EDIT 01
আল হাদীসের আলোকে
“মানুষের দেহের সবকিছু জরাজীর্ণ হয়ে যাবে। কিন্তু নিতম্বের শেষ হাঁড় (ত্রিকোণাস্থিত) নষ্ট হয় না। মানুষকে তার সাথে বিন্যাস করা হবে। এরপর আল্লাহ বৃষ্টি বর্ষণ করবেন। ফলে মানুষ উদ্ভিদের মতো গজিয়ে উঠবে”। (বুখারী, মুসলিম-রিয়াদুস্ সালেহীন, হাদিস নং-১৮৩৬, ৪র্থ খন্ড)।
In the light of Al Hadith
“Everything in the human body will be worn out. But the last bone of the hip (triangular) is not damaged. People will be aligned with him. Then Allah will make it rain. As a result man will grow like a plant”. (Bukhari, Muslim-Riyadus Salehin, Hadith No. 1836, Vol. 4).
লক্ষ্যণীয় যে, পুরাতন কবরে খালি চোখে কখনও শত-সহস্র বছর পূর্বেকার মৃতদেহের কোন প্রকার চিহ্ন থাকার কথা নয়-এমনকি শক্তিশালী অণুবীক্ষণ যন্ত্রের সাহায্যেও যা দেখা বা উপলদ্ধি করা সম্ভব নয় বরং মানব দেহের অঙ্গ-প্রত্যঙ্গের সব কিছুই মাটিতে একেবারে একাকার হয়ে যাওয়ারই কথা। এমনতর অবস্থাতেও হাঁড়জাত মানব দেহের অতি পারমানবিক কণার ক্ষুদ্রাতি ক্ষুদ্র, সূক্ষ্ণাতি সূক্ষ্ণ অস্তিত্ত্বের ঘোষণা রয়েছে পবিত্র হাদিসে বর্ণিত “উস্ উস” শব্দে। পবিত্র হাদীসটি- নিম্নরূপঃ
It is noteworthy that in old graves, there should never be any traces of corpses of hundreds or thousands of years ago with the naked eye - not even with the help of powerful microscopes, but in such a situation, named oosoos,the microscopic particles of the bony of human body, "described in the following holy hadith:
“হযরত আবু হুরায়রা রাদ্বিয়াল্লাহু আ‘নহু থেকে বর্ণিত মহানবী হযরত মুহাম্মাদ সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেছেন, আদম সন্তানের শরীরে এমন একটি অস্থি আছে- যেটি মাটিতে কখনো মিশে যাবে না। (প্রশ্ন করা হলো) হে আল্লাহর রসূল! এটি কী ? তিনি বললেনঃ এটি হলো "উস্উস্"(অস্থি-Coccyx)” (বুখারী, আল নাসায়ী, আবু দাউদ, ইবনে মাজাহ, মুসনাদ এবং মুয়াত্তা হাদীস)।
Narrated by Hazrat Abu Hurairah Radiyallahu Anhu, the Holy Prophet Muhammad, may God bless him and grant him peace, said, "There is a bone in the body of the child of Adam - which will never merge into the ground. Then the questioner asked: O Messenger of Allah! what is it? He said: This is "Uswus (Bone-Coccyx)" (Bukhari, Al-Nasa'i, Abu Dawud, Ibn Majah, Musnad and Mu'atta Hadith).
উল্লেখ্য, মানব দেহের নার্ভাস সিস্টেমের প্রান্ত ধারক হিসাবে অস্থি বা ত্রিকোণাস্থিতির গুরুত্ব রয়েছে, এখানে যে প্লেয়াক্স রয়েছে তাকে বলা হয়“মূলাধার"।(সূত্রঃ বিজ্ঞান, সনাতন ধর্ম, বিশ্বসভ্যতা-৪র্থ অধ্যায়ঃ গোবর্দ্ধন গোপালদাস, ভারত, সূত্রঃ সাপ্তাহিক সোনার বাংলা।
Noted that triangular bones are important as the end holders of the nervous system of the human body, the Plax that is here is called "Central store".
পরীক্ষান্তে দেখা যাো যে, নারীর ডিম্বকোষের (Ovary) সাথে পুরুষের শুক্রকীটের(Sperm) নিষিক্ত হওয়ার মাত্র ২(দুই) সপ্তাহ পরে "উস্উস্" নামক শক্ত হাঁড়ের জন্ম হয়। ৩য় সপ্তাহেরের পর এই হাঁড় থেকে একটি লম্বা দন্ড তৈরী হয় তা পরবর্তীতে মেরুদন্ডের হাঁড় তৈরী করে এবং ধীরে ধরে পূর্ণাঙ্গ মানব দেহ তৈরী হতে থাকে। ১৫ দিবসে ভ্রুণের পৃষ্ঠদেশে এর প্রাথমিক গুণাগুণ বা ধর্ম পরিলক্ষিত হয় একটি নির্দিষ্ট প্রান্তে-যার নাম “প্রাথমিক সংযোগস্থল”। যেদিকে প্রাথমিক গুণাগুণ/ধর্ম প্রকাশিত হয় তাকে বলা হয়“ভ্রণের পৃষ্ঠদেশ”। প্রাথমিক গুণাগুণ এবং সংযোগস্থল থেকে যে সকল ভ্রুণ কোষ এবং অঙ্গ-প্রত্যঙ্গ গঠিত হয় তানিম্নরূপঃ
After the experiment, it was found that only 2 (two) weeks after the fertilization of the male sperm with the female ovary, a hard bone called "usus" is born. After the 3rd week, a long shaft is formed from this bone which later forms the vertebral bone and gradually the full human body begins to form. On the 15th day, the embryo's surface is marked with its primitive qualities or dharma at a certain point - called the "primary junction". The place where the primary qualities/dharma manifests is called the “surface of fetal”. The embryonic cells and organs that are formed from the primary cells and junctions are as follows:
(১) Ectoderm (ভ্রুণের বহিরাবরণ): কেন্দ্রীয় পেশী ও চর্ম দ্বারা গঠিত।
(২ Mesoderm (ভ্রুণের মধ্যকরণ): পাচনতন্ত্র গঠনে মন্থন পেশী, কংকালতন্ত্রের পেশী, সংবহনতন্ত্র, হৃদযন্ত্র, অস্থি, প্রজনন এবং মূত্রতন্ত্র গঠন(মূত্রাশয় ব্যতিত), ত্বকনিম্নস্হিত কোষ, নাসিকাতন্ত্র, প্লীহা এবং মূত্রগ্রন্থি এ পর্যায়ে গঠিত হয়।
(৩) Endoderm: পাচনতন্ত্রের সীমারেখা, শ্বসনতন্ত্র, পাচনতন্ত্র সম্পর্কিত অঙ্গপ্রত্যঙ্গ (যকৃত ও অগ্ন্যাশয় ব্যতীত), মূত্রাশয়, স্বরতন্ত্র ইত্যাদি এ পর্যায়ে গঠিত হয়। তারপর প্রাথমিক গুণাগুণ/ধর্ম এবং সংযোগস্থল নিতম্বের ত্রিকোণাকার অস্থি এলাকায় অবস্থান করে মেরুদন্ডের শেষে যাতে উস্উস্ Coccyx গঠিত হয়।
(1) Ectoderm: Composed of central muscles and skin.
(2 Mesoderm (embryonic intermediate): In the formation of digestive system, churning muscles, skeletal muscles, circulatory system, heart, bones, reproductive and urinary system (except bladder), subcutaneous cells, nasal system, spleen and urinary glands are formed at this stage.
(3) Endoderm: Lines of digestive system, respiratory system, organs related to digestive system (except liver and pancreas), bladder, vocal system etc. are formed at this stage. Then the primary quality/dharma and junction is located in the triangular bone area of the hip at the end of the spine to form the coccyx.
উল্লেখ্য, কবরস্থ হওয়ার পর শত-সহস্র-লক্ষ-কোটি বছর অতিক্রান্ত হলেও অস্থি বা উস্উস্ (Coccyx) এর ক্ষুদ্রাতি ক্ষুদ্র, সূক্ষ্ণাতি সূক্ষ্ণ হাঁড়জাত মানব দেহের এই অতি পারমানবিক কণার অস্তিত্ত্ব থেকেই যাবে।এ কারণে বিজ্ঞানীদের নিঃসংকোচ স্বীকারোক্তিঃ বিজ্ঞানীরা মৌলিক, আদি, আসল বা অকৃত্রিমভাবে ক্ষুদ্র-বৃহৎ বস্তু না পারেন সৃষ্টি করতে, না পারেন সমূলে বিনাশ করতে।
Noted that even if hundreds thousands of millions of years have passed after being buried; the existence of this ultra-atomic particle of the human body will continue to exist.
For this reason, scientists unhesitatingly admit: they can’t fundamentally create or destroy anything.
উপরোক্ত বর্ণনার আলোকে সুস্পষ্ট প্রতীয়মান যে, মহানবী সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর পবিত্র হাদীসে বর্ণিত উস্উস্ থেকে কিয়ামতের পর মানব জাতিকে পুনরায় সৃষ্টি করা সম্ভব।। উল্লেয্য, পারেগবেষকরা লক্ষ্য করেছেন যে, ভ্রুণকোষ গঠন এবং উৎপত্তি প্রাথমিক গুণাগুণ এবং সংযোগস্থল দ্বারা প্রভাবিত হয় এবং এগুলি গঠনের পূর্বে কোন কোষ (সেল) বিভাজিত হতে পারে না। যে সব গবেষকরা এটা প্রমাণ করেছেন তাঁদের অন্যতম একজন হলেন জার্মান বিজ্ঞানী হ্যান্স স্পিম্যান।
In the light of the above description, it is clear that it is possible to recreate the human race after the Resurrection from the Usus described in the Holy Hadith of the Holy Prophet.
Noted that researchers have observed embryonic cell formation and origin are influenced by initial properties and junctions, and that no cells can divide before they are formed. One of the researchers who proved this is the German scientist Hans Spiemann.
প্রাথমিক গুণাগুণ এবং সংযোগস্থল এর ওপর পরীক্ষা-নিরীক্ষার পর তিনি দেখলেন যে, এগুলিই হচ্ছে ভ্রুণ গঠনকারী মৌলিক উপাদান। তাই তিনি এদের নাম দিলেন প্রাইমারী সংগঠক। ১৯৩১ সালে হ্যান্স স্পিম্যান প্রাথমিক সংগঠনটি চূর্ণ-বিচূর্ণ করে ফেলেন । ১৯৩৩ সালে এটিকে সিদ্ধ (বয়েলড) করে দেখলেন যে, এতে কোষের কোনরূপ ক্ষতি হলো না বরং এ থেকে ২য় ভ্রুণ জন্মালো। ১৯৩৫ সালে হ্যান্স স্পিম্যান প্রাথমিক সংগঠক আবিস্কারের জন্য নোবেল পুরস্কার লাভ করেন।
After experimenting with primary qualities and junctions, he observed that these are the basic elements that make up the embryo. So he named them primary organizers. In 1931, Hans Spiemann broke up the original organization. Boiled it in 1933 he saw that there was no damage to the cells, instead, a second embryo was born from it. In 1935, Hans Spiemann won the Nobel Prize for the discovery of the elementary organizer.
উল্লেখ্য, ডঃ ওসমান আল জিলানী এবং শেখ আবদ-আল মাজিদ আজানদানি ১৪২৩ হিজরী সালের মাহে রমাদানে "উস্উস্"(অস্থি-Coccyx) এর ওপর ব্যাপক গবেষণা চালান।
It should be noted that Dr. Osman Al Jilani and Sheikh Abd-Al Majid Azandani carried out extensive research on "Uswus" (Bone-Coccyx) in the month of Ramadan in 1423 Hijri.
