নতুন বিজ্ঞানের পথে ফ্রন্টিয়ার সায়েন্সঃ নতুন বিজ্ঞানের পথে পুরাতন পৃথিবী (PART 04)
IRRSTC FINAL INSA ALLAH 25 MAY, 2024 (বাংলা) নতুন বিজ্ঞানঃ ফ্রন্টিয়ার সায়েন্সের পথে পৃথিবী up dt:09 বলা হয়ে থাকে, বিজ্ঞানের অগ্রযাত্রা সেদিন থেকে শুরু হয়েছিল, সেদিন মানব মনে সত্যকে জানার আগ্রহ জন্মেছিল। রাতে পূর্ণিমায় চাঁদের জোৎস্মার আলো দেখে, আমাবস্যায় ঘন অন্ধকারে তারা ভরা সুবিশাল আকাশ-মহাকাশ দেখে, দিনে সূর্যের প্রখর তাপ আর উজ্জ্বল আলো দেখে, বিশাল সাগরে নিয়মিত নিয়মমত জোয়ার-ভাটা দেখে, সবুজ-শ্যামল ঘন পল্লবে পল্লবিত গাছ-পালা দেখে, বন-বনান্তরে পাখ-পাখালি আর কীট-পতঙ্গ, জীব-জন্ত্রর সরব উপস্থিতিতে দেখে, সুউচ্চ পাহাড়-পর্বত দেখে, সুবিস্তৃত বিরাট-বিশাল সমতল পথ-প্রান্তর দেখে অনন্ত প্রশ্ন জেগেছিল সেই উষাকাল থেকেঃ এসব এলো কীভাবে? সাধারণ মানুষের আদি এই প্রশ্নের উত্তর খুঁজতে গিয়ে বিজ্ঞানীরা আরেক প্রশ্নের সম্মুখীন হন। প্রশ্নটি হচ্ছেঃ প্রকৃতিতে এতো এতো বস্তুকণা-এসব কি দিয়ে তৈরি? এই প্রশ্নের উত্তর খুঁজতে গিয়ে সর্বপ্রথম প্রাচীন গ্রীসের দার্শনিক-বিজ্ঞানী ডেমোক্রিটাস বস্তুমূলের উৎস খুঁজে পান অ্যাটমের মধ্যে যা বর্তমানে প্রত্যক্ষভাবে ১০-১৬ সেন্টিমিটার মাত্রার কোয়ার্কে ঠেকেছে । ১০-৩৩ সেন্টিমিটার মাত্রার স্ট্রিং এবং তার কম্পন এখনও পরীক্ষাধীন। যদিও IRRSTC এর এক দীর্ঘমেয়াদী গবেষণায় বলা হয়, স্ট্রিংয়ের প্রমাণ রয়েছে ২০১২ সালে সার্ণ কর্তৃক হিগস বোসন কণা আবিস্কারের মধ্যে। সার্ণের কণা চূর্ণকরণ সাইক্লোটন যন্ত্র ল্যার্জ হ্যাড্রনে সেকেন্ডে ট্রিলিয়ন, ট্রিলিয়ন কম্পন সৃষ্টি করে মহাবিশ্বের ভরসম্পন্ন আদি বস্ত্ত কণা হিগসবোসন প্রথমবারের মতো কৃত্রিমভাবে উৎপন্ন করা হয়েছে যাতে প্রমাণিত হয় কম্পন হচ্ছে কণা উৎপন্নের একক উৎস। তবে, অ্যাটম, কোয়ার্ক কিংবা স্ট্রিং এবং তার কম্পন ইত্যাদি যাই হোক না কেন, সব বস্ত্তকণারই একক উৎসমূল হাইয়েস্ট এনার্জেটিক রেডিয়েশন যা ছিল চার মহাবল, ডার্ক এনার্জি, ডার্ক ম্যাটার এবং সকল বস্ত্তকণার একক উৎসমূল। উল্লেখ্য, বৃটিশ পদার্থ বিজ্ঞানী,বিগ ব্যাং তত্ত্বের অন্যতম স্থপতি স্টিফেন হকিংয়ের মতে, এক সময় মহাবিশ্ব বলতে কিছুই ছিল না। তাঁর মতে, শুন্য থেকে এই মহাবিশ্বের উদ্ভব ঘটেছে। পক্ষান্তরে শুন্য অবস্থায় শক্তি বিরাজমান থাকা কোয়ান্টাম মেকানিক্সে নতুন কথা নয় (সূত্রঃবিজ্ঞানচিন্তা)। অর্থাৎ শুন্য কেবল শুন্য নয়, রীতিমত শক্তির আধার বা ভান্ডার। শক্তির এই মূল ভান্ডারের একক নাম হচ্ছে হাইয়েস্ট এনার্জেটিক রেডিয়েশন যাতে বিগ ব্যাংয়ের আগে ডার্ক এনার্জি, ডার্ক ম্যাটারসহ ৪ মহাবল যথাক্রমে ১.সবল নিউক্লিয় বল ২.দূর্বল নিউক্লিয় বল ৩.বিদ্যুৎ-চুম্বকীয় বল এবং ৪. মহাকর্ষ বল একীভূত ছিল। তখন বস্ত্কণার কোন অস্তিত্বই ছিল না। গুটিয়ে নেয়া হবে আকাশ। আইনস্টাইন চেয়েছিলেন ক্ল্যাসিকেলের সাথে কোয়ান্টামের সমন্বয়ে এমন এক তত্ত্ব উদ্ভাবনের যদ্বারা মহাজাগতিক সব কিছুকে একসূত্রে গাঁথা যায়।এ জন্য দরকার ছিল চার মহাবল-কে একীভূতকরণ।আই.আর.আর.এস.টি.সির মতে, বিগ ব্যাংয়ের পূর্বে এমনকি বিগ ব্যাংয়ের পরও চার বল এক ছিল।বিগ ব্যাংয়ের পূর্বেকার চার বলের একক নাম ছিল হাইয়েস্ট এনার্জেটিক রেডিয়েশন যার বিস্ফোরণকে বলা হয় বিগ ব্যাং।আই.আর.আর.এস.টি.সির মতে, একীভূতকরণের ক্ষেত্রে যে সব প্রতিবন্ধকতা তার মধ্যে অন্যতম হচ্ছেঃ প্রশ্নের গভীরতা। কঠিন কঠিন প্রশ্নের কারণে বৈজ্ঞানিক অআবিস্কার কঠিন থেকে কঠিনতর হয়ে পড়েছে।অথচ পদার্থ বিজ্ঞানের মতে, এমন প্রশ্ন অআছে যার উত্তর এই বিশ্বে পাওয়া যাবে না।