তথ্য ব্যাংক (বাংলাদেশ ) লিমিটেড-খ

তথ্য ব্যাংক (বাংলাদেশ ) লিমিটেড-খ মহাবিশ্বের বাহ্যিক অবকাঠামো বস্ত্তকণার অপূর্ব সমাহার বটে। তবে মহাবিশ্বের পরিচালনা-ব্যবস্থাপনার পরতে পরতে রয়েছে এক অবর্ণনীয় বুদ্ধিমত্তার সুস্পষ্ট ছাপ। উল্লেখ্য, ১৯৬৪ সালে প্রাপ্ত মহাজাগতিক ব্যাক গ্রাউন্ড রেডিয়েশনের কম্পিউটার সিমুলেশনের মাধ্যমে রচিত মডার্ণ কসমোলজিক্যাল স্ট্যান্ডার্ড মডেল থিওরিমতে, হাইয়েস্ট এনার্জেটিক রেডিয়েশনে মহাবিস্ফোরণ বা বিগ ব্যাং ঘটে যে মহাবিশ্বের সৃষ্টি হয়েছিল তা ছিল এন্ট্রপি প্রবণ। অর্থাৎ উষ্ঞ থেকে শীতল। যদি তার বিপরীত অর্থাৎ গরম থেকে আরও গরমে মহাবিশ্ব রূপ নিত তাহলে প্রাণ ধারণ উপযোগি এই পৃথিবীর উদ্ভব হতো না। আইনস্টাইন বলেনঃ প্রতিটি বিষয়ের একটা সুনির্দিষ্ট পরিণতি আছে। IRRSTC এর মতে, প্রতিটি বিষয়ের একটা অর্থবহ অর্থাৎ ইতিবাচক কিংবা নেতিবাচক দিক রয়েছে। মডার্ণ কসমোলজিক্যাল স্ট্যান্ডার্ড মডেল থিওরি মতে, মহাবিশ্বের সূচনা ঘটে চার মহাবলের একক পিন্ড "হাইয়েস্ট এনার্জেটিক রেডিয়েশনে" সংঘটিত মহাবিস্ফোরণ (বিগ ব্যাং) থেকে। তাপগতিবিদ্যার দ্বিতীয় সূত্র : তাপগতিবিদ্যা আসলে গ্যাসের গাণিতিক পদার্থবিজ্ঞান। বড় পরিসরে গ্যাসের অণুগুলোর পারস্পরিক ক্রিয়া- প্রতিক্রিয়া যে তাপমাত্রা ও চাপের সৃষ্টি হয়—তার ব্যাখ্যা করে এটি। এই বিষয়টি প্রকৃতির একগুচ্ছ সূত্র দিয়ে শুরু হয়, যাদের সঙ্গে তাপমাত্রা, চাপ ও আয়তন জড়িত। তাপগতিবিদ্যার তিনটি সূত্র আছে। এর মধ্যে দ্বিতীয় সূত্রটি বলছে : তাপ কখনো নিজ পক্ষ হতে শীতল বস্তু থেকে গরম বস্তুতে পরিণত হতে পারে না। বরং গরম থেকে শীত বস্ত্ততে পরিণত হতে পারে।বিগ ব্যাংয়ের পরক্ষণ হতে তাপমাত্রা..........থেকে ক্রমশঃ কমতে কমতে পরম বিন্দুতে এসে পৌঁছেছে। এক লক্ষ বছর পূর্বে এই তাপমাত্রা দাঁড়ায় সর্বোচ্চ মাত্র ৫৫ ডিগ্রি সেলসিয়াসে।পৃথিবীতে বর্তমানে যে তাপমাত্রা তা এনট্রপির নাকি সূর্যের? কারণ,সূর্য ৯ কোটি ৩০ লাখ মাইল দূর থেকে তাপ এবং আলো পৃথিবীতে ছড়াচ্ছে। এনট্রপি : তাপগতিবিদ্যার সূত্রমতে, মহাবিশ্বের সব বস্তুর মধ্যেই কিছু না কিছু এনট্রপি জড়িত।