উক্ত গবেষকবৃন্দ কর্তৃক ৫টি "উস্উস্"(অস্থি-Coccyx) এর ২টির মধ্যে ১টি মেরুদন্ডের "উস্উস্"(অস্থি-Coccyx)-কে অন্ততঃ ১০ মিনিট ধরে একটি পাথরের ওপর গ্যাসের সাহায্যে পোড়ানো হলে সেগুলি উপ্তপ্ত লোহা যেরূপ লাল বর্ণ লাভ করে-তেমনি "উস্উস্"(অস্থি- Coccyx)গুলি প্রথমে লাল বর্ণ ধারণ করার পর শীতল হয়ে কালো বর্ণে অর্থাৎ কয়লায় পরিণত হয়।
The researchers burned 1 of the 5 "coccyx bones" of the spinal cord in a gas stove on a stone for at least 10 minutes, and observed that the coccyx turned red like a hot iron and turned black after cooling it became coals.
অতঃপর পোড়া "উস্উস্"(অস্থি- Coccyx) এর কয়লাগুলিকে জীবাণুমুক্ত বক্সের মধ্যে পুরে ইয়াহেনের রাজধানী সানার সবচেয়ে বিখ্যাত Laboratory-Al Olaki Laboratory -তে নিয়ে গেলে সানা বিশ্ববিদ্যালয়ের Histology Pathology তত্ত্বের অধ্যাপক পোড়া "উস্উস্"(অস্থি- Coccyx)গুলি বিশ্লেষণ করে দেখলেন যে, আগুনে "উস্উস্"(অস্থি- Coccyx) গুলিতে বড় ধরনের প্রভাবে পড়েনি অর্থাৎ কেবল স্থুল কোষগুলি পুড়ে গেলেও মূল "উস্উস্"(অস্থি- Coccyx) জীবন্ত রয়ে যায়।(সুবহানাল্লাহি ওয়াবিহামদিহী সুবহানাল্লাহিল আ'জীম)।
After that, when the burnt "usus" (Bone - Coccyx) were taken in a sterile box to the most famous Laboratory - Al Olaki Laboratory in Sana'a, the capital of Yemen, the Professor of Histology Pathology of Sana'a University analyzed the burnt "usus" (Bone - Coccyx) and saw with surprise that, the fire did not affect the "usuus" (bones- Coccyx) in a big way i.e. only the gross cells are burnt but the original "usuus" (bones- Coccyx) remained alive.(Subhanallahi Wabihamdihi Subhanallahil Azim). (Posted)
প্রশ্ন হচ্ছে, কখন কক্সি বা উসউস থেকে মানুষ পুনর্জন্ম নেবেন?
ইমানিশনিজম নামক এক প্রকার সৃষ্টিতত্ত্বমতে, সব সৃষ্টির, সব বস্তুর উদ্ভব হয়েছে First Reality বা First Principle বা Perfect God থেকে। ইমানিশনিজম হচ্ছে Transcendental Principle অর্থাৎ অলৌকিক বা মানুষের জ্ঞানে কুলায় না-এমন একটি বিষয় (Beyond human knowledge: Source: A Student Dictionary)|
ইংরেজী ‘Emanisnism’ শব্দটি এসেছে ল্যাটিন ‘Emanate’ শব্দ থেকে যার অর্থ To flow from...to pour fourth or out of অর্থাৎ কোন উৎস হতে বয়ে আসা, প্রবাহিত বা আগত, উৎসারিত ইত্যাদি।
যে প্রক্রিয়ায় উসউসের মাধ্যমে আমাদেরকে ফিরে যেতে হবে
আইনস্টাইনের সূত্রমতে, প্রতিটি বিষয়ের সুনির্দিষ্ট পরিণতি রয়েছে। ফারাবী আল আরাবীর মতে, প্রত্যকে বিষয় মূলে পৌঁছে। প্রশ্ন হচ্ছে, আমাদের উদ্ভবের মূল উৎস কি যেখানে কক্সি বা উসউস এর মাধ্যমে পুনর্জন্ম লাভ করে আমাদের ফিরে যেতে হবে?
এ প্রসঙ্গে পবিত্র কুরআনে আল্লাহ পাক ফরমানঃ ইন্নালিল্লাহি ওয়া ইন্না ইলাইহি রাজিউন। অর্থাৎ নিশ্চয় আমরা সবাই আল্লাহর জন্য এবং আমরা সবাই তাঁরই সান্নিধ্যে ফিরে যাবো।"[কুরআন ২:১৫৫–১৫৬ (অনুবাদ করেছেন মুহিউদ্দীন খান) এতে প্রমাণিত হয় যে, কক্সি বা উসউস থেকে পুনর্জন্ম হতে হলে আমাদেরকে আল্লাহর দিকে ফিরে যেতে হবে।xx
পুনর্জন্মের বৈজ্ঞানিক দর্শনঃ এক গবেষণায়
contracted
১৯৩৯ সালে এক গবেষণাপত্রে প্রকাশ, পদার্থ চুপসে যেতে যেতে একটি নির্দিষ্ট বিন্দু সীমার পর আর সংকুচিত হতে পারে না। পদার্থের সংকোচন যে বিন্দুতে এসে থেমে যায় সে বিন্দুকে স্ট্যান্ডার্ড মডেল থিওরিতে বলা হয় পরম বিন্দু বা সিঙ্গুলারিটি। স্ট্রিং থিওরিমতে,সেটি বিন্দুর মতো নয়,স্ট্রিয়ের মত-যার সম্ভাব্য সূক্ষ্ণতার পরিমাণ হচ্ছে মাত্র ১০-৩৩ সেন্টিমিটার। কণা পদার্থ বিজ্ঞানের মতে, এ যাবৎকালের পদার্থের প্রমাণিত পরম বিন্দু বা সিঙঢুলারিটি পাওয়া গেছে কোয়ার্কে-যার ক্ষুদ্রতার পরিমাণ হচ্ছেঃ ১০-১৬ সেন্টিমিটার।
একটি দানবীয় আকৃতির বিশাল নক্ষত্র নিজেদের জ্বালানী ফুরিয়ে নিঃশেষ হতে গিয়ে এক পরম বিন্দুতে এসে থেমে যায়। এ প্রক্রিয়ায় পৃথিবী পরিণত হবে সূচেঁর আগার ন্যায় ক্ষুদ্র। চুপসে যাওয়া এ ধরণের নক্ষত্রকে বলা হয় ব্ল্যাকহোল।
"অনেক নক্ষত্রই ক্রমান্বয়ে চুপসে যায়"।(মার্কিন গবেষক জন হুইলার সূত্রঃ বিজ্ঞানচিন্তা,পৃষ্ঠা ৩৯, বর্ষঃ৪, সংখ্যা ৬,মার্চ ২০২০)।
জর্জ ভল্কফ,হার্টল্যান্ড ও স্লাইন্ডার প্রমুখ ১৯৩৯ সালে বেশ কয়েকটি গবেষণায় জানতে পারেন একটি সুষম,গোলাকার,সুশৃঙ্খল প্রতিসম নক্ষত্র সংকুচিত হয়ে অসীম ঘণত্বের একটি বিন্দুতে পরিণত হবে।
একটি দাবনীয় নক্ষত্র অকল্পনীয় ক্ষুদ্র বিন্দুতে সংকুচিত হলেই তাকে বলে পরম বিন্দু বা সিঙ্গুলারিটি(ডেভিড শুকম্যান। উল্লেখ্য, স্থান-কাল পরমবিন্দুতে এসে ভেজ্গে পড়ে। এমনকি সময়ের সমাপ্তির সীমাও নির্দেশ করে।
আইনস্টাইনের সাখারণ আপেক্ষিকতার তত্ত্মতে,পরম বিন্দুতে এসে স্থান-কাল বিকৃত হয়ে পড়ে। স্ট্রিং থিওরিমতে, এক সময় মহাবিশ্বের তাপীয় মৃত্যু ঘটতে পারে।xx
সূত্রঃ বিজ্ঞানচিন্তা,পৃষ্ঠা ৩৯, বর্ষঃ৪, সংখ্যা ৬,মার্চ ২০২০)।
যেভাবে পৃথিবীর ভূখন্ড সংকুচিত হচ্ছেঃ
এক সময় পৃথিবী নামক মাটির গ্রহটি ছিল আস্ত এক মহাসাগর। পুরোটাই সাগর আর সাগর। সর্বপ্রথম যে ভূ-খন্ড পৃথিবীর বুকে সাগর চিরে জেগে উঠেছিল সে ভূখন্ডটির নাম উম্মুল ক্বোরা, এ স্থানের উপর প্রতিষ্ঠিত মক্কা মুয়াজ্জিমার পবিত্র ক্বাবা শরীফ।বৈশ্বিক উষ্ঞতার কারণে সাগরের পানির উচ্চতা বৃদ্ধির ফলে ছোটখাটো দ্বীপ ইতিমধ্যে সাগরে তলিয়ে আছে, বিশেষ করে জোয়ারের সময়। পরিবেশ বিজ্ঞানীদের ধারণা যেভাবে সাগরের পানির উচ্চতা বাড়ছে,অদূর ভবিষ্যতে মালদ্বীপসহ অনেক দ্বীপদেশ সাগর বক্ষে তলিয়ে যেতে পারে। এভাবে সাগর প্রসারিত হয়ে ভূমির মাত্রা কমার মধ্য দিয়ে পৃথিবী আবারও যেন ফিরে যাচ্ছে সাগর বক্ষ তথা স্মল ব্যাংয়ের দিকে।
বন যেভাবে উজার হচ্ছে
পৃথিবীর অক্সিজেন কেন্দ্র খ্যাত আমাজান থেকে শুরু করে আফ্রিকার জংগল, ভারত-বাংলাদেশের সুন্দরবনসহ বিশ্বের প্রধান প্রধান জীব বৈচিত্র্যের উৎস বনভূমি আজ ক্রমেই উজার হয়ে যাচ্ছে। হারিয়ে যাচ্ছে একে একে প্রাকৃতিক উদ্ভিদ প্রজাতি।
মাতৃভাষা যেভাবে হারিয়ে যাচ্ছে
ভাষা গবেষকদের মতে, প্রাকৃতিক মাতৃভাষা দ্রুত হারিয়ে যাচ্ছে পৃথিবীর বিভিন্ন প্রান্ত থেকে।কৃত্রিম ভাষা তদস্থলে প্রতিষ্ঠা পাছ্ছে যা স্মল ব্যাং-কে ত্বরাণ্বিত করছে দ্রুত।
মানব নৈতিকতাবোধ যেভাবে হারিয়ে যাচ্ছেঃ
এ প্রসঙ্গে ফ্রান্সের সমাজবিজ্ঞানী উইলিয়াম সরোকিনের ভাষ্যঃ অআমরা মৃত্যুমুখী সংস্কৃতিতে বাস করছি। জাতিসংঘের অআন্তঃসরকারী জলবায়ু সংক্রান্ত প্যানেল কমিটির ৬০০ পরিবেশ বিজ্ঞানীর সর্বসম্মত অভিমতঃ বৈশ্বিক উষঔতার কারণে সৃষ্ট জলবায়ুর পরিবর্তনের বড় ধরণের কারণ প্রকৃতির প্রতি মানব জাতির অনৈতিক আচরণ।xx
► বিবিধ
► বিগ ব্যাং পরবর্তী মুহুর্ত থেকে স্পষ্ট থেকে স্পষ্টতর হচ্ছিল যে, এক সুদূরপ্রসারী লক্ষ্য-উদ্দেশ্য সাধনের জন্য যেন হাইয়েস্ট এনার্জেটিক রেডিয়েশনে মহাবিস্ফোরণ ঘটানো হয়েছিল। তা-ও যেন পৃথিবীকে কেন্দ্র করে ১৩ লক্ষ গুণ বৃহৎ পরিসরের সূর্যকে এমন দূরত্বে স্থাপন করা হয়েছিল যার তেজ যেন প্রাণী তথা মানবকূলের জন্য সহনীয় হয়। অনুরূপ চাঁদ-কে এমন স্থানে প্রতিষ্ঠা করা হয়েছে যেন পৃথিবীর সাগর-মহাসাগরে নিয়মিত জোয়ার-ভাটা ঘটানো যায়। এ যাবৎকালের জানা মতে, মহাবিশ্বে প্রাণ সত্বার অধিকারী গ্রহ হচ্ছে পৃথিবী । এক গবেষণায় জানাগেছে মানব অনৈতকতার কারণে পরিবেশ দূষণের ফলে বৈশ্বিক উষ্ঞতার দরুন পৃথিবীর জলবায়ুর পরিবর্তন ঘটছে। এভাবে পৃথিবী এগিয়ে চলেছে স্মল ব্যাংয়ের দিকে।xx
► Misc
► From the moment after the Big Bang it became more and more clear that the Big Bang was caused by the highest energetic radiation to achieve a far-reaching goal. It is as if the sun, 13 lakh times as large as the center of the earth, was placed at such a distance that its heating was tolerable for the animal and human race. Similarly, the moon is positioned in such a way as to cause regular tides in the Earth's oceans. According to the known till now, Earth is the planet possessing life in the universe. A study has revealed that environmental pollution due to human misconduct is causing global warming to change the world's climate. Thus the world is moving towards the small bang.xx
স্ট্রিং থিওরিতে স্মল ব্যাং তথা পরকালীন জীবনের ধারণা!
