নতুন বিজ্ঞানের পথে ফ্রন্টিয়ার সায়েন্সঃ নতুন বিজ্ঞানের পথে পুরাতন পৃথিবী (PART 03)
IRRSTC FINAL REPORT 1445 (BENGLA)insha Allah
December 09, 2023
IRRSTC FINAL REPORT 1445 (BENGLA)insha Allah মহাবিশ্ব কীভাবে এলো? সৃষ্টিতত্ত্বে মহান আল্লাহর কুদরাতি ইচ্ছা প্রকাশ إِنَّمَا أَمْرُهُ إِذَا أَرَادَ شَيْئًا “তিনি যখন কোন কিছু করতে ইচ্ছা করেন, "Verily, when He intends A thing," (Source:https://quranyusufali.com/36/) কুন (হয়ে যাও): সৃষ্টিতত্ত্বে মহান আল্লাহর কুদরাতি আদেশ ٨٢- أَن يَقُولَ لَهُ كُن ◯ তখন তাকে কেবল বলে দেন ‘হও’ "His Command is, “ Be!" (Source:https://quranyusufali.com/36/) فَيَكُونُ তখনই তা হয়ে যায়” । (সূরা ইয়া-সী-ন) "And it is !" (Source:https://quranyusufali.com/36/) কুন (হয়ে যাও): মহান আল্লাহর কুদরাতি এই আদেশكُن যা হওয়ার কথাঃ ٣٠- أَوَلَمْ يَرَ الَّذِينَ كَفَرُوا أَنَّ السَّمَاوَاتِ وَالْأَرْضَ كَانَتَا رَتْقًا فَفَتَقْنَاهُمَا وَجَعَلْنَا مِنَ الْمَاءِ كُلَّ شَيْءٍ حَيٍّ أَفَلَا يُؤْمِنُونَ ◯ "যারা কুফরী করে তারা কি ভেবে দেখে না যে, আসমানসমূহ ও যমীন ওতপ্রোতভাবে মিশে ছিল*, অতঃপর আমি উভয়কে পৃথক করে দিলাম, আর আমি সকল প্রাণবান জিনিসকে পানি থেকে সৃষ্টি করলাম। তবুও কি তারা ঈমান আনবে না?" আল-বায়ান "Do not the Unbelievers see That the Skies and the Earth Were joined together (as one Unit of Creation), before We clove them asunder? We made from water Every living thing. Will they Not then believe?" (Source: Sūra 21: Anbiyāa, or The Prophets, Ayat: 30, Verses 112 — Makki; Revealed at Makka — Sections 7, https://quranyusufali.com/21/) ইসলামী সৃষ্টিতত্ত্বের স্বরূপ “বিশ্ব বলিতে পূর্বে কিছুই ছিলনা”। (ফাতওয়ায়ে সিদ্দিকীন, ১ম খন্ড, পৃষ্ঠাঃ ৭৪, কুরআন হাদীস রিসার্চ সেন্টার (ফুরফুরা দরবারের গবেষণা প্রতিষ্ঠান), প্রকাশনায়ঃ ইশায়াতে ইসলাম, কুতুবখানা, মার্কাজে ইশায়াতে ইসলাম, ২/২, দারুস সালাম, মীরপুর, ঢাকা-১২১৬), প্রকাশকালঃ সাবান-১৪২০হিজরি, নভেম্বর ১৯৯৯ ঈসায়ী “গোটা সৃষ্টিকূলের মধ্যে আল্লাহ তাআলার কুন ফাইয়া কুনের তাজাল্লীই বিরাজমান” (প্রাগুক্ত পৃঃ ৩৮)। “আসমান-যমীন, আরশ কুরসী লাওহ-কলম, গাছ পালা, বৃক্ষ লতা, এক কথায় দৃশ্যমান ও অদৃশ্য যত কিছু রয়েছে “সব কিছুই সৃষ্টি করেছেন মহান আল্লাহ” (প্রাগুক্ত