স্ট্রিং থিওরি এবং মহাকর্ষ

স্ট্রিং থিওরি। যখন ইসরাফিল আঃ কর্তৃক সিঙগায় ফুঁক দেবেন বজ্রনিনাদে তখন থর থর করে কেঁপে উঠবে গোটা বিশ্ব জগত। কম্পন হলো স্ট্রিংয়ের প্রার। যেহেতু সূরাহ হাদীদের ২৫ নং আয়াত এবং আইনস্টাইনের ভরশক্তি সমীকরণ মতে, জমাটবদ্ধ শক্তি জমে থাকা বস্ত্তর মতই এবং যেহেতু কম্পন শব্দ থেকে শব্দ শক্তি থেকে উদ্ভূত সেহেতু বস্ত্তকণার উৎসমূল শক্তি অআর শক্তি যার উৎস হচ্ছে মহাশক্তি যাঁকে সর্বশক্তিমান বলা হয়। সার্ণ কর্তৃক সেকেন্ডে ট্রিলিয়ন ট্রিলিয়ন কম্পন সৃষ্টির মাম্যমে হিগস বোসনসহ অসংখ্য কৃত্রিম বস্ত্তকণার উদ্ভবে প্রমাণিত হয় যে বস্ত্তর উৎসমূল কম্পন অআর কম্পনের উৎসমূল সর্বশক্তিমান এক মহান সত্বা। String Theory When the trumpet is blown by Israfil عَلَيْهِ ٱلسَّلَامُ, the whole world will shake. Vibration is the life of the string because according to verse 25 of Surah Hadith and Einstein's equation of mass energy, concentrated energy is like accumulated matter and since vibration is derived from sound energy, the original energy of matter is the source of great energy is called Almighty. The creation of numerous artificial particles, including the Higgs boson, by CERN's creation of trillions of trillions of vibrations per second proves that matter is the source of vibrations and the source of vibrations is an omnipotent being. মহাকর্ষঃ রহমাতুল্লাহ,ফাদলুল্লাহ। ইন্নি ওয়াজ জাহাতু ওয়াজহিয়া লিল্লাজি > إِنِّي وَجَّهْتُ وَجْهِيَ لِلَّذِي فَطَرَ السَّمَاوَاتِ وَالْأَرْضَ حَنِيفًا ۖ وَمَا أَنَا مِنَ الْمُشْرِكِينَ উচ্চারণ : ইন্নি ওয়াঝ্ঝাহ্তু ওয়াঝহিয়া লিল্লাজি ফাত্বারাস সামাওয়াতি ওয়াল আরদা হানিফা; ওয়া মা আনা মিনাল মুশরিকিন।’ (সুরা আনআম : আয়াত ৭৯) অর্থ : ‘আমি এক মুখী হয়ে স্বীয় মুখমণ্ডল সেই সত্তার দিকে করছি, যিনি নভোমণ্ডল ও ভুমণ্ডল সৃষ্টি করেছেন এবং আমি মুশরিক নই।’ 79. “For me I have set my face firmly and truly toward Him Who created the heavens and the earth, and never shall I give partners to God.” Sūra 6: An’ām, or CattleVerses 165 — Makki; Revealed at Mecca — Sections 20 سُبْحَانَكَ اللَّهُمَّ وَبِحَمْدِكَ وَ تَبَارَكَ اسْمُكَ وَتَعَالَى جَدُّكَ وَلاَ إِلهَ غَيْرُكَ উচ্চারণ : সুবহানাকা আল্লাহুম্মা ওয়া বিহামদিকা, ওয়া তাবারাকাসমুকা, ওয়া তাআলা জাদ্দুকা ওয়া লা ইলাহা গাইরুকা। (তিরমিজি, আবু দাউদ, মিশকাত) অর্থ : হে আল্লাহ্! আমি তোমার পবিত্রতা বর্ণনা করছি। তুমি প্রশংসাময়, তোমার নাম বরকতময়, তোমার মর্যাদা অতি উচ্চে, আর তুমি ব্যতীত সত্যিকার কোনো মাবুদ নেই। লুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম পড়তেন। আর তাহলো- > إِنِّي وَجَّهْتُ وَجْهِيَ لِلَّذِي فَطَرَ السَّمَاوَاتِ وَالْأَرْضَ حَنِيفًا ۖ وَمَا أَنَا مِنَ الْمُشْرِكِينَ উচ্চারণ : ইন্নি ওয়াঝ্ঝাহ্তু ওয়াঝহিয়া লিল্লাজি ফাত্বারাস সামাওয়াতি ওয়াল আরদা হানিফা; ওয়া মা আনা মিনাল মুশরিকিন।’ (সুরা আনআম : আয়াত ৭৯) অর্থ : ‘আমি এক মুখী হয়ে স্বীয় মুখমণ্ডল সেই সত্তার দিকে করছি, যিনি নভোমণ্ডল ও ভুমণ্ডল সৃষ্টি করেছেন এবং আমি মুশরিক নই।’ ►IRRSTC গবেষণায় যেসব নতুন তথ্য উঠে আসেঃ ►বিজ্ঞানের অগ্রযাত্রা সেদিন সীমাবদ্ধ হয়ে পড়ে-যেদিন ‘ফিজিক্স’ ‘ম্যাটারিয়াল সায়েন্সে’ সীমাবদ্ধ হয়ে পড়ে। ►নিউটনের বৈজ্ঞানিক অগ্রযাত্রা থেমে যায়-সেদিন মহাকর্ষের সাথে মাধ্যাকার্ষণের অমিল খুঁজে পান।এ প্রসঙ্গে নিউটন বলেনঃ “মহাকর্ষ সবসময় আমাদের এটি ব্যাখ্যা করতে পারে যে গ্রহগুলো কিভাবে ঘুরছে। কিন্তু এটি ব্যাখ্যা করতে পারে না যে কে গ্রহগুলোকে এই অবস্থায় রেখেছেন”।