স্ট্রিং তত্ত্বমতে, মহাবিশ্বের কণাগুলো যে বিন্দুতে বসে আছে, ওগুলো অ্যাবসুলেট মিনিমাম নয়। লোকাল মিনিমাম। একটা সময় গিয়ে লোকাল মিনিমাম অবস্থা ভেঙ্গে পড়তে পারে। তখন কণাগুলো আর এই বিন্দুতে থাকতে পারবে না। চলে যাবে অ্যাবসুলেট মিনিমাম শক্তির বিন্দুতে। আর সেই বিন্দুগুলো আসলে আলাদা আরেকটা মহাবিশ্বের (যেটা আসলে অ্যাকচুয়াল মহাবিশ্ব) অংশ। তাই লোকাল অবস্থা ভেঙ্গে পড়লে আমাদের বর্তমান মহাবিশ্বের আর অস্তিত্ব থাকবেনা অর্থাৎ বিগ ব্যাং পূর্ব হাইয়েস্ট এনার্জেটিক রেডিয়েশন নামক মহা আলোর পরম বিন্দু সিঙ্গুলারিটি অর্থাৎ স্ট্রিংয়ে পরিণত হবে । ফলে, এই মহাবিশ্বের সব উপাদান চলে যাবে আরেকটা মহাবিশ্বে....এটা যদি ঘটে, তাহলে মহাবিশ্বের তাপীয় মৃত্যুর আগেই আমরা অ্যাকচুয়াল মহাবিশ্বে চলে যাবে।(সূত্রঃhttps://www.linkedin.com/pulse/সটর-থওর-বজঞনদর-আশর-আল-ramzan-hossain/)। xx
অ্যাকচুয়াল মহাবিশ্বে পরকালীন জীবনের ধারণা
বিশ্বের প্রধান প্রধান ধর্ম মূলতঃ পরকালীন জীবনকে কেন্দ্র করে আবির্ভূত এবং পরিচালিত।কারণ, প্রতিটি ধর্মে রয়েছে পরকালীন জীবনের দুটি দিক যাকে মৃত্যুহীন শেষ গন্তব্য ধরা হয় । দিক দুইটি হচ্ছে স্বর্গ অথবা নরক, জান্নাত অথবা জাহান্নাম।
জান্নাত অথবা জাহান্নামের মাপকাঠি
প্রতিটি ধর্মের অভিন্ন বিশ্বাসঃ ভাল কাজের পুরস্কার স্বর্গ বা জান্নাত এবং মন্দ কাজের তিরস্কার নরক বা জাহান্নাম।
মৃত্যু এবং জীবন সৃষ্টির কারণ প্রসঙ্গে আল কুরআন
আল্লাজি খ্বলাকাল মাওতা ওয়াল হায়াতা.......
অর্থাৎ মৃত্যু এবং জীবন সৃষ্টির উদ্দেশ্য........
আমলসি বনতি হ্যায় জান্নাত আউর জাহান্নামভী।
আমলঃ পরকালীন পূঁজি
আমলের প্রকারভেদঃ
ইহকালে আমল গণনাযোগ্য, পরকালে ওজনে পরিমাপ যোগ্য।
দোয়া-কালামের বৈজ্ঞানিক দিক
পরকালভীতি যেভাবে লোপ পাচ্ছে
অপরাধ যেভাবে বাড়ছে তাতে কেয়ামতের পূর্ব লক্ষণ
We live in dying culture
আমরা মৃত্যুমুখী সংস্কৃতিতে বাস করছি (ফ্রান্সের সমাজ বিজ্ঞানী উইলিয়াম সরোকিন)।
উপরোক্ত বর্ণনার আলোকে এটা সুস্পষ্ট প্রতীয়মান যে, মহাবিশ্বের সম্প্রসারণ এক সময় বন্ধ হয়ে সংকোচন শুরু হবে এবং শেষ পরিণতিতে পরম বিন্দুতে এসে থেমে যাবে। পুরোপুরি মহাবিশ্ব কখন ভ্যানিশ বা ধ্বংস হবে-এ ব্যাপারে বিজ্ঞানীদের পরিস্কার ধারণা নেই।এ প্রসঙ্গে পবিত্র কুরআনে মহাল আ্ল্লাহ ফরমানঃকুল্লুমান আলাইয়া ফানঃ সবকিছু ধ্বংসশীল।
আল কুরআনের আলোকে স্মল ব্যাং তথা মহাবিশ্বকে গুটিয়ে নেওয়ার পূর্বে যা হবে
পবিত্র কুরআনের আলোকে কেয়ামতের সংক্ষিপ্ত বর্ণনাঃ
মহাবিশ্ব গুটিয়ে নেয়ার আগে যা ঘটবে Sūra 99: Zilzāl, or The Convulsion Verses 8 — Madani; Revealed at Medina — Sections 1 ١- إِذَا زُلْزِلَتِ الْأَرْضُ زِلْزম ◯ 1. When the Earth is Shaken to her (utmost) convulsion, ٢- وَأَخْرَجَتِ الْأَرْضُ أَثْقَالَهَا ◯ 2. And the Earth throws up Her burdens (from within), ٣- وَقَالَ الْإِنسَانُ مَا لَهَا ◯ 3. And man cries (distressed) : ‘ What is the matter with her ? ’— ٤- يَوْمَئِذٍ تُحَدِّثُ أَخْبَارَهَا ◯ 4. On that Day will she Declare her tidings : ٥- بِأَنَّ رَبَّكَ أَوْحَىٰ لَهَا ◯ 5. For that thy Lord will Have given her inspiration. ٦- يَوْمَئِذٍ يَصْدُرُ النَّاسُ أَشْتَاتًا لِّيُرَوْا أَعْمَالَهُمْ ◯ 6. On that Day will men Proceed in companies sorted out, To be shown the Deeds That they (had done). ٧- فَمَن يَعْمَلْ مِثْقَالَ ذَرَّةٍ خَيْرًا يَرَهُ ◯ 7. Then shall anyone who Has done an atom’s weight Of good, see it ! ٨- وَمَن يَعْمَلْ مِثْقَالَ ذَرَّةٍ شَرًّا يَرَهُ ◯ 8. And anyone who Has done an atom’s weight Of evil, shall see it. Sūra 88: Gāshiya, or The Overwhelming Event Verses 26 — Makki; Revealed at Mecca — Sections 1 ١- هَلْ أَتَاكَ حَدِيثُ الْغَاشِيَةِ ◯ 1. Has the story Reached thee, of The Overwhelming (Event) ? ٢- وُجُوهٌ يَوْمَئِذٍ خَاشِعَةٌ ◯ 2. Some faces, that Day Will be humiliated, ٣- عَامِلَةٌ نَّاصِبَةٌ ◯ 3. Laboring (hard), weary,— ٤- تَصْلَىٰ نَارًا حَامِيَةً ◯ 4. The while they enter The Blazing Fire,— ٥- تُسْقَىٰ مِنْ عَيْنٍ آنِيَةٍ ◯ 5. The while they are given, To drink, of a boiling hot spring, ٦- لَّيْسَ لَهُمْ طَعَامٌ إِلَّا مِن ضَرِيعٍ ◯ 6. No food will there be For them but a bitter Dhari’ ٧- لَّا يُسْمِنُ وَلَا يُغْنِي مِن جُوعٍ ◯ 7. Which will neither nourish Nor satisfy hunger. ٨- وُجُوهٌ يَوْمَئِذٍ نَّاعِمَةٌ ◯ 8. (Other) faces that Day Will be joyful, ٩- لِّسَعْيِهَا رَاضِيَةٌ ◯ 9. Pleased with their Striving,— ١٠- فِي جَنَّةٍ عَالِيَةٍ ◯ 10. In a Garden on high, ١١- لَّا تَسْمَعُ فِيهَا لَاغِيَةً ◯ 11. Where they shall hear No (word) of vanity : ١٢- فِيهَا عَيْنٌ جَارِيَةٌ ◯ 12. Therein will be A bubbling spring : ١٣- فِيهَا سُرُرٌ مَّرْفُوعَةٌ ◯ 13. Therein will be Thrones (Of dignity), raised on high, ١٤- وَأَكْوَابٌ مَّوْضُوعَةٌ ◯ 14. Goblets placed (ready), ١٥- وَنَمَارِقُ مَصْفُوفَةٌ ◯ 15. And Cushions set in rows, ١٦- وَزَرَابِيُّ مَبْثُوثَةٌ ◯ 16. And rich carpets (All) spread out. ١٧- أَفَلَا يَنظُرُونَ إِلَى الْإِبِلِ كَيْفَ خُلِقَتْ ◯ 17. Do they not look At the Camels, How they are made ?— ١٨- وَإِلَى السَّمَاءِ كَيْفَ رُفِعَتْ ◯ 18. And at the Sky, How it is raised high ?— ١٩- وَإِلَى الْجِبَالِ كَيْفَ نُصِبَتْ ◯ 19. And at the Mountains, How they are fixed firm ?