ্গুলারিটিতে এক সঙ্গে ছিল মহাবিশ্বের ৪ মৌলিক বল যথা ১. বিদ্যুৎ চুম্বকীয় বল ২. সবল নিউক্লিয় বল ৩. দূর্বল নিউক্লিয় বল এবং ৪. মহাকর্ষ বল। উক্ত সূক্ষ্ণ বিন্দু বা সিঙ্গুলারিটিতে যে মহাবিস্ফোরণ ঘটেছিল সেই বিস্ফোরণকে বলা হয় বিগ ব্যাং। মহাবিস্ফোরণ বা বিগ ব্যাংয়ের পর একত্রিত থাকা ৪ বল পৃথক হয়ে যায়। প্রশ্ন দাঁড়ায়ঃ ৪ বল কি পৃথক পৃথক অর্থাৎ স্বতন্ত্র? নাকি যার উৎসমূল এক,একক, অভিন্ন?
► “আইনস্টাইন এমন একটি তত্ত্বের পেছনে ছুটে ছিলেন, যার সন্ধান এই এক বিংশ শতাব্দীতে এসেও বিজ্ঞানীরা পাননি। কী সেই তত্ত্ব যার জন্য মরিয়া হয়ে উঠেছিলেন আইনস্টাইন। জীবনের শেষ চারটি দশক সেই আলেয়ার পেছনে ঘুরে মরেছেন কিন্ত্ত আলোর দেখা পান নি। সেটি হলো একটা সার্বিক একীভূত তত্ত্ব”(বিজ্ঞান চিন্তা, বর্ষ ৬, সংখ্যা ১, অক্টোবর ২০২১, পৃষ্ঠা ৫৫)।
একীভূত তত্ত্ব বস্তু-পদার্থের মধ্যে খুঁজতে গিয়ে বিজ্ঞানীরা অ্যাটম পেরিয়ে ১০-১৬ সেন্টিমিটার মাত্রার কোয়ার্ক পর্যন্ত গিয়ে পৌঁছেছেন।এরপর থেমে আছেন। তবে ধারণাগতভাবে বিজ্ঞানীরা স্ট্যান্ডার্ড মডেল তত্ত্বের মাধ্যমে ১০-৩৩ সেন্টিমিটার মাত্রার স্ট্রিংয়ে গিয়ে পৌঁছেছেন।
স্ট্রিং তত্ত্ব মতে, পরম বিন্দু বা সিঙ্গুলারিটি আসলে বিন্দুর মতো নয়, লম্বাটে স্ট্রিং বা তারের মতো। সেই তারের কম্পন থেকে উৎপন্ন হয় মহাবিশ্বের মৌলিক বস্ত্তগত অবকাঠামোর ভিত্তিমূল ইলেকট্রন+কোয়ার্ক। কম্পনের মাত্রার ভিন্নতার কারণে উৎপন্ন হয় ভিন্নধর্মী বস্ত্ত কণার । এই ভিন্নতার কারণে আমরা স্ট্রিংয়ের কম্পন থেকে ইলেকট্রন+কোয়ার্ক ইত্যাদি ভিন্ন নামের মৌলিক কণা লাভ করি।
► প্রকৃতির মন পুরোপুরি এখনো বুঝে উঠতে পারেনি মানুষ। এখনকার পদার্থ বিজ্ঞানের দুটি শাখা। বড়দের জগৎকে অর্থাৎ গ্রহ, নক্ষত্রের গতি, ভর, বেগ, বল মহাকর্ষ ইত্যাদি ব্যাখ্যা করে আইনস্টাইনের সাধারণ আপেক্ষিকতায়। অন্যদিকে পরমাণুর অন্দর মহলের যে জগৎ সেটা ব্যাখ্যার জন্য দরকার কোয়ান্টাম বল বিদ্যার। কোয়ান্টাম বলবিদ্যা দিয়ে বড়দের জগৎকে ব্যাখ্যা করা যায় না। অন্যদিকে সাধারণ আপেক্ষিকতা দিয়ে ব্যাখ্যা করা যায় না খুদে কণাদের অথচ মহাবিশ্বের সৃষ্টি তত্ত্ব ব্যাখ্যা করতে অর্থাৎ বিগ ব্যাং তত্ত্বের সত্যিকার প্রমাণ পেতে হলে দরকার এই দুই তত্ত্বের মিলন (বিজ্ঞানচিন্তা, পৃ্ষ্ঠা ৪৫)।
► পৃথিবী, গ্রহাণু ও অন্যান্য গ্রহগুলো একই উৎস থেকে এসেছে (বিচি বর্ষঃ ৪, সংখ্যা ৪, জানুয়ারি ২০২০, পৃষ্ঠা ৭৩)। বস্তুগতভাবে উৎসটি হচ্ছে শক্তি, শক্তির উৎসমূল হচ্ছে মহাশক্তি যার জাগতিক নামঃ প্রকৃতি, আধ্যাত্মিক নাম গড, ঈশ্বর, খোদা, আল্লাহ ইত্যাদি।