পৃঃ ৩৩)। “আল্লাহ তায়ালা সমস্ত বস্তুকে পূর্ব উপাদান ব্যতীত সৃষ্টি করেছেন” (প্রাগুক্ত পৃঃ ১৬২)। (আল্লাহপাক) “বিশেষ মুছলেহাতের কারণে প্রথমে বিনা উপাদানে উপকরণে সৃষ্টি করে, সেই সব উপাদানের মাধ্যমে বিভিন্ন বস্তু সৃষ্টি করার ব্যবস্থা চালু করেছেন”(সূত্রঃ ফাতাওয়ায়ে সিদ্দিকীন, ১-৪ খন্ড, পৃষ্ঠা ১৬৩) উল্লেখ্য, এক সময় কেবলই আল্লাহ (ﺎﻠﻠﻪ) আর আল্লাহ-ই ছিলেন। মহান আল্লাহ ব্যতিত সৃষ্টি (ﻣﺨﻟﻖ) সত্বার কোন অস্তিত্ব কখনই ছিল না। কোন এক মহাসন্ধিক্ষণে আল্লাহপাক তাঁর কুদরতি এক মহাপরিকল্পনার (Master Plan) অধীনে ‘কুন’ হয়ে যাও‘’- এই কুদরতি আদেশ বা হুকুমবলে সম্পূর্ণ ‘নাই’ (Nil/Zero) থেকে কোন প্রকার জাগতিক তত্ত্ব, তথ্য, উপাত্ত, সূত্র, আইন-কানুন, বিধি-বিধান থেকে সম্পূর্ণ পুতঃপবিত্র (সুবহান) এবং অনির্ভরশীল(স্বমাদ) হয়ে সৃষ্টি করলেন এক মহাসৃষ্টি সত্বা (Great Creation) বা ﻣﺨﻟﻖ)-যাতে সম্মিলিতভাবে (Combined) নিহিত ছিল আকাশ/মহাকাশ[(ﺍﻠﺴﺎﻮﺍﺕ)( (Sky)] ও জমিন [ﻼﻠﺭﺽ Earth (পৃথিবী) আবার কোন এক বিশেষ মুহুর্তে তা পৃথক করে আজকের আসমান ও জমিন-এই দু’টি পৃথক পৃথক সত্বা সৃষ্টি করেছেন। শক্তি “আমি আকাশমন্ডল সৃষ্টি করেছি আমার শক্তি বলে এবং আমিই মহাসম্প্রসারণকারী। (৫১.৪৭)। "With power and skill Did We construct The Firmament : For it is We Who create The vastness of Space". (https://quranyusufali.com/51/) আধুনিক বৈজ্ঞানিক সৃষ্টিতত্ত্বের স্বরূপ মহাবিশ্ব এক জটিল প্রক্রিয়ার নাম। সুতরাং,সাধারণ জ্ঞানে এই মহাবিশ্বের মর্মমূলে পৌঁছা সম্ভবপর নয়। তাই বিশেষ জ্ঞানের প্রয়োজন। বিশেষ জ্ঞানের অধিকারীকে বলা হয় বিজ্ঞানী। বিজ্ঞানীরা তাঁদের বিশেষ জ্ঞানের সফল প্রয়োগে মহাবিশ্বের সৃষ্টিতত্ত্বের অনেক খবরা-খবর প্রকাশ করে থাকেন। বৈজ্ঞানিক বিশ্লেষণে মহাবিশ্বের সৃষ্টিতত "প্রত্যেক বস্ত্ত মূলে পৌঁছে" ফারাবী আল আরাবীর প্রাতঃস্মরণীয় এই উক্তির আলোকে পারমাণবিকভাবে মহাবিশ্বেরে মূলে পৌঁছার লক্ষ্যেে পদার্থ বিজ্ঞান (Material Science) তথা ফিজিক্স (Physics) এর মাধ্যমে বিজ্ঞানীরা মহাবিশ্বের বস্ত্তগত অবকাঠামো সম্পর্কে সম্যক জানার জানার জন্য সুদূর অতীতে প্রাচীন গ্রীসের খ্যাতনামা দার্শনিক-বৈজ্ঞানিক ডেমোক্রিটাস আবিস্কৃত বস্ত্তর একমাত্রিক অণু-কণা অ্যাটম-কে কেন্দ্র করে গবেষণা শুরু করেন। পরবর্তীতে অ্যারিস্টটলের ১.মাটি ২.পানি ৩.আগুন ৪.