বিজ্ঞানী বোলজম্যানের মতে, এনট্রপি একটি সম্ভাবনা। তিনি বুঝতে পেরেছিলেন প্রকৃতির বিশৃঙ্খলাকে এনট্রপি নামক একটি গাণিতিক রাশির মাধ্যমে পরিমাপ করা সম্ভব। অনিশ্চয়তার নীতি : বিজ্ঞানী ওয়ার্নার হাইজেনবার্গের সূত্রবদ্ধ করা নীতি। এর নীতি অনুযায়ী, একটি কণার অবস্থান এবং ভরবেগ-দুটোই একই সঙ্গে নির্ভুলভাবে জানা সম্ভব নয়। দুটোর মধ্যে একটি যত নিখুঁতভাবে জানা যাবে, ততই অন্যটিকে নিখুঁতভাবে জানার পরিমাণ কমতে থাকবে। কোয়ান্টাম মেকানিকস : গণিতের যে শাখায় বলপ্রয়োগে শক্তিকণার গতিবেগ, ধর্ম, আচরণ ইত্যাদি নিয়ে আলোচনা করা হয়, সেটিই কোয়ান্টাম মেকানিকস বা কণা বলবিদ্যা। চিরায়িত (ক্ল্যাসিকাল) বলবিদ্যায় দৃশ্যমান বস্তুর ওপর বলপ্রয়োগে বস্তুর ধর্ম বা আচরণ ইত্যাদি নিয়ে আলোচনা হয়। কিন্তু কোয়ান্টাম বলবিদ্যার ক্ষেত্র অতি ক্ষুদ্র শক্তিকণা (যেমন ইলেকট্রন)।নিউটনীয় চিরায়ত বলবিদ্যায় যেসব বস্তুর ভর আছে কিন্তু তরঙ্গ প্রকৃতি নেই, তাদের নিয়ে আলোচনা করা হয়। কিন্তু কোয়ান্টাম বলবিদ্যায় এমন সব বস্তু সম্পর্কে আলোচনা করা হয়, যাদের কণা (বা ভর) প্রকৃতি এবং তরঙ্গ প্রকৃতি উভয়ই আছে। যেমন আলো একই সঙ্গে কণা ও তরঙ্গ। প্রতিকণা : প্রতিটি কণা-পদার্থের একটি বিপরীত প্রতিকণা থাকে। একটি কণা যখন তার প্রতিকণার সঙ্গে সংঘর্ষে লিপ্ত হয়, তখন দুটিই ধ্বংস হয়ে যায়। অবশিষ্ট থাকে শুধু শক্তি। বিজ্ঞানী পল ডিরাক প্রথম প্রতিকণার ধারণা দেন। পরে পরীক্ষায় তা প্রমাণিত হয়। যেমন ইলেকট্রনের প্রতিকণাকে বলা হয় প্রতি-ইলেকট্রন বা পজিট্রন। পারমাণবিক ফিউশন : যে প্রক্রিয়ায় দুটি নিউক্লিয়াস সংঘর্ষে লিপ্ত হয় এবং একত্র হয়ে একটি একক, ভারী নিউক্লিয়াস গঠন করে। যেমন দুটো হাইড্রোজেন একত্র হয়ে হিলিয়াম তৈরি হয়। সূর্যসহ নক্ষত্রের কেন্দ্রে অহরহ এই পারমাণবিক ফিউশন প্রক্রিয়ায় হিলিয়াম তৈরি হচ্ছে। এ প্রক্রিয়ায় কিছু ভর পরিণত হচ্ছে বিপুল শক্তিতে। মহাকর্ষ বল : নিউটনের সূত্রমতে, মহাবিশ্বের প্রতিটি বস্তু পরস্পরকে আকর্ষণ করছে। যে বলে বস্তুগুলো পরস্পরকে আকর্ষণ করছে, তাকেই বলা হয় মহাকর্ষ বল। এই সূত্রমতে, এই আকর্ষণ বলের পরিমাণ বস্তু দুটোর ভরের গুণফল । মহাকর্ষীয় তরঙ্গ : আইনস্টাইনের আপেক্ষিকতার তত্ত্ব থেকে পাওয়া একটি তরঙ্গ, যা আলোর গতিতে চলাচল করে। একটি বিপুল ভরের বস্তু আরেকটি বিপুল ভরের বস্তুর চারপাশে ঘুরলে বস্তু দুটি এই তরঙ্গ বিকিরণ করে। ১৯১৫ সালে এ ধরনের তরঙ্গের ভবিষ্যদ্বাণী করেছিলেন আইনস্টাইন। এর প্রায় ১০০ বছর পর, ২০১৫ সালের ১৪ সেপ্টেম্বর যুক্তরাষ্ট্রের লাইগোর ডিটেক্টরে