এমন একটি প্রশ্নঃ স্ট্রেন্জ কোয়ার্ক দেখতে কেমন? ইসলামী সৃষ্টিতত্ত্ব বিগ ব্যাং ٣٠- أَوَلَمْ يَرَ الَّذِينَ كَفَرُوا أَنَّ السَّمَاوَاتِ وَالْأَرْضَ كَانَتَا رَتْقًا فَفَتَقْنَاهُمَا وَجَعَلْنَا مِنَ الْمَاءِ كُلَّ شَيْءٍ حَيٍّ أَفَلَا يُؤْمِنُونَ ◯ 30. Do not the Unbelievers see That the heavens and the earth Were joined together (as one Unit of Creation), before We clove them asunder ? We made from water Every living thing. Will they Not then believe ? Sūra 21: Anbiyāa, or The Prophets,Ayat:30, Verses 112 — Makki; Revealed at Makkah — Sections 7,https://quranyusufali.com/21/ মহান আল্লাহ বলছেন, আমি নিজ হাতে আসমান সৃষ্টি করেছি এবং আমিই এর বিস্তৃতি ঘটাই। (সুরা জারিয়াত, আয়াত : ৪৭)। “বিশ্ব বলিতে পূর্বে কিছুই ছিলনা”। (ফাতওয়ায়ে সিদ্দিকীন, ১ম খন্ড, পৃষ্ঠাঃ ৭৪, কুরআন হাদীস রিসার্চ সেন্টার (ফুরফুরা দরবারের গবেষণা প্রতিষ্ঠান), প্রকাশনায়ঃ ইশায়াতে ইসলাম, কুতুবখানা, মার্কাজে ইশায়াতে ইসলাম, ২/২, দারুস সালাম, মীরপুর, ঢাকা-১২১৬), প্রকাশকালঃ সাবান-১৪২০হিজরি, নভেম্বর ১৯৯৯ ঈসায়ী সাল)। “গোটা সৃষ্টিকূলের মধ্যে আল্লাহ তাআলার কুন ফাইয়া কুনের তাজাল্লীই বিরাজমান” (ইশায়াতে ইসলাম, কুতুবখানা, মার্কাজে ইশায়াতে ইসলাম, ২/২, দারুস সালাম, মীরপুর পৃঃ ৩৮)। সৃষ্টিতত্ত্ব সম্পর্কিত ইসলামী আকিদা-বিশ্বাসমতে, “আল্লাহ তায়ালা সমস্ত বস্তুকে পূর্ব উপাদান ব্যতীত সৃষ্টি করেছেন” (প্রাগুক্ত পৃঃ ১৬২ (আল্লাহপাক) “বিশেষ মুছলেহাতের কারণে প্রথমে বিনা উপাদানে উপকরণে সৃষ্টি করে, সেই সব উপাদানের মাধ্যমে বিভিন্ন বস্তু সৃষ্টি করার ব্যবস্থা চালু করেছেন”(সূত্রঃ ইশায়াতে ইসলাম, কুতুবখানা, মার্কাজে ইশায়াতে ইসলাম, ২/২, দারুস সালাম, মীরপুর ফাতাওয়ায়ে সিদ্দিকীন, ১-৪ খন্ড, পৃষ্ঠা ১৬৩) উল্লেখ্য, এক সময় কেবলই আল্লাহ (ﺎﻠﻠﻪ) আর আল্লাহ-ই ছিলেন। মহান আল্লাহ ব্যতিত সৃষ্টি (ﻣﺨﻟﻖ) সত্বার কোন অস্তিত্ব কখনই ছিল না। কোন এক মহাসন্ধিক্ষণে আল্লাহপাক তাঁর কুদরতি এক মহাপরিকল্পনার (Master Plan) অধীনে ‘কুন’ হয়ে যাও‘’- এই কুদরতি আদেশ বা হুকুমবলে সম্পূর্ণ ‘নাই’ (Nil/Zero) থেকে কোন প্রকার জাগতিক তত্ত্ব, তথ্য, উপাত্ত, সূত্র, আইন-কানুন, বিধি-বিধান থেকে সম্পূর্ণ পুতঃপবিত্র (সুবহান) এবং অনির্ভরশীল(স্বমাদ) হয়ে সৃষ্টি করলেন এক মহাসৃষ্টি সত্বা (Great Creation) বা ﻣﺨﻟﻖ)-যাতে সম্মিলিতভাবে (Combined) নিহিত ছিল আকাশ/মহাকাশ[(ﺍﻠﺴﺎﻮﺍﺕ)( (Sky)] ও জমিন [ﻼﻠﺭﺽ Earth (পৃথিবী) আবার কোন এক বিশেষ মুহুর্তে তা পৃথক করে আজকের আসমান ও জমিন-এই দু’টি পৃথক পৃথক সত্বা সৃষ্টি করেছেন। পরকালীন জীবনের বৈজ্ঞানিকতাঃ পদার্থ বিজ্ঞানের সূত্র অনুসারে পদার্থ চুপসে যেতে যেতে এক পর্যায়ে এসে পুরোপুরি ভ্যানিশ (বিনাশ) না হয়ে চুপসানোর প্রবণতা থেমে যায়, পদার্থের এই থেমে যাওয়া অবস্থাকে আইনস্টাইন বলেছেন, পরম বিন্দু (সিঙ্গুলারিটি)। উল্লেখ্য, কাঠ পুড়িয়ে ভ্যানিশ করা যায় না, তা রূপ নেয় কয়লা বা কার্বনে, মৃতদেহ গলে পঁচে রূপ নেয় নাইট্রোজেনে। গাছ কাটা হলে কাঠে, মাটিতে পোঁতা হলে প্রাকৃতিকভাবে অর্থাৎ মহান আল্লাহর কুদরতিভাবে গাছ পরিণত হয় কয়লা, কার্বন, খনিজ তেল, পেট্টল, গ্যাস, হীরা ইত্যাদিতে পরিণত হয়।, রাসায়নিক প্রক্রিয়ায় গাছের নির্যাস থেকে নানানপ্রকার ওষুধ তৈরি হয়। পুরোপুরি কোনো কিছু ধ্বংস হয় না। এ কারণে বিজ্ঞানীদের স্বীকারোক্তিঃ তাঁরা না পারে মৌলিকভাবে কিছু সৃষ্টিতে না পারেন ধ্বংসে। অর্থাৎ প্রতিটি বস্ত্তকণা রূপ নেয় পরম বিন্দুতে। স্ট্রিং থিওরিমতে বিন্দু নয় তা স্ট্রিং ও তার কম্পনমাত্র। আই.আর.আর.এসি মনে করে,পদার্থের পুরোপুরি ভ্যানিশ না হওয়ার কারণ পুরোপুরি ভ্যানিশ হওয়ার জন্য একটা নির্ধারিত সময় রয়েছে তা হচ্ছে কেয়ামত। সাধারণ আপেক্ষিকতার তত্ত্বে নিহিত ছিল দানবীয় অআকৃতির একটি বিশাল নক্ষত্র চুপসে যেতে যেতে মহাকাশে অতিভারী বস্ত্ত আকারে অবস্থানরত ব্ল্যাক হোলের ধারণা। সাধারণ আপেক্ষিকতার তত্ত্বের আলোকে ধারণার বাস্তবতা প্রথম প্রকাশ করেছিলেন জার্মান পদার্থবিজ্ঞানী কার্ল সোয়ার্জশিল্ড। এ তত্ত্বানুসারে, পৃথিবী থেকে ১৩ লক্ষ গুণ বড় সূর্য তার জ্বালানী ফুরিয়ে চুপসে যেতে যেতে যে পরমত্ব লাভ করবে তাতে সূর্যের আয়তন দাঁড়াবে একটি সাধারণ খেলার মাঠের মত। পৃথিবী পরিণত হবে সূঁচের আগার সমান ক্ষুদ্রাতি ক্ষুদ্র, সূক্ষ্ণাতি সূক্ষ্ণ আকার-আয়তনে। প্রাণী জগতের স্মল ব্যাং প্রাণী জগতেও স্মল ব্যাং রয়েছে। মানব দেহ কোটি কোটি কোষ দ্বারা গঠিত।