https://bn.wikiquote.org/wiki/আইজাক_নিউটন এরপর জ্ঞান সাধনায় ইতি টানেন এই বলেঃ “আমি জানিনা বিশ্বের কাছে আমি কিভাবে উপস্থাপিত হয়েছি, কিন্তু আমার কাছে আমার নিজেকে মনে হয় এক ছোট বালক যে কেবল সমুদ্র উপত্যকায় খেলা করছে এবং একটি ক্ষুদ্র নুড়ি বা ক্ষুদ্রতর এবং খুব সাধারণ পাথর সন্ধান করছে, অথচ সত্যের মহাসমুদ্র তার সম্মুখে পড়ে রয়েছে যা অনাবিষ্কৃতই রয়ে গেল”।https://bn.wikiquote.org/wiki/আইজাক_নিউটন ►আমরা সাদা চোখে একটি পানির কণা সম্পর্কেই জানতে পারি কিন্তু বিশাল সমুদ্র সম্পর্কে আমাদের জ্ঞান সামান্যই https://bn.wikiquote.org/wiki/আইজাক_নিউটন। ►অন্য কোন প্রমাণের অভাবে, বুড়ো আঙুলই আমাকে ঈশ্বরের অস্তিত্ব সম্পর্কে নিশ্চিত করবে।https://bn.wikiquote.org/wiki/আইজাক_নিউটন ►আমার সমস্ত আবিষ্কার প্রার্থনার উত্তরে করা হয়েছে।https://bn.wikiquote.org/wiki/আইজাক_নিউটন একজন স্বর্গীয় মাস্টার সমস্ত বিশ্বকে মহাবিশ্বের সার্বভৌম হিসাবে পরিচালনা করেন। তাঁর পূর্ণতার কারণে আমরা তাঁকে বিস্মিত করি, আমরা তাঁকে সম্মান করি এবং তাঁর সীমাহীন ক্ষমতার কারণে তাঁর সামনে পড়ে থাকি।....সমস্ত সৃষ্ট বস্তু যা মহাবিশ্বে শৃঙ্খলা এবং জীবনের প্রতিনিধিত্ব করে কেবল তার মূল স্রষ্টার ইচ্ছাকৃত যুক্তির দ্বারা ঘটতে পারে, যাকে আমি প্রভু ঈশ্বর বলি। শুধু প্রাকৃতিক জগতে অবিশ্বাস্য ঘটনা ঘটে থাকে তা-ই নয়,বিজ্ঞান জগতে বিজ্ঞানীদের জীবনে ঘটে থাকে অবিশ্বাস্য হলেও কিছু সত্য ঘটনা। আপেক্ষিকতা তত্ত্বের প্রবক্তা স্বয়ং আইনস্টাইনের নিজের জীবনটাও ছিল আপেক্ষিক। এমনকি প্রাপ্ত নোবেল পুরস্কারটাও ছিল আপেক্ষিক। তিনি এসব আবিস্কারে নোবেল পান নি যে আবিস্কারদ্বয়ে তিনি পরিণত হন আমনিক বিজ্ঞানের জনক,তিনি নোবেল পান ফটো ইলেকট্রিক তত্বে।বিস্ময়ের ব্যাপার এই যে, আইনস্টাইন জীবনের শেষ চার দশক কাটিয়েছিলেন যে তত্ত্বের পেছনে সার্বিক একীভূতকরণের নামে নিজের অআপেক্ষিকতার সাথে কোয়ান্টাম মেকানিক্সের একিভূতকরণ তা তিনি এই ফটো ইলেকট্রিক ইফেক্টের মাধ্যমে সমন্বয় করেছিলেন। এটাও বিজ্ঞান জগতের এক ধরণের আপেক্ষিক ব্যাপার বটে। হবার কথা এক রকম,হয়ে যায় অন্য রকম-তারই নাম ম্যাক্স প্ল্যাংকের ভায়ায় কোয়ান্টাম,হাইজেনবার্গের ভাষায় আনসার্টেনিটি প্লিন্সিপালিট।ি আপেক্ষিকতার তত্ত্বের ফর্মুলা। কিন্তু এই তত্ত্বটা জটিল। অনেকের ধারণা এর সঙ্গে আপেক্ষিক কোনো কিছুর ব্যাপার জড়িত। সাধারণভাবে তাঁদের অনেকে ধরে নেন, ‘সবকিছু আপেক্ষিক’, এটাই মূল ব্যাপার। কিন্তু আসলে তা নয়। বরং আইনস্টাইন যা বলেছেন, তাঁর তত্ত্বের সঙ্গে সাধারণ অর্থে ‘আপেক্ষিক’ শব্দটির সরাসরি সম্পর্ক নেই। আইনস্টাইন এই অর্থে তাঁর আপেক্ষিকতার তত্ত্ব বিশ্লেষণ করেননি। আসলে তিনি ব্যাখ্যা করেছেন যে এই বিশ্ব প্রকৃতিতে যত ঘটনা ঘটছে, তা নির্দিষ্ট সূত্র অনুযায়ীই ঘটে চলেছে। এই যে চাঁদ বা পৃথিবী ঘুরছে, জোয়ার–ভাটা হচ্ছে, এগুলো কোনো ব্যক্তি কোন অবস্থানে থেকে কী রকম দেখছেন তার ওপর নির্ভর করে না। ব্যক্তির অবস্থান পরিবর্তন হলে হয়তো তিনি একই ঘটনা একটু অন্য রকম দেখেন, কিন্তু ঘটনাগুলো প্রকৃতির অভ►New information emerging from the IRRSTC study: ►New information emerging from the IRRSTC study: Scenic-progress became limited from that day-when-the 'physics' becomes limited to 'material science'. ►Newton's scientific progress stopped - on the day he discovered the incompatibility of gravitation with gravitation. In this context, Newton said: "Gravity can always explain to us how the planets revolve. But it cannot explain who put the