পানির চতুর্মাত্রিক, তৎপরবর্তীতে জাবের ইবনে হাইয়ান আল আরাবীর পারদ+সালফার কেন্দ্রিক দ্বিমাত্রিক অতঃপর ১৮৯৭ সালে জে . জে. থমসন ইলেকট্রন, ১৯১১ সালে আনের্স্ট রাদারফোডর্ প্রোটন এবং ১৯৩২ সালে চ্যাডউইক নিউট্রন এবং ১৯৬৭ সালে মারে গেলম্যান কর্তৃক আবিস্কৃত ১০-১৬ সেঃমিঃ মাত্রার কোয়ার্ক হচ্ছে বস্ত্তমূলে পৌঁছার এ যাবৎকালের সর্বশেষ ধাপ বা স্তর। কোয়াকর্ নামের আরো ক্ষুদ্র ক্ষুদ্র কিছু কণা দিয়ে মূলত প্রোটন-নিউট্রন তৈরি। তখনো পযর্ন্ত বিজ্ঞানীরা মাত্র দুই ধরনের কোয়াকের্র খােঁজ পেয়েছেন। এদের একটার নাম আপ কোয়ার্ক, অন্যটার নাম ডাউন কোয়াকর্। পরে আরো চার রকম কোয়াকর্সহ ১৩ প্রকার মূল কণিকা আবিষ্কৃত হয়। এ ছাড়াও গ্র্যাভিটন কণাও এসে পড়ে মূল কণার জগতে। গ্র্যাভিটনকে বাদ দিলে আমাদের এই মহাবিশ্বে মূল কণিকার সংখ্যা হলো মোট ১৬টি। এর মধ্যে সব ধরনের কোয়াকর্ ও ইলেকট্রনসহ ১২টিকে বলে ফামির্ওন শ্রেণির কণা। আলোর ফোটন কণাসহ বাকি ৪টিকে বলে বোসন শ্রেণির কণা। কিন্তু স্ট্রিং তত্ত¡ানুযায়ী এই ১৬টি কণাই শেষ কথা নয়। বস্তুর আরো ক্ষুদ্রতম অস্তিত্ব রয়েছে। তা হলো স্ট্রিং বা তন্তু। স্ট্রিংয়ের ঘূণের্নই কণার সৃষ্টি। কী অসীম আমাদের এ মহাবিশ্ব! কত গ্রহ-নক্ষত্র, নীহারিকা ছায়াপথ! সেই আদিকাল থেকেই এই অসীমত্বের খেঁাজে অনুসন্ধিৎসু মানব মন নেমেছে অঁাটসঁাট বেঁধেই। কিন্তু দিন যত যাচ্ছে অসীম যেন পা বাড়াচ্ছে আরো নতুন অসীমের দিকে। আর সঙ্গে সঙ্গে মানুষ বুঝতে পেরেছে অসীমত্বের অসীম বিস্তার। কিন্তু মজার ব্যাপার হলো যেই না মানুষ আন্দাজ করতে পেরেছে অসীমের সীমানা তার সঙ্গে সঙ্গেই মানুষ এও বুঝতে পেরেছে আসলে আমাদের এ মহাবিশ্বটার প্রায় পুরোভাগই ফঁাকা, শূন্যতায় ভরা। আমি, আপনি, আমাদের পৃথিবী সবই আসলে খুবই স্বল্প কিছু পদাথের্র একটা গোলক ধঁাধা। বিশাল অসীমত্বের বেশে ফুলে-ফেঁপে যেন বসে আছে! অন্যদিকে এতকাল ধরে মানুষ যে স্থানকে বলে আসছে শূন্যস্থান সেই শূন্যস্থানই নাকি শূন্য নয়। সেখানে প্রতিনিয়ত ঘটে চলছে নানা ক্রিয়া-বিক্রিয়া। সেই শূন্যস্থানে আছে অফুরন্ত অসীম পরিমাণ শক্তি। ঠিক এভাবেই শূন্য আর অসীমের গ্যঁাড়াকলে আবদ্ধ থেকেছে মানুষ। প্রকৃতির কী এক রহস্য! আর এভাবেই প্রকৃতি থেকে মানুষ শিখেছে শূন্য আর অসীম কাকে বলে, প্রকৃতিকে বোঝার তরেই। এরউইন শ্রোডিঙ্গার, ওয়েনার্র হেইজেনবাগর্ এবং আরো অনেকের প্রতিষ্ঠিত কোয়ান্টাম সূত্র বস্তুর রহস্যকে হ্রাস করে আনে মাত্র কয়েকটি স্বতঃসিদ্ধ বিষয়ে। প্রথমটি, শক্তির প্রবাহ অবিরাম নয় (এমনটা আগে ভাবা হয়েছিল) বরং ‘কোয়ান্টা’ নামের টুকরো টুকরো অংশে বিভক্ত। উদাহরণস্বরূপ, ফোটন এক কোয়ান্টাম বা প্যাকেট আলো। দ্বিতীয়টি, সুপরিচিত শ্রোডিঙ্গার ওয়েভ ইকুয়েশন অনুযায়ী, উপ-পারমাণবিক (সাব-অ্যাটোমিক) কণাগুলোর কণা ও তরঙ্গ উভয় ধরনের গুণাগুণই রয়েছে। এ ইকুয়েশনের সাহায্যে বিভিন্ন রকমের বস্তুর গুণাগুণ সম্পকের্, সেসবকে গবেষণাগারে প্রকৃতভাবে তৈরি করার আগেই, গাণিতিকভাবে পূবার্ভাস প্রদান করা সম্ভব হয়েছে। কোয়ান্টাম সূত্রের চ‚ড়ান্ত পবির্ট হলো একটি আদশর্ মডেল যা উপ-পারমাণবিক কণা থেকে সুবিশাল বহিঃমহাবিশ্বের সুপারনোভা পযর্ন্ত সবকিছুর গুণাগুণ সম্পকের্ পূবার্ভাস প্রদান করতে পারে। ১৩ প্রকার মূল কণিকা আবিষ্কৃত হয়। এ ছাড়াও গ্র্যাভিটন কণাও এসে পড়ে মূল কণার জগতে। গ্র্যাভিটনকে হন্যে হয়ে খুঁজছেন বিজ্ঞানীরা, সে কথা আগেই বলেছি। গ্র্যাভিটনকে বাদ দিলে আমাদের এই মহাবিশ্বে মূল কণিকার সংখ্যা হলো মোট ১৬টি। এর মধ্যে সব ধরনের কোয়াকর্ ও ইলেকট্রনসহ ১২টিকে বলে ফামির্ওন শ্রেণির কণা। আলোর ফোটন কণাসহ বাকি ৪টিকে বলে বোসন শ্রেণির কণা। কিন্তু স্ট্রিং তত্ত¡ানুযায়ী এই ১৬টি কণাই শেষ কথা নয়। বস্তুর আরো ক্ষুদ্রতম অস্তিত্ব রয়েছে। তা হলো স্ট্রিং বা তন্তু। স্ট্রিংয়ের ঘূণের্নই কণার সৃষ্টি। ধরা যাক ইলেকট্রন বা কোয়াকের্র কথা। এগুলোকে যদি খুব সূ²ভাবে দেখা যেত তাহলে দেখতাম আসলে এগুলো কণা নয়, সুতার মতো অতি সূ² তন্তুর কম্পন। মনে করা যাক একটা চিকন চুড়ির কথা। চুড়িকে ঘুরিয়ে মেঝের ওপর ছেড়ে দিলে তখন আর একে চুড়ির মতো দেখায় না। দেখায় টেনিস বল আকারের একটা গোলকের মতো। আবার চুড়ির ঘূণর্ন যখন থেমে যাবে, তখন চুড়িকে আর বলের মতো দেখাবে না। কণা পদাথির্বদ্যায় কোয়ান্টামের বলবিদ্যা সফলভাবে প্রয়োগ করা সম্ভব হয়েছে। বিশেষ করে ফোটনের ওপর কোয়ান্টামের সফল প্রয়োগ তড়িচ্চুম্বকীয় তরঙ্গ ও বলকে শক্ত ভিত্তির ওপর দঁাড় করিয়েছে। কিন্তু মহাকষর্ বল বা তরঙ্গ, কোনোটার ওপরই কোয়ান্টাম মেকানিক্সের সফল প্রয়োগ আজ পযর্ন্ত সফল হয়নি। কারণ মাইক্রোস্কপিক কণার ওপরই কেবল কোয়ান্টাম সফল। কারণ বৃহৎ ভরের কোনো বস্তুর ক্ষেত্রে আজো আমাদের নিভর্র করতে হয় ক্ল্যাসিকাল মেকানিক্সের ওপর। তাই মহাকষের্র মতো মহাবৈশ্বিক বলের ক্ষেত্রে কোয়ান্টাম মেকানিক্স প্রায় অচল। কিন্তু কোয়ান্টামের প্রয়োগ না করলেই নয়। কেননা মহাকষির্বষয়ক অনেক প্রশ্নের সন্ধান এখনো