— ٢٠- وَإِلَى الْأَرْضِ كَيْفَ سُطِحَتْ ◯ 20. And at the Earth, How it is spread out ? ٢١- فَذَكِّرْ إِنَّمَا أَنتَ مُذَكِّرٌ ◯ 21. Therefore do thou give Admonition, for thou art One to admonish. ٢٢- لَّسْتَ عَلَيْهِم بِمُصَيْطِرٍ ◯ 22. Thou art not one To manage (men’s) affairs. ٢٣- إِلَّا مَن تَوَلَّىٰ وَكَفَرَ ◯ 23. But if any turn away And reject God,— ٢٤- فَيُعَذِّبُهُ اللَّـهُ الْعَذَابَ الْأَكْبَرَ ◯ 24. God will punish him With a mighty Punishment. ٢٥- إِنَّ إِلَيْنَا إِيَابَهُمْ ◯ 25. For to Us will be Their Return ; ٢٦- ثُمَّ إِنَّ عَلَيْنَا حِسَابَهُم ◯ 26. Then it will be for Us To call them to account. Sūra 100: ‘Ādiyat, or Those that run Verses 11 — Makki; Revealed at Makkah — Sections 1 ١٠- وَحُصِّلَ مَا فِي الصُّدُورِ ◯ 10. And that which is (Locked up) in (human) breasts Is made manifest— ١١- إِنَّ رَبَّهُم بِهِمْ يَوْمَئِذٍ لَّخَبِيرٌ ◯ 11. That their Lord had been Well-acquainted with them, (Even to) that Day ? Sūra 101: Al-Qāri’a, or The Day of Noise and Clamour Verses 11 — Makki; Revealed at Mecca — Sections 1 ١- الْقَارِعَةُ ◯ 1. The (Day) of Noise and Clamour : ٢- مَا الْقَارِعَةُ ◯ 2. What is the (Day) Of Noise and Clamour ? ٣- وَمَا أَدْرَاكَ مَا الْقَارِعَةُ ◯ 3. And what will explain To thee what the (Day) Of Noise and Clamour is ? ٤- يَوْمَ يَكُونُ النَّاسُ كَالْفَرَاشِ الْمَبْثُوثِ ◯ 4. (It is) a Day whereon Men will be like moths Scattered about, ٥- وَتَكُونُ الْجِبَالُ كَالْعِهْنِ الْمَنفُوشِ ◯ 5. And the mountains Will be like carded wool. ٦- فَأَمَّا مَن ثَقُلَتْ مَوَازِينُهُ ◯ 6. Then, he whose Balance (of good deeds) Will be (found) heavy, ٧- فَهُوَ فِي عِيشَةٍ رَّاضِيَةٍ ◯ 7. Will be in a Life Of good pleasure and satisfaction. ٨- وَأَمَّا مَنْ خَفَّتْ مَوَازِينُهُ ◯ 8. But he whose Balance (of good deeds) Will be (found) light,— ٩- فَأُمُّهُ هَاوِيَةٌ ◯ 9. Will have his home In a (bottomless) Pit. ١٠- وَمَا أَدْرَاكَ مَا هِيَهْ ◯ 10. And what will explain To thee what this is ? ١١- نَارٌ حَامِيَةٌ ◯ 11. (It is) a Fire Blazing fiercely ! Sūra 86: Tāriq, or The Night-Visitant Verses 17 — Makki; Revealed at Mecca — Sections 1 ١- وَالسَّمَاءِ وَالطَّارِقِ ◯ 1. By the Sky And the Night-Visitant (Therein);— ٢- وَمَا أَدْرَاكَ مَا الطَّارِقُ ◯ 2. And what will explain to thee What the Night-Visitant is?— ٣- النَّجْمُ الثَّاقِبُ ◯ 3. (It is) the Star Of piercing brightness;– ٤- إِن كُلُّ نَفْسٍ لَّمَّا عَلَيْهَا حَافِظٌ ◯ 4. There is no soul but has A protector over it. ٥- فَلْيَنظُرِ الْإِنسَانُ مِمَّ خُلِقَ ◯ 5. Now let man but think From what he is created ! ٦- خُلِقَ مِن مَّاءٍ دَافِقٍ ◯ 6. He is created from a drop emitted— ٧- يَخْرُجُ مِن بَيْنِ الصُّلْبِ وَالتَّرَائِبِ ◯ 7. Proceeding from between The backbone and the ribs : ٨- إِنَّهُ عَلَىٰ رَجْعِهِ لَقَادِرٌ ◯ 8. Surely (God) is able To bring him back (To life) ! ٩- يَوْمَ تُبْلَى السَّرَائِرُ ◯ 9. The Day that (All) things secret Will be tested. ١٠- فَمَا لَهُ مِن قُوَّةٍ وَلَا نَاصِرٍ ◯ 10. (Man) will have No power, And no helper. ١١- وَالسَّمَاءِ ذَاتِ الرَّجْعِ ◯ 11. By the Firmament Which returns (in its round), ١٢- وَالْأَرْضِ ذَاتِ الصَّدْعِ ◯ 12. And by the Earth Which opens out (For the gushing of springs Or the sprouting of vegetation),— ١٣- إِنَّهُ لَقَوْلٌ فَصْلٌ ◯ 13. Behold this is the Word That distinguishes (Good From Evil) : ١٤- وَمَا هُوَ بِالْهَزْلِ ◯ 14. It is not a thing For amusement. ١٥- إِنَّهُمْ يَكِيدُونَ كَيْدًا ◯ 15. As for them, they Are but plotting a scheme, , ١٦- وَأَكِيدُ كَيْدًا ◯ 16. And I am planning A scheme. ١٧- فَمَهِّلِ الْكَافِرِينَ أَمْهِلْهُمْ رُوَيْدًا ◯ 17. Therefore grant a delay To the unbelievers: Give respite to them Gently (for a while). Sūra 102: Takāthur, or Piling Up Verses 8 — Makki; Revealed at Mecca — Sections 1 ١- أَلْهَاكُمُ التَّكَاثُرُ ◯ 1. The mutual rivalry For piling up (the good things Of this world) diverts you (From the more serious things), ٢- حَتَّىٰ زُرْتُمُ الْمَقَابِرَ ◯ 2. Until ye visit the graves. ٣- كَلَّا سَوْفَ تَعْلَمُونَ ◯ 3. But nay, ye soon shall Know (the reality). ٤- ثُمَّ كَلَّا سَوْفَ تَعْلَمُونَ ◯ 4. Again, ye soon shall know ! ٥- كَلَّا لَوْ تَعْلَمُونَ عِلْمَ الْيَقِينِ ◯ 5. Nay, were ye to know With certainty of mind, (Ye would beware !) ٦- لَتَرَوُنَّ الْجَحِيمَ ◯ 6. Ye shall certainly see Hell-fire ! ٧- ثُمَّ لَتَرَوُنَّهَا عَيْنَ الْيَقِينِ ◯ 7. Again, ye shall see it With certainty of sight ! ٨- ثُمَّ لَتُسْأَلُنَّ يَوْمَئِذٍ عَنِ النَّعِيمِ ◯ 8. Then, shall ye be Questioned that Day About the joy (Ye indulged in !)
এবার গবেষণা হোক কবর জিন্দেগীর অজানা কথা! প্রতিটি প্রাণীকে মৃত্যুর স্বাদ গ্রহণ করতে হবে-এ হচ্ছে আল্লাহ পাকের সৃষ্টি তত্তের চিরন্তন বিধান।
আধ্যাত্মিকতার আলোকে কেয়ামত পরবর্তী ঘটনাবলীঃ
আলো ছাড়া আর কোন কিছু আলোর বেগে চলতে পারে না, অসীম ভরত্বে গতি হারাবে সেই বস্ত্তু।
কোন বস্ত্ত যদি গতিশীল হয় তার দৈর্ঘ্য কমে যায়। বেড়ে যায় তার ভর এবং ধীর হয়ে যায় তার ঘড়ি।
আলোর বেগের বর্গগুণনে পাওয়া যায় বস্ত্তর শক্তিমান...E=mc2 সমীকরণে এ ভর জানা যায়।(বিজ্ঞানচিন্তা, ২৭)।
►সাধারণ মানুষ নাকের শ্বাস-প্রশ্বাস দেখে, সাধারণ চিকিৎসক হাতের পালস কিংবা স্ট্রেগ্রাফির সাহায্যে হৃদযন্ত্রের হার্টবিট দেখে, বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকরা লাইফ সাপোর্টের সময় মস্তিস্কে বিশেষ যন্ত্র সংযোগ করে গামা রশ্মির মাধ্যমে রোগীর অবস্থা নিরুপন করে থাকেন।
►প্রথম মানুষ,প্রথম গরু, প্রথম ছাগল, প্রথম মাছ, প্রথম বাঘ, ভাল্লুক কিভাবে এলো?
►নতুন বিজ্ঞানের নতুন প্রশ্নঃ
► মহাবিশ্ব কি দিয়ে তৈরি?
►উল্লেখ্য, এ যাবৎকাল পর্যন্ত পদার্থ বিজ্ঞান যে প্রশ্নে আবর্তিত সে প্রশ্নটি হচ্ছেঃ মহাবিশ্ব কিভাবে তৈরি?
►জীব হত্যা মহাপাপ।কিন্ত্ত কিভাবে রহিঙ্গা হত্যা করছেন? প্রতি উত্তরে বলা হয়ঃ মুসলমানের প্রাণ নেই।
►আলোর প্রকৃত গতি কি আইনস্টাইনের E=mc2 সমীকরণ মতে আসলেই সেকেন্ডে ১,৮৬,০০০ মাইল?
►অদৃাশ্য অস্তিত্বে কি শুধু ধর্মবিশ্বাসীরাই বিশ্বাস করে থাকেন? অদৃশ্য বাতাস-কে সাধারণ মানুষ অনুভবের দ্বারা বিশ্বাস করে থাকেন। বিজ্ঞানীরা অনুবীক্ষণ যন্ত্রের সাহায্যে অক্সিজেন, নাইট্রোজেন,হাইড্রোজেন, কার্বন ডাই অক্সাইড প্রভৃতি প্রাকৃতিক উপাদান স্বচক্ষে দর্শনের মাধ্যমে বিশ্বাস করে থাকেন। কিন্ত্ত প্রাণীর তার দেহের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ উপাদান প্রাণ সম্পর্কে না সাধারণ মানুষ না বিজ্ঞানী না সচক্ষে না সুপার ডিজিটাল মাইক্রোস্কোপে, না হাবল না ওয়েব জেমস টেলিস্কোপ কোনভাবেই অআজও দর্শন মেলেনি।
সহীহ হাদীসমতে কেয়ামতের আলামত
ছোট আলামত
১) নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের এর আগমণ ও মৃত্যু বরণ
কিয়ামতের সর্বপ্রথম আলামত হচ্ছে নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামএর আগমণ। কেননা তিনি হলেন সর্বশেষ নবী। তাঁর পর কিয়ামত পর্যন্ত আর কোন নবীর আগমণ হবেনা। নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামএর দুনিয়াতে আগমণের অর্থ হলো, দুনিয়ার বয়স শেষ হয়ে আসছে, কিয়ামত অতি নিকটবর্তী হয়ে গেছে। তিনি বলেনঃ
بُعِثْتُ أَنَا وَالسَّاعَةُ كَهَاتَيْنِ قَالَ وَضَمَّ السَّبَّابَةَ وَالْوُسْطَى
‘‘আমি এবং কিয়ামত এক সাথে প্রেরিত হয়েছি। একথা বলে নবী (ﷺ) হাতের শাহাদাত আঙ্গুল এবং মধ্যমা আঙ্গুলকে একত্রিত করে দেখালেন’’।[1]
[1] - মুসলিম, অধ্যায়ঃ কিয়ামতের আলামত।
২) চন্দ্র দ্বিখন্ডিত হওয়া
আল্লাহ তাআলা বলেনঃ اقْتَرَبَتْ السَّاعَةُ وَانْشَقَّ الْقَمَرُ‘‘কিয়ামত নিকটবর্তী হয়ে গেছে এবং চন্দ্র দ্বিখন্ডিত হয়েছে’’। (সূরা কামারঃ ১)
হাফেয ইবনে রজব বলেনঃ ‘‘আল্লাহ তাআলা চন্দ্র দ্বিখন্ডিত হওয়াকে কিয়ামত নিকটবর্তী হওয়ার অন্যতম আলামত হিসাবে নির্ধারণ করেছেন।[1]
আলেমদের সর্বসম্মত অভিমত হলো রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামএর যামানায় চন্দ্র দ্বিখন্ডিত হওয়ার ঘটনা সংঘটিত হয়ে গেছে। এ ব্যাপারে একাধিক সহীহ হাদীছ বর্ণিত হয়েছে। আনাস (রাঃ) বলেনঃ মক্কাবাসীরা যখন নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামএর কাছে নবুওয়াতের প্রমাণ চাইল তখন তিনি চন্দ্রকে দ্বিখন্ডিত করে দেখালেন’’।[2]
[1] - الحكم الجديرة بالإذاعة: ص ১৯
[2] - মুসলিম, অধ্যায়ঃ সিফাতুল মুনাফিকীন।
৩) বায়তুল মাকদিস (ফিলিস্তীন) বিজয়
নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেনঃ কিয়ামতের পূর্বে ছয়টি বস্ত্ত গণনা করো। তার মধ্যে বায়তুল মাকদিস বিজয় অন্যতম।[1]
উমার ইবনুল খাত্তাব (রাঃ)এর শাসনামলে হিজরী ১৬ সালে বায়তুল মাকদিছ বিজয়ের মাধ্যমে নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামএর ভবিষ্যৎ বাণী বাস্তবায়িত হয়েছে।
[1] - বুখারী, অধ্যায়ঃ কিতাবুল জিযইয়্যাহ।
৪) ধন-সম্পদ বৃদ্ধি পাবে
কিয়ামতের অন্যতম আলামত হচ্ছে মানুষের ধন-সম্পদ বৃদ্ধি পাবে। ফকীর-মিসকীন খুঁজে পাওয়া যাবেনা। সাদকা ও যাকাতের টাকা নিয়ে খুঁজা-খুঁজি করেও নেয়ার মত কোন লোক পাওয়া যাবেনা। নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেনঃ
لَا تَقُومُ السَّاعَةُ حَتَّى يَكْثُرَ فِيكُمُ الْمَالُ فَيَفِيضَ حَتَّى يُهِمَّ رَبَّ الْمَالِ مَنْ يَقْبَلُ صَدَقَتَهُ وَحَتَّى يَعْرِضَهُ فَيَقُولَ الَّذِي يَعْرِضُهُ عَلَيْهِ لَا أَرَبَ لِي
‘‘ততক্ষণ পর্যন্ত কিয়ামত প্রতিষ্ঠিত হবেনা যতক্ষণ না মানুষের ধন-সম্পদ বৃদ্ধি পাবে। মানুষ যাকাতের মাল নিয়ে সংকটে পড়বে। যাকাতের মাল মানুষের কাছে পেশ করা হলে সে বলবেঃ এতে আমার কোন প্রয়োজন নেই’’।[1]
কিয়ামতের এই আলামতটি একাধিক সময়ে প্রকাশিত হবে। উমার ইবনে আব্দুল আযীযের শাসন আমলে তা প্রকাশিত হয়েছিল।
ইয়াকূব ইবনে সুফিয়ান বলেনঃ ‘‘উমার ইবনে আব্দুল আযীযের শাসন আমলে লোকেরা প্রচুর সম্পদ নিয়ে আমাদের কাছে আগমণ করতো। তারা আমাদেরকে বলতঃ তোমরা যেখানে প্রয়োজন মনে কর সেখানে এগুলো বিতরণ করে দাও। গ্রহণ করার মত লোক না পাওয়া যাওয়ার কারণে তাদের কাছ থেকে কেউ মাল গ্রহণ করতে রাজী হতোনা। পরিশেষে মাল ফেরত নিতে বাধ্য হত। মোট কথা তাঁর শাসন আমলে যাকাত নেয়ার মত লোক ছিলনা’’।[2] কিয়ামতের এই আলামতটি ইমাম মাহদীর আমলে পুনরায় প্রকাশিত হবে।
[1] - মুসলিম, অধ্যায়ঃ কিতাবুয্ যাকাত।
[2] - ফাতহুল বারী, (১৩/৮৩)
৫) কিয়ামতের পূর্বে অনেক ফিতনার আবির্ভাব হবে
ফিতনা শব্দটি বিপদাপদ, বিশৃংখলা, পরীক্ষা করা ইত্যাদি বিভিন্ন অর্থে ব্যবহার হয়ে থাকে। অতঃপর শব্দটি প্রত্যেক অপছন্দনীয় বস্তু ও বিষয়ের ক্ষেত্রে ব্যবহার করা হয়েছে।
নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেছেনঃ ‘‘এই উম্মতের প্রথম যুগের মুমিনদেরকে ফিতনা থেকে হেফাজতে রাখা হয়েছে। আখেরী যামানায় এই উম্মতকে বিভিন্ন ধরণের ফিতনায় ও বিপদে ফেলে পরীক্ষা করা হবে। প্রবৃত্তির অনুসরণ ফির্কাবন্দী এবং দলাদলির কারণে ফিতনার সূচনা হবে। এতে সত্য-মিথ্যার মাঝে পার্থক্য করা কঠিন হয়ে যাবে এবং ঈমান নিয়ে বেঁচে থাকা কষ্টকর হবে। একে অপরের উপর তলোয়ার উঠাবে। ব্যাপক রক্তপাত ও প্রাণহানি ঘটবে। নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম সকল ফিতনা সম্পর্কে উম্মতকে সাবধান করেছেন এবং তা থেকে বাঁচার উপায়ও বলে দিয়েছেন।
আমর বিন আখতাব (রাঃ) বলেনঃ একদা নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম আমাদেরকে নিয়ে ফজর নামায পড়লেন। অতঃপর মিম্বারে উঠে যোহর নামায পর্যন্ত ভাষণ দিলেন। যোহর নামায আদায় করে পুনরায় ভাষণ শুরু করে আসর নামায পর্যন্ত ভাষণ দান করলেন। অতঃপর আসর নামায শেষে ভাষণ শুরু করে সূর্যাস্ত পর্যন্ত ভাষণ দিলেন। এই দীর্ঘ ভাষণে তিনি কিয়ামতের পূর্ব পর্যন্ত যা হবে সবই বলে দিয়েছেন। আমাদের মধ্যে যারা সবচেয়ে জ্ঞানী তারাই এগুলো মুখস্থ রেখেছেন’’।[1]
ফিতনাগুলো একটি অপরটির চেয়ে ভয়াবহ হবে। এমনকি ফিতনায় পড়ে মানুষ দ্বীন থেকে বের হয়ে যাবে। নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেনঃ
إِنَّ بَيْنَ يَدَيِ السَّاعَةِ فِتَنًا كَأَنَّهَا قِطَعُ اللَّيْلِ الْمُظْلِمِ يُصْبِحُ الرَّجُلُ فِيهَا مُؤْمِنًا وَيُمْسِي كَافِرًا وَيَبِيعُ فِيهَا أَقْوَامٌ خَلَاقَهُمْ بِعَرَضٍ مِنَ الدُّنْيَا
‘‘নিশ্চয়ই কিয়ামতের পূর্বে অন্ধকার রাত্রির মত ঘন কালো অনেক ফিতনার আবির্ভাব হবে। সকালে একজন লোক মুমিন অবস্থায় ঘুম থেকে জাগ্রত হবে। বিকালে সে কাফেরে পরিণত হবে। বহু সংখ্যক লোক ফিতনায় পড়ে দুনিয়ার সামান্য স্বার্থের বিনিময়ে তাদের চরিত্র ও আদর্শ বিক্রি করে দিবে।[2] অপর বর্ণনায় এসেছে, তোমাদের একজন দুনিয়ার সামান্য সম্পদের বিনিময়ে তার দ্বীন বিক্রি করে দিবে’’।[3]
৬) ভন্ড ও মিথ্যুক নবীদের আগমণ হবে
আমাদের নবী মুহাম্মাদ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম সর্বশেষ নবী ও রাসূল। কিয়ামতের পূর্বে আর কোন নবীর আগমণ ঘটবেনা। এটি ইসলামী আকীদার গুরুত্বপূর্ণ একটি দিক। কিন্তু কিয়ামতের পূর্বে অনেক মিথ্যুক মিথ্যা নবুওয়াতের দাবী করে মুসলমানদের ঈমান নষ্ট করার চেষ্টা করবে। তাই এ সম্পর্কে নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তাঁর উম্মাতকে যথাসময়ে সতর্ক করে দিয়েছেন। তিনি বলেনঃ
لَا تَقُومُ السَّاعَةُ حَتَّى يُبْعَثَ دَجَّالُونَ كَذَّابُونَ قَرِيبٌ مِنْ ثَلَاثِينَ كُلُّهُمْ يَزْعُمُ أَنَّهُ رَسُولُ اللَّهِ
‘‘ত্রিশজন মিথ্যুক আগমণের পূর্বে কিয়ামত প্রতিষ্ঠিত হবেনা। তারা সকলেই দাবী করবে যে, সে আল্লাহর রাসূল’’।[1] রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম আরো বলেনঃ
لَا تَقُومُ السَّاعَةُ حَتَّى تَلْحَقَ قَبَائِلُ مِنْ أُمَّتِي بِالْمُشْرِكِينَ وَحَتَّى يَعْبُدُوا الْأَوْثَانَ وَإِنَّهُ سَيَكُونُ فِي أُمَّتِي ثَلَاثُونَ كَذَّابُونَ كُلُّهُمْ يَزْعُمُ أَنَّهُ نَبِيٌّ وَأَنَا خَاتَمُ النَّبِيِّينَ لَا نَبِيَّ بَعْدِي
‘‘আমার উম্মতের একদল লোক মুশরিকদের সাথে মিলিত হওয়ার পূর্বে এবং মূর্তি পূজায় লিপ্ত হওয়ার পূর্বে কিয়ামত প্রতিষ্ঠিত হবেনা। আর আমার উম্মতের মধ্যে ত্রিশজন মিথ্যুকের আগমণ ঘটবে। তারা সকলেই নবুওয়াতের দাবী করবে। অথচ আমি সর্বশেষ নবী। আমার পর কিয়ামতের পূর্বে আর কোন নবী আসবেনা’’।[2]
নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামএর ভবিষ্যৎবাণী সত্য বলে প্রমাণিত হয়েছে। নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামএর শেষ বয়সের দিকে মুসায়লামা কায্যাব নবুওয়াতের দাবী করেছিল। তার অনুসারীর সংখ্যা বৃদ্ধি পেতে থাকলে ইয়ামামার যুদ্ধে আবু বকর (রাঃ)এর খেলাফতকালে সাহাবীগণ এই ফিতনার অবসান ঘটান। এমনিভাবে যুগে যুগে আরো অনেকেই নবুওয়াতের দাবী করেছে। তাদের মধ্যে আসওয়াদ আনাসী, সাজা নামক জনৈক মহিলা, মুখতার আছ-ছাকাফী, হারিছ আল-কায্যাব অন্যতম।
[1] - বুখারী, অধ্যায়ঃ কিতাবুল মানাকিব।
[2] - আবু দাউদ, তিরমিযী, অধ্যায়ঃ কিতাবুল ফিতান। ইমাম আলবানী সহীহ বলেছেন, মিশকাতুল মাসাবীহ, হাদীছ নং- ৫৪০৬।