planets in this state". https://bn.wikiquote.org/wiki/Isaac_Newton ►We can know about a drop of ocean water in the white of the eye but we know little about the vast ocean https://bn.wikiquote.org/wiki/Isaac_Newton. ►In the absence of any other evidence, the thumb will convince me of God's existence.https://bn.wikiquote.org/wiki/Isaac_Newton ►All my discoveries have been made in answer to prayer.https://bn.wikiquote.org/wiki/Isaac_Newton A Heavenly Master governs all the worlds as the Sovereign of the Universe. We marvel due to His perfection, we honor Him because of His unlimited power. ................................................................................................................................................ একটা সাধারণ উদাহরণ দিই। ধরা যাক, আমি বিকেলবেলা খোলা মাঠে দাঁড়িয়ে দেখছি একটি পাখি আকাশে ঘণ্টায় তিন কিলোমিটার বেগে উত্তর দিকে যাচ্ছে। আর আমার বন্ধু ঘণ্টায় তিন কিলোমিটার বেগে হেঁটে যাচ্ছেন। তিনি কিন্তু দেখছেন আকাশের পাখিটি স্থির অবস্থানে রয়েছে। এখন দুই বন্ধু তাঁদের অবস্থানের ভিন্নতার জন্য একই পাখির উড়ে যাওয়ার ঘটনাটি দুইভাবে দেখছেন। কিন্তু পাখির উড়ে চলার গতির সূত্র দুই ক্ষেত্রে একই, অপরিবর্তিত। গতিসূত্রের কিন্তু আপেক্ষিক পরিবর্তন ঘটছে না। এটাই আইনস্টাইনের আপেক্ষিকতার সূত্রের মূল ব্যাপার। এ ব্যাপারটা অনেকের মনে বিভ্রান্তি সৃষ্টি করে। সে জন্যই আইনস্টাইন কিন্তু তাঁর তত্ত্বের নাম প্রথমে দিতে চেয়েছিলেন ‘অপরিবর্তনীয়তার সূত্র’ (থিওরি অব ইনভেরিয়েন্টস)। কিন্তু আইনস্টাইনের সমসাময়িক অনুসারীদের কাছে সেটা গ্রহণযোগ্য হয়নি। আপেক্ষিকতার সূত্র বা থিওরি অব রিলেটিভিটি নামটিই সবাই গ্রহণ করেন। আপেক্ষিকতা কী বলে আর আমরা কী দেখি অনেক সময় ধাঁধা লাগে। মনে হয় আপেক্ষিকতার সূত্র তো আমাদের অভিজ্ঞতার সঙ্গে খাপ খায় না। যেমন, এই সূত্র অনুযায়ী আলোর গতির একটি বিশেষ বৈশিষ্ট্য রয়েছে। কোনো বস্তু বা কণা এই গতির চেয়ে বেশি গতিতে কখনো চলতে পারে না। কিন্তু কেন না, সেটাই প্রশ্ন। আমাদের দৈনন্দিন অভিজ্ঞতা কিন্তু ভিন্ন। ধরা যাক আমি একটি বাসে যাচ্ছি। এর গতি ঘণ্টায় ৪০ মাইল। চলন্ত অবস্থায় আমি বাসের গতির দিকেই বাইরে একটি ঢিল ঘণ্টায় ১০ মাইল বেগে ছুড়ে মারলাম। আমার বন্ধু বাইরে রাস্তার পাশে দাঁড়িয়ে দেখছে ঢিলটি ঘণ্টায় (৪০ ‍+ ১০) = ৫০ মাইল বেগে যাচ্ছে। আমি যদি ঘণ্টায় ২০ মাইল বেগে ঢিলটি ছুড়তাম, তাহলে বন্ধু দেখত, ঢিলটি (৪০ ‍+ ২০) = ৬০ মাইল বেগে যাচ্ছে। এটাই স্বাভাবিক। কিন্তু যদি আমি চলন্ত বাসের জানালা দিয়ে একঝলক আলোকরশ্মি ছুড়ে দিই, তাহলে সেই গতি একই থাকবে, বাসের গতি যোগ হবে না। আলোর গতি ঘণ্টায় ১ লাখ ৮৬ হাজার মাইল বেগেই চলবে। কেন এই ব্যতিক্রম মূল ব্যাপার হলো, আমার বন্ধু যদি আলোর গতি বেড়ে যেতে দেখে আর, অর্থাৎ দুই অবস্থানের পর্যবেক্ষকদের জন্য আলোর গতি যদি অভিন্ন না হয়, তাহলে ম্যাক্সওয়েলের সূত্র দুই পর্যবেক্ষকের জন্য অভিন্ন থাকবে না। অথচ আপেক্ষিকতার সূত্র ম্যাক্সওয়েলের সূত্রের ভিত্তিতেই গ্রোথিত। প্রকৃতির এই সূত্র ভিন্ন হওয়া সম্ভব নয়। তাহলে তো আপেক্ষিকতার সূত্র ভুল প্রমাণিত হতো। অথচ বিজ্ঞানীরা এর সত্যতা বাস্তব পরীক্ষায় প্রমাণ করেছেন। সুতরাং বাস্তব জীবনের অভিজ্ঞতায় বিজ্ঞানীরা এই ব্যতিক্রম গ্রহণ করে নিয়েছেন। আলোর চেয়ে বেশি গতি কেন অসম্ভব? আপেক্ষিকতার সূত্র অনুযায়ী আলোর চেয়ে বেশি গতি অসম্ভব। কিন্তু আসলে এটা অন্যভাবে বুঝতে হবে। ঘটনা হলো, কোনো বস্তুর গতি আলোর গতির যত কাছাকাছি যাবে, ততই মনে হবে সেটা যেন ভারী হয়ে যাচ্ছে। যদি সেই বস্তু আলোর গতির একদম কাছাকাছি চলে যায়, তাহলে সেটা অসীম ভরসম্পন্ন বস্তুর মতোই ভারী হয়ে যাবে। তখন এর চেয়ে আরও বেশি গতি অর্জন করতে হলে অসীম পরিমাণ শক্তির প্রয়োজন হবে, যা অসম্ভব। তাই তাত্ত্বিকভাবেই বলা যায়, কোনো বস্তুর পক্ষে আলোর গতির সমান বা তার চেয়ে বেশি গতি অর্জন সম্ভব নয়। কোনো কোনো বিজ্ঞানী মনে করেন, আলোর গতির চেয়ে বেশি গতিসম্পন্ন বস্তুকণা থাকতে পারে। তবে এর কোনো প্রমাণ এখনো পাওয়া যায়নি। (সূত্রঃ https://www.bigganchinta.com/physics/ufy4u0f117)। আই.