পাওয়া যায়নি। বিশেষ করে মহাকষর্ বলের উৎস কীÑ তা-ই বিজ্ঞানীরা হন্যে হয়ে খুঁজে বেড়াচ্ছেন। এ ছাড়া মহাকষর্ বল ও তরঙ্গ উভয়ের সঙ্গেই জড়িয়ে আছে বস্তুর ভর। কিন্তু ভরের উৎস কী, তা আজো জানা সম্ভব হয়নি। এসবের উত্তর মহাবিশ্বের বিশাল দৃষ্টিকোণ খুঁজলে পাওয়া সম্ভব নয়। তাই গ্র্যাভিটন কণার অস্তিত্ব কল্পনা করে, তার ওপর কোয়ান্টাম মেকানিক্স প্রয়োগ করলেই কেবল এসব উত্তর পাওয়া সম্ভব। মোট কথা, গ্র্যাভিটনের সাহায্যে ‘কোয়ান্টাম মহাকষর্’ তত্তে¡র অবতারণা করতে চেয়েছিলেন বিজ্ঞানীরা। কিন্তু কোয়ান্টাম তত্ত¡ বা শুধু আপেক্ষিক তত্ত¡ দিয়ে কোনোভাবেই গ্র্যাভিটন কণার ব্যাখ্যা করা যাচ্ছে না। তখন বিজ্ঞানীরা চিন্তা করলেন, এমন একটা তত্তে¡র প্রয়োজন যা দিয়ে একসঙ্গে চার শ্রেণির বলকেই ব্যাখ্যা করা যায়। সেই তত্ত¡টার নাম ‘সুপার স্ট্রিং’ বা ‘অতিতন্তু তত্ত¡’। ইতিহাসের দিকে তাকানো যাক। ১৯৬৮ সাল। গ্যাব্রিয়েল ভেনেজিয়ানো পৃথিবীর সব শক্তিশালী কণা নিয়ে পরীক্ষা-নিরীক্ষা করছিলেন। তিনি পরীক্ষাগুলো করেছিলেন শক্তিশালী সব এক্সিলেটরে। তার উদ্দেশ্য ছিল নিউক্লীয় বলের প্রকৃতি নিণর্য় করা। পরীক্ষা থেকে পাওয়া ডাটাগুলো নিয়ে তিনি হিসাব কষতে বসলেন। হঠাৎ একদিন আবিষ্কার করলেন, তিনি যে ডাটাগুলো পেয়েছেন সেগুলো ২০০ বছর আগের সুইস গণিতজ্ঞ লিউনাডর্ অয়লারের বিটা ফাংশনের সঙ্গে মিলে যায়! কিন্তু কীভাবে এটা মিলল তা ব্যাখা করতে পারলেন না তরুণ ভেনেজিয়ানো। ভেনেজিয়ানোকে সহযোগিতা করতে এগিয়ে এলেন লিওনাডর্ সাসকিন্ড, হলজার নিলসেন আর ইউশিরো নামবু নামে তিন বিজ্ঞানী। চারজন শুরু করলেন যৌথ গবেষণা। অবশেষে ১৯৭০ সালে মিলল বিজ্ঞানের আশ্চযর্ আর আনকোরা তত্ত¡। এতদিন সবাই জানত, যে কোনো বস্তুকে ভাঙলে শেষ পযর্ন্ত মূল-কণিকাগুলো অবশিষ্ট থাকে। কিন্তু ভেনেজিয়ানোর তত্ত¡ থেকে পাওয়া গেল, দুটো কণা যদি সুতোর রিঙের মতো থাকে তবে এদের মধ্যে যে শক্তি বিনিময় হয় তাকে অয়লারের বিটা ফাংশন দিয়ে ব্যাখ্যা করা যায়। এর মানে, এই বিশ্বজগতের সবকিছুই গড়ে উঠেছে সূ² তন্তু দ্বারা। আর এ কারণেই এই তত্তে¡র নাম দেয়া হলো স্ট্রিং বা তন্তু। কিন্তু নতুন এই তত্ত¡কে তেমন গুরুত্ব দিল না বিজ্ঞানী সমাজ। বছরচারেক পরে আমেরিকান বিজ্ঞানী জন সোয়াজর্ আবার পাদপ্রদীপের আলোয় নিয়ে এলেন স্ট্রিং থিওরিকে। তার স্ট্রিং থিওরিতে সফলভাবে প্রয়োগ করলেন কোয়ান্টাম মেকানিক্স। সোয়াজর্ আর তার সহকমীর্রা আবিষ্কার করলেন