► আলোর বেগের বর্গগুণে পাওয়া যায় বস্ত্তর শক্তির মান।
=mc2 সমীকরণে এ ভর জানা যায়।
► ধরা যাক ইলেক্ট্রন বা কোয়ার্কের কথা। এগুলোকে যদি খুব সূক্ষ্ণভাবে দেখা যেত, তাহলে দেখতাম, আসলে এগুলো কণা নয়, সুতার মতো অতি সূক্ষ্ণ লম্বাটে তন্ত্তর কম্পন ((বিচি বর্ষঃ ৪, সংখ্যা ৪, জানুয়ারি ২০২০, পৃষ্ঠা ৫৪)। যেমন ইলেক্ট্রনের জন্য তন্ত্তর (সুতা/তারের) কম্পনের মাত্রা এক রকম, কোয়ার্কের জন্য তন্ত্তর কম্পনমাত্রা আরেক রকম। অন্য ১৪টি কণার জন্য তন্ত্তর অআলাদা মাত্রার কম্পন নির্দিষ্ট আছে।
► কম্পনের মাত্রাই ঠিক করে দেয়, তা থেকে সৃষ্ট কণার ভর, চার্জ, স্পিন কেমন হবে। এই বৈশিষ্ট্য গুলোই এক ধরণের কণা থেকে অআরেক ধরণের কণার মধ্যে পার্থক্য তৈরি করে। এসব বিচিত্র কণা দিয়েই গড়ে উঠেছে আমাদের মহাবিশ্ব। এই মহাবিশ্ব তাই সুতায় বোনা মহাবিশ্ব (প্রাগুক্ত ৫৪)। মহাবিশ্বের ইট যদি হয় কোয়ার্ক, সিমেন্ট হবে বোসন।
আসলে পুরো জগতের শুরু হয়েছিল বিস্ময়করভাবে!
যে প্রক্রিয়ায় বিগ ব্যাং দিয়ে মহাবিশ্বের অগ্রযাত্রা শুরু হয়েছিল তাকে বলা হয় এনট্রিপি যা শুরু হয়েছিল তাপমাত্রা নিম্নমুখী অবস্থায়। এখনও তাপমাত্রা আপনা আপনি গরম থেকে ঠান্ডা হয়, ঠান্ডা থেকে আপনা আপনি গরম হয় না, যদি না উত্তপ্ত করা হয়। এতে সুস্পষ্ট প্রতীয়মান হয় যে, হাইয়েস্ট এনার্জেটিক রেডিয়েশনে মহাবিস্ফোরণ ঘটেনি নিছক আকস্মিক দূর্ঘটনাজনিত কারণে বরং এনট্রপি সূত্রে প্রতীয়মান হয় যে, কোনো এক গভীর প্রজ্ঞাপূর্ণ সত্বার প্রত্যক্ষ তত্বাবধানে সুদূরপ্রসারী মহাপরিকল্পনার অধীনে সৃষ্টি প্রক্রিয়ার অগ্রযাত্রার শুরু হয়েছিল।
► বোসন আসলে একটা কোয়ার্ক আর একটা অ্যান্টি কোয়ার্ক দিয়ে তৈরি। এটা আরেক বিস্ময়। একই কণা আর অ্যান্টি অর্থাৎ প্রতি কণা এক সঙ্গে থাকতে পারে না। কণা আর প্রতি কণা পরস্পরের সংস্পর্শে এলে বিস্ফোরণ ঘটে। ফলে উভয় কণাই ভ্যানিশ হয়ে যায়, তৈরি হয় শক্তি (বিজ্ঞানচিন্তা, জানুয়ারি, ২০২০, বর্ষঃ ৫, সংখ্যা ৪, পৃষ্ঠা ৬৯)।
নিউক্লিয়াসে নিহিত প্রোটন এবং নিউট্রন বৈদ্যুতিকভাবে একত্রে থাকার কথা নয়-কিন্ত্ত থাকার “বিশেষ বৈজ্ঞানিক কারণ” রয়েছে।(সাধারণ দৃষ্টি আর বিশেষ দৃষ্টি বলে বিজ্ঞানেও একটা কথা রয়েছে যা আমরা সাধারণতঃ “অবিশ্বাস্য হলেও সত্য”, “অলৌকিক, অদ্ভূত, অদ্ভূতুড়ে, ভূতুড়ে কিংবা টেলিপ্যাথি বলে উড়িয়ে দিয়ে থাকি)।
Comments
Post a Comment