তন্মধ্যে মৃত্যু পরবর্তী মৃতদেহ গলে-পঁচে নাইট্রোজেন চক্রে পরিণত হয় এবং হাঁড়ের একটি মাত্র ক্ষুদ্রাতি কণা অবশিষ্ট থাকে যার বৈজ্ঞানিক নাম কক্সি।ইসলামী নামঃ উসউস। পৃথিবী কি সম্প্রসারণমান নাকি সংকোচনশীল? পবিত্র কুরআনের সূরাহ আম্বিয়ার ৩০ নং আয়াতে বিগ ব্যংয়ের ধারণা রয়েছে। একই সূরাহরনিম্নোক্ত ৪৪ নং আয়াতে ধারণা রয়েছে স্মল ব্যাং-এর ‘তারা কি দেখে না আমি ভূপৃষ্ঠের পরিধি ক্রমে সংকুচিত করে আনছি, এর পরও কি তারাই বিজয়ী!’ (সুরা আম্বিয়া, আয়াত : ৪৪) স্ট্রিং তত্ত্বের আলোকে বৈজ্ঞানিক বিশ্বতত্ত্বে পরকালীন জীবনের স্বরূপ স্ট্রিং থিওরিতে রয়েছে পরকালীন জীবনের ধারণা! স্ট্রিং তত্ত্বমতে, মহাবিশ্বের কণাগুলো যে বিন্দুতে বসে আছে, ওগুলো অ্যাবসুলেট মিনিমাম নয়, লোকাল মিনিমাম। একটা সময় গিয়ে লোকাল মিনিমাম অবস্থা ভেঙ্গে পড়তে পারে। তখন কণাগুলো আর এই বিন্দুতে থাকতে পারবে না। চলে যাবে অ্যাবসুলেট মিনিমাম শক্তির বিন্দুতে।আর সেই বিন্দুগুলো আসলে আলাদা আরেকটা মহাবিশ্বের (যেটা আসলে অ্যাকচুয়াল মহাবিশ্ব) অংশ। তাই লোকাল অবস্থা ভেঙ্গে পড়লে আমাদের বর্তমান মহাবিশ্বের আর অস্তিত্ব থাকবেনা অর্থাৎ বিগ ব্যাং পূর্ব হাইয়েস্ট এনার্জেটিক রেডিয়েশন নামক মহা আলোর পরম বিন্দু সিঙ্গুলারিটি অর্থাৎ স্ট্রিংয়ে পরিণত হবে ।ফলে, এই মহাবিশ্বের সব উপাদান চলে যাবে আরেকটা মহাবিশ্বে....এটা যদি ঘটে, তাহলে মহাবিশ্বের তাপীয় মৃত্যুর আগেই আমরা অ্যাকচুয়াল মহাবিশ্বে চলে যাবে। ইসলামী সৃষ্টিতত্ত্ব স্মল ব্যাং SMALL BANG ‘তারা কি দেখে না আমি ভূপৃষ্ঠের পরিধি ক্রমে সংকুচিত করে আনছি, এর পরও কি তারাই বিজয়ী!’ (সুরা আম্বিয়া, আয়াত : ৪৪) ১০৪ নং আয়াতের তাফসীর: সবশেষে মহাকাশ : পবিত্র কোরআনে আল্লাহ পাক তাঁর চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত ঘোষণা করেছেন যে একমাত্র তাঁর পবিত্র সত্তা ছাড়া মহাবিশ্বের সব কিছুই ধ্বংসশীল। বিন্দু থেকে শুরু হওয়া এই বৃহৎ বিস্তৃত মহাবিশ্ব আবার শুরুতে ফিরে আসবে। আর সাত আসমান বইপত্র গোটানোর মতো গুটিয়ে নেওয়া হবে। .” ١٠٤- يَوْمَ نَطْوِي السَّمَاءَ كَطَيِّ السِّجِلِّ لِلْكُتُبِ كَمَا بَدَأْنَا أَوَّلَ خَلْقٍ نُعِيدُهُ وَعْدًا عَلَيْنَا إِنَّا كُنَّا فَاعِلِينَ ◯ 104. The Day that We roll up The heavens like a scroll Rolled up for books (completed),— Even as We produced The first Creation, so Shall We produce A new one : a promise We have undertaken : Truly shall We fulfil it. Sūra 21: Anbiyāa, or The Prophets,Ayat:104, Verses 112 — Makki; Revealed at Makkah — Sections 7,https://quranyusufali.com/21/ আল্লাহ তাআলা বলেন, ‘সেদিন আমি আকাশমণ্ডলী গুটিয়ে নেব যেমন লিখিত কাগজপত্র গুটিয়ে রাখা হয়। ’ (সুরা আম্বিয়া, আয়াত : ১০৪) উক্ত আয়াতে আল্লাহ তা‘আলার ক্ষমতা, মহত্ব ও বড়ত্বের বর্ণনা দেয়া হয়েছে। কিয়ামতের দিন আল্লাহ তা‘আলা সাত আকাশকে তাঁর ডান হাতে গুটিয়ে নেবেন। লেখক লেখার পর খাতাপত্র যেমন গুটিয়ে নেয় তেমনি আল্লাহ তা‘আলা আকাশকে গুটিয়ে নেবেন। তারকা ছড়িয়ে ছিটিয়ে পড়ে যাবে, চন্দ্র-সূর্য আলোহীন হয়ে যাবে। ইবনু মাসউদ (রাঃ) হতে বর্ণিত তিনি বলেন: একদা জনৈক ইয়াহূদী পন্ডিত রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম)-এর কাছে আগমন করে বলল: হে মুহাম্মাদ! আমরা পাই যে, আল্লাহ তা‘আলা আকাশসমূহ এক আঙ্গুলের ওপর রাখবেন, জমিন এক আঙ্গুলের ওপর রাখবেন, গাছ-পালা এক আঙ্গুলের ওপর রাখবেন, পানি এক আঙ্গুলের ওপর রাখবেন, কাদা এক আঙ্গুলের ওপর রাখবেন এবং সারা সৃষ্টি এক আঙ্গুলের ওপর রাখবেন; অতঃপর বলবেন আমিই রাজাধিরাজ। নাবী (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) তার কথার সত্যতার কারণে হেসে দিলেন এমনকি তার দাঁত প্রকাশ পেয়ে গিয়েছিল। তখন তিনি এ আয়াত তেলাওয়াত করেন: (وَمَا قَدَرُوا اللّٰهَ حَقَّ قَدْرِه۪ وَالْأَرْضُ جَمِيْعًا قَبْضَتُه۫ يَوْمَ الْقِيَامَةِ وَالسَّمَاوَاتُ مَطْوِيَّاتٌ بِيَمِينِه۪ سُبْحَانَه۫ وَتَعَالٰي عَمَّا يُشْرِكُوْنَ) “তারা আল্লাহর যথাযথ সম্মান করে না। সমস্ত পৃথিবী কিয়ামতের দিন থাকবে তাঁর হাতের মুষ্ঠিতে এবং আকাশমন্ডলী থাকবে ভাঁজকৃত তাঁর ডান হাতে। পবিত্র ও মহান তিনি, তারা যাকে তাঁর সাথে শরীক করে তিনি তার থেকে ঊর্ধ্বে।” (সূরা যুমার ৩৯:৬৭) (সহীহ বুখারী হা: ৪৮১১, সহীহ মুসলিম হা: ২৭৮৬) ١- إِذَا زُلْزِلَتِ الْأَرْضُ زِلْزَالَهَا ◯ When the Earth is Shaken to her (utmost) convulsion, Sūra 99: Zilzāl, or The Convulsion, Ayat: Verses 8 — Madani; Revealed at Madina — Sections 1 এতে সুস্পষ্ট প্রতীয়মান হয় যে, কম্পনের মাধ্যেমে পৃথিবীর কেয়ামত শুরু হবে। মডার্ণ কসমোলজিক্যাল স্ট্যান্ডার্ড মডেল থিওরিমতে,মহাবিশ্বের মূল গাঠনিক উপাদান কোয়ার্ক ও ইলেকট্রন-যার উৎসমূল মনে করা হচ্ছে স্ট্রিংয়ের কম্পন-কে।এই তত্ত্বমতে, কম্পনের মাত্রার ভিন্নতার কারণে কোন বস্তুকণার নাম ইলেকট্রন,কোনটার নাম কোয়ার্ক এবং শক্তিরূপে কাজ করে হিগস বোসন। তাই বলা হয়, কোয়ার্ক-ইলেকট্রন যদি হয় মহাবিশ্বের অবকাঠামোর ইট-দেওয়াল,হিগস বোসন তার সিমেন্ট।সেমতে,এ সবের উৎসমূল কম্পন।সূরাহ ঝিলঝালের শুরুতে পৃথিবীতে কেয়ামত(স্মল ব্যাং)এর লক্ষণ বলা হয়েছে কম্পন-কে। শুরু যদি হয় কুন শব্দ। তাহলে যেহেতু শব্দ কম্পনের সমষ্টির নাম সেহেতু কম্পনের মাধ্যমে বলা যায় পৃথিবী তথা মহাবিশ্বের শুরু। অতঃপর আল্লাহ তা‘আলা বলেন: যেভাবে আমি সৃষ্টির সূচনা করেছিলাম সেভাবে পুনরায় আবার সৃষ্টি করব। আর আমি এতে পূর্ণমাত্রায় সক্ষম। যেমন হাদীসে এসেছে: ইবনু আব্বাস (রাঃ) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন: রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বলেছেন: তোমাদেরকে আল্লাহ তা‘আলার সামনে উলঙ্গ পায়ে ও উলঙ্গ দেহে এবং খাৎনাবিহীন অবস্থায় একত্রিত করা হবে। তারপর তিনি তেলাওয়াত করেন: (كَمَا بَدَأْنَآ أَوَّلَ خَلْقٍ نُّعِيْدُه۫ ط وَعْدًا عَلَيْنَا ط إِنَّا كُنَّا فٰعِلِيْنَ) ‘যেভাবে আমি প্রথম সৃষ্টির সূচনা করেছিলাম সেভাবে পুনরায় সৃষ্টি করব; এ আমার কৃত ওয়াদা, আমি এটা পালন করবই।” (সহীহ বুখারী হা: ৩৪৪৭, সহীহ মুসলিম হা: ১০১৭) গুটিয়ে নেয়ার আগে যা ঘটবে Sūra 99: Zilzāl, or The Convulsion Verses 8 — Madani; Revealed at Medina — Sections 1 ١- إِذَا زُلْزِلَتِ الْأَرْضُ زِلْزَالَهَا ◯ 1. When the Earth is Shaken to her (utmost) convulsion, ٢- وَأَخْرَجَتِ الْأَرْضُ أَثْقَالَهَا ◯ 2. And the Earth throws up Her burdens (from within), ٣- وَقَالَ الْإِنسَانُ مَا لَهَا ◯ 3. And man cries (distressed) : ‘ What is the matter with her ? ’— ٤- يَوْمَئِذٍ تُحَدِّثُ أَخْبَارَهَا ◯ 4. On that Day will she Declare her tidings : ٥- بِأَنَّ رَبَّكَ أَوْحَىٰ لَهَا ◯ 5. For that thy Lord will Have given her inspiration. ٦- يَوْمَئِذٍ يَصْدُرُ النَّاسُ أَشْتَاتًا لِّيُرَوْا أَعْمَالَهُمْ ◯ 6. On that Day will men Proceed in companies sorted out, To be shown the Deeds That they (had done). ٧- فَمَن يَعْمَلْ مِثْقَالَ ذَرَّةٍ خَيْرًا يَرَهُ ◯ 7. Then shall anyone who Has done an atom’s weight Of good, see it ! ٨- وَمَن يَعْمَلْ مِثْقَالَ ذَرَّةٍ شَرًّا يَرَهُ ◯ 8. And anyone who Has done an atom’s weight Of evil, shall see it. Sūra 88: Gāshiya, or The Overwhelming Event Verses 26 — Makki; Revealed at Mecca — Sections 1 ١- هَلْ أَتَاكَ حَدِيثُ الْغَاشِيَةِ ◯ 1. Has the story Reached thee, of The Overwhelming (Event) ? ٢- وُجُوهٌ يَوْمَئِذٍ خَاشِعَةٌ ◯ 2. Some faces, that Day Will be humiliated, ٣- عَامِلَةٌ نَّاصِبَةٌ ◯ 3. Laboring (hard), weary,— ٤- تَصْلَىٰ نَارًا حَامِيَةً ◯ 4. The while they enter The Blazing Fire,— ٥- تُسْقَىٰ مِنْ عَيْنٍ آنِيَةٍ ◯ 5. The while they are given, To drink, of a boiling hot