৭) হেজায অঞ্চল থেকে বিরাট একটি আগুন বের হবে
নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম থেকে সহীহ হাদীছে বর্ণিত হয়েছে যে, কিয়ামতের পূর্বে হেজাযের (আরব উপদ্বীপের) যমিন থেকে বড় একটি আগুন বের হবে। এই আগুনের আলোতে সিরিয়ার বুসরা নামক স্থানের উটের গলা পর্যন্ত আলোকিত হয়ে যাবে। নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বলেনঃ
لَا تَقُومُ السَّاعَةُ حَتَّى تَخْرُجَ نَارٌ مِنْ أَرْضِ الْحِجَازِ تُضِيءُ أَعْنَاقَ الْإِبِلِ بِبُصْرَى
‘‘হেজাযের ভূমি থেকে একটি অগ্নি প্রকাশিত না হওয়া পর্যন্ত কিয়ামত কায়েম হবেনা। উক্ত অগ্নির আলোতে বুসরায় অবস্থানরত উটের গলা পর্যন্ত আলোকিত হবে’’।[1]
নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামএর ভবিষ্যৎবাণী সত্যে পরিণত হয়েছে। ইমাম নববী (রঃ) বলেনঃ ৬৫৪ হিজরীতে আমাদের যামানায় উল্লেখিত ঘটনা সংঘটিত হয়েছে। এটি
ছিল বিরাট একটি আগুন। পবিত্র মদ্বীনার পূর্ব দিক থেকে তা প্রকাশিত হয়েছিল। একমাস পর্যন্ত আগুনটি স্থায়ী ছিল।
[1] - বুখারী, অধ্যায়ঃ কিতাবুল ফিতান।
৮) আমানতের খেয়ানত হবে
আবূ হুরায়রা (রাঃ) হতে বর্ণিত, নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম কোন এক মজলিসে আলোচনা করছিলেন। এমন সময় একজন গ্রাম্য লোক এসে নবীজীকে এই বলে প্রশ্ন করলো যে, কিয়ামত কখন হবে? নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তাঁর কথা চালিয়ে যেতে থাকলেন। কিছু লোক মন্তব্য করলোঃ নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম লোকটির এই প্রশ্নকে অপছন্দ করেছেন। আবার কিছু লোক বললোঃ তিনি তাঁর কথা শুনতেই পান নি। নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম আলোচনা শেষে বললেনঃ প্রশ্নকারী লোকটি কোথায়? সে বললোঃ এই তো আমি। তখন নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বললেনঃ
إِذَا ضُيِّعَتِ الْأَمَانَةُ فَانْتَظِرِ السَّاعَةَ قَالَ كَيْفَ إِضَاعَتُهَا يَا رَسُولَ اللَّهِ قَالَ إِذَا أُسْنِدَ الْأَمْرُ إِلَى غَيْرِ أَهْلِهِ فَانْتَظِرِ السَّاعَةَ
‘‘যখন আমানতের খেয়ানত হবে তখন কিয়ামত নিকটবর্তী হয়ে গেছে বলে মনে করবে। লোকটি আবার প্রশ্ন করলোঃ কিভাবে আমানতের খেয়ানত করা হবে? নবীজী বললেনঃ যখন অযোগ্য লোকদেরকে দায়িত্ব দেয়া হবে তখন কিয়ামতের অপেক্ষা করতে থাকো’’।[1]
আখেরী যামানায় যখন আমানতদারের সংখ্যা কমে যাবে তখন বলা হবে অমুক গোত্রে একজন আমানতদার লোক আছে। লোকেরা একথা শুনে তার প্রশংসা করবে এবং বলবেঃ সে কতই না বুদ্ধিমান! সে কতই না মজবুত ঈমানের অধিকারী! অথচ তার অন্তরে সরিষার দানা পরিমাণ ঈমানও নেই।[2]
[1] - বুখারী, অধ্যায়ঃ কিতাবুর রিকাক।
[2] - বুখারী, অধ্যায়ঃ কিতাবুল ফিতান।
৯) দ্বীনী ইল্ম উঠে যাবে এবং মূর্খতা বিস্তার লাভ করবে
কিয়ামতের নিকটবর্তী সময়ে দ্বীনী ইলমের শিক্ষা ও চর্চা কমে যাবে এবং মানুষের মাঝে ব্যাপকভাবে দ্বীনী বিষয়ে মূর্খতা বিরাজ করবে। নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেনঃ
إِنَّ مِنْ أَشْرَاطِ السَّاعَةِ أَنْ يُرْفَعَ الْعِلْمُ وَيَثْبُتَ الْجَهْلُ
‘‘কিয়ামতের অন্যতম আলামত হচ্ছে ইলম উঠিয়ে নেয়া হবে এবং মানুষের মাঝে অজ্ঞতা বিস্তার লাভ করবে’’।[1] এখানে ইল্ম বলতে ইলমে দ্বীন তথা কুরআন-সুন্নাহর জ্ঞান উদ্দেশ্য। তিনি আরো বলেনঃ
إِنَّ اللَّهَ لَا يَقْبِضُ الْعِلْمَ انْتِزَاعًا يَنْتَزِعُهُ مِنَ الْعِبَادِ وَلَكِنْ يَقْبِضُ الْعِلْمَ بِقَبْضِ الْعُلَمَاءِ حَتَّى إِذَا لَمْ يُبْقِ عَالِمًا اتَّخَذَ النَّاسُ رُءُوسًا جُهَّالًا فَسُئِلُوا فَأَفْتَوْا بِغَيْرِ عِلْمٍ فَضَلُّوا وَأَضَلُّوا
‘‘আল্লাহ তাআলা মানুষের অন্তর থেকে ইল্মকে টেনে বের করে নিবেন না; বরং আলেমদের মৃত্যুর মাধ্যমে ইল্ম উঠিয়ে নিবেন। এমনকি যখন কোন আলেম অবশিষ্ট থাকবেনা তখন লোকেরা মূর্খদেরকে নেতা হিসাবে গ্রহণ করবে। তাদেরকে কোন মাসআলা সম্পর্কে জিজ্ঞেস করা হলে বিনা ইলমেই ফতোয়া দিবে। ফলে তারা নিজেরা গোমরাহ হবে এবং মানুষদেরকেও গোমরাহ করবে’’।[2]
ইমাম যাহাবী (রঃ) বলেনঃ বর্তমানে দ্বীনী ইল্ম কমে গেছে। অল্প সংখ্যক মানুষের মাঝেই ইলম চর্চা সীমিত হয়ে গেছে। সময় অতিবাহিত হওয়ার সাথে সাথে ইলমের আরো কমতি হবে এবং রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামএর বাণী সম্পূর্ণরূপে বাস্তবায়িত হবে।
ইমাম যাহাবীর যামানায় যদি এই অবস্থা হয়ে থাকে তাহলে বর্তমানকালের অবস্থা কেমন হতে পারে তা আমরা সহজেই উপলব্ধি করতে পারি। বর্তমানে ইলমে দ্বীনের চর্চা কমে গেছে। কুরআন-সুন্নার আলেমের সংখ্যা খুবই নগণ্য। যার ফলে শির্ক-বিদআতে অধিকাংশ মুসলিম সমাজ পরিপূর্ণ হয়ে গেছে। মোটকথা কিয়ামতের এই আলামতটি অনেক আগেই প্রকাশিত হয়েছে এবং নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামএর বাণী সত্য বলে প্রমাণিত হয়েছে।
[1] - বুখারী, অধ্যায়ঃ কিতাবুল ইল্ম।
[2] - বুখারী, অধ্যায়ঃ কিতাবুল ইলম।
১০) অন্যায়ভাবে যুলুম-নির্যাতনকারীর সংখ্যা বৃদ্ধি পাবে
নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেনঃ ‘‘আখেরী যামানায় এই উম্মতের মধ্যে একদল লোক আসবে, যাদের হাতে গরুর লেজের মত লাঠি থাকবে। তারা আল্লাহর অসন্তুষ্টি নিয়ে সকাল বেলা ঘর থেকে বের হবে এবং আল্লাহর ক্রোধ নিয়েই বিকাল বেলা ঘরে ফিরবে’’।[1]
বর্তমানে আমরা যদি ইসলামী অঞ্চলগুলোর দিকে দৃষ্টি দেই তবে দেখতে পাবো নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামএর বাণীটি বাস্তবে রূপান্তরিত হয়েছে। অনেক ক্ষেত্রেই দেখতে পাওয়া যায় যে, সরকারী কর্মকর্তা ও কর্মচারীরা অন্যায়ভাবে জনগণের উপর যুলুম-নির্যাতন করে থাকে। প্রায়ই সংবাদপত্র ও প্রচার মাধ্যমে জনগণের উপর পুলিশের বেধড়ক লাঠি চার্জের সংবাদ পাওয়া যায়।
[1] - মুসনাদে আহমাদ, ইমামম আলবানী সহীহ বলেছেন, দেখুন সহীহুল জামে হাদীছন নং- ৩৫৬০।
১১) যেনা-ব্যভিচার বৃদ্ধি পাবে
আল্লাহ তাআলা এবং তদীয় রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম ব্যভিচার হারাম করেছেন। ইহা হারাম হওয়া অতি সুস্পষ্ট বিষয়। এমন কোন মুসলিম নারী-পুরুষ পাওয়া যাবেনা, যে ব্যভিচার হারাম হওয়া সম্পর্কে অবগত নয়। আল্লাহ তাআলা বলেনঃ
)وَلَا تَقْرَبُوا الزِّنَى إِنَّهُ كَانَ فَاحِشَةً وَسَاءَ سَبِيلًا(
‘‘আর তোমরা ব্যভিচারের কাছেও যেয়োনা। নিশ্চয়ই এটা অশ্লীল কাজ এবং খুবই মন্দ পথ’’। (সূরা বানী ইসরাঈলঃ ৩২)
ব্যভিচারের ইহকালীন শাস্তি হলো বিবাহিত হলে রজম করা তথা পাথর মেরে হত্যা করা। আর অবিবাহিত হলে একশত বেত্রাঘাত করা।
সহীহ বুখারীতে সামুরা বিন জুনদুব (রাঃ) হতে বর্ণিত রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামএর স্বপ্নের দীর্ঘ হাদীছে কবরে ব্যভিচারীর ভয়াবহ শাস্তির বর্ণনা এসেছে। তিনি বলেনঃ
فَأَتَيْنَا عَلَى مِثْلِ التَّنُّورِ قَالَ فَأَحْسِبُ أَنَّهُ كَانَ يَقُولُ فَإِذَا فِيهِ لَغَطٌ وَأَصْوَاتٌ قَالَ فَاطَّلَعْنَا فِيهِ فَإِذَا فِيهِ رِجَالٌ وَنِسَاءٌ عُرَاةٌ وَإِذَا هُمْ يَأْتِيهِمْ لَهَبٌ مِنْ أَسْفَلَ مِنْهُمْ فَإِذَا أَتَاهُمْ ذَلِكَ اللَّهَبُ ضَوْضَوْا
‘‘আমরা একটি তন্দুর চুলার নিকট আগমণ করলাম। যার উপরিভাগ ছিল সংকীর্ণ এবং ভিতরের অংশ ছিল প্রশস্ত। তার ভিতরে আমরা কান্নার আওয়াজ শুনতে পেলাম। দেখতে পেলাম, তাতে রয়েছে কতগুলো উলঙ্গ নারী-পুরুষ। তাদের নিচের দিক থেকে আগুন প্রজ্বলিত করা হচ্ছে। অগ্নিশিখা প্রজ্ববলিত হওয়ার সাথে সাথে তারা উচ্চঃস্বরে চিৎকার করছে। রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম কারণ জানতে চাইলে ফেরেশতাদ্বয় বললেনঃ এরা হলো আপনার উম্মাতের ব্যভিচারী নারী-পুরুষ’’।[1]
কিয়ামতের পূর্বে উম্মতে মুহাম্মাদীর মধ্যে এই পাপের কাজটি ব্যাপকভাবে ছড়িয়ে পড়বে। নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেনঃ
إِنَّ مِنْ أَشْرَاطِ السَّاعَةِ أَنْ يُرْفَعَ الْعِلْمُ وَيَثْبُتَ الْجَهْلُ وَيُشْرَبَ الْخَمْرُ وَيَظْهَرَ الزِّنَا
‘‘নিশ্চয়ই কিয়ামতের অন্যতম আলামত হচ্ছে ইল্ম উঠিয়ে নেয়া হবে এবং মানুষের মাঝে অজ্ঞতা বিস্তার লাভ করবে, মদ্যপান ছড়িয়ে পড়বে এবং মুসলমানেরা ব্যভিচারে লিপ্ত হবে’’।[2] তিনি আরো বলেনঃ আমার উম্মতের একটি দল যেনাকে হালাল মনে করবে’’।[3] আখেরী যামানায় ভাল লোকগণ চলে যাওয়ার পর শুধুমাত্র দুষ্ট লোকেরা অবশিষ্ট থাকবে। তারা প্রকাশ্য দিবালোকে মানুষের সামনে গাধার ন্যায় ব্যভিচারে লিপ্ত হবে। তাদের উপরে কিয়ামত প্রতিষ্ঠিত হবে।[4]
ইমাম কুরতুবী বলেনঃ এ হাদীছে নবুওয়াতের অন্যতম প্রমাণ রয়েছে। কারণ তাঁর ভবিষ্যৎবাণী বাস্তবে পরিণত হয়েছে। আমাদের যামানায় প্রকাশ্যে ব্যভিচার সংঘটিত হচ্ছে।
কিয়ামতের এই আলামতটি বর্তমান মুসলিম সমাজেও ব্যাপকভাবে দেখা দিয়েছে, যা বিস্তারিত বলার অপেক্ষা রাখেনা। বড় পরিতাপের বিষয় এইযে, অনেক ইসলামী দেশে সরকারীভাবে ব্যভিচারের লাইসেন্স দেয়া হয়ে থাকে। এ সমস্ত মুসলিম দেশের শাসকরা রোজ কিয়ামতে আল্লাহর দরবারে কি জবাব দিবেন!!
