প্রকৃতি বনাম সৃষ্টিকর্তা

প্রকৃতি বনাম সৃষ্টিকর্তা প্রকৃতি বনাম সৃষ্টিকর্তা জীবন-মৃত্যু সৃষ্টির উদ্দেশ্য সম্পর্কে মহান আল্লাহ বলেন, ‘পুণ্যময় তিনি, যাঁর হাতে রাজত্ব, তিনি সবকিছুর উপর সর্বশক্তিমান। যিনি সৃষ্টি করেছেন মরণ ও জীবন। যাতে তোমাদেরকে পরীক্ষা করেন কে তোমাদের মধ্যে কর্মে শ্রেষ্ঠ? তিনি পরাক্রমশালী ক্ষমাশীল’ (মুলক ৬৭/১-২)। অন্যত্র তিনি বলেন, ‘আল্লাহ সমস্ত কিছুর স্রষ্টা ও তিনি সমস্ত কিছুর কর্মবিধায়ক। আকাশ ও পৃথিবীর চাবিও তাঁরই কাছে’ (যুমার ৩৯/৬২-৬৩)। অপর এক আয়াতে আল্লাহ তা‘আলা বলেন, ‘তিনিই আসমান ও যমীন ছয় দিনে সৃষ্টি করেছেন, তাঁর আরশ ছিল পানির উপরে, তিনি তোমাদেরকে পরীক্ষা করতে চান যে, তোমাদের মধ্যে কে সবচেয়ে ভাল কাজ করে’ (হূদ ১১/৭)। অন্যত্র তিনি বলেন, إِنَّا جَعَلْنَا مَا عَلَى الْأَرْضِ زِيْنَةً لَّهَا لِنَبْلُوَهُمْ أَيُّهُمْ أَحْسَنُ عَمَلاً- ‘আমি পৃথিবীস্থ সব কিছুকে পৃথিবীর জন্যে শোভা করেছি, যাতে লোকদের পরীক্ষা করি যে, তাদের মধ্যে কে ভাল কাজ করে’ (কাহফ ১৮/৭)। অতঃপর মানব সৃষ্টির উদ্দেশ্য সম্পর্কে আল্লাহ তা‘আলা বলেন, وَمَا خَلَقْتُ الْجِنَّ وَالْإِنْسَ إِلاَّ لِيَعْبُدُوْنِ- ‘আমার ইবাদত করার জন্যই আমি মানব ও জিন জাতি সৃষ্টি করেছি’ (যারিয়াত ৫৯/৫৬)। মূলতঃ নভোমন্ডল-ভূমন্ডল, দৃশ্য-অদৃশ্য এবং এতদুভয়ের মধ্যস্থিত অগণনীয় বস্ত্তর সৃষ্টির মধ্য দিয়ে সর্বশক্তিমান আল্লাহ তা‘আলা তাঁর মহাজ্ঞানের এক সুন্দর চিত্র তুলে ধরেছেন। এ চিত্রের এক ক্ষুদ্রাতিক্ষুদ্র অংশে আমরা রয়েছি। আর এসব সম্বন্ধে আমাদের যৎসামান্য ধারণা আছে মাত্র। যেমন আমাদের মাথার উপর মহাকাশ এবং সূর্য-চন্দ্র, গ্রহ-নক্ষত্র, ছায়াপথ প্রভৃতি। এগুলির সৃষ্টি সম্পর্কে আল্লাহ তা‘আলা বলেন, لَخَلْقُ السَّمَاوَاتِ وَالْأَرْضِ أَكْبَرُ مِنْ خَلْقِ النَّاسِ وَلَكِنَّ أَكْثَرَ النَّاسِ لاَ يَعْلَمُوْنَ- ‘মানুষের সৃষ্টি অপেক্ষা নভোমন্ডল ও ভূমন্ডলের সৃষ্টি কঠিনতর। কিন্তু অধিকাংশ মানুষ বোঝে না’ (মুমিন ৪০/৫৭)। এ বিষয়ে তিনি আরো বলেন, أَأَنْتُمْ أَشَدُّ خَلْقاً أَمِ السَّمَاءُ بَنَاهَا- ‘তোমাদের সৃষ্টি অধিক কঠিন না আকাশের, যা তিনি নির্মাণ করেছেন’ (নাযি‘আত ৭৯/২৭)। মানুষ কি দেখে না যে, আমি তাকে সৃষ্টি করেছি শুক্রবিন্দু হতে অথচ হঠাৎ করেই সে হয়ে পড়ে প্রকাশ্য বিতন্ডাকারী। আর আমার সম্বন্ধে উপমা রচনা