spring, ٦- لَّيْسَ لَهُمْ طَعَامٌ إِلَّا مِن ضَرِيعٍ ◯ 6. No food will there be For them but a bitter Dhari’ ٧- لَّا يُسْمِنُ وَلَا يُغْنِي مِن جُوعٍ ◯ 7. Which will neither nourish Nor satisfy hunger. ٨- وُجُوهٌ يَوْمَئِذٍ نَّاعِمَةٌ ◯ 8. (Other) faces that Day Will be joyful, ٩- لِّسَعْيِهَا رَاضِيَةٌ ◯ 9. Pleased with their Striving,— ١٠- فِي جَنَّةٍ عَالِيَةٍ ◯ 10. In a Garden on high, ١١- لَّا تَسْمَعُ فِيهَا لَاغِيَةً ◯ 11. Where they shall hear No (word) of vanity : ١٢- فِيهَا عَيْنٌ جَارِيَةٌ ◯ 12. Therein will be A bubbling spring : ١٣- فِيهَا سُرُرٌ مَّرْفُوعَةٌ ◯ 13. Therein will be Thrones (Of dignity), raised on high, ١٤- وَأَكْوَابٌ مَّوْضُوعَةٌ ◯ 14. Goblets placed (ready), ١٥- وَنَمَارِقُ مَصْفُوفَةٌ ◯ 15. And Cushions set in rows, ١٦- وَزَرَابِيُّ مَبْثُوثَةٌ ◯ 16. And rich carpets (All) spread out. ١٧- أَفَلَا يَنظُرُونَ إِلَى الْإِبِلِ كَيْفَ خُلِقَتْ ◯ 17. Do they not look At the Camels, How they are made ?— ١٨- وَإِلَى السَّمَاءِ كَيْفَ رُفِعَتْ ◯ 18. And at the Sky, How it is raised high ?— ١٩- وَإِلَى الْجِبَالِ كَيْفَ نُصِبَتْ ◯ 19. And at the Mountains, How they are fixed firm ?— ٢٠- وَإِلَى الْأَرْضِ كَيْفَ سُطِحَتْ ◯ 20. And at the Earth, How it is spread out ? ٢١- فَذَكِّرْ إِنَّمَا أَنتَ مُذَكِّرٌ ◯ 21. Therefore do thou give Admonition, for thou art One to admonish. ٢٢- لَّسْتَ عَلَيْهِم بِمُصَيْطِرٍ ◯ 22. Thou art not one To manage (men’s) affairs. ٢٣- إِلَّا مَن تَوَلَّىٰ وَكَفَرَ ◯ 23. But if any turn away And reject God,— ٢٤- فَيُعَذِّبُهُ اللَّـهُ الْعَذَابَ الْأَكْبَرَ ◯ 24. God will punish him With a mighty Punishment. ٢٥- إِنَّ إِلَيْنَا إِيَابَهُمْ ◯ 25. For to Us will be Their Return ; ٢٦- ثُمَّ إِنَّ عَلَيْنَا حِسَابَهُم ◯ 26. Then it will be for Us To call them to account. Sūra 100: ‘Ādiyat, or Those that run Verses 11 — Makki; Revealed at Makkah — Sections 1 ١٠- وَحُصِّلَ مَا فِي الصُّدُورِ ◯ 10. And that which is (Locked up) in (human) breasts Is made manifest— ١١- إِنَّ رَبَّهُم بِهِمْ يَوْمَئِذٍ لَّخَبِيرٌ ◯ 11. That their Lord had been Well-acquainted with them, (Even to) that Day ? Sūra 101: Al-Qāri’a, or The Day of Noise and Clamour Verses 11 — Makki; Revealed at Mecca — Sections 1 ١- الْقَارِعَةُ ◯ 1. The (Day) of Noise and Clamour : ٢- مَا الْقَارِعَةُ ◯ 2. What is the (Day) Of Noise and Clamour ? ٣- وَمَا أَدْرَاكَ مَا الْقَارِعَةُ ◯ 3. And what will explain To thee what the (Day) Of Noise and Clamour is ? ٤- يَوْمَ يَكُونُ النَّاسُ كَالْفَرَاشِ الْمَبْثُوثِ ◯ 4. (It is) a Day whereon Men will be like moths Scattered about, ٥- وَتَكُونُ الْجِبَالُ كَالْعِهْنِ الْمَنفُوشِ ◯ 5. And the mountains Will be like carded wool. ٦- فَأَمَّا مَن ثَقُلَتْ مَوَازِينُهُ ◯ 6. Then, he whose Balance (of good deeds) Will be (found) heavy, ٧- فَهُوَ فِي عِيشَةٍ رَّاضِيَةٍ ◯ 7. Will be in a Life Of good pleasure and satisfaction. ٨- وَأَمَّا مَنْ خَفَّتْ مَوَازِينُهُ ◯ 8. But he whose Balance (of good deeds) Will be (found) light,— ٩- فَأُمُّهُ هَاوِيَةٌ ◯ 9. Will have his home In a (bottomless) Pit. ١٠- وَمَا أَدْرَاكَ مَا هِيَهْ ◯ 10. And what will explain To thee what this is ? ١١- نَارٌ حَامِيَةٌ ◯ 11. (It is) a Fire Blazing fiercely ! Sūra 86: Tāriq, or The Night-Visitant Verses 17 — Makki; Revealed at Mecca — Sections 1 ١- وَالسَّمَاءِ وَالطَّارِقِ ◯ 1. By the Sky And the Night-Visitant (Therein);— ٢- وَمَا أَدْرَاكَ مَا الطَّارِقُ ◯ 2. And what will explain to thee What the Night-Visitant is?