[1] - বুখারী, অধ্যায়ঃ কিতাবুত তা’বীর
[2] - বুখারী, অধ্যায়ঃ কিতাবুল ইলম।
[3] - বুখারী, অধ্যায়ঃ কিতাবুল আশরিবা।
[4] - মুসলিম, অধ্যায়ঃ কিতাবুল ফিতান।
১
মুসলমানদের উপর সুদ আদান-প্রদান করা এবং সুদের ব্যবসা হারাম করা হয়েছে। আল্লাহ তাআলা বলেনঃ
)يَاأَيُّهَا الَّذِينَ آمَنُوا لَا تَأْكُلُوا الرِّبَا أَضْعَافًا مُضَاعَفَةً(
‘‘হে ঈমানদারগণ! তোমরা চক্রবৃদ্ধি হারে সুদ গ্রহণ করোনা। (সূরা আল-ইমরানঃ ১৩০) নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম সুদখোরকে অভিশাপ করেছেন’’।[1]
কিয়ামতের পূর্বে মুসলমানদের মাঝে সুদ গ্রহণ করা এবং সুদের ব্যবসা ব্যাপকভাবে বৃদ্ধি পাবে। নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেনঃ ‘‘আমার উম্মাতের মধ্যে এমন এক সময় আসবে যখন সম্পদ কামাই করার ব্যাপারে হালাল-হারামের বিবেচনা করা হবেনা’’।[2] তিনি আরো বলেনঃ
إِنَّ مِنْ أَشْرَاطِ السَّاعَةِ أَنْ يَظْهَرَ الرِّبَا
‘‘নিশ্চয়ই কিয়ামতের আলামতের অন্যতম আলামত হচ্ছে সুদের প্রসার লাভ করবে’’।[3]
নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামএর বাণী বাস্তবে পরিণত হয়েছে। অগণিত সংখ্যক মুসলমান আল্লাহ ও রাসূলের নির্দেশ অমান্য করে সুদের ব্যবসায় লিপ্ত হয়েছে। বর্তমান বিশ্বে এমন কোন ইসলামী দেশ পাওয়া যাবেনা যেখানে সুদী ব্যাংক নেই বা সুদের ব্যবসা নেই।
[1] - বুখারী, অধ্যায়ঃ কিতাবুল লিবাস।
[2] - তাবারানী, ইমাম মুনযেরী বলেনঃ হাদীছের বর্ণনাকারীগণ বিশ্বস্ত, আত্ তারগীব ওয়াত্ তারহীব, (৩/৯)।
[3] - বুখারী, অধ্যায়ঃ কিতাবুল বুয়ূ
১৩) গান বাজনা এবং গায়িকার সংখ্যা বেড়ে যাবে
আখেরী যামানার লোকেরা গান-বাজনা হালাল মনে করে ব্যাপকভাবে তাতে আসক্ত হয়ে পড়বে। বর্তমানে ব্যাপক আকারে এই আলামতটি দেখা দিয়েছে। মুসলমানদের ঘরে ঘরে টিভি, ডিস এন্টিনা, ইন্টারনেটসহ নানা ধরণের প্রযুক্তি ঢুকে পড়েছে। ২৪ঘন্টা এগুলোতে গান-বাজনা, উলঙ্গ, অর্ধালঙ্গ নারী পুরুষের ফাহেশা ছবি এবং ফিল্ম প্রদর্শিত হচ্ছে। এগুলো মুসলমানের সন্তানদের ঈমান আকীদা ও চরিত্র ভেঙ্গে চুরমার করে দিচ্ছে। যারা একাজে মত্ত হবে তাদেরকে তিন ধরণের শাস্তি দেয়া হবে। নবী সাললাললাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেনঃ আখেরী যামানায় কোন কোন জাতিকে মাটির নিচে দাবিয়ে দেয়া হবে, কোন জাতিকে উপরে উঠিয়ে নিক্ষেপ করে ধ্বংস করা হবে। আবার কারো চেহারা পরিবর্তন করে শুকর ও বানরে পরিণত করা হবে। নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামকে জিজ্ঞেস করা হলো কখন এরূপ করা হবে? তিনি বললেনঃ ‘‘যখন গান-বাজনা এবং গায়িকার সংখ্যা বৃদ্ধি পাবে’’।[1]
এই পাপে লিপ্ত হওয়ার কারণে অতীতের কোন কোন জাতিকে এভাবে ধ্বংস করা হয়েছে। বর্তমানেও আমরা প্রায়ই ভূমি ধসে ব্যাপক ধ্বংসের খবর প্রচার মাধ্যমে শুনতে পাচ্ছি। তবে চেহারা পরিবর্তনের ঘটনা সম্ভবত এখনও ঘটেনি। আমরা মুসলিম হিসেবে বিশ্বাস করি, আমাদের নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম যা বলেছেন তা কিয়ামতের আগে অবশ্যই ঘটবে। দ্বীন-ধর্ম ছেড়ে দিয়ে যে সমস্ত মুসলমান গান-বাজনা ও গায়ক-গায়িকা নিয়ে ব্যস্ত থাকবে তাদের উপরে চেহারা বিকৃত করার শাস্তি অবশ্যই আসবে।
[1] - ইবনে মাজাহ। ইমাম আলবানী সহীহ বলেছেন, সহীহুল জামে আস্ সাগীর হাদীছ নং- ২১৬
১৪) মদ্যপান হালাল মনে করবে
إِنَّ مِنْ أَشْرَاطِ السَّاعَةِ أَنْ يُشْرَبَ الخَمْرُ
‘‘নিশ্চয় কিয়ামতের আলামতের মধ্য থেকে একটি আলামত হচ্ছে মদ্যপান ছড়িয়ে পড়বে’’।[1]
মুসলমানদের মাঝে মদ্যপান ও মদের ব্যবসা ব্যাপকভাবে প্রচলিত রয়েছে। কেউ বা অন্য নাম দিয়ে কেউ বা হালাল মনে করে এতে লিপ্ত হচেছ। মুসলিম দেশগুলোতে প্রকাশ্যে মদ বিক্রি হচ্ছে। মুসলমানদের চরিত্র ও আদর্শ ধ্বংস কারার জন্যে সরকারী লাইসেন্স নিয়ে এক শ্রেণীর মুসলমান মদের ব্যবসায় লিপ্ত রয়েছে। মোটকথা নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামএর বাণী নিশ্চিতরূপে বাস্তবায়িত হয়েছে।
[1] - বুখারী, অধ্যায়ঃ কিতাবুল ইলম।
১৫) মসজিদ নিয়ে লোকেরা গর্ব করবে
নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেনঃ
لَا تَقُومُ السَّاعَةُ حَتَّى يَتَبَاهَى النَّاسُ فِي الْمَسَاجِدِ
‘‘যত দিন লোকেরা মসজিদ নিয়ে গর্ব না করবে ততদিন কিয়ামত হবেনা’’।[1]
ইমাম বুখারী (রঃ) আনাস (রাঃ) হতে বর্ণনা করে বলেনঃ ‘‘লোকেরা মসজিদ নিয়ে গর্ব করবে, কিন্তু ইবাদতের মাধ্যমে তা আবাদ করবেনা’’।[2] উমার (রাঃ) মসজিদকে জাঁকজমক করতে নিষেধ করেছেন।[3]
মোটকথা আল্লাহর ইবাদত ও আনুগত্যের মাধ্যমে মসজিদ আবাদ করতে হবে। তা বড় করে নির্মাণ করা ও চাকচিক্যময় করার মাধ্যমে নয়।
[1] - মুসনাদে আহমাদ। ইমাম আলবানী সহীহ বলেছেন, সহীহুল জামে, হাদীছ নং- ৭২৯৮।
[2] - বুখারী, অধ্যায়ঃ কিতাবুস্ সালাত।
[3] - ফাতহুল বারী, (১/৫৩৯)।
১৬) দালান-কোঠা নির্মাণে প্রতিযোগিতা করবে
সহীহ মুসলিম শরীফে উমার (রাঃ) বর্ণিত হয়েছে, একবার জিবরীল ফেরেশতা মানুষের আকৃতি ধরে ধবধবে সাদা পোষাক পরিধান করে নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামএর কাছে এসে ইসলাম, ঈমান এবং ইহসান সম্পর্কে প্রশ্ন করলেন। তিনি প্রশ্নগুলোর উত্তর দিলেন। তারপর জিবরীল (আঃ) কিয়ামতের সময় সম্পর্কে জিজ্ঞেস করলেন। উত্তরে তিনি বললেনঃ প্রশ্নকৃত ব্যক্তি প্রশ্নকারী অপেক্ষা এ বিষয়ে অধিক জ্ঞাত নন। অর্থাৎ এ ব্যাপারে আমি তোমার চেয়ে বেশী জানিনা। অতঃপর জিবরীল ফেরেশতা বললেনঃ তাহলে আমাকে কিয়ামতের কিছু আলামত সম্পর্কে বলে দিন। তিনি বললেনঃ ‘‘যখন তুমি দেখবে দাসী তার মনিবকে প্রসব করছে এবং এক সময়ের বস্ত্রহীন, অভাবী এবং উট-ছাগলের রাখালরা বড় বড় দালান-কোঠা তৈরী করছে তখন তুমি মনে করবে যে, কিয়ামত নিকটবর্তী’’।[1]
এই হাদীছে বর্ণিত কিয়ামতের আলামতটি অতি সুস্পষ্টভাবে প্রকাশিত হয়েছে এবং রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামএর বাণী বাস্তবে রূপ নিয়েছে। এক সময় যে সমস্ত মানুষের কাছে কোন সম্পদ ছিলনা, পরণে ভাল পোষাক ছিলনা, অপরের রাখালী করে জীবন ধারণ করতো তাদের কাছে প্রচুর ধন-সম্পদ হওয়ার কারণে তারা বহুতল ভবন নির্মাণে প্রতিযোগীতায় লিপ্ত হয়েছে। এমনিভাবে কিয়ামতের পূর্বে মানুষের আসল অবস্থার পরিবর্তন হয়ে যাবে। যারা মর্যাদার হকদার নয় তাদেরকে সম্মানজনক পদে অধিষ্ঠিত করা হবে। আমানতদারকে বিশ্বাস করা হবেনা; বরং খেয়ানতকারীকে আমানতদার হিসেবে গ্রহণ করা হবে।
[1] - সহীহ মুসলিম, অধ্যায়ঃ কিতাবুল ঈমান।
১৭) দাসী তার মনিবকে প্রসব করবে
উপরের হাদীছে নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম জিবরীল ফেরেশতার প্রশ্নের উত্তরে বলেছেনঃ ‘‘যখন তুমি দেখবে দাসী তার মনিবকে জন্ম দিচ্ছে তখন কিয়ামত নিকটবর্তী বলে মনে করবে’’।
‘‘দাসী তার মনিবকে প্রসব করবে’’ এ কথাটির ব্যাখ্যায় আলেমগণ কয়েকটি উক্তি করেছেনঃ
(১) ইসলাম অচিরেই বিস্তার লাভ করবে। মুসলমানদের হাতে কাফের-মুশরেকদের স্ত্রী-সন্তান বন্দী হয়ে দাস-দাসীতে পরিণত হবে। কোন ব্যক্তি তার ভাগে প্রাপ্ত দাসীর সাথে সহবাস করার কারণে দাসী গর্ভবতী হয়ে সন্তান প্রসব করবে। উক্ত ব্যক্তি মৃত্যু বরণ করার পর দাসীর গর্ভের সন্তান দাসীর মালিক হবে। মৃত্যুর পর পিতার সম্পদ ছেলের সম্পদে পরিণত হয়। এমতাবস্থায় সন্তান তার মায়ের সাথে আপন দাসীর ন্যায় ব্যবহার করবে।
(২) আখেরী যামানায় সন্তানেরা পিতা-মাতার অবাধ্য হবে। দাসীকে যেমন তার মনিব প্রহার করে, গালি দেয়, কষ্ট দেয়, সন্তানও তার মায়ের সাথে অনুরূপ ব্যবহার করবে।