করে। (সূরাহ ইয়াসীন, আয়াতঃএ৭৭-৭৯)। তিনিই যমীনে যা আছে সব তোমাদের জন্য সৃষ্টি করেছেন। তারপর আসমানের প্রতি খেয়াল করলেন এবং তাকে সাত আসমানে সুবিন্যস্ত করলেন। আর সব কিছু সম্পর্কে তিনি সম্যক জ্ঞাত। আল-বায়ান bakarah:29 নভোমন্ডল ও ভূমন্ডলের রাজত্ব আল্লাহ তা‘আলারই। তিনি যা ইচ্ছা সৃষ্টি করেন। যাকে ইচ্ছা কন্যা সন্তান এবং যাকে ইচ্ছা পুত্র সন্তান দান করেন। অথবা তাদেরকে দান করেন পুত্র ও কন্যা উভয়ই এবং যাকে ইচ্ছা বন্ধ্যা করে দেন। নিশ্চয়ই তিনি সর্বজ্ঞ সর্বশক্তিমান’ (শূরা ৪২/৪৯-৫০)।অতএব আল্লাহর রহমতের ফল দেখে নাও, কিভাবে তিনি মৃত্তিকার মৃত্যুর পর তাকে জীবিত করেন। নিশ্চয়ই তিনি মৃতদেরকে জীবিত করবেন এবং তিনি সবকিছুর উপর সর্বশক্তিমান’ (রূম ৩০/৪৮-৫০)। আল্লাহ তা‘আলা তাঁর অসীম জ্ঞানের দ্বারা, সকল প্রাণী ও প্রাকৃতিক বস্ত্তগুলিরও স্রষ্টা এবং এসবের জন্ম-মৃত্যু নিয়ন্ত্রণ করেন। মহান আল্লাহ বলেন, ‘তাঁর একটি (উল্লেখযোগ্য) নিদর্শন এই যে, আপনি ভূমিকে দেখবেন অনুর্বর পড়ে আছে। অতঃপর আমি যখন তার উপর বৃষ্টি বর্ষণ করি, তখন সে শস্য-শ্যামল ও উর্বর হয়। নিশ্চয়ই তিনি একে জীবিত করেন, তিনি জীবিত করবেন মৃতদেরকেও। নিশ্চয়ই তিনি সবকিছু করতে সক্ষম’ (হা-মীম সাজদা ৪১/৩৯)। আল্লাহর অনুগ্রহের ব্যাপকতা আবু সাঈদ খুদরী رضي الله عنه থেকে বর্ণিত, তিনি আল্লাহর রসুল ﷺ থেকে বর্ণনা করেন মূসা عَلَيْهِ ٱلسَّلَامُ বলেছিলেন হে আল্লাহ আমাকে এমন কিছু শিক্ষা দিন যার দ্বারা আমি আপনাকে স্মরণ করব এবং ডাকব।(আল্লাহ) বলেনঃ হে মূসা বলুন লা-ইলা-হা ইল্লাল্লাহ। তিনি (মূসা عَلَيْهِ ٱلسَّلَامُ) বলেন হে আল্লাহ আপনার সকল বান্দাই তো এরূপ বলেন। তিনি বলেন, হে মূসা, সাত আকাশ এবং তাতে আমি ছাড়া যা কিছু আছে এবং সাত জমিনকে যদি এক পাল্লায় রাখা হয়, আর লা-ইলা-হা ইল্লাল্লাহ-কে অন্য পাল্লায় রাখা হয় তাহলে এর পাল্লাটি ঝুঁকে পড়বে। (ইবনে হিব্বান ও হাকেম এটিকে বিশুদ্ধ বলেছেন।(সূত্রঃ জ্ঞান পিয়াসুর অআকাঙ্খাঃ কিতাবুত তাওহীদের ব্যাখ্যা,মূলঃ শায়েখ সালেহ বিন অআবদুল অআযীয বিন মুহাম্মাদ বিন ইবরাহিম অআলে শায়েখ, অনুবাদঃ মুহাম্মাদ অআবদুর রব অআফফান, দারুস সালাম রিয়াদ, লিসান্স,মদীনা ইসলামি বিশ্ববিদ্যালয়, সৌদী অআরব,পৃষ্ঠাঃ ১১)।

Comments

Popular posts from this blog

IRRSTC FINAL REPORT 1445 (BENGLA)insha Allah

নিউট্রিনো

উপসংহার