আর.আর.এস.টি.সি.আইনস্টাইন তাঁর স্পেশাল রিলিটিভিটিকে আরও সংহত করে আলোর গতিকে চিরস্থায়ীভাবে একলক্ষ ছিয়াসি হাজার মাইলের ফ্রেমে বেঁধে ফেলতে ইনভেরিয়েন্ট ল রচনা করেছিলেন তাই ১৯১৫ সালে রচিত শেষ তত্ত্ব জেনারেল রিলিটিভিটির নামকরণ করেছিলেন ইনভেরিয়েন্ট..।অসম্ভবের মধ্যে যে সম্ভব নিহিত শর্তসাপেক্ষে তা-ও আইনস্টাইন অসীম শক্তির শর্ত জুড়িয়ে দিয়ে সাথে সাথে অসম্ভব শব্দ যোগ করেন। অসম্ভব শব্দটি বিজ্ঞান জগতে বিশেষ করে মডার্ণ কসমোলজিক্যাল স্ট্যান্ডার্ড মডেল থিওরিতে যুগান্তরী ভূমিকা রাখে। যেমন বহু ভাষার মাঝে ইংরেজী,বহু মুদ্রার মাঝে ডলার, স্থানভেদে সময়ের ভিন্নতার মাঝে গ্রীনীচ মান সময় বৈপ্লবিক ভূমিকা রাখছে। অনুরূপ মডার্ণ কসমোলজিক্যাল স্ট্যান্ডার্ড মডেল থিওরি রচনায় আলোরও একক জরুরী।বিশেষ করে ভরশক্তি সমীকরণ রচনার ক্ষেত্রে যে সমীকরণ পুরো মহাবিশ্বের বস্ত্তগত অবকাঠামোর ভিত্তিমূল কোয়ার্ক এবং স্ট্রিং থিওরির চমৎকার ব্যাখ্যা করে সার্বিক একীভূতকরণ ইতিমধ্যে সম্পন্ন করেছে বলে আই.আর.আর.এস.টি.সি.মনে করে। আলোর স্ট্যান্ডার্ড থিওরির স্বরূপঃ বহু মুদ্রার ক্ষেত্রে যেমন ডলার,বহু ভাষার ক্ষেত্রে ইংরেজী ভাষা তেমনি নিউট্রিনোসহ ভিন্নমাত্রার আলোর গতির এককরূপে স্বীকৃতি প্রয়োজন ১,৮৬,০০০ মাইলকেও।এই স্বীকৃতির অভাবে ২০১১ সালের সেপ্টেম্বরে সার্ণ কর্তৃক নিউট্রিনোর মাত্র ৬০ ন্যানো সেকেন্ড অগ্রগামিতা কয়েক হাজার বার প্রমাণের পরও এই আবিস্কার প্রত্যহারের দাবী জানিয়েছিলেন স্টিফেন হকিংসহ বিশ্বের শীর্ষ স্থানীয় বিজ্ঞানীরা এই কারণে যে, নিউট্রিনোকে আইনস্টাইনের E=mc2 সূত্রে বেঁধে দেওয়া আলার গতি ছাড়ানো মানে মডার্ণ কসমোলজিক্যাল স্ট্যান্ডার্ড মডেল থিওরি বাতিল হয়ে যাওয়া, পদার্থবিজ্ঞানের সূত্র নতুন করে রচনার বিড়ম্বনা সৃষ্টি।.nn প্রকৃত ভরের খোঁজে ভরশক্তি সমীকরণের পথে ১৯০৫ সাল। আলবার্ট আইনস্টাইনের একটা গবেষণা প্রবন্ধ প্রকাশ হয় অ্যানালেন ডার ফিজিক–এ। শিরোনাম ‘জড়তা কি বস্তুর শক্তির ওপর নির্ভরশীল?’ কোটি টাকার প্রশ্ন? নিউটন যেটাকে ভরবেগ বলছেন, অ্যারিস্টটল যেটাকে জড়তা বলছেন, আইনস্টাইন সেটাকে পরিচয় করিয়ে দিলেন ইনার্শিয়া (inertia) নামের একটা শব্দ ব্যবহার করে। প্রবন্ধে কিছুটা এগিয়ে গিয়েই আইনস্টাইন ইনার্শিয়াকে একটানে বস্তুর ম্যাস (Mass) বা ভর হিসেবে দেখান। প্রতিষ্ঠিত হয় সেই বিখ্যাত সমীকরণ। হ্যাঁ, একটা সময় মনে করা হতো, মহাকর্ষীয় ভর আর বস্তুর আসল ভর এক। আদৌ তা নয়। মহাকর্ষীয় ভর বলে আমরা যেটাকে জানি, যার কারণে আমাদের ভারী আর হালকার অনুভূতি হয়, সেটা আসলে ওজন। মহাকর্ষ বলের প্রাবল্য যেখানে কম, সেখানে আপনার ওজন অনেক কম হবে, নিজেকে তত হালকা মনে করবেন আপনি। আর মহাকর্ষ প্রাবল্য খুব বেশি যেখানে, সেখান থেকে পা তুলতেই আপনি হিমশিম খাবেন। যেটাকে আমরা আসল ভর বা প্রকৃত ভর বলছি, সেটা সব সময়, সব স্থানে, সব ধরনের মহাকর্ষীয় প্রাবল্যে সমান। মহাকর্ষ বল তার ওপর দাদাগিরি করতে পারে না। একই বছর আইনস্টাইন আরও চারটি পেপার প্রকাশ করেছিলেন। এর মধ্যে ছিল বিখ্যাত বিশেষ আপেক্ষিকতা তত্ত্ব। অবশ্য পৃথিবীর সর্বকালের সবচেয়ে জনপ্রিয় সমীকরণটি বিশেষ আপেক্ষিকতা নামের বৃক্ষ থেকে শাখা হিসেবে বেরিয়ে এসেছে। IRRSTC মনে করে যে, বিশেষ আপেক্ষিকতাকে আরও সংহত অর্থাৎ ইনভেরিয়েন্ট করতে সাধারণ আপেক্ষিকতার তত্ত্বটি আইনস্টাইন রচনা করেছিলেন। আইনস্টাইন জীবনের শেষ চার দশক কাটিয়েছিলেন আলোর দ্বৈত ধর্ম কণা এবং তরঙ্গ উভয় ধর্মকে এক করে সার্বিক একীভূতকরণ তত্ত্ব প্রতিষ্ঠা করতে। তাই তিনি জীবনের শেষ মুহুর্ত পর্যন্ত অআলো নিয়ে গবেষণা রত ছিলেন। উল্লেখ্য, হাইয়েস্ট এনার্জেটিক রেডিয়েশনে মহাবিস্ফোরণ বা বিগ ব্যাংয়ের পর মুহুর্তে মহাবিশ্ব ক্রমেই সম্প্রসারিত হচ্ছিল তবে চার বল তখনও এক ছিল। কোন প্রকার ভর সম্পন্ন কণা-পদার্থের উদ্ভব হয়নি। বিগ ব্যাংয়েরে মাধ্যমে সৃষ্ট মহাবিশ্বের মহাসৃষ্টির মধ্যে সর্বপ্রথম সৃষ্টি হয়েছিল ভরবিহীন আলোর কোয়ান্টা ফোটন।বিগ ব্যাং পরবর্তী দ্বিতীয় সৃষ্টি হচ্ছেঃ ভরসম্পন্ন বস্ত্তগত গ্রহ-উপগ্রহ, নক্ষত্র, গ্যালাক্সির উৎসমূল ভরসম্পন্ন আদি কণা হিগস বোসন ।IRRSTC আরও মনে করে যে,সম্ভবত ফোটন হিগস ক্ষেত্রের সংস্পর্শে এসে ভরত্ব লাভ করে হিগস বোসনে পরিণত হয়েছিল। ম্যাক্সওয়েলের বিদ্যুৎ–চুম্বকীয় তরঙ্গের হিসাব থেকে বেরিয়ে আসে আলোর বেগ পরম রাশি। তারপর মাইকেলসন-মর্লির সেই বিখ্যাত ব্যতিচার পরীক্ষা থেকে প্রমাণ হয়, আলোর বেগ সব জায়গায় এক। গ্যালিলিও থেকে নিউটন—সবাই মনে করতেন, পৃথিবীর অন্য সব বস্তুর গতির মতো আলোর বেগ আপেক্ষিক। অর্থাৎ, একজন গতিশীল পর্যবেক্ষক যদি আলোকে মুখোমুখি আসতে দেখেন, তাহলে আলোর বেগ অনেক বেশি মনে হবে। আর আলোকে যদি তাঁকে পাশ কাটিয়ে চলে যেতে দেখেন, তাহলে তাঁর কাছে মনে হবে আলোর বেগ অনেকটাই কম। কিন্তু মাইকেলসন-মর্লির পরীক্ষার পর এ বিষয়ে পরপর অনেকগুলো পরীক্ষা করা হয়। শেষমেশ প্রমাণিত হয়, আলোর বেগ অসীম নয় যেমন, তেমনি আপেক্ষিকও নয়। আলোর কণা বা তরঙ্গ ছুটে সেকেন্ডে ৩ লাখ কিলোমিটার বেগে। যেখান থেকেই দেখুন, যেখান থেকেই মাপুন, এর নড়চড় হবে না কখনো। সুতরাং পদার্থবিজ্ঞান তখন ইতিহাস তছনছ করে দেওয়া এক তত্ত্বের মুখোমুখি দাঁড়িয়ে। অনেকেই কোমর বেঁধে লেগেছিলেন আপেক্ষিকতার রহস্য সন্ধানে, কিন্তু সুইজারল্যান্ডে বার্নের পেটেন্ট অফিসের কর্মচারীটি সবাইকে টেক্কা দিয়ে নাড়িয়ে দিলেন পদার্থবিজ্ঞানের চিরচেনা জগৎটাকে। দেখালেন আলোর বেগ পরম হলে নতুন করে লিখতে হবে নিউটনের গতিবিদ্যার সূত্রগুলো। কোনো বস্তু যদি গতিশীল হয়, তার দৈর্ঘ্য কমে যায়, বেড়ে যায় তার ভর এবং ধীর হয়ে যায় তার ঘড়ি। এমন আজগুবি কথা বিজ্ঞানজগতে ফিসফিসানির মতো শুনলেও প্রমাণ ছিল না কোনো। আইনস্টাইন গণিতের ভাষায় বিজ্ঞানের ছন্দে সেটাকে এক মহাসংগীতের সুরে শোনালেন যেন। নতুন প্রবন্ধে তিনি বললেন, যদি গতিশীল বস্তুর ভর বাড়ে, তাহলে এই ঘরের একটা হেস্তনেস্ত হওয়া দরকার। আগে প্রকৃত ভর মাপার জন্য পরম কোনো তুল্য বস্তু ছিল না। এখন আছে আলোর বেগ। এটাকেই সমীকরণের মারপ্যাঁচে আবদ্ধ করতে পারলেই কেল্লা ফতে। E=mc2 সমীকরণ নেই বাজিমাতটাই করেছিল। বলেছিল, বস্তুর প্রকৃত ভর জানা খুব সহজ। যদি তার শক্তির মান জানা যায়। অথবা যদি আপনার জানা থাকে বস্তুর ভর, তাহলে সেটার সঙ্গে আলোর বেগের বর্গ গুণ করলে পাওয়া যাবে তার শক্তি। শক্তি আর ভরের মধ্যে স্পষ্ট একটা সম্বন্ধ দেখিয়ে দিলেন আইনস্টাইন। যুগ যুগ ধরে ভরকে, জড়তাকে বস্তুর জন্য মৌলিক রাশি বলে মনে করতেন যাঁরা, তাঁদের আসন টলে গেল। ভর নির্ভরশীল হয়ে উঠল বস্তুর শক্তির ওপর। আগে ভর আর শক্তির সমীকরণের আলাদা আলাদা সংরক্ষণশীলতা নীতি ছিল। আইনস্টাইন তাঁর ভরশক্তির সমীকরণে দেখালেন, ভর আর শক্তি আলাদাভাবে সংরক্ষণশীলতার আওতায় না আনলেও চলে। এরা পরস্পরের পরিপূরক। তাই দুটিকে এক করে একটা সংরক্ষণশীলতার নীতি দাঁড় করানো যায়—ভরশক্তির সংরক্ষণশীলতা নীতি। এই যে