ইমাম ইবনে হাজার আসকালানী ফাতহুল বারীতে এমতটিকেই প্রাধান্য দিয়েছেন। সে হিসেবে এই আলামতটি আমাদের সমাজে ব্যাপকভাবে বিদ্যমান। এমন কোন গ্রাম বা অঞ্চল পাওয়া যাবেনা যেখানে সন্তানেরা পিতা-মাতার সাথে অসৎ ব্যবহার করেনা।
১৯) সময় দ্রুত চলে যাবে
কিয়ামতের পূর্ব মুহূর্তে সময় দ্রুত চলে যাচ্ছে বলে মনে হবে। নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেনঃ
لَا تَقُومُ السَّاعَةُ حَتَّى يَتَقَارَبَ الزَّمَانُ فَتَكُونَ السَّنَةُ كَالشَّهْرِ وَيَكُونَ الشَّهْرُ كَالْجُمُعَةِ وَتَكُونَ الْجُمُعَةُ كَالْيَوْمِ وَيَكُونَ الْيَوْمُ كَالسَّاعَةِ
‘‘সময় ছোট হয়ে যাওয়ার পূর্বে কিয়ামত প্রতিষ্ঠিত হবেনা। এক বছরকে একমাসের সমান মনে হবে। এক মাসকে এক সপ্তাহের সমান মনে হবে। এক সপ্তাহকে একদিনের মত মনে হবে এবং এক দিনকে এক ঘন্টার সমান মনে হবে’’।[1]
আলেমগণ সময় খাটো হয়ে যাওয়ার কয়েকটি অর্থ করেছেন।
(১) সময় ছোট হয়ে যাওয়ার অর্থ হলো সময়ের বরকত কমে যাওয়া। আল্লামা ইবনে হাজার আসকালানী (রঃ) বলেনঃ আমাদের সময়ে এই আলামতটি প্রকাশিত হয়েছে। সময় দ্রুত চলে যাচ্ছে। অথচ আমাদের যুগের পূর্বে এ রকম মনে হতোনা।[2]
(২) কেউ কেউ বলেছেনঃ ইমাম মাহদীর যুগে এটি সংঘটিত হবে। কেননা তখন মানুষের মাঝে চরম সুখ শান্তি বিরাজ করবে। কারণ সুখ শান্তি ও আনন্দের মুহূর্তে সময় দীর্ঘ হলেও খাটো মনে হয়। আর দুঃখ কষ্টের মুহূর্তে সময় অল্প হলেও তা অনেক লম্বা মনে হয়।
(৩) কেউ কেউ বলেছেনঃ কিয়ামতের পূর্বে প্রকৃতভাবেই সময় খাটো হয়ে যাবে এবং তা দ্রুত চলে যাবে। সে হিসেবে এই আলামতটি এখনো আসেনি। তবে কিয়ামতের পূর্বে তা অবশ্যই আগমণ করবে এবং নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামএর বাণী বাস্তবে রূপ নিবে।
[1] - মুসনাদে আহমাদ ও তিরমিজী। ইমাম আলবানী সহীহ বলেছেন, সহীহুল জামে আস্ সাগীর, হাদীছ নং- ৭২৯৯।
[2] - ফাতহুলবারী, (১৩/১৬)
২০) মুসলমানেরা শির্কে লিপ্ত হবে
অধিকাংশ মুসলিম দেশের মাজারগুলোর প্রতি দৃষ্টি দিলে সহজেই অনুধাবন করা যাবে যে, কিয়ামতের এই আলামতটি প্রকাশিত হয়েছে। উম্মতে মুহাম্মাদীর বিরাট একটি অংশ আইয়্যামে জাহেলীয়াতের ন্যায় শির্কে লিপ্ত হয়েছে। কবর পাকা করে, বাঁধাই করে, কবরের উপর গম্বুজ ও মসজিদ নির্মাণ করে তাতে বিভিন্ন প্রকার শির্কের চর্চা হচ্ছে। কা’বা ঘরের তাওয়াফের ন্যায় কবরের চারপার্শ্বে তাওয়াফ হচ্ছে, বরকতের আশায় কবরের দেয়াল চুম্বন করা হচ্ছে, তাতে নযর-মানত পেশ করা হচ্ছে অলী-আওলীয়ার নামে পশু যবেহ করা হচ্ছে এবং কবরের পাশে ওরছ সহ বিভিন্ন অনুষ্ঠান হচ্ছে। নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেনঃ
لَا تَقُومُ السَّاعَةُ حَتَّى تَلْحَقَ قَبَائِلُ مِنْ أُمَّتِي بِالْمُشْرِكِينَ وَحَتَّى يَعْبُدُوا الْأَوْثَانَ
‘‘আমার উম্মাতের বহু সংখ্যক লোক মুশরেকদের সাথে মিলিত না হওয়া এবং মূর্তিপূজায় লিপ্ত না হওয়া পর্যন্ত কিয়ামত হবেনা’’।[1]
মোটকথা নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামএর ভবিষ্যৎ বাণী বাস্তবায়িত হয়েছে। এই উম্মতের বহু সংখ্যক মানুষের অবস্থা এরূপ হয়েছে যে, কোন কোন মাজারে দাফনকৃত অলীর জন্য সিজদা পর্যন্ত করা হচ্ছে। কোন কোন ক্ষেত্রে জীবিত পীরের সামনেও মাথানত করে সিজদা করা হচ্ছে, যা প্রকাশ্য শির্কের অন্তর্ভূক্ত। কুরআন ও হাদীছের শিক্ষা ভুলে গিয়ে মুসলিম জাতির অসংখ্য লোক এমনি আরো অগণিত শির্ক করছে যা বর্ণনা করে শেষ করা যাবেনা।
[1] - তিরমিজী, অধ্যায়ঃ কিতাবুল ফিতান, ইমাম আলবানী সহীহ বলেছেন, সহীহুল জামে আস্ সাগীর, হাদীছ নং- ৭২৯৫।
২১) ঘন ঘন বাজার হবে
আজ থেকে প্রায় দেড় হাজার বছর পূর্বে নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেছেনঃ لَا تَقُومُ السَّاعَةُ حَتَّى َيَتَقَارَبَ الْأَسْوَاقُ ‘‘ততক্ষণ পর্যন্ত কিয়ামত হবেনা যতক্ষণ না ঘন ঘন বাজার হবে’’।[1] নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামএর এই বাণী সত্যে পরিণত হয়েছে’’। পৃথিবীর সকল স্থানে একই সময়ে ঘন ঘন বাজার হবে- নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামএর বাণী তা প্রমাণ করেনা; বরং কোন দেশে কোন এক সময় তা হলেই নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামএর বাণী বাস্তবায়িত হয়েছে বলে মনে করতে হবে। আজকের প্রেক্ষাপটে আমরা যদি বাংলাদেশের জেলাসমূহের দিকে দৃষ্টি দেই তাহলে দেখতে পাবো যে সকল অঞ্চলেই ঘন ঘন বাজার তৈরী হয়েছে। এমন কোন রাস্তার মোড় পাওয়া যাবেনা যেখানে বাজার নেই।
কেউ কেউ বলেছেন ঘন ঘন বাজার হবে- একথার অর্থ হলো বর্তমানে আকাশ, স্থল ও জলপথে যাতায়াতের অত্যাধুনিক যানবাহন তৈরী হওয়াতে এক স্থান থেকে অন্য স্থানে যাতায়াত সহজ হয়ে গেছে। তাই বাজার দূরে দূরে হলেও অল্প সময়ে এক বাজার থেকে অন্য বাজারে যাওয়া যায় বিধায় বাজারগুলো খুব কাছাকাছি মনে হয়।
উত্তরে আমরা বলবোঃ হাদীছে বর্ণিত আসল অর্থ গ্রহণ করাই উত্তম। কারণ আমরা বিশ্বাস করি যে সমস্ত এলাকায় এখনও ঘন ঘন বাজার হয়নি সেখানেও কিয়ামত হওয়ার পূর্বে রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামএর বাণী সত্যে পরিণত হবে। কাজেই তাদের ব্যাখ্যা গ্রহণযোগ্য নয়।
[1] - মুসনাদে আহমাদ, মাজমাউয্ যাওয়ায়েদ (৭/৩২৭)।
বাকীগুলি সার্চ করিঃ https://www.hadithbd.com/books/detail/?pageNum_bookData=2&totalRows_bookData=41&book=21§ion=259
TIME moves forward. This is so obvious that we take it for granted, and the rule seems to apply everywhere we look. Observable phenomena only ever unfold in one temporal direction. We get older, not younger. We remember the past, not the future. Stars clump in galaxies rather than dispersing, and radioactive nuclei decay rather than assemble. The big question is, where does this forward-facing arrow of time come from? The most popular explanation relates to entropy. In this picture, the flow of time is essentially a manifestation of the universe’s inescapable inclination towards disorder. I have a different idea, or rather two. The first is that time goes both ways – that the big bang isn’t an origin for time, but a midpoint from which two parts of one universe play out, running in opposite directions. We can never see the one unfolding in the other temporal direction, yet it is there, I suggest, as a consequence of a fundamental law of nature. My second idea is even more radical. It could transform our understanding of the very nature of time. The consequences might even reach beyond the realm of classical physics, the world we can easily see, and offer fresh clues to the quantum nature of gravity – the elusive theory that marries general relativity with quantum mechanics. Physicists’ current ideas about time owe much to Albert Einstein. His general theory of relativity merged the three dimensions of space with one of time into space-time, the all-encompassing backdrop against which events play out. In principle, if not always in practice, we can move in space as… সময় কেন কেবল সামনের দিকে প্রবাহিত হয় তাই আমরা বয়স্ক হই, ছোট হই না যা পদার্থবিজ্ঞানের অন্যতম রহস্য। https://www.newscientist.com/article/mg24933240-900-did-time-flow-in-two-directions-from-the-big-bang-making-two-futures/
Comments
Post a Comment