— ٣- النَّجْمُ الثَّاقِبُ ◯ 3. (It is) the Star Of piercing brightness;– ٤- إِن كُلُّ نَفْسٍ لَّمَّا عَلَيْهَا حَافِظٌ ◯ 4. There is no soul but has A protector over it. ٥- فَلْيَنظُرِ الْإِنسَانُ مِمَّ خُلِقَ ◯ 5. Now let man but think From what he is created ! ٦- خُلِقَ مِن مَّاءٍ دَافِقٍ ◯ 6. He is created from a drop emitted— ٧- يَخْرُجُ مِن بَيْنِ الصُّلْبِ وَالتَّرَائِبِ ◯ 7. Proceeding from between The backbone and the ribs : ٨- إِنَّهُ عَلَىٰ رَجْعِهِ لَقَادِرٌ ◯ 8. Surely (God) is able To bring him back (To life) ! ٩- يَوْمَ تُبْلَى السَّرَائِرُ ◯ 9. The Day that (All) things secret Will be tested. ١٠- فَمَا لَهُ مِن قُوَّةٍ وَلَا نَاصِرٍ ◯ 10. (Man) will have No power, And no helper. ١١- وَالسَّمَاءِ ذَاتِ الرَّجْعِ ◯ 11. By the Firmament Which returns (in its round), ١٢- وَالْأَرْضِ ذَاتِ الصَّدْعِ ◯ 12. And by the Earth Which opens out (For the gushing of springs Or the sprouting of vegetation),— ١٣- إِنَّهُ لَقَوْلٌ فَصْلٌ ◯ 13. Behold this is the Word That distinguishes (Good From Evil) : ١٤- وَمَا هُوَ بِالْهَزْلِ ◯ 14. It is not a thing For amusement. ١٥- إِنَّهُمْ يَكِيدُونَ كَيْدًا ◯ 15. As for them, they Are but plotting a scheme, , ١٦- وَأَكِيدُ كَيْدًا ◯ 16. And I am planning A scheme. ١٧- فَمَهِّلِ الْكَافِرِينَ أَمْهِلْهُمْ رُوَيْدًا ◯ 17. Therefore grant a delay To the unbelievers: Give respite to them Gently (for a while). Sūra 102: Takāthur, or Piling Up Verses 8 — Makki; Revealed at Mecca — Sections 1 ١- أَلْهَاكُمُ التَّكَاثُرُ ◯ 1. The mutual rivalry For piling up (the good things Of this world) diverts you (From the more serious things), ٢- حَتَّىٰ زُرْتُمُ الْمَقَابِرَ ◯ 2. Until ye visit the graves. ٣- كَلَّا سَوْفَ تَعْلَمُونَ ◯ 3. But nay, ye soon shall Know (the reality). ٤- ثُمَّ كَلَّا سَوْفَ تَعْلَمُونَ ◯ 4. Again, ye soon shall know ! ٥- كَلَّا لَوْ تَعْلَمُونَ عِلْمَ الْيَقِينِ ◯ 5. Nay, were ye to know With certainty of mind, (Ye would beware !) ٦- لَتَرَوُنَّ الْجَحِيمَ ◯ 6. Ye shall certainly see Hell-fire ! ٧- ثُمَّ لَتَرَوُنَّهَا عَيْنَ الْيَقِينِ ◯ 7. Again, ye shall see it With certainty of sight ! ٨- ثُمَّ لَتُسْأَلُنَّ يَوْمَئِذٍ عَنِ النَّعِيمِ ◯ 8. Then, shall ye be Questioned that Day About the joy (Ye indulged in !) এবার গবেষণা হোক কবর জিন্দেগীর অজানা কথা! প্রতিটি প্রাণীকে মৃত্যুর স্বাদ গ্রহণ করতে হবে-এ হচ্ছে আল্লাহ পাকের সৃষ্টি তত্তের চিরন্তন বিধান। এতে অবিশ্বাসীরাও বিশ্বাস করে থাকে শুধু তা-ই নয়; বাপ-দাদার মতো তারাও মৃত্যুর স্বাদ গ্রহণ করে প্রমাণ করে থাকে এর সত্যতা। এতকাল এতদিন মাটির উপরের যতসব গবেষণা। এতে আসমান জমিনের আগে কি ছিল তারও হদিস বিজ্ঞানীরা লাভ করেছেন। এর আগে কে ছিলেন-শুধু এইটুকুন জানলেই আশা করা যায়, মানবজাতির সত্য থেকে সত্যান্তর পেরিয়ে মহাসত্যে পৌঁছার প্রাণান্তকর প্রয়াস প্রচেষ্টার চির অবসান সম্ভবপর হতে পারে ইনশা আল্লাহুল আজীজ। এর পর জরুরী হচ্ছে, মাটির নীচের জিন্দেগীর অবস্হা সম্পর্কে গবেষণা।