পদার্থ বিজ্ঞানের বিবিধ কথা

নতুন বিজ্ঞানঃ ফ্রন্টিয়ার সায়েন্সের অগ্রযাত্রা যে পথে নতুন বিজ্ঞানঃ ফ্রন্টিয়ার সায়েন্সের অগ্রযাত্রা নিউটনের সরলীকরণ দার্শনিক তত্ত্বমতে নিহিত রয়েছে মাত্র মহাবিশ্ব কেন্দ্রিক মাত্র ২টি বিষয়ের উপর ভিত্তি করে। বিষয় দুইটি হচ্ছেঃ ১)মহাবিশ্বের বস্তুগত সত্বা এবং ২) অবস্তুগত সত্বা। ডেমোক্রিটাস থেকে শুরু করে এখনও বিজ্ঞান মহাবিশ্বের সত্য জানার ক্ষেত্রে বস্তুগত সত্বার মধ্যে কেন্দ্রীভূত যা শক্তিতে এসে স্থবির হয়ে অআছে। যেমন বৈজ্ঞানিক দৃষ্টি মহাবিশ্বের এমন সুদূর অন্চলে এসে স্থবির হয়ে অআছে যার ওপারে দৃষ্টিতে জারি করা হয়েছে নিষেধাজ্ঞা। যেমন নিষেধাজ্ঞা রয়েছে এমন প্রশ্নের উপর যার উত্তর এ জগতে নেই। শক্তি কি দিয়ে তৈরি কিংবা প্রকৃতি অথবা প্রাণ কি দিয়ে তৈরি অথবা প্রকৃতিতে এত এত কণা-এসব কি দিয়ে তৈরি? এসব প্রশ্ন উক্ত নিষেধাজ্ঞার অআওতাধীন। তবে wstrc মনে করে এসব প্রশ্নের উত্তরের পাশাপাশি এতকাল যাবৎ অবিশ্বাস্য হলেও সত্য, টেলিপH পদার্থবিদ্যার মহান শিক্ষক হিসেবে খ্যাত মার্কিন বিজ্ঞানী রিচার্ড ফাইনম্যান বলেছিলেন, ‘কোয়ান্টাম মেকানিকস কেউ বোঝে না।’ তাঁর এই কথাটিকে এখন অনেকেই পরম সত্য বলে মনে করেন। আসলেই কি তাই? কোয়ান্টাম বলবিদ্যা নিয়ে যাঁরা দিনের পর দিন কাজ করছেন, তাঁরাও কি এই জগতটাকে বোঝেন না? খুদে কণাদের আচরণ বুঝতে এই তত্ত্বের কোনো বিকল্প নেই। আধুনিক কণা পদার্থবিজ্ঞান, নক্ষত্রের ভেতরের কাণ্ডকারখানা, এমনকি জ্যোতিঃপদার্থবিজ্ঞানও কোয়ান্টাম তত্ত্ব ছাড়া অচল। পদার্থবিজ্ঞানের ইতিহাসে সবচেয়ে সফল তত্ত্ব বলা হয় একেই। গত এক শতাব্দীতে শত শত পরীক্ষায় সফলভাবে উতরে গেছে এটি। বোঝাই যদি না যাবে, তাহলে এটা নিয়ে বিজ্ঞানীরা এত কাজ করছেন কীভাবে? তাহলে সবাই কেন বলেন, কোয়ান্টাম কেউ বোঝে না? এর মূল কারণ হলো অনিশ্চয়তা তত্ত্ব এবং এর পরীক্ষালব্ধ ফলাফলগুলোর ভুতুড়ে আচরণ। কোয়ান্টাম বলবিদ্যার অন্যতম প্রতিষ্ঠাতা নীলস বোর বলেছিলেন, ‘কোয়ান্টাম জগৎ প্রথমবার দেখে যে ভিমরি খাবে না, সে আসলে কোয়ান্টাম বলবিদ্যা বোঝেই না।’ কোয়ান্টামের বিভ্রান্তিকর জগৎ নিয়ে অনেক ধোঁয়াশা আছে, এ কথা ঠিক। কিন্তু কেউ যদি না-ই বোঝেন, বিজ্ঞানীরা তাহলে একে দিয়ে কাজ করিয়ে নেন কীভাবে? কোয়ান্টাম মেকানিকস কেউ বোঝেন না’—বলার পরপরই তিনি খুব গুরুত্বপূর্ণ আরেকটি কথা বলেছিলেন। তিনি বলেছিলেন, প্রকৃতি (নেচার) কীভাবে কাজ করে, আমি বরং আপনাদের সেটাই বলব।’ প্রকৃতি কীভাবে কাজ করে, সেটি বুঝতে হলে ক্লাসিক্যাল ফিজিকসের পাশাপাশি কোয়ান্টাম মেকানিকস বোঝাও খুব জরুরি।তিনি হাইজেনবার্গের অনিশ্চয়তা তত্ত্বেরও একটি চমৎকার সমাধান করেছিলেন। অনিশ্চয়তা তত্ত্ব থেকে বেরিয়ে আসে কণাদের কোয়ান্টাম ফ্লাকচুয়েশনের ধারণা। এই ধারণা বলে, শূন্যস্থান একেবারে শূন্য নয়; সেখানেও শক্তি আছে। সেই শক্তিকে বলে জিরো পয়েন্ট এনার্জি। এই শক্তি কীভাবে কাজ করে, তার ব্যাখ্যা আছে ফাইনম্যান ডায়াগ্রামে।তাঁর তত্ত্ব অনুযায়ী, শূন্যস্থানে সব সময় কণা ও প্রতিকণাদের ভাঙাগড়ার খেলা চলে। শূন্যস্থানের ওই শক্তি থেকে প্রতিটা বিন্দুতেই একটি করে কণা ও তার প্রতিকণা তৈরি হয়। এসব কণা আবার সময়ের উল্টো দিকে গিয়ে পরস্পরের সঙ্গে সংঘর্ষ ঘটায়। কণা-প্রতিকণার সংঘর্ষে উভয় কণাই ধ্বংস হয়ে যায় এবং শক্তি নির্গত হয়। পরক্ষণেই সেই শক্তি থেকে আবার একজোড়া কণা এবং প্রতিকণা তৈরি হয়। এদের বলা হয় ভার্চ্যুয়াল কণা। এভাবে শূন্যস্থানে প্রতিনিয়ত শক্তি ও কণা-প্রতিকণার জন্ম-মৃত্যু ঘটে। অর্থাৎ, শূন্যস্থান নিছক শূন্য ও নিশ্চল নয়। এর প্রতিটা বিন্দুতেই শক্তির খেলা চলে। সময়টা গত শতাব্দীর তৃতীয় দশক। কোয়ান্টাম কণা পদার্থ বিজ্ঞানী নীল বোর সহ তরুণ কোয়ান্টাম তত্ত্ববিদেরা একের পর এক অদ্ভুত সব তত্ত্ব হাজির করছেন। কিন্তু সেগুলো হজম করা বিজ্ঞানীদের জন্য বেশ কঠিন হয়ে দাঁড়াচ্ছে।আইনস্টাইন বিরক্ত হয়ে বলেন, ‘নিশ্চয়ই ঈশ্বর (গড) পাশা খেলেন না!’ জবাবে নীল বোর বলেছিলেন, ‘ঈশ্বর কী করবেন আর কী করবেন না, সেটা আপনাকে বলে দিতে হবে না।’ wstrc মনে করে কোয়ান্টাম মেকানিক্সের রহস্য আলোচনা করতে গিয়ে বিজ্ঞাপ্রকৃতি (নেচার)এবংঈশ্বর (গড) শব্দ দুটি ব্যবহার করেন উভয়টি অবস্তুগত বা অপার্থিব। বিশ্ব প্রকৃতির শতভাগ বুঝতে যেমন পদার্থ বিজ্ঞানের নিউটনীয় ক্ল্যাসিকাল বল বিজ্ঞানের পাশাপাশি কোয়ান্টাম মেকানিক্সের পাশাপাশি মহবিশ্বের দ্বিতীয় মূল স্তর অপার্থিব অবস্তুগত বিষয়টিকেও বিবেচনা করতে হবে বিশেষ করে প্রকৃতি এবং গডের বিষয়টি যাতে থাকতে পারে মহাবিশ্বের উদ্ভব পরবর্তী এন্ট্রপিতে প্রকৃতি কিংবা গডের প্রত্যক্ষ কিংবা পরোক্ষ ভূমিকা রয়েছে কিনা তা নতুন বিজ্ঞান ফ্রন্টিয়ার সায়েন্সের গবেষণায় উঠে অআসতে পারে মর্মে WISTRC সবচেয়ে বেশি প্রতিবাদ আসে আইনস্টাইনের কাছ থেকে। কোয়ান্টামের অদ্ভুত নীতিগুলোকে তাঁর কাছে বড্ড অলৌকিক ও বিভ্রম মনে হয়। তাই তিনি তোপ দাগেন নীলস বোরের বিরুদ্ধে, কোপেনহেগেনের কোয়ান্টাম কারিগরদের বিরুদ্ধে। কিন্তু আইনস্টাইনের প্রতিটি যুক্তির জবাব পাল্টা যুক্তি দিয়ে খণ্ডন করেন বোর এবং বিতর্কে আইনস্টাইনকে হারিয়ে দেন। এতে হতাশ আইনস্টাইন বিরক্ত হয়ে বলেন, ‘নিশ্চয়ই ঈশ্বর পাশা খেলেন না!’ জবাবে বোর বলেছিলেন, ‘ঈশ্বর কী করবেন আর কী করবেন না, সেটা আপনাকে বলে দিতে হবে না।’ তাঁদের এই বিতর্ক থেকেই স্পষ্ট, বোর নিজেই কোয়ান্টামের অদ্ভুত জগৎটা স্বচ্ছ আয়নার মতো দেখতে পেতেন। যে আইনস্টাইন কোয়ান্টামের তীব্র বিরোধিতা করতেন, তিনিও নিশ্চয়ই এই জগৎটা বুঝতেন। বেশ ভালোমতোই বুঝতেন। বুঝতেন বলেই পরে নিজের আপেক্ষিকতা তত্ত্বের সাথে কোয়ান্টাম মেকানিক্সের একীভূতকরণ করে ফটো ইলেক্ট্রিক ইফেক্ট তত্ত্ব রচনা করে নোবেল পুরস্কার লাভ করেন অথচ বিশেষ এবং সাধারণ কোনো অআপেক্ষিকতা তত্ত্বের জন্য অআইনস্টাইন নোবেল পুরস্কার পাননি। এটাও এক প্রকার অনিশ্চয়তা তত্তের ব্যাপার রয়েছে মনে করে WISTRCএই অআপেক্ষিকতার কারণে মহাবিশ্বের পরম বাস্তবতা নিহিত রয়েছে মধ্যপন্থায় দ্বিমাত্রিকতায়। একটি বস্তুগত বা পার্থিব আরেকটি অবস্তুগত বা পার্থিব। মহাবিশ্বের বস্তুগত উৎসমূল শক্তি আর শক্তি যা নিত্যতার সূত্র। আর অবস্তুগত উৎসমূল হচ্ছে বুদ্ধিমাত্রিক জ্ঞান-প্রজ্ঞা। মহাবিশ্বের উৎসমূল বিগ ব্যাং, বিগ ব্যাংয়ের উৎসমূল হাইয়েস্ট এনার্জেটিক রেডিয়েশন-এটাই পদার্থ বিজ্ঞানের পরম উপসংহার। এর বাইরে যাওয়া পদার্থ বিজ্ঞানে যে নিষেধাজ্ঞা WISTRC মতে এটা স্থায়ী নিষেধাজ্ঞার আওতাভূক্ত করা হলে পদার্থ বিজ্ঞান প্রায় জিরো থেকে হিরোতে পরিণত হতে যথেষ্ট হতে পারে। পরিণামে বিজ্ঞানীরা নতুন বিজ্ঞান ফ্রন্টিয়ার সায়েন্সের অগ্রযাত্রার সূচনা করতে পারেন পদার্থ বিজ্ঞান তিন মিলেনিয়াম জয়ন্তি উৎসব পালনের মধ্য দিয়ে। বিজ্ঞানীরা বিশেষ জ্ঞানে পরম সত্যকে জানার চেষ্টা করেন গবেষণার নামে। জাগতিক বৈজ্ঞানিক সাজসরন্জামের পাশাপাশি বিজ্ঞানীরা অন্তর্দৃষ্টির সাহায্যও গ্রহণ করে থাকেন। যার কারণে অআইনস্টাইন বলতেনঃ তিনি জ্ঞান নয় বরং কল্পনাশক্তির সাহায্যে গবেষণা করেন। অন্যদিকে নিউটন বলতেন তাঁর অর্জন প্রার্থনার ফসল যা মধ্যযুগে অআরব বিজ্ঞানীদের মধ্যে দেখা যেত।

Comments

Popular posts from this blog

নিউট্রিনো

উপসংহার