ভরশক্তির সমীকরণ আইনস্টাইন দাঁড় করালেন, এটার কথা কিন্তু আইনস্টাইনই প্রথম বলেননি। অর্থাৎ, E=mc2 নামের যে বিখ্যাত সমীকরণের জনক বলে আমরা জানি, এই সমীকরণের প্রবক্তা আইনস্টাইন নিজে নন। হেনরি পয়েনকেয়ার, যাঁকে মনে করা হতো বিশেষ আপেক্ষিকতা তত্ত্বের জন্য আইনস্টাইনের প্রধান প্রতিদ্বন্দ্বী, তিনিই এই সমীকরণের প্রথম প্রবক্তা; কিন্তু তাঁকে বাদ দিয়ে আইনস্টাইনই কীভাবে মেরেকেটে বেরিয়ে গেলেন? আসলে ভরের উৎস কী, এ প্রশ্নের জবাব ছিল না নিউটনীয় গতিবিদ্যায়। তারপর যখন তড়িৎগতিবিদ্যার জন্ম হলো স্কটিশ বিজ্ঞানী জেমস ক্লার্ক ম্যাক্সওয়েলের হাতে। তখন বিজ্ঞানীরা রায় দিলেন, নিউটনীয় বলবিদ্যার চেয়ে নতুন এই বলবিদ্যা আরও মৌলিক এবং পদার্থের অনেক গভীরের খবর এই বলবিদ্যা দিতে পারে। তখন অনেকেই ভাবলেন, বিদ্যুৎগতিবিদ্যার জগৎ থেকেই বেরিয়ে আসতে পারে বস্তুর ভরের কারণ। ১৮৮৮ সালের ব্রিটিশ বিজ্ঞানী স্যার জে জে টমসন প্রথম কণাদের ভর নিয়ে কাটাছেঁড়া করেন। তিনি দেখান, একটি চার্জিত গোলক যদি ঘুরতে থাকে, তাহলে সেটা বিদ্যুৎ–চুম্বকীয় ক্ষেত্র তৈরি করে। সেই ক্ষেত্রের কিছু বৈশিষ্ট্য প্রমাণ করে গোলকটির ভেতরেই ঘুমিয়ে আছে তার ভর। তিনি একটা থট এক্সপেরিমেন্ট করেছিলেন। ধরা যাক, একটা টেনিস বল আপনি মাটিতে ছুড়ে আঘাত করলেন। সেটা মাটিতে বাউন্স করে বেশ কিছুটা ওপরে উঠে যাবে, কিন্তু পৃথিবীর মহাকর্ষ বল আবার বলটিকে মাটিতে নামিয়ে আনবে। মহাকর্ষীয় বল যেভাবে আকর্ষণ করে বলটিকে, তার জন্য যে গতিতে বলটার নিচে পড়া উচিত ছিল, সেই গতিতে নামতে পারবে না। বলটির পতনে বাধা হয়ে দাঁড়াবে বাতাসের বাধা। অর্থাৎ, বলটি শূন্যস্থানে পৃথিবীর টানে মাটিতে পড়ত, সেই বেগ অর্জন করতে পারবে না বাতাসের বাধার কারণে। বস্তু যত ভারী গতির সূত্রানুযায়ী তাকে গতিশীল করতে তত বেশি বল প্রয়োগ করতে হবে। বাতাসের বাধার কারণে মনে হবে বলটির ভর বেড়ে গেছে, বলটিকে স্বাভাবিক গতিতে পড়তে হলে আরও বেশি মহাকর্ষীয় টান দরকার হবে। বাড়তি এই যতটুকু ভর বেড়েছে বলে মনে হচ্ছে, সেটাসহ মোট ভরই হলো বলটির কার্যকরী ভর। অন্যদিকে টেনিস বলটির নিজের ভেতরে যে ভর ঘুমিয়ে আছে, সেটিকে বলে স্থির ভর বা রেস্ট ম্যাস। এই স্থির ভরই হলো আসল ভর। টমসন বললেন, চার্জিত একটা গোলক যখন তার চারপাশে বিদ্যুৎক্ষেত্র তৈরি করে, তখন আরেকটা চার্জিত কণা যদি গোলকটার আকর্ষণে ছুটে যায়, তখন বিদ্যুৎক্ষেত্র দ্বারা সেটা বাধাপ্রাপ্ত হবে এবং কণাটির ভর বেড়ে যাবে। তখন কণাটির ভর মাপলে যা পাওয়া যাবে, সেটা কার্যকরী ভর। সেই ভর কণাটির স্থির ভরের চেয়ে বেশ বেশি। টমসন একটা ব্যাখ্যা দাঁড় করালেন বস্তুর ভরের বিষয়ে। ব্যাখ্যাটি বেশ জটিল। সেটার সঙ্গে বস্তুর চার্জ, ব্যাসার্ধ আর চুম্বকক্ষেত্র জড়িত; কিন্তু সেই ব্যাখ্যা পরিপূর্ণ ছিল না। পরের বছর আরেক ইংরেজ বিজ্ঞানী অলিভার হেভিসাইড দেখালেন বস্তুর কার্যকরী ভর হবে m=4E/3c2। এখানে E চার্জিত গোলটির বৈদ্যুতিক ক্ষেত্রের শক্তি। এরপর অস্ট্রিয়ান বিজ্ঞানী ভিলহেম ভিন আর ম্যাক্স আব্রাহাম কৃষ্ণবস্তুর মধ্যে বিকিরণ ব্যাখ্যা করতে গিয়ে দেখান, যে ‘বিদ্যুৎ–চুম্বকীয় ভর’–এর কথা বলছেন টমসন বা অলিভার, সেটা শুধু চার্জিত বস্তু বা কণার ক্ষেত্রেই প্রযোজ্য। সব বস্তু বা কণার ক্ষেত্রে সেটা প্রয়োগ করা যাবে না। তখন এই বিজ্ঞানীদ্বয় শক্তি আর ভরের মধ্যে সম্পর্ক তৈরির চেষ্টা করলেন; কিন্তু সফল হননি। ১৯০০ সালে এসে হেনরি পয়েনকার দিলেন এক নতুন সমীকরণের হদিস। তত দিনে ম্যাক্স প্ল্যাঙ্ক কোয়ান্টাম বলবিদ্যা প্রকাশ করে ফেলেছেন। অন্যদিকে তেজস্ক্রিয় ক্ষয় নিয়ে গবেষণা করছেন মেরি কুরি। কুরি দেখালেন, তেজস্ক্রিয়া রশ্মি বিকিরণ করার মৌলের পরমাণুর ভর কমে যাচ্ছে। অর্থাৎ, যে তেজস্ক্রিয় শক্তির বিকিরণ হচ্ছে, সেটার জন্ম হচ্ছে বস্তুর ভর থেকে। পয়েনকার ভর আর শক্তির সেই সম্পর্কটা বের করে ফেললেন, সেটা সেই বিখ্যাত সমীকরণ E=mc2। তখন বিজ্ঞানী মহল এই সমীকরণ হজম করতে পারেনি। কারণ, নিউটনীয় বলবিদ্যায় মোহ তখনো কাটিয়ে উঠতে পারেনি বিজ্ঞানীসমাজ। পয়েনকার পারেননি নিউটনীয় বলবিদ্যার সাহায্যে এর ব্যাখ্যা দিতে কিংবা কোয়ান্টাম বলবিদ্যার সাহায্য নিতে। সেই কাজগুলোই করলেন আইনস্টাইন। তিনি বিশেষ আপেক্ষিকতার অবতারণা করেন, যেটা পয়েনকারও করেছিলেন। স্থান–কাল আর ভরশক্তির যেমন সমন্বয় করেন বিশেষ আপেক্ষিকতায়, কোয়ান্টাম তত্ত্বের সঙ্গে বিরোধে যাননি। কোয়ান্টাম বলবিদ্যা দিয়েও E=mc2-এর হিসাব বের করা যায় সহেজেই। সুতরাং, আইনস্টাইনই তাই ভরশক্তির সমীকরণের প্রতিষ্ঠাতা। আইনস্টাইনের সমীকরণ যে ঠিক, চারপাশ থেকে তার প্রমাণ আসে। আইনস্টাইনের ব্যাখ্যা ছাড়া এই সমীকরণ ব্যবহার করে বের করা যেত না নিউক্লিয়াসের ভর সমস্যার সমাধান। একটা পরমাণুর ভর হিসাব করে দেখা গেছে, একটা নিউক্লিয়াসের মোট ভর যা হওয়া উচিত, পরীক্ষা করে তার ভর শতগুণ বেশি পাওয়া যায়। বাড়তি এই ভরের হিসাব মেলে কেবল আইনস্টাইন প্রতিপাদিত ভরশক্তির সমীকরণ থেকেই। সূত্র: সায়েন্টিফিক আমেরিকানhttps://www.bigganchinta.com/space/8fj5wqowc3 প্রশ্নগুলো বেয়াড়া, তবে কিনা বেয়াড়া টাইপের প্রশ্ন থেকেই থলের বিড়ালের মতো যুগে যুগে বেরিয়ে এসেছে প্রকৃতির বিখ্যাত সব নিয়ম। নিউটনের আপেল পড়ার কথাই ধরুন। আপেল কেন মাটিতে পড়ে, এমন এক উদ্ভট প্রশ্ন থেকে বেরিয়ে এসেছিল মহাকর্ষ নামের মহামূল্যবান পদার্থবৈজ্ঞানিক তত্ত্ব। মহাকর্ষনীতি, গতির সূত্র গড়ে উঠেছে নিউটনের হাতে। ভর, গতিবেগ, বল আর সময়কে মিলিয়ে তিনটি বিখ্যাত সূত্র দিয়েছিলেন নিউটন; কিন্তু ভরের সঙ্গে শক্তির যে সম্পর্ক কিংবা ভর যে ভেক বদল করে শক্তিতে রূপান্তরিত হয়, তা জানা ছিল না নিউটনের। বিংশ শতাব্দীর শুরুতেই আইনস্টাইন নামের আরেক মহাবিজ্ঞানীর হাতে পূর্ণতা পেয়েছিল ভরশক্তির মহামূল্যবান সমীকরণটি। এরও কয়েক শতাব্দী আগে গ্যালিলিও গ্যালিলি পড়ন্ত বস্তুর সূত্র দিয়ে ভর আর বেগের মধ্যে সম্পর্ক স্থাপনের চেষ্টা করেছিলেন; কিন্তু সে মানুষের চিরায়ত মুখের ভাষায়। তবে গণিত নামের সর্বাঙ্গীণ সুন্দর ও সর্বজনীন ভাষায় প্রকৃতির রহস্যগুলোকে ছন্দোবদ্ধ করার প্রয়াস নিউটনই দেখেছিলেন প্রথম। কিন্তু যে প্রশ্নগুলো দিয়ে গোড়াপত্তন হয়েছিল এই লেখার, সে প্রশ্নের জবাব গ্রিক দার্শনিক অ্যারিস্টটল যুক্তিতর্কের মাধ্যমে দেওয়ার চেষ্টা করেছিলেন প্রায় আড়াই হাজার বছর আগেই। ভারী আর হালকা বস্তু নিয়েও দ্বিধাদ্বন্দ্ব ছিল অ্যারিস্টটলীয় দর্শনে। মনে করা হতো, যেসব বস্তু স্বর্গীয়, সেগুলো উড়ে ওপর দিকে উঠে যায়, তার শেষ গন্তব্য হয় স্বর্গে। যেমন ধোঁয়া-বাষ্প এগুলোকে স্বর্গীয় বস্তু বলে মনে করতেন অ্যারিস্টটল। আর যেসব বস্তু স্বর্গীয় নয়, তাদের পক্ষে সম্ভব নয় ওপরে উঠে স্বর্গের পথে চলে যাওয়া। ভারী বস্তু স্বর্গীয় না, তাই এদেরকে ওপর দিকে ছুড়ে মারলে আবার মাটিতে ফিরে আসে। যে বস্তু যত বেশি ভারী অ্যারিস্টটল বলেন, পৃথিবীর সঙ্গে সে বস্তুর সম্পর্ক তত বেশি ঘনিষ্ঠ; ঠিক ততটাই বেশি দূরত্ব স্বর্গের সঙ্গে। এ কারণেই বস্তু যত ভারী, তাকে ওপর থেকে ছেড়ে দিলে তত দ্রুত নিচে নেমে আসবে। কিন্তু কী এই প্রকৃত ভর, কীভাবেই–বা এর পরিমাপ হলো? বস্তুর ভেতরে মোট যে পদার্থের পরিমাণ, সেটাই তার প্রকৃত ভর; কিন্তু একটু পরিষ্কার চিন্তা করলেই দেখা যাবে, এ ধারণা মার খেয়ে যাচ্ছে। বস্তুর ভেতর পদার্থ বলতে কী বোঝানো হয়েছে, সেটা কী তার উপাদান? সেটা কি পরমাণু? পরমাণুকে একসময় মৌলিক কণিকা মনে করা হতো। কিন্তু পরে দেখা গেল, সব মৌলিক পদার্থের পরমাণুর ভর যেটাকে আমরা দাঁড়িপাল্লায় মাপা ভর বলছি, সেটা সমান নয়। কারণ, পরমাণু নিজেই পদার্থের মৌলিক উপাদান নয়। এগুলো তৈরি ইলেকট্রন আর প্রোটন দিয়ে। অন্য দিকে প্রোটন নিউট্রন তৈরি হয় কোয়ার্ক দিয়ে। অর্থাৎ, ইলেকট্রন আর কোয়ার্কই হলো বস্তুর মৌলিক উপাদান। সব মৌলিক পদার্থের পরমাণুর ভেতর ইলেকট্রন ও প্রোটনের সংখ্যা এক নয়, প্রতিটির আলাদা। তাই এক মৌলের পরমাণুর সঙ্গে আরেক মৌলের পরমাণুর ভরের পার্থক্য দেখা দেবে, সেটা নিশ্চিত। আবার পরমাণুকে ভেঙেও যদি আপনি খণ্ড খণ্ড করেন, অর্থাৎ কোয়ার্ক আর ইলেকট্রনকে ভাগ করেন, দেখবেন তাদের ভরও এক নয়। ইলেকট্রন আর কোয়ার্কের ভরের পার্থক্য অনেক। তাই বস্তুর মোট পদার্থের পরিবর্তন দিয়েও ঠিকভাবে নাগাল পাওয়া যায় না প্রকৃত ভরের। সবই আমরা তুল্য ভর হিসেবে পাই। কিন্তু খটকা লেগেছিল পরীক্ষামূলক বিজ্ঞানের জনক গ্যালিলিও গ্যালিলির মনে। একটা ঝাড়বাতির দোলন তাঁকে ভাবিয়েছিল, তিনি বুঝতে পেরেছিলেন, মাটিতে পড়ার জন্য ভারী এবং হালকা বস্তু দুই ধরনের বস্তুকেই সমান কসরত করতে হয়। তাই সমান বেগে তারা মাটিতে নামে। অনেকেই মনে করেন, গ্যালিলিও ইতালির পিসা নগরীতে যে হেলানো মিনারটা আছে, তার ওপরে উঠেছিলেন একটা ভারী আর একটা হালকা বস্তু নিয়ে। তারপর সেটা একই উচ্চতা থেকে একই সময়ে ছেড়ে দিয়েছিলেন মাটির গন্তব্যের দিকে। গ্যালিলিও অবাক হয়ে দেখেছিলেন, দুটো বস্তুই একই বেগে নামছে এবং একই মুহূর্তে মাটি স্পর্শ করছে। পিসার হেলানো মিনারে উঠে তিনি পরীক্ষা করুন আর না–ই করুন, এমন একটা পরীক্ষা যে তিনি করেছিলেন, সেটা নিশ্চিত। তবে এই পরীক্ষার একটা শর্ত থাকবে। আমরা বায়ুর সমুদ্রে বাস করছি। যেকোনো পড়ন্ত বস্তুর ওপরে বায়ুর ঊর্ধ্বমুখী চাপ কার্যকর থাকে। বস্তু যত ভারী, বায়ুর চাপ তার ওপর তত কম; বস্তু যত হালকা, তার ওপর তত বেশি ঊর্ধ্বমুখী চাপ প্রয়োগ করতে পারে বায়ুমণ্ডল। তাই গ্যালিলিওর এই পরীক্ষা করতে হলে বায়ুশূন্য স্থানের দরকার ছিল। পিসার হেলানো মিনারকে বায়ুশূন্য স্থানে নেওয়া অসম্ভব। তবে গ্যালিলিও যেভাবেই করুন তাঁর পরীক্ষাটি, যোগ্য উত্তরসূরি আইজ্যাক নিউটন একটা কাচের পাত্রকে বায়ুশূন্য করে তার ভেতর একটা সোনার কয়েন আরেকটি পালক দিয়ে গ্যালিলিওর পড়ন্ত বস্তুর সূত্রগুলো আবার যাচাই করে দেখেছিলেন। নিশ্চিত হয়েছিলেন, অ্যারিস্টটল নন, গ্যালিলিও ঠিক কথা বলেছেন। তারপর সেই সূত্রগুলো গণিতের ভাষায় প্রকাশ করেছিলেন নিউটন। পরে এর থেকেই জন্ম লাভ করে মহাকর্ষসূত্র আর গতিসূত্র। অনেকে এ দোয়াটিকে জায়নামাজের দোয়া হিসেবে জানেন। আসলে এটি তা নয়। বরং এ দোয়াটি তাকবিরে তাহরিমার পড়া। > إِنَّ صَلَاتِي وَنُسُكِي وَمَحْيَايَ وَمَمَاتِي لِلَّهِ رَبِّ الْعَالَمِينَ উচ্চারণ : ‘ইন্না সালাতি ওয়া নুসুকি ওয়া মাহইয়ায়া ওয়া মামাতি লিল্লাহি রাব্বিল আলামিন।’ (সুরা আনআম : আযাত ১৬২) অর্থ : নিশ্চয়ই আমার নামাজ, আমার কুরবানি, আমর জীবন, আমার মৃত্যু বিশ্বজাহানের প্রভু আল্লাহ তাআলার জন্য।’ > اَللَّهُمَّ بَاعِدْ بَيْنِي وَبَيْنَ خَطَايَايَ كما بَاعَدْتَ بين الْمَشْرِقِ وَالْمَغْرِبِ اَللَّهُمَّ نَقِّنِي مِنَ الْخَطَايَا كما يُنَقَّى الثَّوْبُ الْأَبْيَضُ من الدَّنَسِ اللهم اغْسِلْ خَطَايَايَ بِالْمَاءِ وَالثَّلْجِ وَالْبَرَدِ উচ্চারণ : ‘আল্লাহুম্মা বায়িদ বাইনি ওয়া বাইনা খাত্বাইয়াইয়া, কামা বাআদ্তা বাইনাল মাশরিক্বি ওয়াল মাগরিবি, আল্লাহুম্মা নাক্কিনি মিনাল খাত্বাইয়াইয়া কামা ইউনাক্কাছ্ ছাওবুল আবইয়াদু মিনাদ্দানাসি, আল্লাহুম্মাগসিল মিন খাতাইয়াইয়া বিল মায়ি, ওয়াছ্ছাল্‌জি, ওয়াল বারদি।’(বুখারি ও মুসলিম)

Comments

Popular posts from this blog

IRRSTC FINAL REPORT 1445 (BENGLA)insha Allah

নিউট্রিনো

উপসংহার