এক অদ্ভুত ব্যাপার। তাদের তত্ত¡ থেকে ভবিষ্যদ্বাণী হিসেবে এক নতুন কণার হদিস মিলল। হিসাব মতে সেই কণা সম্পূণর্ ভরশূন্য এবং সেই কণার স্পিন ২। নাম দিলেন ‘গ্র্যাভিটন’। ভরশূন্য কণার অস্তিত্ব নতুন নয়। কিন্তু কোনো কণার স্পিন ২, এমন কথা আগে কেউ শোনেনি। বিজ্ঞানীরা ভাবলেন, সোয়াজের্র তত্তে¡ নিশ্চয়ই কোনো সমস্যা আছে। সংক্ষেপে স্ট্রিং তত্তে¡র মূল বিষয়টা জেনে নেয়া যাক। সাধারণত আমরা জানি প্রতিটি বস্তু পরমাণু নামে অতি ক্ষুদ্র ক্ষুদ্র কণা দিয়ে তৈরি। একটা সময় পযর্ ন্ত বিজ্ঞানীরা মনে করতেন পরমাণু বস্তুর ক্ষুদ্রতম কণা। এরপর ১৮৯৭ সালে জে জে থমসন ইলেকট্রন, ১৯১১ সালে আনের্স্ট রাদারফোডর্ প্রোটন এবং ১৯৩২ সালে চ্যাডউইক নিউট্রন আবিষ্কার করলেন। ১৯৬৭ সাল পযর্ন্ত এ তিনটি কণাকেই মূল কণিকা বলে মনে করা হতো। ওই বছরই মারে গেলম্যান প্রমাণ করলেন ইলেকট্রন অবিভাজ্য কণা হলেও প্রোটন ও নিউট্রন তা নয়। কোয়াকর্ নামের আরো ক্ষুদ্র ক্ষুদ্র কিছু কণা দিয়ে মূলত প্রোটন-নিউট্রন তৈরি। তখনো পযর্ন্ত বিজ্ঞানীরা মাত্র দুই ধরনের কোয়াকের্র খেঁাজ পেয়েছেন। এদের একটার নাম আপ কোয়াকর্, অন্যটার নাম ডাউন কোয়াকর্। পরে আরো চার রকম কোয়াকর্সহ ১৩ প্রকার মূল কণিকা আবিষ্কৃত হয়। এ ছাড়াও গ্র্যাভিটন কণাও এসে পড়ে মূল কণার জগতে। গ্র্যাভিটনকে হন্যে হয়ে খুঁজছেন বিজ্ঞানীরা, সে কথা আগেই বলেছি। গ্র্যাভিটনকে বাদ দিলে আমাদের এই মহাবিশ্বে মূল কণিকার সংখ্যা হলো মোট ১৬টি। এর মধ্যে সব ধরনের কোয়াকর্ ও ইলেকট্রনসহ ১২টিকে বলে ফামির্ওন শ্রেণির কণা। আলোর ফোটন কণাসহ বাকি ৪টিকে বলে বোসন শ্রেণির কণা। কিন্তু স্ট্রিং তত্ত¡ানুযায়ী এই ১৬টি কণাই শেষ কথা নয়। বস্তুর আরো ক্ষুদ্রতম অস্তিত্ব রয়েছে। তা হলো স্ট্রিং বা তন্তু। স্ট্রিংয়ের ঘূণের্নই কণার সৃষ্টি। ধরা যাক ইলেকট্রন বা কোয়াকের্র কথা। এগুলোকে যদি খুব সূ²ভাবে দেখা যেত তাহলে দেখতাম আসলে এগুলো কণা নয়, সুতার মতো অতি সূ² তন্তুর কম্পন। আধুনিক বিজ্ঞানের স্বীকৃত সৃষ্টিমূলের শেষ কথাঃ ১০-১৬ সেঃমিঃ বিশিষ্ট কোয়ার্ক, আধুনিক বিজ্ঞানের সম্ভাব্য সৃষ্টিমূলের শেষ কথাঃ ১০-৩৩ সেঃমিঃ বিশিষ্ট স্ট্রিং জেনে রেখো, তাঁরই কাজ সৃষ্টি করা এবং আদেশ প্রদান করা, আল্লাহ বরকতময় জগতসমূহের প্রতিপালক। (সূরা আল আ’রাফ ৭ : আয়াত ৫৪) তিনিই সৃষ্টি করেছেন সূর্য, চন্দ্র ও নক্ষত্ররাজি, যা তারই আদেশের আওতাধীন (সূরা আল আ’রাফ ৭ : আয়াত ৫৪)
Comments
Post a Comment