এই তরঙ্গ প্রথমবার ধরা পড়ে। এই তরঙ্গের উৎস ছিল ১৩০ কোটি বছর আগে সূর্যের চেয়ে ৩৬ গুণ এবং সূর্যের চেয়ে ২৯ গুণ ভারী দুটি কৃষ্ণগহ্বরের মধ্যে সংঘর্ষ। ওই বছরের ২৬ ডিসেম্বর দ্বিতীয়বার শনাক্ত করা হয় মহাকর্ষীয় তরঙ্গ। এরপর ২০১৬ সালের ১১ ফেব্রুয়ারি এ-সংক্রান্ত ঘোষণা দেওয়া হয়। হাইজেনবার্গ : জার্মান বিজ্ঞানী ওয়ার্নার হাইজেনবার্গ (১৯০১-১৯৭৬ খ্রি.) তাঁর সূত্রবদ্ধ করা অনিশ্চয়তার নীতির জন্য বিখ্যাত। এর নীতি অনুযায়ী, একটি কণার অবস্থান এবং ভরবেগ দুটোই একই সঙ্গে নির্ভুলভাবে জানা সম্ভব নয়। দুটোর মধ্যে একটি যত নিখুঁতভাবে জানা যাবে, ততই অন্যটিকে নিখুঁতভাবে জানার পরিমাণ কমতে থাকবে। স্থান-কাল : একটি চারমাত্রিক স্থান, যার বিন্দুগুলো ঘটনা। নিউটনের মহাবিশ্বে স্থান আর কালকে আলাদা বলে ভাবা হতো। কিন্তু আইনস্টাইন তাঁর আপেক্ষিক তত্ত্বে দেখালেন, এই দুটি আসলে আলাদা কিছু নয়, বরং একক অস্তিত্ব হিসেবে বিরাজমান। চিরায়ত পদার্থবিদ্যা : বিংশ শতাব্দী শুরুর কিছুদিন আগ পর্যন্তও প্রাকৃতিক ঘটনাবলি নিউটনের বলবিদ্যা, ম্যাক্সওয়েলের বিদ্যুৎ-চুম্বকীয় তত্ত্ব, তাপগতিবিদ্যা এবং বোলজম্যানের পরিসংখ্যানিক গতিবিদ্যা দিয়ে বেশ ভালোভাবেই ব্যাখ্যা করা যাচ্ছিল। তবে ইথার এবং বিকিরণসংক্রান্ত কিছু বিষয় তখনো অমীমাংসিত ছিল। উনিশ শতকের একেবারে শেষ দশকে একের পর এক নতুন কিছু আবিষ্কার পদার্থবিজ্ঞানে নতুন বিপ্লবের জন্ম দেয়। যেমন : রন্টজেনের এক্স-রে আবিষ্কার, থমসনের ইলেকট্রনের আবিষ্কার, বেকেরেলের তেজস্ক্রিয়া আবিষ্কার, হার্জের ফটো ইলেকট্রিক ইফেক্ট আবিষ্কার নতুন কিছু প্রশ্নের জন্ম দেয়। এ ছাড়া এ সময়েই কৃষ্ণবস্তুর বিকিরণ পদার্থবিদদের ধাঁধায় ফেলে দেয়। কারণ, পদার্থবিদ্যার প্রচলিত কোনো সূত্র দিয়েই একে ব্যাখ্যা করা যাচ্ছিল না। অবশেষে একে ব্যাখ্যার জন্য ১৯০০ সালে বিজ্ঞানী ম্যাক্স প্ল্যাঙ্ক কোয়ান্টাম ধারণা ব্যবহার করলেন। তাঁর হাত ধরেই শতাব্দীর একেবারে শুরুতে জন্ম নিয়েছিল নতুন এক বিজ্ঞান, যা কোয়ান্টাম তত্ত্ব নামে পরিচিত। তাই ১৯ শতকের আগপর্যন্ত পদার্থবিদ্যার সব তত্ত্বকে বলা হয় চিরায়ত বা ধ্রুপদি পদার্থবিজ্ঞান। POWER শক্তি বিকিরণ: তরঙ্গ বা কণার মাধ্যমে স্থান বা অন্য কোনো মাধ্যম দিয়ে পরিবাহিত শক্তি। এর মধ্যে রয়েছে বিদ্যুৎ-চুম্বকীয় বিকিরণ (যেমন তাপ, রেডিও তরঙ্গ, দৃশ্যমান