অবশ্য, বিজ্ঞানীরা ইতিমধ্যে এ ব্যাপারে নতুন দুনিয়ার নতুন সংবাদ এর ঘোষণা দিয়েছে ফ্রন্টিয়ার সায়েন্সের নামে। আশা করি, এতে মৃত্যুর পর আখেরী জিন্দেগীর অর্থাৎ কবর জিন্দেগীর স্বরূপ সম্পর্কে চিন্তা-গবেষণার সূচনা ঘটবে। সৎ ব্যক্তির জীবনকাল আর অসৎ ব্যক্তির কবর জীবনকাল কেমন? আত্মীয়-স্বজনের দোয়া-দরুদ বখশিস, দান সদকার প্রভাব মৃত ব্যক্তির কবর জিন্দেগীতে এর প্রভাব কেমন? এ ধরনের প্রশ্নের জন্য কবর জিন্দেগীর বৈজ্ঞানিক মোরাকাবা জরুরী। জীবৎকালে পান্জেগানা নামাযে আয়াতুল কুরছি পাঠকারীর কবরের জিন্দেগী কেমন? এসব প্রশ্নের বৈজ্ঞানিক গবেষণা এখন সময়ের দাবী বটে। পরকালীন জীবন সম্পর্কে সন্দেহবাদী অবিশ্বাসীদের ধারণা-বিশ্বাস এবং তার প্রতিকারঃ আল কুরআনের আলোকে পরকালীন জীবন সম্পর্কে সন্দেহবাদী অবিশ্বাসীদের প্রশ্নঃ “সে বলে, কে জীবিত করবে অস্থিসমূহকে- যখন সেগুলো পঁচে গলে যাবে? (সূরাহ্ ইয়া-সী-ন, আয়াত ৭৮) সন্দেহবাদী অবিশ্বাসীদের এ প্রশ্নের জবাবে স্বয়ং আল্লাহপাক ফরমানঃ “বলুন (আয় আমার পেয়ারা হাবীব); যিনি প্রথমবার সেগুলোকে সৃষ্টি করেছেন, তিনিই জীবিত করবেন। তিনি সর্ব প্রকার সৃষ্টি সম্পর্কে সম্যক অবগত”। (সূরাহ্ ইয়া-সী-ন, আয়াত ৭৮-৭৯) “এ মাটি থেকেই আমি তোমাদের সৃজন করেছি, এতেই তোমাদেরকে ফিরিয়ে দিব এবং পুনরায় এ থেকেই আমি তোমাদেরকে উত্থিত করব।”। (সূরা ত্বহা, আয়াত-৫৫) “এবং এ কারণে যে, কেয়ামত অবশ্যম্ভাবী, এতে সন্দেহ নেই এবং এ কারণে যে, কবরে যারা আছে, আল্লাহ তাদেরকে পুনরুত্থিত করবেন”(সূরা হাজ্জ, আয়াত-০৭: পবিত্র কোরআনুল করীম, মূলঃ তাফসীর মাআরেফুল ক্বোরআন)। “মানুষ কি মনে করে যে, আমি তার অস্থিসমূহ একত্রিত করবো না? পরন্ত্ত আমি তার আংগুলগুলো পর্যন্ত সঠিকভাবে সন্নিবেশিত করতে সক্ষম” (সূরাহ্ আল ক্বেয়ামাহ্-আয়াত-৩-৪) আল হাদীসের আলোকে “মানুষের দেহের সবকিছু জরাজীর্ণ হয়ে যাবে। কিন্তু নিতম্বের শেষ হাঁড় (ত্রিকোণাস্থিত) নষ্ট হয় না। মানুষকে তার সাথে বিন্যাস করা হবে। এরপর আল্লাহ বৃষ্টি বর্ষণ করবেন। ফলে মানুষ উদ্ভিদের মতো গজিয়ে উঠবে”। (বুখারী, মুসলিম-রিয়াদুস্ সালেহীন, হাদিস নং-১৮৩৬, ৪র্থ খন্ড)। লক্ষ্যণীয় যে, পুরাতন কবরে খালি চোখে কখনও শত-সহস্র বছর পূর্বেকার মৃতদেহের কোন প্রকার চিহ্ন থাকার কথা নয়-এমনকি শক্তিশালী অণুবীক্ষণ যন্ত্রের সাহায্যেও যা দেখা বা উপলদ্ধি করা সম্ভব নয় বরং মানব দেহের অঙ্গ-প্রত্যঙ্গের সব কিছুই মাটিতে একেবারে একাকার হয়ে যাওয়ারই কথা। এমনতর অবস্থাতেও হাঁড়জাত মানব দেহের অতি পারমানবিক কণারক্ষুদ্রাতি ক্ষুদ্র, সূক্ষ্ণাতি সূক্ষ্ণ অস্তিত্ত্বের ঘোষণা রয়েছে পবিত্র হাদিসে বর্ণিত “উস্ উস” শব্দে। পবিত্র হাদীসটি- নিম্নরূপঃ “হযরত আবু হুরায়রা রাদ্বিয়াল্লাহু আ‘নহু থেকে বর্ণিত মহানবী হযরত মুহাম্মাদ সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেছেন, আদম সন্তানের শরীরে এমন একটি অস্থি আছে- যেটি মাটিতে কখনো মিশে যাবে না। (প্রশ্ন করা হলো) হে আল্লাহর রসূল! এটি কী ? তিনি বললেনঃ এটি হলো "উস্উস্"(অস্থি-Coccyx)” (বুখারী, আল নাসায়ী, আবু দাউদ, ইবনে মাজাহ, মুসনাদ এবং মুয়াত্তা হাদীস)। উল্লেখ্য, মানব দেহের নার্ভাস সিস্টেমের প্রান্ত ধারক হিসাবে অস্থি বা ত্রিকোণাস্থিতির গুরুত্ব রয়েছে, এখানে যে প্লেয়াক্স রয়েছে তাকে বলা হয়“মূলাধার"।(সূত্রঃ বিজ্ঞান, সনাতন ধর্ম, বিশ্বসভ্যতা-৪র্থ অধ্যায়ঃ গোবর্দ্ধন গোপালদাস, ভারত, সূত্রঃ সাপ্তাহিক সোনার বাংলা। পরীক্ষান্তে দেখা যাো যে, নারীর ডিম্বকোষের (Ovary) সাথে পুরুষের শুক্রকীটের(Sperm) নিষিক্ত হওয়ার মাত্র ২(দুই) সপ্তাহ পরে "উস্উস্" নামক শক্ত হাঁড়ের জন্ম হয়। ৩য় সপ্তাহেরের পর এই হাঁড় থেকে একটি লম্বা দন্ড তৈরী হয় তা পরবর্তীতে মেরুদন্ডের হাঁড় তৈরী করে এবং ধীরে ধরে পূর্ণাঙ্গ মানব দেহ তৈরী হতে থাকে। ১৫ দিবসে ভ্রুণের পৃষ্ঠদেশে এর প্রাথমিক গুণাগুণ বা ধর্ম পরিলক্ষিত হয় একটি নির্দিষ্ট প্রান্তে-যার নাম “প্রাথমিক সংযোগস্থল”। যেদিকে প্রাথমিক গুণাগুণ/ধর্ম প্রকাশিত হয় তাকে বলা হয়“ভ্রণের পৃষ্ঠদেশ”। প্রাথমিক গুণাগুণ এবং সংযোগস্থল থেকে যে সকল ভ্রুণ কোষ এবং অঙ্গ-প্রত্যঙ্গ গঠিত হয় তানিম্নরূপঃ (১) Ectoderm (ভ্রুণের বহিরাবরণ): কেন্দ্রীয় পেশী ও চর্ম দ্বারা গঠিত। (২ Mesoderm (ভ্রুণের মধ্যকরণ): পাচনতন্ত্র গঠনে মন্থন পেশী, কংকালতন্ত্রের পেশী, সংবহনতন্ত্র, হৃদযন্ত্র, অস্থি, প্রজনন এবং মূত্রতন্ত্র গঠন(মূত্রাশয় ব্যতিত), ত্বকনিম্নস্হিত কোষ, নাসিকাতন্ত্র, প্লীহা এবং মূত্রগ্রন্থি এ পর্যায়ে গঠিত হয়। (৩) Endoderm: পাচনতন্ত্রের সীমারেখা, শ্বসনতন্ত্র, পাচনতন্ত্র সম্পর্কিত অঙ্গপ্রত্যঙ্গ (যকৃত ও অগ্ন্যাশয় ব্যতীত), মূত্রাশয়, স্বরতন্ত্র ইত্যাদি এ পর্যায়ে গঠিত হয়। তারপর প্রাথমিক গুণাগুণ/ধর্ম এবং সংযোগস্থল নিতম্বের ত্রিকোণাকার অস্থি এলাকায় অবস্থান করে মেরুদন্ডের শেষে যাতে উস্উস্ Coccyx গঠিত হয়। উল্লেখ্য, কবরস্থ হওয়ার পর শত-সহস্র-লক্ষ-কোটি বছর অতিক্রান্ত হলেও অস্থি বা উস্উস্ (Coccyx) এর ক্ষুদ্রাতি ক্ষুদ্র, সূক্ষ্ণাতি সূক্ষ্ণ হাঁড়জাত মানব দেহের এই অতি পারমানবিক কণার অস্তিত্ত্ব থেকেই যাবে।