আলো, এক্স-রে, গামা রশ্মি বিকিরণ), কণা বিকিরণ, মহাকর্ষীয় বিকিরণ ইত্যাদি। পারমাণবিক ফিউশন : যে প্রক্রিয়ায় দুটি নিউক্লিয়াস সংঘর্ষে লিপ্ত হয় এবং একত্র হয়ে একটি একক, ভারী নিউক্লিয়াস গঠন করে। যেমন দুটো হাইড্রোজেন একত্র হয়ে হিলিয়াম তৈরি হয়। সূর্যসহ নক্ষত্রের কেন্দ্রে অহরহ এই পারমাণবিক ফিউশন প্রক্রিয়ায় হিলিয়াম তৈরি হচ্ছে। এ প্রক্রিয়ায় কিছু ভর পরিণত হচ্ছে বিপুল শক্তিতে। উন্মুক্ত পরম বিন্দু : স্থান-কালের পরম বিন্দু, যা কোনো কৃষ্ণগহ্বরের ঘটনা দিগন্ত দিয়ে ঘেরা নয়। আর এই পরম বিন্দুটি দূরে থাকা কোনো পর্যবেক্ষকের কাছে দৃশ্যমান। অসীম (Infinity) : সীমাহীন বা সমাপ্তিহীন কোনো ব্যাপ্তি বা সংখ্যা। সাধারণ আপেক্ষিকতা: আইনস্টাইনের তত্ত্ব। ১৯১৫ সালে তত্ত্বটি প্রকাশ করেন তিনি। বিজ্ঞানের নিয়মকানুন সব পর্যবেক্ষকের জন্যই একই হবে, তাদের গতিশীলতার ওপর এই নিয়মকানুন নির্ভরশীল নয়—এই ধারণার ওপর ভিত্তি করে এই তত্ত্বটি গড়ে উঠেছে। চতুর্থমাত্রিক স্থান- কালের বক্রতার ভিত্তিতে এটি মহাকর্ষকে ব্যাখ্যা করে। কণাপদার্থবিদ্যা : পদার্থবিজ্ঞানের একটি শাখা, যেখানে যেসব কণা বস্তু ও বিকিরণ সৃষ্টি করে তাদের প্রকৃতি নিয়ে গবেষণা করা হয়। সব কণার বর্তমান শ্রেণিবিভাগ স্ট্যান্ডার্ড মডেল বা প্রমিত মডেল দিয়ে ব্যাখ্যা করা হয়।কণা পদার্থ বিজ্ঞানমতে, প্রতিটি কণা কম্পমান যা স্ট্রিং থিওরির উৎসমূল। কেয়ামতের আলামতঃ ব্ল্যাকহোল ! কৃষ্ণগহ্বর : ‘মহাকর্ষীয় প্ৰবল আকর্ষণে নিজের ওপর পুরোপুরি ভেঙে পড়া কোনো নক্ষত্র’ বোঝাতে সংক্ষিপ্ত শব্দ হিসেবে মার্কিন পদার্থবিদ জন হুইলার ১৯৬৭ সালে ‘ব্ল্যাকহোল’ শব্দটি ব্যবহার করেন। এরপরই শব্দটি জনপ্রিয় হতে শুরু করে। তবে ভেঙে পড়া এ ধরনের নক্ষত্রের ধারণাটি প্রথম দিয়েছিলেন জার্মানীর পূর্ব বার্লিনের রণাঙ্গনে অবস্থিত হাসপাতালে চিকিৎসাধীন পদার্থ বিজ্ঞানী কার্লস সোয়াজশীল্ড ১৯১৫সালে আইনস্টাইনের জেনারেল রিলিটিভিটর একমাস পূর্তিরও কম সময়ে এই তত্ত্বের বাস্তব প্রয়োগ করতে গিয়ে মহাকাশে অসীম ভরের ব্ল্যাকহোল আবিস্কার করেন। পরবর্তীতে মার্কিন বিজ্ঞানী রবার্ট ওপেনহাইমার এবং হার্টল্যান্ড সিন্ডার, ১৯৩৯ সালে এই তত্ত্বের সফল ব্যাখ্যা উপস্থাপন করেন।

Comments

Popular posts from this blog

IRRSTC FINAL REPORT 1445 (BENGLA)insha Allah

নিউট্রিনো

উপসংহার