এ কারণে বিজ্ঞানীদের নিঃসংকোচ স্বীকারোক্তিঃ বিজ্ঞানীরা মৌলিক, আদি, আসল বা অকৃত্রিমভাবে ক্ষুদ্র-বৃহৎ বস্তু না পারেন সৃষ্টি করতে, না পারেন সমূলে বিনাশ করতে। প্রসংগত উল্লেখ্য, প্রাথমিক গুণাগুণ এবং সংযোগস্হল থেকে ভ্রুণ গঠিত হওয়ার পর সেগুলি মেরুদন্ডের সর্বশেষ অস্থিতে অবস্থান করে এবং তাদের বৈশিষ্ট্যসমূহ ধারণ করে। সুতরাং, এতে সুস্পষ্ট প্রতীয়মান যে, ত্রিকোণস্থিত ধারণ করে মূল কোষসমূহ-যা মহানবী সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর পবিত্র হাদীসে বর্ণিত উস্উস্ থেকে কিয়ামতে মানবজাতির পুনরুত্থান সম্পর্কে প্রমাণ বহন করে। "উস্উস্"(অস্থি- Coccyx) থেকে মানব জাতিকে পুনরায় সৃষ্টি করা সম্ভব যা প্রাথমিক গুণাগুণ/বৈশিষ্ট্য ধারণ করে। তাই "উস্উস্"(অস্থি- Coccyx)ক্ষয়প্রাপ্ত হতে পারেগবেষকরা লক্ষ্য করেছেন যে, ভ্রুণকোষ গঠন এবং উৎপত্তি প্রাথমিক গুণাগুণ এবং সংযোগস্থল দ্বারা প্রভাবিত হয় এবং এগুলি গঠনের পূর্বে কোন কোষ (সেল) বিভাজিত হতে পারে না। যে সব গবেষকরা এটা প্রমাণ করেছেন তাঁদের অন্যতম একজন হলেন জার্মান বিজ্ঞানী হ্যান্স স্পিম্যান। প্রাথমিক গুণাগুণ এবং সংযোগস্থল এর ওপর পরীক্ষা-নিরীক্ষার পর তিনি দেখলেন যে, এগুলিই হচ্ছে ভ্রুণ গঠনকারী মৌলিক উপাদান। তাই তিনি এদের নাম দিলেন প্রাইমারী সংগঠক। ১৯৩১ সালে হ্যান্স স্পিম্যান প্রাথমিক সংগঠনটি চূর্ণ-বিচূর্ণ করে ফেলেন । ১৯৩৩ সালে এটিকে সিদ্ধ (বয়েলড) করে দেখলেন যে, এতে কোষের কোনরূপ ক্ষতি হলো না বরং এ থেকে ২য় ভ্রুণ জন্মালো। ১৯৩৫ সালে হ্যান্স স্পিম্যান প্রাথমিক সংগঠক আবিস্কারের জন্য নোবেল পুরস্কার লাভ করেন। উল্লেখ্য, ডঃ ওসমান আল জিলানী এবং শেখ আবদ-আল মাজিদ আজানদানি ১৪২৩ হিজরী সালের মাহে রমাদানে "উস্উস্"(অস্থি-Coccyx) এর ওপর ব্যাপক গবেষণা চালান। ৫টি "উস্উস্"(অস্থি-Coccyx)এর ২টির মধ্যে ১টি মেরুদন্ডের "উস্উস্"(অস্থি-Coccyx)-কে অন্ততঃ ১০ মিনিট ধরে একটি পাথরের ওপর গ্যাসের সাহায্যে পোড়ানো হলে সেগুলি উপ্তপ্ত লোহা যেরূপ লাল বর্ণ লাভ করে তেমনি "উস্উস্"(অস্থি- Coccyx)গুলি প্রথমে লাল বর্ণ ধারণ করে পরে শীতল হয়ে কালো বর্ণ-এ অর্থাৎ কয়লায় পরিণত হলে ঐ "উস্উস্"(অস্থি- Coccyx)এর কয়লাগুলিকে জীবাণুমুক্ত বক্সের মধ্যে পুরে সানার সবচেয়ে বিখ্যাত Laboratory-Al Olaki Laboratory -তে নিয়ে গেলে সানা বিশ্ববিদ্যালয়ের Histology Pathologyতত্ত্বের অধ্যাপক "উস্উস্"(অস্থি- Coccyx)গুলি বিশ্লেষণ করে দেখলেন যে, আগুনে "উস্উস্"(অস্থি- Coccyx)গুলি বড় ধরনের প্রভাবে পড়েনি অর্থাৎ কেবল স্থুল কোষগুলি পুড়ে গেলেও মূল "উস্উস্"(অস্থি- Coccyx) জীবন্ত রয়ে যায়। (সুবহা--নাল্লাহি ওয়াবিহামদিহী, সুবহা--নাল্লাহিল আ’জীম)। মৃত্যু এবং জীবন সৃষ্টির উদ্দেশ্যঃ নেক কাজে প্রতিযোগিতা। ইবাদতের প্রতিফলঃ জান্নাতঃ ফাদখুলি ফী ইবাদী ওয়াদখুলি জান্নাতি। দুনিয়াতে আমলের গণনা হয়, আখেরাতে ওজন হয়।আইনস্টাইনের ভরশক্তি সমীকরণের আলোকে আমলের ওজন ও ভরত্ব সব আমলই ওজনসম্পন্ন।তবে সর্বোচ্চ ওজনসম্পন্ন আমল হচ্ছেঃলা-ইলাহা ইল্লাল্লাহ।বলতে সহজ,ওজনে ভারী আমলঃ সুবহানাল্লাহি ওয়াবিহামদিহী,সুবহানাল্লাহিল আজীম। এক হরফে দশ নেকী।শ্রেষ্ঠ সূরাহ ফাতিহা।সূরাহ ইখলাসঃ ৩বার পাঠে একখতম কুরআন তিলাওয়াতের সওয়াব। যার নেক আমলের পাল্লা ভারি হবে তার জন্য ৮ জান্নাতের যেকোনো একটি। আর যার বদ অআমলের পাল্লা ভারী হবে তার জন্য ৭ নরক। এক নজরে জান্নাত-জাহান্নামের সংক্ষিপ্ত বর্ণনা। বিজ্ঞানের আলোকে জাহান্নাম। ।
Comments
Popular
Comments
Post a Comment